দ্বিতীয় হাসান মসজিদ

স্থানাঙ্ক: ৩৩°৩৬′৩১″ উত্তর ৭°৩৭′৫৮″ পশ্চিম / ৩৩.৬০৮৫° উত্তর ৭.৬৩২৭° পশ্চিম / 33.6085; -7.6327
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দ্বিতীয় হাসান মসজিদ
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিইসলাম
অঞ্চলবৃহত্তর কাসাব্লাঙ্কা
যাজকীয় বা
সাংগঠনিক অবস্থা
ব্যবহৃত হচ্ছে
নেতৃত্বরাজা দ্বিতীয় হাসান
পবিত্রীকৃত বছর১৯৯৩
অবস্থাসক্রিয়
অবস্থান
অবস্থানমরক্কো
পৌরসভাকাসাব্লাঙ্কা
দ্বিতীয় হাসান মসজিদ বৃহত্তর কাসাব্লাঙ্কা-এ অবস্থিত
দ্বিতীয় হাসান মসজিদ
কাসাব্লাঙ্কায় অবস্থান
স্থানাঙ্ক৩৩°৩৬′৩১″ উত্তর ৭°৩৭′৫৮″ পশ্চিম / ৩৩.৬০৮৫° উত্তর ৭.৬৩২৭° পশ্চিম / 33.6085; -7.6327
স্থাপত্য
স্থপতিমিশেল পিনসো (ফ্রান্স)
ধরনমসজিদ
স্থাপত্য শৈলীআরব-আন্দালুসীয়, মুরীয়
সাধারণ ঠিকাদারবুইগুস
ভূমি খনন১২ জুলাই ১৯৮৬
সম্পূর্ণ হয়৩০ আগস্ট ১৯৯৩
নির্মাণ ব্যয়৪০০-৭০০ মিলিয়ন ডলার
নির্দিষ্টকরণ
ধারণক্ষমতা১০৫,০০০ (ভিতরে ২৫,০০০ জন, অতিরিক্ত ৮০,০০০ মসজিদের প্রাঙ্গণে)
গম্বুজসমূহএক
মিনারএক
মিনারের উচ্চতা২১০ মিটার (৬৯০ ফু)
উপাদানসমূহমধ্য এটলাস থেকে সিডার
আগাদির থেকে মারবেল
টাফ্রাউট থেকে গ্রানাইট[১]

দ্বিতীয় হাসান মসজিদ (আরবি: مسجد الحسن الثاني‎‎, ফরাসি: Grande Mosquée Hassan II) মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় অবস্থিত একটি মসজিদ। এটি আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম সক্রিয় মসজিদ এবং বিশ্বের ৭ম বৃহত্তম মসজিদ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এর ২১০ মিটার (৬৮৯ ফু) উঁচু মিনারটি বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম মিনার।[২][৩] রাজা দ্বিতীয় হাসানের নির্দেশনায় মিশেল পিনসো কর্তৃক নকশাকৃত এবং সমগ্র রাজ্যের মরোক্কীয় কারিগরদের দ্বারা নির্মিত এ মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে ১৯৯৩ সালে। ৬০ তলা উঁচু মিনারটির শীর্ষে রয়েছে একটি লেজার, এটি থেকে আসা আলো মক্কার দিকে নির্দেশিত হয়।[৪] মসজিদটি আটলান্টিক মহাসাগরের দিক থেকে দৃষ্টিগোচরীয় একটি শৈলান্তরীপে অবস্থান করছে; প্রার্থনাকারীরা সমুদ্রের উপর প্রার্থনা করতে পারে কিন্তু সমুদ্রের অভ্যন্তর গোচরীভূত করার মতো কোন কাচের মেঝে নেই। দেয়ালগুলো হাতে কারুকাজ করা মার্বেলের তৈরি এবং ছাদটি সংকোচনযোগ্য। সর্বাধিক ১০৫,০০০ জন প্রার্থনাকারী প্রার্থনার জন্য একত্রিত হতে পারেন: ২৫,০০০ জন মসজিদের ভিতরে এবং আরও ৮০,০০০ জন মসজিদের বাইরের প্রাঙ্গণে।[৩]

ভূগোল[সম্পাদনা]

