লিংকন, নেব্রাস্কা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

লিংকন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ও ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টির সদর দপ্তর। শহরটির আয়তন ৯৬.১৯৪ বর্গকিলোমিটার ও জনসংখ্যা ২,৮৯,১০২। এটি জনসংখ্যায় নেব্রাস্কার দ্বিতীয় বৃহত্তম ও যুক্তরাষ্ট্রের ৭০-তম বৃহত্তম শহর। শহরটি লিংকন মেট্রোপলিটন এলাকা ও লিংকন-বিয়েট্রিস সমন্বিত পরিসংখ্যান এলাকার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র।

১৮৫৬ সালে লবণাক্ত জলাভূমির উপর ল্যাঙ্কাস্টার গ্রাম প্রতিষ্ঠিত হয়। এটিই আজকের লিংকন শহর। রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকনের নামানুসারে শহরটির নাম হয় লিংকন। ১৮৬৯ সালে এটি নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী হয়। ১৯৩২ সালে স্থপতি ই.এইচ.গুডহিউয়ের নকশাকৃত ক্যাপিটল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় উচ্চতম ক্যাপিটল ভবন। ১৮৬৯ সালে এখানে লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭০ এর দশকে লিংকন শরণার্থীবান্ধব শহর হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ভিয়েতনামীয়,কারেন, সুদানীয় ও ইয়াজিদি শরণার্থীদের এখানে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বসতি স্থাপনের পূর্বে এ এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে তৃণ দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল। আদিবাসীদের পূর্বপুরুষ প্লেইনস ইন্ডিয়ান হাজার বছর ধরে এখানে বসবাস করত। প্লাটে নদীতীরবর্তী এলাকায় পৌনি উপজাতির আবাস ছিল। এছাড়াও উত্তর-পশ্চিমে বসবাসকারী গ্রেট সু জাতি নেব্রাস্কায় শিকার করত, তবে এখানে তাদের কখনোই কোনো দীর্ঘস্থায়ী বসতি ছিল না। [১]

১৮৫৬ সালে ল্যাঙ্কাস্টার গ্রাম প্রতিষ্ঠিত হয় ও ১৮৫৯ সালে এটি ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টির সদর দপ্তর হিসেবে স্বীকৃতি পায়।[২] সল্ট ক্রিক নদীর পূর্ব তীরে গ্রামটির অবস্থান ছিল।[৩] লবণের প্রাচুর্য এখানে বসতি স্থাপনকারীদের আকৃষ্ট করেছিল। জে স্টার্লিং মর্টন ক্যান্সাস প্রদেশে লবণ উৎপাদন শুরু করলে গ্রামটির অর্থনীতিতে লবণশিল্পের অবস্থান ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। [৪] ক্যাপ্টেন ডব্লিউ টি ডনোভান ও তার পরিবার ১৮৫৬ সালে এখানে বসবাস শুরু করেন। ১৮৫৯ সালে গ্রামবাসীরা মিলিত হয়ে একটি কাউন্টি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। এ উদ্দেশ্যে ক্যাপ্টেন ডনোভানসহ অন্যরা কমিটি গঠন করেন। কাউন্টিটির নাম দেওয়া হয় "ল্যাঙ্কাস্টার"।১৮৬২ সালে "হোমস্টেড আইন" পাস হলে হোমস্টেডাররা (ইতোপূর্বে আমেরিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কেউ বসতি স্থাপন করলে তাকে সেখানে ১৬০ একর জমি দেওয়া হত। এদেরকেই বলা হতো হোমস্টেডার।) এখানে এসে বসতি স্থাপন শুরু করেন। ১৮৬৪ সালের ৬ আগস্ট এর প্রথম মানচিত্র অঙ্কন করা হয়। [১]

১৮৬৮ সালের শেষদিকে ল্যাঙ্কাস্টারের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০০।[৫] ১৮৬৯ সালের ১ এপ্রিল একে শহর হিসেবে স্থানীয় শাসনের আওতাভুক্ত করা হয় এবং এর নাম হয় লিংকন। ১৮৬৯ সালে লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১,৩০,০০০ একর ভূমি মঞ্জুর করা হয়। ঐ বছরই বিশ্ববিদ্যালয় হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়।

১৮৬৭ সালের ১ মার্চ নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৮৫৪ সালে নেব্রাস্কা ভূখণ্ড সৃষ্টি হবার পর ওমাহা এর রাজধানী ছিল। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ প্ল্যাট নদীর দক্ষিণাঞ্চলে বসবাস করত। তাই দক্ষিণে রাজধানী স্থানান্তরের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। ওমাহার সিনেটর জে.এন.এইচ প্যাট্রিকের উদ্যোগে নবগঠিত রাজধানীর নাম "লিংকন" প্রস্তাব করা হয়। তিনি মনে করেছিলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ কনফেডারেটদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ায় তারা তাদের এলাকা রাজধানী হওয়ার পরিবর্তে "লিংকন" নামে নামাঙ্কিত হওয়ার ব্যাপারটি সাদরে গ্রহণ করবে না। তাঁর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে দক্ষিণের এলাকা "লিংকন" নামে রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পায়।[৬]

