ডেভিড সিনকক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ডেভিড সিনকক
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম
ডেভিড জন সিনকক
জন্ম (1942-02-01) ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২ (বয়স ৮২)
উত্তর অ্যাডিলেড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া
ডাকনামএভিলডিক
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম চায়নাম্যান
ভূমিকাবোলার
সম্পর্কএইচকে সিনকক (পিতা), পিডি সিনকক (ভ্রাতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় দল
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৩২)
৪ ডিসেম্বর ১৯৬৪ বনাম পাকিস্তান
শেষ টেস্ট৭ জানুয়ারি ১৯৬৬ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৬
রানের সংখ্যা ৮০ ৮৩৮
ব্যাটিং গড় ২৬.৬৬ ১৭.৪৫
১০০/৫০ ০/০ ০/৪
সর্বোচ্চ রান ২৯ ৬১*
বল করেছে ৭২৪ ৯৪৯২
উইকেট ১৫৯
বোলিং গড় ৫১.২৫ ৩৬.৮৭
ইনিংসে ৫ উইকেট ১০
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/৬৭ ৭/৪৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/০ ২৭/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৮ জুন, ২০২০

ডেভিড জন সিনকক (ইংরেজি: David Sincock; জন্ম: ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২) দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উত্তর অ্যাডিলেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ স্লো লেফট-আর্ম চায়নাম্যান বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন ‘এভিলডিক’ ডাকনামে পরিচিত ডেভিড সিনকক

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত ডেভিড সিনককের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। দুর্লভ প্রকৃতির চায়নাম্যান বোলার ছিলেন তিনি।

১৯৬০-৬১ মৌসুমের অভিষেক খেলায় দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। অ্যাডিলেডে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ৬/৫২ পান তিনি। তারপর থেকেই স্থিতিশীলতা আনয়ণে তাকে বেশ প্রতিকূল অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ডেভিড সিনকক। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৪ তারিখে মেলবোর্নে সফরকারী পাকিস্তান দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৭ জানুয়ারি, ১৯৬৬ তারিখে সিডনিতে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

দলীয় সঙ্গীরা তাকে ‘এভিলডিক’ নামে ডাকতেন। গ্যারি সোবার্সের মতে, আমার বিপক্ষে অন্যতম সেরা কৌতুহলোদ্দীপক বোলার তিনি। অন্য যে-কোন বোলারের তুলনায় তিনি বলকে বেশ ঘোরাতে পারতেন ও তার গুগলি বলগুলো বেশ সমীহের ছিল।[১] তবে, সোবার্সের অভিমত, তার বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা ছিল না; এ পায়ে লাফিয়ে প্রত্যেক বলকে ফুল টস আকৃতির খেলার অযোগ্য বোলিং করতেন।[১]

১৯৬৫-৬৬ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে সর্বশেষ খেলেন। সিডনিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐ টেস্টে ০/৯৮ করেন। তবে, বেশ লড়াকুচিত্তে ২৯ ও ২৭ রান তুলতে সমর্থ হন। কিন্তু, খেলায় অস্ট্রেলিয়া দল নিজ ভূমিতে ৫০ বছরের অধিক সময়ের ব্যবধানে নিকৃষ্টতম পরাজয়ের কবলে নিপতিত হয়। দল নির্বাচকমণ্ডলী পাঁচজন খেলোয়াড়কে বাদ দেয়। সিনককসহ ভারতপ্রাপ্ত অধিনায়ক ব্রায়ান বুথকে আর অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি।

অংশগ্রহণকৃত তিন টেস্টে তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। একবার তিনি গিডিওন হেইকে বলেছিলেন যে, ‘খেলায় তিনি পুণরাবৃত্তি ঘটাতে পারবেন না বলেই বেশ তাড়াতাড়ি অবসর নিয়েছেন। কোন ব্যাটসম্যানকে শুরুতেই আউট করতে না পারলে আর তিনি ঐ ব্যাটসম্যানের মুখোমুখি হতে চান না। ’

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৬৫-৬৬ মৌসুম শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। এরপর, সিডনিতে চলে যান। সেখানে সিডনি গ্রেড ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের পক্ষে খেলেন।[২]

পরবর্তীকালে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, নিশ্চিতভাবেই আমি পেশাদার ক্রীড়াবিদ হতে চাইনি। একবার আমি এ সুযোগ পেলেও কখনো চাইনি যে পরের সপ্তাহেই আমাকে বিদেয় নিতে হবে।[৩] ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সফল ব্যবসায় নির্বাহীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sobers, p. 85
  2. "Clews to try for Sydney team", The Canberra Times, 29 August 1972, p. 20.
  3. Haigh, p. 275.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]