জেফারসন সিটি, মিজুরি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

জেফারসন সিটি (দাপ্তরিক ব্যবহারে: সিটি অব জেফারসন, কথ্য ভাষায়: জেফ সিটি[১]) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিজুরি অঙ্গরাজ্যের রাজধানী। এটি জনসংখ্যায় মিজুরির ১৫-তম বৃহত্তম অঙ্গরাজ্য। ২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এর জনসংখ্যা ৪৩,০৭৯। [২] এটি কোল কাউন্টির সদর দপ্তর ও জেফারসন সিটি মেট্রোপলিটন এলাকার প্রধান শহর। শহরের অধিকাংশ এলাকাই কোল কাউন্টিতে অবস্থিত - তবে এর উত্তরাংশের ক্ষুদ্র অঞ্চল ক্যালাওয়ে কাউন্টিতে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি টমাস জেফারসনের নামানুসারে শহরটির নামকরণ করা হয়।

ওজার্ক মালভূমির উত্তর সীমানায়, মিজুরি নদীর দক্ষিণে মধ্য মিজুরি অঞ্চলে জেফারসন সিটি অবস্থিত। এটি মিজুরির কলাম্বিয়া শহরের ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। "মিজুরি রাইনল্যান্ড" নামক ভৌগোলিক এলাকার পশ্চিম প্রান্তে এর অবস্থান। এ শহরের অন্যতম স্থাপত্য আকর্ষণ গম্বুজবিশিষ্ট রাজ্য ক্যাপিটল ভবন মিজুরি নদীর উত্তরে অবস্থিত। ক্যাপিটল ভবন যে খাঁড়িতে রয়েছে, সেটি লুইস ও ক্লার্ক তাদের ঐতিহাসিক অভিযাত্রার সময় অতিক্রম করেছিলেন। ইউরোপীয়রা তখনো এ এলাকায় বসতি স্থাপন করেনি।

জেফারসন সিটির প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৬৬ সালে ৬২ নং কৃষ্ণাঙ্গ রেজিমেন্ট ৬৫ নং কৃষ্ণাঙ্গ রেজিমেন্টের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়টি নির্মাণ করে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাক-কলম্বীয় যুগে "মাউন্ডবিল্ডারস" বা টিলা নির্মাণকারী বলে পরিচিত একদল লোক জেফারসন সিটিতে বসবাস করত। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে আতোয়াঁ ডি লা মোতে ক্যাডিলাক, লুই জোলিয়ে, জ্যাক মারকে,রবার্ট ডি লা স্যাল ও ড্যানিয়েল বুনসহ সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক ব্যক্তি এখানে বসবাস শুরু করেন। ড্যানিয়েল বুনের ছেলে ড্যানিয়েল মর্গান বুন ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে মিজুরির নগর-পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।

১৮১২ সালে মিজুরি ভূখণ্ড গঠিত হলে সেন্ট লুইস থেকে সরকারের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে সেন্ট চার্লস মিজুরির রাজধানী হয়। ১৮২১ সালে জেফারসন সিটি-কে মিজুরির রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। গ্রামটিকে তখন বলা হতো "লোহম্যানস ল্যান্ডিং"। এরপর এর নাম হিসেবে "মিসৌরিওপোলিস" প্রস্তাব করা হয়। অবশেষে রাষ্ট্রপতি টমাস জেফারসনের নামানুসারে শহরটির নাম হয় জেফারসন সিটি। [৩] শুরুতে গ্রামটি সেন্ট লুইস ও কানসাস অঙ্গরাজ্যের মধ্যে একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত। ১৮২৫ সালে নগর হিসাবে একে স্থানীয় শাসনের আওতাভুক্ত করা হয়। পরের বছর মিজুরি বিধানসভার সদস্যরা এখানে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে শুরু করেন।