ডেভিড বাটলার, টমাস কেনার্ড ও জন গিলেস্পি ১৮৬৭ সালের ১৮ জুলাই ক্যাপিটল ভবনের জন্য জায়গা নির্বাচন করতে শুরু করেন। লবণাক্ত জলাভূমির কারণে ল্যাঙ্কাস্টার গ্রাম ক্যাপিটল ভবনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচিত হয়। [৭] ১৮৬৮ সালের ১ ডিসেম্বর নেব্রাস্কা রাজ্য ক্যাপিটল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়।

১৮৮৮ সালে প্রথমটির স্থানে দ্বিতীয় ক্যাপিটল ভবন নির্মিত হয়। উইলিয়াম এইচ উইলকক্স এর স্থপতি ছিলেন। [৮] ১৯২২ সালে বার্ট্রাম জে গুডহিউয়ের নকশায় তৃতীয় ক্যাপিটল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়।

১৮৯০ সালের মন্দার ফলে লিংকনের জনসংখ্যা ৫৫,০০০ থেকে কমে হয় ৩৭,০০০। কিছু কিছু ছোট শহর পরবর্তীতে লিংকনের সাথে যুক্ত হয়। প্রথমে ১৯১৯ সালে নর্মাল শহর লিংকনের সাথে সংযুক্ত করা হয়। [৯] ১৯২২ সালে বেথানি হেইটস, ১৯২৬ সালে ইউনিভার্সিটি প্লেস [১০] ও ১৯২৯ সালে কলেজ ভিউ শহর লিংকনের সাথে যুক্ত হয়।

১৯২০ সালে লিংকনের উত্তর-পূর্বে ইউনিয়ন বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। ই.জে.সায়াস ২১৪৫ ও' স্ট্রিটে লিংকন ফ্লায়িং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। বৈমানিক চার্লস লিন্ডবার্গ এর ছাত্র ছিলেন। ১৯৪৭ সালে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৯২৫ সালে এখানে অ্যারো বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়।[১১]

১৯৪২ সালে সেনাবাহিনী লিংকনে বিমানঘাঁটি নির্মাণ করে। ১৯৬৬ সালে এটি বন্ধ হয়ে যায়। [১২]

১৯৬৬ সালে লিংকন পশ্চিম লিংকন শহরাঞ্চলকে সংযুক্ত করে। পশ্চিম লিংকনের ভোটাররা এই সংযুক্তি প্রত্যাখ্যান করলেও ১৯৬৫ সালে নেব্রাস্কা বিধানসভা প্রণীত এক আইনের ফলে সংযুক্তি প্রক্রিয়া বৈধতা লাভ করে।[১৩]

ভূগোল[সম্পাদনা]

লিংকনের আয়তন ৯৬.১৯৪ বর্গমাইল। এর ৯৪.৮৪০ বর্গমাইল স্থল ও ১.৩৫৪ বর্গমাইল জল।[১৪]

জলবায়ু[সম্পাদনা]

নেব্রাস্কার জলবায়ু আর্দ্র মহাদেশীয় ধরনের। এতে চারটি ঋতু দেখা যায়। শীতকালে এখানে নগণ্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়। প্রতি ঋতুতে গড়ে ৬৬ সে.মি. তুষারপাত হয়।[১৫]

জানুয়ারি মাসে গড় তাপমাত্রা থাকে ২৪.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট ও জুলাই মাসে গড় তাপমাত্রা থাকে ৭৭.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

ন্যাশনাল ক্লিনিক ডাটা সেন্টার ৩০ বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে লিংকনকে সপ্তম শীতলতম বড় শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[১৬] আমেরিকান ফুসফুস সমিতি ২০১৪ সালে লিংকন-বিয়েট্রিস এলাকাকে ওজোনস্তরের দূষণমাত্রা বিবেচনায় অন্যতম পরিষ্কার শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[১৭]

জনমিতি[সম্পাদনা]

২০১০ সালের আদমশুমারি।অনুযায়ী লিংকন শহরের জনসংখ্যা ২,৫৮,৩৭৯। শহরে ৬০,৩০০টি পরিবার বসবাস করে। শহরের জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯.৫ জন। বাসিন্দাদের ৮৬.০% শ্বেতাঙ্গ, ৩.৮% আফ্রিকান আমেরিকান, ০.৮% আদিবাসী আমেরিকান, ৩.৮% এশীয় ও ০.১% প্রশান্ত মহাসাগরীয়। বাসিন্দাদের ৬.৩% হিস্পানিক অথবা লাতিনো।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]