মসজিদটি কাসাব্লাঙ্কার বিডি সিদি মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহতে অবস্থিত।[৫] ৯-হেক্টর (২২ একর) এর কমপ্লেক্সটি বন্দর এবং এল হ্যাঙ্ক বাতিঘরের মাঝখানে অবস্থিত। মসজিদটি কাসা-বন্দর এর নিকটতম ট্রেন স্টেশন থেকে প্রায় ২০ মিনিটের হাঁটা পথের দূরত্বে অবস্থিত। মসজিদের দক্ষিণ দিকের দিকে রয়েছে কেনাকাটার রাস্তাসহ দশ লেনের একটি প্রশস্ত পথ, এটি শহরের মাঝখানে অবস্থিত প্রাসাদ ওয়েদ এল মাখাজিনের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত বিস্তৃত। মসজিদের বেসিলিকাল পরিকল্পনা প্রশস্ত পথটির এই বিন্যাসটিকে ন্যায্যতা দেয়।[৬]

মসজিদটি আটলান্টিক মহাসাগরের উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। স্থাপনাটি আংশিকভাবে স্থলে এবং আংশিকভাবে সমুদ্রের উপর নির্মিত। সমুদ্র থেকে পুনরুদ্ধার করা একটি প্রাকৃতিক শিলাকে সংযুক্ত করার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করে এই অবস্থিতিটি সম্পন্ন করা হয়,[৬][৭] যেখানে আগে অর্থলিব পুলটি অবস্থিত ছিল। সমুদ্রের ঢেউয়ের ক্ষয়কারী ক্রিয়া থেকে মসজিদটিকে রক্ষা করার জন্য দুটি বড় ব্রেকওয়াটারও তৈরি করা হয়, যা উচ্চতায় ১০ মিটার (৩৩ ফু) পর্যন্ত হতে পারে।[৮] নির্মাণের সময় সমুদ্র থেকে স্তম্ভগুলির ভিত্তি রক্ষা করার জন্য ৮০০ মিটার (২,৬০০ ফু) দৈর্ঘ্যের একটি অস্থায়ী জেটি স্থাপন করতে হয়েছিল।[৯] এর পরিবেশগত সুবিধা হল এটি শব্দ ও দূষণ মুক্ত এবং সমুদ্র থেকে সতেজ বাতাস প্রাপ্ত হয়।[৪]

মসজিদ ছাড়াও এলাকার অন্যান্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে একটি মাদ্রাসা (ইসলামি বিদ্যালয়), হাম্মাম (গোসলখানা), মরক্কোর ইতিহাস ভিত্তিক একটি যাদুঘর, কনফারেন্স হল এবং একটি অনেক বড় লাইব্রেরি যাকে "ইসলামী বিশ্বের সবচেয়ে ব্যাপক" লাইব্রেরি বলা হয়।[৮] প্রাঙ্গণের ৪১টি ফোয়ারার[১০] সবগুলোই সুসজ্জিত। মসজিদের চারপাশের বাগানটি ভালোভাবে সাজানো এবং পারিবারিক পিকনিকের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় স্থান। ঐতিহ্যগতভাবে নকশা করা মাদ্রাসাটি বেসমেন্ট সহ ৪,৮৪০ বর্গমিটার (৫২,১০০ ফু) এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। কিবলা প্রাচীর এবং মিহরাব অংশসহ অর্ধবৃত্তাকার আকৃতিতে নির্মিত এ মাদ্রাসাটি উচ্চতায় দুই তলা।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মসজিদটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ১৯৬১ সালে রাজা পঞ্চম মোহাম্মদের মৃত্যুর সাথে সাথে শুরু হয়। রাজা দ্বিতীয় হাসান দেশের সেরা কারিগরদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেন এবং প্রয়াত রাজাকে সম্মান জানাতে একটি সমাধিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা জমা দেন; তিনি বলেন এটিতে "এই খ্যাতিমান ব্যক্তিকে যে উদ্দীপনা এবং শ্রদ্ধার সাথে বিবেচনা করা হয়েছিল তা প্রতিফলিত হওয়া উচিত।"[৬] ১৯৮০ সালে, তার জন্মদিন উদযাপনের সময়, দ্বিতীয় হাসান এই বলে কাসাব্লাঙ্কায় একটি একক ল্যান্ডমার্ক স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করার জন্য তার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে খুব স্পষ্ট করে ব্যক্ত করেছিলেন:[৩]