১৮৩৬ সালে এখানে মিজুরি রাজ্য সংশোধনাগার নামক একটি কারাগারের কার্যক্রম শুরু হয়। সনি লিস্টন, মার্টিন লুথার কিং এর হত্যাকারী জেমস আর্ল রে ও ব্যাংক ডাকাত প্রেটি বয় ফ্লয়েড এ কারাগারে বন্দি ছিলেন। গৃহযুদ্ধের সময় ইউনিয়ন বাহিনী জেফারসন সিটি দখল করে রেখেছিল। ইউনিয়ন জেনারেল নাথানিয়েল লিওন বিধানসভাকে উৎখাত করেন। তখন বিধানসভার বিচ্ছিন্নতাকামী সদস্যরা নিওশো শহরে একত্রিত হয়ে কনফেডারেট যুক্তরাষ্ট্রে যোগদানের ঘোষণা দেন। ইউনিয়ন ও কনফেডারেট আমেরিকা- উভয়ই মিজুরি ও কেন্টাকিকে নিজেদের অংশ হিসেবে ঘোষণা দেয়। সেন্ট লুইস ও এর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা ইউনিয়নে থাকার ইচ্ছা পোষণ করলেও জেফারসন সিটি ও কানসাস সিটির বাসিন্দারা কনফেডারেট যুক্তরাষ্ট্রে যোগদানে আগ্রহী ছিল।

জার্মান অভিবাসীরা ১৮০০ শতকের মধ্যভাগে এ এলাকায় মিজুরি নদীর তীরে আঙুরক্ষেত তৈরি করেন। এর ফলে জেফারসন সিটি যে ভৌগোলিক এলাকার অংশ, সেটি মিজুরি রাইনল্যান্ড নামে পরিচিত।

২০১৩ সালে র‍্যান্ড ম্যাকন্যালির অর্থায়নে আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় জেফারসন সিটি বিজয়ী হয় ও আমেরিকার সবচেয়ে মনোরম ক্ষুদ্র নগরী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। [৪]

২০১৯ সালের ২২ মে, মধ্যরাতের ১৫ মিনিট পূর্বে এখানে ই-এফ থ্রি[৫] মাত্রার ভয়াবহ ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। এতে শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।[৬] এতে একজন মারা যান ও বিশজন মৃত্যুবরণ করেন।

ভূগোল[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, জেফারসন সিটির আয়তন ৩৭.৫৮ বর্গমাইল। এর ৩৫.৯৫ বর্গমাইল স্থল ও ১.৬৩ বর্গকিলোমিটার জল।[৭]

জলবায়ু[সম্পাদনা]

জেফারসন সিটির জলবায়ু আর্দ্র মহাদেশীয় ধরনের। গ্রীষ্মকালে এর জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে। বসন্তকাল ও গ্রীষ্মকালে প্রায়ই বজ্রঝড় হয়। শীতকালে হালকা তুষারপাত হলেও এর অর্ধেক সময়ই বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।[৮]

জনমিতি[সম্পাদনা]

২০১০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জেফারসন সিটির জনসংখ্যা ৪৩,০৭৯। শহরে ৯,৯৬৯টি পরিবার বসবাস করছিল। বাসিন্দাদের ৭৮% শ্বেতাঙ্গ, ১৬.৯% আফ্রিকান আমেরিকান, ০.৩% আদিবাসী আমেরিকান, ১.৮% এশীয় ও ০.১% প্রশান্ত মহাসাগরীয়। বাসিন্দাদের ২.৬% হিস্পানিক অথবা লাতিনো। [৯]

শহরের মাথাপিছু আয় ২১,২৬৮ ডলার। পরিবারগুলোর গড় আয় ৫২,৬২৭ ডলার। পুরুষদের গড় আয় ৩৫,০৫০ ডলার ও নারীদের গড় আয় ২৫,৫২১ ডলার। ৭.৩% পরিবার ও ১১.৫% বাসিন্দা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এদের মধ্যে ১৭.১% এর বয়স ১৮ এর নিচে ও ৭.১% এর বয়স ৬৫ এর সমান বা বেশি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]