ডোভার, ডেলাওয়্যার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ডোভার ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর।[১] এটি কেন্ট কাউন্টির সদর দপ্তর ও ডোভার-ডিই মেট্রোপলিটন এলাকার প্রধান শহর। শহরটি ফিলাডেলফিয়া-উইলমিংটন-ক্যামডেন পরিসংখ্যানগত এলাকার অংশ। শহরটি সেন্ট জোনস নদীর তীরে অবস্থিত। ইংল্যান্ডের কেন্ট কাউন্টির ডোভার শহরের নামে উইলিয়াম পেন এর নামকরণ করেন। ২০১০ সালে শহরের জনসংখ্যা ছিল ৩৬,০৪৭ জন।[২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নবগঠিত কেন্ট কাউন্টির বিচারকার্য পরিচালনার জন্য উইলিয়াম পেন ১৬৮৩ সালে ডোভার শহর প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭১৭ সালে ডেলাওয়্যার সাধারণ পরিষদ ডোভার শহরের জন্য নগর-পরিকল্পনা অনুমোদন করে। মধ্যবর্তী অবস্থান ও ডেলাওয়্যার নদীপথে ব্রিটিশ আক্রমণকারীদের হাত থেকে সুরক্ষিত অবস্থানের কারণে ১৭৭৭ সালে নিউ ক্যাসেল থেকে ডেলাওয়্যারের রাজধানী এখানে স্থানান্তরিত হয়। ১৭৮১ সালের অক্টোবরে ডেলাওয়্যার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে ডোভারে স্থানান্তরিত হয়। শহরের কেন্দ্রীয় সরণি "দ্য গ্রিন" নামে পরিচিত; এখানে অনেক জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব,অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রা আয়োজন করা হত।

আমেরিকান স্বাধীনতাযুদ্ধের কিংবদন্তি সিজার রডনি এখানেই বসবাস করতেন।

ডোভার ও কেন্ট কাউন্টি দাসত্বের প্রশ্নে বিভক্ত ছিল। ডোভার দাসপ্রথা সমর্থনকারী রাজ্য মেরিল্যান্ড ও দাস প্রথার বিরোধিতাকারী পেনসিলভানিয়ানিউ জার্সি-র নিকটে অবস্থিত ছিল। এখানে ক্রীতদাসের সংখ্যা কম হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই দাসপ্রথা সমর্থন করতেন।

ডোভারের অনেকগুলো স্থান "ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর জাতীয় তালিকা"-য় স্থান পেয়েছে। এগুলো হলো- ব্র্যাডফোর্ড-লুকারম্যান হাউজ, বিল্ডিং ১৩০১, ডোভার বিমানঘাঁটি, টাউন পয়েন্ট, পালমার হোম, গ্রিনউল্ড, মাকোম ফার্ম, জন ডিকিনসন হাউজ, গভর্নরের বাসভবন, ক্রাইস্টচার্চ, ক্যারি ফার্ম সাইট, মিফলিন-মারিম কৃষি কমপ্লেক্স, হিউস-উইলিস সাইট, জন বুলেন হাউজ, পুরাতন পরিষদভবন, টাইন হেড কোর্ট প্রভৃতি।[৩]

ভূগোল[সম্পাদনা]

আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ডোভারের আয়তন ২২.৭ বর্গমাইল। এর মধ্যে ২২.৪ বর্গমাইল স্থল ও ০.৩ বর্গমাইল জল।

জলবায়ু[সম্পাদনা]

ডোভারের জলবায়ু উষ্ণ ও ক্রান্তীয় আর্দ্র ধরনের। বছরের ২৩ দিন তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হয়, তবে কখনো কখনো ভারী ঘূর্ণিবায়ুর প্রভাবও এখানে পরিলক্ষিত হয়। ডেলাওয়্যার উপসাগর ও অ্যাপালেচিয়ার আচ্ছাদন একে প্রবল শীতের কবল থেকে রক্ষা করে। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত হয় ৪৬ ইঞ্চি। প্রতিবছর গড়ে ২৩০০ ঘণ্টা সূর্যোদয় হয়।

জনমিতি[সম্পাদনা]

ডোভারে ২০১০ সালে ৩৬,০৪৭ জন বাসিন্দা ছিল।[৪] এদের মধ্যে ৪৮.৩% শ্বেতাঙ্গ, ৪২.২% আফ্রিকান-আমেরিকান, ০.৫% আদিবাসী আমেরিকান, ২.৭% এশিয়ান, ০.১% প্রশান্ত মহাসাগরীয়, ২.১% অন্যান্য বর্ণ ও ৪.১% একাধিক বর্ণের প্রতিনিধিত্ব করে। ৬.৬% হিস্পানিক ও লাতিনো সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।

শহরের পরিবারগুলোর গড় আয় ৪৮,৩৩৮ মার্কিন ডলার। পুরুষদের গড় আয় ৩৪,৮২৪ মার্কিন ডলার ও নারীদের গড় আয় ২৬,০৬১ মার্কিন ডলার। শহরের সকল অধিবাসীর মাথাপিছু আয় ১৯,৪৪৫ মার্কিন ডলার। ১১.৫% পরিবার ও ১৩.৮% বাসিন্দা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ১৮ বছরের নিচে ১৯.৬% এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে ১০.৪% অধিবাসীর উপার্জন ছিল উক্ত সীমার নিচে।

প্রশাসন[সম্পাদনা]

ডোভার সিটি কাউন্সিল নয় সদস্যবিশিষ্ট। এদের মধ্যে আটজন চারটি নির্বাচনী এলাকা ও অবশিষ্ট সদস্য সম্পূর্ণ ডোভার থেকে নির্বাচিত হন। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত মেয়র চার বছর দায়িত্ব পালন করেন। সিটি কাউন্সিলের সদস্যরাও চার বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।[৫]

ডোভার পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বর্তমান সদস্যসংখ্যা ১০১।[৬] ১৮৮২ সালে এর অগ্নিনির্বাপণ দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বেচ্ছাসেবকরা এটি পরিচালনা করে থাকেন।[৭] ডোভার যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যের রাজধানীগুলোর মধ্যে একমাত্র শহর, যার অগ্নিনির্বাপণ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]