আমি কাসাব্লাঙ্কাকে একটি বৃহৎ, সুন্দর স্থাপনা দিয়ে সমৃদ্ধ করতে চাই যার জন্য এটি সময়ের শেষ অবধি গর্বিত হতে পারে ... আমি এই মসজিদটি পানির উপর তৈরি করতে চাই, কারণ সৃষ্টিকর্তার সিংহাসন পানির উপর রয়েছে। অতএব, যে বিশ্বস্ত ব্যক্তিরা প্রার্থনা করতে, দৃঢ় মাটিতে স্রষ্টার প্রশংসা করতে যায়, তারা সৃষ্টিকর্তার আকাশ এবং সমুদ্রকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

স্থাপনাটি রাজা দ্বিতীয় হাসান কর্তৃক অনুমোদিত মরোক্কোতে এ যাবত নির্মিত সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী কাঠামো ছিল।[৮] এটির নকশা করেছিলেন ফরাসি স্থপতি মিশেল পিনসো, যিনি মরক্কোতে থাকতেন এবং এটি নির্মাণ করেছিল বোয়েগুস নামক একটি পুরকৌশল দল।[৮]

১২ জুলাই, ১৯৮৬ তারিখে কাজ শুরু হয়,[১১] এবং সাত বছর মেয়াদে পরিচালিত হয়। দ্বিতীয় হাসানের ৬০তম জন্মদিনে ১৯৮৯ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্মাণের সবচেয়ে তীব্র সময়ের মধ্যে, দিনে ১৪০০ জন এবং রাতে আরও ১১০০ জন কাজ করেছিলেন। ১০,০০০ শিল্পী ও কলাকুশলী মসজিদ নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে অংশ নেন।[২] তবে নির্ধারিত সময়ে ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় উদ্বোধন বিলম্বিত হয়। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য হিজরী ১৪১৪ সালের ১১ই রবি'উল -আউয়াল হিসাবে বেছে নেওয়া হয়, যা ৩০ আগস্ট ১৯৯৩ এর সাথে সম্পর্কিত ছিল, যা নবী মুহাম্মদের জন্ম বার্ষিকীর প্রাক্কাল হিসেবেও চিহ্নিত হয়। এটি মরক্কোর শাসকবর্গের প্রতি উৎসর্গ করা হয়।[৮]

অর্থায়ন[সম্পাদনা]

নির্মাণ ব্যয় আনুমানিক প্রায় ৫৮৫ মিলিয়ন ইউরো, একটি নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে মরক্কোতে বিতর্কের একটি বিষয় ছিল। হাসান এমন একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন যা আকারে শুধুমাত্র মক্কার মসজিদের চেয়ে দ্বিতীয় হবে, যদিও সরকারের কাছে এমন একটি বিশাল প্রকল্পের জন্য তহবিলের অভাব ছিল। বেশিরভাগ অর্থায়ন হয়েছিল জনসাধারণের দানের মাধ্যমে।[১২] ১২ মিলিয়ন মানুষ দান করেছিলেন, প্রত্যেক দাতাকে একটি রসিদ এবং শংসাপত্র দেওয়া হয়।[৮] সবচেয়ে ছোট অবদান ছিল ৫ মরক্কীয় দিরহাম। জনসাধারণের অনুদান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আরব দেশগুলি থেকে (যেমন কুয়েত এবং সৌদি আরব) প্রাপ্ত অনুদান ছাড়াও, পশ্চিমা দেশগুলি নির্মাণ ঋণ প্রদান করে, যা মরক্কো শোধ করে দেয়।[৪]

স্থাপত্য এবং জিনিসপত্র[সম্পাদনা]

মরক্কো কান্ট্রি স্টাডি গাইড বইয়ের লেখকদের বর্ণনায়, দ্বিতীয় হাসান মসজিদ "সন্দেহাতীতভাবে একটি আধুনিকীকৃত উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত শিল্পের ধারাবাহিকতাকে চিহ্নিত করে এবং উদ্ভাবনের চিহ্ন বহন করে যা কেবল প্রযুক্তিগত কারণেই নয় বরং নতুন নান্দনিক সম্ভাবনার উর্বর অন্বেষণের কারণেও।"[১৩] স্থাপনাটি আকার হল দৈর্ঘ্যে ২০০ মিটার (৬৬০ ফু) এবং প্রস্থে ১০০ মিটার (৩৩০ ফু)। কিছু ইতালীয় সাদা গ্রানাইট স্তম্ভ এবং ৫৬টি কাচের ঝাড়বাতি ছাড়া সমস্ত গ্রানাইট, প্লাস্টার, মার্বেল, কাঠ এবং নির্মাণে ব্যবহৃত অন্যান্য উপকরণ মরোক্কোর আশপাশ থেকে আহরণ করা হয়েছিল।[১০] মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী ছয় হাজার কারিগররা প্রচুর পরিমাণ সুন্দর মোজাইক, পাথর ও মার্বেলের মেঝে এবং স্তম্ভ, ভাস্কর্যযুক্ত প্লাস্টার ছাঁচ এবং খোদাই করা ও আঁকা কাঠের ছাদ তৈরি করতে পাঁচ বছর ধরে কাজ করেন। মসজিদের বাইরের উপরিভাগে টাইটানিয়াম, ব্রোঞ্জ এবং গ্রানাইট ফিনিশ দেখা যায়।[১৪] এটি ফ্যাকাশে নীল মার্বেল এবং জেলিজ টাইলস কারুকাজ দিয়ে অলঙ্কৃত।[১৫] মসজিদটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, সমস্ত কাঠামো শক্তিশালী সিমেন্টের কংক্রিট দিয়ে তৈরি এবং সমস্ত সজ্জা ঐতিহ্যগত মরক্কোর নকশার। নির্মাণ কাজে ৩৫,০০০ জন শ্রমিক জড়িত ছিল এবং ৫০ মিলিয়ন ঘন্টারও বেশি সময় কাজ করেছে।[৯] মসজিদটির মূল হলটিতে ২৫,০০০ প্রার্থনাকারী এবং এর আশেপাশের প্লাজা চত্বরে আরও ৮০,০০০ জন প্রার্থনাকারীর স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে দৃষ্টি-আকর্ষী স্তম্ভ, ঘোড়ার খুরের আকৃতির খিলান এবং ছাদকে অলঙ্কৃত করার জন্য অসংখ্য মুকারনা। গম্বুজ, খিলান এবং দেয়াল মসজিদটিকে একটি দুর্দান্ত পরিবেশ দেয়।[৬] প্রথম শ্রেণীর সাউন্ড সিস্টেমটি বিচক্ষণতার সাথে লুকায়িত।[৫] বেসমেন্টে অযু কক্ষ এবং একটি সুবিশাল পাবলিক গোসলখানা আছে, যার নিজস্ব প্রবেশদ্বার রয়েছে।[১৪] হাম্মাম স্নানপাত্রগুলোতে তাদেলাক্ট নামক একটি প্লাস্টারিং কৌশল ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে ডিমের কুসুম এবং কালো সাবান মিশ্রিত প্লাস্টারে যোগ করা হয়।[১৬]

নকশা[সম্পাদনা]

স্থাপনাটি ইসলামী স্থাপত্য এবং মরক্কীয় উপাদানগুলিকে মিশ্রিত করে এবং একটি শহুরে নকশার বৈশিষ্ট্যযুক্ত মুরীয় প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।[৬] এটিতে অন্যান্য মরক্কীয় স্থাপনা যেমন রাবাতে অবস্থিত অসমাপ্ত মসজিদ এবং মারাক্কেশের কাউতুবিয়া মসজিদে পাওয়া উপাদানগুলি দেখা যায়। রাবাতের রাজা পঞ্চম মোহাম্মদের সমাধিতে পুরানো রোমান দুর্গের রূপান্তরিত একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অন্যান্য উপাদান ট্যুর হাসান মসজিদ, দ্য ডোম অফ দ্য রক (এটি কুব্বাত আস-সাখরা ৬৮৮-৬৯২ খ্রিস্টাব্দ নামেও পরিচিত), মদিনার বড় মসজিদ (৭০৫-৭১০ খ্রিস্টাব্দ), তিউনিসিয়ার কাইরুয়ান মসজিদ (৬৬৩ খ্রিস্টাব্দ), দ্য দামেস্কের বড় মসজিদ (৭০৫-৭১৫ খ্রিস্টাব্দ), কর্ডোবার বড় মসজিদ (৭৮৫-৭৮৬ খ্রিস্টাব্দ), মরক্কোর আল-কারাওইন মসজিদ (৯৫৬ এবং ১১৩৫ খ্রিস্টাব্দ), তলেমসেনের বড় মসজিদ (১১৩৬), এবং আলজিয়ার্সের বড় মসজিদ (১০৯৬) থেকে এসেছে। এর বিন্যাসটি ব্যাসিলিকান প্ল্যান নামে পরিচিত, যা উত্তর আফ্রিকার অনেক দেশে গৃহীত একটি টি আকৃতির পরিকল্পনার সাধারণ অনুশীলন থেকে আলাদা। কিবলা প্রাচীরটি নেইভগুলোর সাথে লম্ব, যা একটি অপ্রচলিত বিন্যাস বলে মনে করা হয়, কারণ প্রথাগতভাবে প্রার্থনাকারীদের সারিগুলো মক্কার দিকে মুখ করে আরও পিছনে প্রসারিত না হয়ে যতটা সম্ভব প্রশস্ত হবে (হালোদ এবং খান ১৯৯৭, ৬১)। এই পরিকল্পনা গ্রহণকে "প্রাচীন অভিজাত রাজা দ্বিতীয় হাসান এবং সমসাময়িক নেতা রাজা দ্বিতীয় হাসানের মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে যাদের তার দেশের প্রয়োজন মেটাতে বাণিজ্য ও শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে।"[৬]

নামাজের ঘর[সম্পাদনা]

নামাজের ঘরটি নিচতলায়। কেন্দ্রীয় হলটি কেন্দ্রীয়ভাবে উত্তপ্ত, এবং আটলান্টিক মহাসাগরের দর্শনীয় ডুবো দৃশ্য প্রদান করে। হলের বিস্তৃত এবং সূক্ষ্ম অলঙ্করণগুলো এটিতে কাজ করা মরক্কোর ৬০০০ দক্ষ কারিগরদের জড়িত করার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। এটি এত বড় যে এটি প্যারিসের নটরডেম বা রোমের সেন্ট পিটারের বাড়ি সহজেই সংকুলান করতে পারে। কাঠের খোদাই, জেলিজ কাজ এবং স্টুকো ছাঁচগুলি বিস্তৃত এবং অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক নকশার; খোদাই করার জন্য ব্যবহৃত কাঠ হল সিডার, যা মধ্য এটলাস পর্বতমালা থেকে আনা হয়, আগাদির থেকে মার্বেল এবং টাফ্রাউট থেকে গ্রানাইট আনা হয়।[৭]

নামাজের ঘরটি দৈর্ঘ্যে ২০০ মিটার (৬৬০ ফু) এবং প্রস্থে তিনটি নেইভসহ ১০০ মিটার (৩৩০ ফু) আয়তক্ষেত্রাকার পরিকল্পনায় নির্মিত[১৭], যা কিবলা প্রাচীরের সাথে লম্ব। হলের কেন্দ্রীয় নেইভ ৪০ মিটার (১৩০ ফু) দীর্ঘ এবং পাশের নেইভগুলোর চেয়ে বড়, যা ২৭ মিটার (৮৯ ফু) উচ্চ। কেন্দ্রীয় হলটি পরপর অসংখ্য গম্বুজের সাথে ঝুলছে যেখানে মুরানো থেকে আমদানি করা কাঁচের ঝাড়বাতি ঝুলানো হয়েছে। হলের দুপাশে মেজানিন মেঝেতে খোদাই করা গাঢ় কাঠের আসবাব রয়েছে, যা মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। দরজাগুলি বৈদ্যুতিকভাবে চালিত হয়। সম্মুখভাগের দেয়ালে একটি "উন্মুক্ত কাজ সহ ট্রিপটিচ মার্বেল পার্টিশন এবং দুটি ছোট আকারের জানালার মাধ্যমে সংলগ্ন কেন্দ্রীয় জানালা" নির্মিত হয়েছে। অলংকৃত ফুলের নকশায় খোদাই করা বহু রঙের খিলান দিয়ে নির্মিত এই জাতীয় প্যানেলগুলি বাইরে থেকে দেখলে জ্যামিতিক কাঠামোর মতো দেখা যায়। দরজাগুলো মার্বেল বার দিয়ে অলঙ্কৃত করা হয়েছে যাতে কৃত্রিম ভাউসোয়ার (পর্যায়ক্রমে মসৃণ বা ভাস্কর্য) রয়েছে। ১৩ মিটার (৪৩ ফু) উচ্চতার আকারে বর্গাকার স্তম্ভের সাথে যুক্ত কলাম এবং ক্রুসিফর্ম স্তম্ভের একটি সিরিজে যুক্ত। খোদাই করা প্লাস্টারসহ জ্যামিতিক আকৃতির পলিক্রোম্যাটিক জেলজিগুলো এপিগ্রাফিসহ পুষ্পশোভিত এবং জ্যামিতিক নকশার সাথে সূচিত করা হয়েছে। এই মার্জিত নকশার জন্য খোদাই করা বা আঁকা মার্বেল বা আকৃতি দেওয়া কাঠ ব্যবহার করা হয়, যা ইসলামি শিল্পের গঠনগুলোকে তুলে ধরে।[৯]

ছাদটি সংকোচনযোগ্য, দিনের সূর্যালোক দিয়ে হলকে আলোকিত করে এবং পরিষ্কার আকাশময় রাতে প্রার্থনাকারীদের তারার নিচে প্রার্থনা করার সুযোগ দেয়।[১১] এটির ওজন ১১০০ টন এবং পাঁচ মিনিটে খোলা যায়; এটি ৩,৪০০ বর্গমিটার (৩৭,০০০ ফু) ক্ষেত্রফলসহ ৬০ মিটার (২০০ ফু) উঁচু।[১৮] ছাদটি ঢালাই-অ্যালুমিনিয়াম টাইলস (ফেজ টাইলসের অনুরূপ) দ্বারা আবৃত, ঐতিহ্যবাহী সিরামিক টাইলসের চেয়ে শক্তিশালী ও অধিক নির্ভরযোগ্য এবং প্রায় ৩৫ শতাংশ হালকা। উত্তর দিকের দেওয়ালে কাঁচের দরজা থেকেও নামাজের ঘর আলোকিত হয়।[১৮]

মিনার[সম্পাদনা]

২১০ মিটার (৬৯০ ফু)উচ্চতার মিনারটি বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম মিনার।[১৯] এটির উপরে একটি লেজার রশ্মি লাগানো আছে, যা সন্ধ্যায় বৈদ্যুতিকভাবে পরিচালিত হয়। এটি মক্কা অভিমুখী এবং সমুদ্র জুড়ে এর পরিসীমা ৩০ কিলোমিটার (১৯ মা)। বলা হয়, মিনারটি প্রশস্ত রাস্তাটির দৃশ্যমান সমতলতা বৃদ্ধি করে।[৬] এটি আকাশমুখী ভেদকরণে আকৃতিতে বর্গাকার। ভিত্তি থেকে উপরের প্রস্থের অনুপাত ১ থেকে ৮ (বেসমেন্ট এবং সামিটের মধ্যে) এর বাইরের অংশে সরল অলঙ্করণ সমৃদ্ধ মার্বেল আচ্ছাদন রয়েছে। সম্মুখভাগটি বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে অলঙ্করণ করা হয়েছে। ১০০,০০০ এমপি পৃষ্ঠে রাউদানি ট্রেসেটাইনের সেলাই রয়েছে। এই আলংকারিক উপাদান (প্রধান রং হিসেবে ক্রোম এবং সবুজ), ইটের ব্যবহারের বিকল্প ও মিনারে ব্যবহৃত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপাদান মসজিদটিকে একটি অসাধারণ কমনীয়তা দিয়েছে।[৯] সবুজ টাইলস উপর থেকে মিনারটির উচ্চতার এক-তৃতীয়াংশের সজ্জিত করে এবং তারপর রঙ পরিবর্তন করে গাঢ় সবুজ বা ফিরোজা নীল হয়ে যায়; বলা হয় যে দ্বিতীয় হাসান মিনারে, নকশাকার রাজার জীবন উদযাপনের জন্য তার সমুদ্রের ফেনা সবুজ রঙ এবং সৃষ্টিকর্তার নীল রঙ ব্যবহার করেছিলেন।[১৯] মিনারের জন্য ব্যবহৃত কংক্রিটটি ছিল একটি বিশেষ উচ্চ-মান ধরণের, যা প্রবল বাতাস এবং ভূমিকম্পের সম্মিলিত ক্রিয়াকলাপের গুরুতর পরিস্থিতিতে ভাল কাজ করতে পারে। প্রকল্পের ঠিকাদার বোয়েগুস গ্রুপের বিজ্ঞান বিভাগ সাধারণ কংক্রিটের চেয়ে চারগুণ বেশি শক্তিশালী অতিরিক্ত-শক্তির একটি কংক্রিট তৈরি করেছিল। বলা হয় বিএইচপি (অত্যন্ত প্রতিরোধী কংক্রিট) প্রতি বর্গসেমি. প্রতি ১২০০ বারের চাপ মান প্রতিরোধ করে (একটি বিশ্ব রেকর্ড বলে দাবি করা হয়েছে) এবং এটির খুব দ্রুত স্থাপন করার সময়কাল রয়েছে।[১৮] এটি নির্মাণের সময়সূচী মেনে চলার সাথে সাথে ভিত্তিটির যথাযথ গাঁথুনিসহ একটি লম্বা কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম করে। কংক্রিট দেয়ার জন্য মিনারের উচ্চতা অনুসারে ক্রেনগুলিও নকশা করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় হাসান মসজিদ জাদুঘর[সম্পাদনা]

মসজিদ নির্মাণের পর জাদুঘরটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। এটি মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন শিল্পকলার শিল্পকর্মের পাশাপাশি মসজিদের অব্যবহৃত স্থাপত্য উপাদান যেমন খোদাই করা আস্তর, আঁকা কাঠের ছাদ এবং জেলিজ দেয়াল প্রদর্শন করে।

পুনরুদ্ধারের কাজ[সম্পাদনা]

মসজিদের কাজ শেষ হওয়ার দশ বছর পর কংক্রিটের দেয়ালে কাঠামোগত অবনতি পরিলক্ষিত হয়।[১৮] এটি আটলান্টিক মহাসাগরের নোনা জলের সংস্পর্শে আসার কারণে হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা হয়, যার মধ্যে মসজিদের প্রায় অর্ধেক ভিত্তি প্রকল্প রয়েছে। লোনা জল ছিদ্রযুক্ত কংক্রিটে স্থানান্তরিত হওয়ার ফলে রিবার স্টিল রিইনফোর্সমেন্টে মরিচা পড়ে যার ফলে ইস্পাত প্রসারিত হয় এবং কংক্রিটে ফাটল ধরে। নোনা জল ইস্পাতের দণ্ড ছাড়িয়ে কাঠামোর মধ্যেও প্রবেশ করেছিল।[১৮]

কার্যকরী পুনরুদ্ধারের কাজ ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয়।[১৮] এতে উচ্চ-মানের কংক্রিটের সাথে মিশ্রিত মলি-গ্রেড স্টেইনলেস স্টিলের ব্যবহার প্রয়োজন হয়, যা কাঠামোটিকে ক্লোরাইড আক্রমণ প্রতিরোধী করে তোলে। এই প্রক্রিয়াটি ৩ বছরের গবেষণার সময় বিকশিত হয়েছিল। এটি স্থাপনাটির আয়ু ১০০ বছর বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।[১৮] চারটি ধাপে কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়। কাজের এলাকাকে বিচ্ছিন্ন ও শুকানোর জন্য প্রথম পর্যায়ে একটি লিক-প্রুফ কফার ড্যাম নির্মাণ করা হয়। এটি সর্বোচ্চ জলস্তরের ৫ মিটার (১৬ ফু) নীচে নির্মাণ করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে, নামাজের ঘরের শূন্যস্থানগুলো কংক্রিট দিয়ে পূর্ণ করা হয়। তৃতীয় ধাপে সমুদ্রের সংস্পর্শে আসা মসজিদের বাইরের অংশের কাঠামোগত স্ল্যাব ও স্তম্ভগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়; ৬,০০০ ঘনমিটার (২,১০,০০০ ঘনফুট) কংক্রিট সরানো হয়। চতুর্থ পর্যায়ে, কার্যকরী ক্ষয় নিয়ন্ত্রণের জন্য শক্তিশালীকরণ হিসাবে ২২০৫ (ইউএনএস এস ৩২২০৫ ইএন ১.৪৪২ মান মেনে) স্টেইনলেস স্টীল রডসহ উচ্চ-শক্তির কংক্রিট ব্যবহার করে নতুন বাহ্যিক সুরক্ষা কাজগুলো নির্মাণ করা হয়। যদিও বিশদ নকশা অনুসারে অনেকগুলি কাঠামোগত পরিবর্তন করা হয়েছিল, তবুও কাজগুলো সম্পাদনের সময় ১০০টি বাহ্যিক স্তম্ভ যেগুলোকে ঢেউ ভাঙার বৈশিষ্ট্যের কারণে "চিরুনি" বলা হয়, সেগুলো নোনা জল এবং ঢেউ ক্রিয়ার সংস্পর্শে এসেছিল এবং নতুন স্তম্ভগুলো দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হয়েছিল। এগুলি ২২০৫ স্টেইনলেস স্টীল দিয়ে শক্তিবৃদ্ধিসম্পন্ন উচ্চ-শক্তির কংক্রিট থেকে তৈরি করা হয়েছিল। এর জন্য আগেরটির পিছনে একটি অতিরিক্ত লিক-প্রুফ ডাইক তৈরি করার প্রয়োজন পরে; অন্তর্ভুক্ত মোট ডাইকের পরিমাণ ছিল ২০,০০০ ঘনমিটার (৭,১০,০০০ ঘনফুট)। এই সমস্ত কাজে প্রতি বর্গমিলিমিটারে ৮৫০ নিউটন এর ফলন শক্তি সহ ৮–২০ মিলিমিটার (০.৩১–০.৭৯ ইঞ্চি) এর ১৩০০ টন বিশেষ ইস্পাতের বার (৪০ টন মলিবডেনাম সহ) ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত হয়। ঢেলে দেওয়া কংক্রিটের পরিমাণ ১,০০,০০০ ঘনমিটার (৩৫,০০,০০০ ঘনফুট) নন-রিইনফোর্সড বাল্ক কংক্রিট এবং ১০,০০০ ঘনমিটার (৩,৫০,০০০ ঘনফুট) উচ্চ-শক্তির কংক্রিট। পুরো কাজটি করতে ৫০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করা হয়।[১৮]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Paul Clammer (১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯)। Morocco। LP। পৃষ্ঠা 105–। আইএসবিএন 978-1-74104-971-8। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১২ 
  2. Kingfisher Geography encyclopedia. আইএসবিএন ১-৮৫৬১৩-৫৮২-৯
  3. "Hassan II Mosque, Casablanca"। Sacred Destinations। ৫ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১২ 
  4. Hardy, Paula; Vorhees, Mara (২০০৫)। Lonely Planet Morocco। Lonely Planet। পৃষ্ঠা 24, 57, 82, 85। আইএসবিএন 9781740596787 
  5. Davies, Ethel (১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯)। North Africa: The Roman Coast। Bradt Travel Guides। পৃষ্ঠা 97–। আইএসবিএন 978-1-84162-287-3। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১২ 
  6. Elleh 2002
  7. Clammer, Paul (২০০৯)। Lonely Planet Morocco। Lonely Planet। পৃষ্ঠা 105–106। আইএসবিএন 9781741049718। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১২ 
  8. Lehmann, Ingeborg; Henss, Rita (২০১২)। Baedeker Morocco। Baedeker। পৃষ্ঠা 199–200। আইএসবিএন 9783829766234 
  9. Usa 2006
  10. Karber, Phil (১৮ জুন ২০১২)। Fear and Faith in Paradise: Exploring Conflict and Religion in the Middle East। Rowman & Littlefield। পৃষ্ঠা 466–। আইএসবিএন 978-1-4422-1479-8। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১২ 
  11. Habeeb, William Mark (২০০৩)। Morocco। Gareth Stevens। পৃষ্ঠা 54–55। আইএসবিএন 9780836823615 
  12. Dumper, Michael; Stanley, Bruce E. (২০০৭)। Cities of The Middle East and North Africa: A Historical Encyclopedia। ABC-CLIO। পৃষ্ঠা 117–। আইএসবিএন 978-1-57607-919-5 
  13. Usa 2006, পৃ. 71।
  14. "Hassan II Mosque"। Arch Net। ২২ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১২ 
  15. DK Publishing (২৯ নভেম্বর ২০১০)। Eyewitness Travel Guide: Morocco। Penguin। পৃষ্ঠা 102–। আইএসবিএন 978-0-7566-8665-9। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১২ 
  16. Keeble, James (১ আগস্ট ২০০৭)। Travellers Morocco, 2nd। Thomas Cook Publishing। আইএসবিএন 978-1-84157-793-7। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০১২ 
  17. Earlier in this article, under "Architecture and Fittings" it is said that the whole building is 200 m long.
  18. "Moly Review" (PDF)। International Molybdenum Association। জুলাই ২০০৯। পৃষ্ঠা 4–6। ১৫ মে ২০১১ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ অক্টোবর ২০১২ 
  19. Morgan, James (২০০৫)। Chasing Matisse: A Year in France Living My Dream। Simon and Schuster। পৃষ্ঠা 175–176। আইএসবিএন 9780743237543 

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:মরক্কোর মসজিদ

টেমপ্লেট:কাসাব্লাঙ্কা