ডিক স্পুনার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ডিক স্পুনার
ডিক স্পুনার.jpg
১৯৫১ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে ডিক স্পুনার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরিচার্ড থম্পসন স্পুনার
জন্ম(১৯১৯-১২-৩০)৩০ ডিসেম্বর ১৯১৯
থর্নবি-অন-টিস, ইয়র্কশায়ার নর্থ রাইডিং, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২০ ডিসেম্বর ১৯৯৭(1997-12-20) (বয়স ৭৭)
টরকুয়ে, ডেভন, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৬৬)
২ নভেম্বর ১৯৫১ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট১৩ আগস্ট ১৯৫৫ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৫৯
রানের সংখ্যা ৩৫৪ ১৩,৮৫১
ব্যাটিং গড় ২৭.২৩ ২৭.২৬
১০০/৫০ –/৩ ১২/৬৪
সর্বোচ্চ রান ৯২ ১৬৮*
বল করেছে ৫৪
উইকেট
বোলিং গড়
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১০/২ ৫৮৯/১৭৮
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২২ অক্টোবর ২০২০

রিচার্ড থম্পসন স্পুনার (ইংরেজি: Dick Spooner; জন্ম: ৩০ ডিসেম্বর, ১৯১৯ - মৃত্যু: ২০ ডিসেম্বর, ১৯৯৭) ইয়র্কশায়ার নর্থ রাইডিংয়ের থর্নবি-অন-টিস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকের সূচনালগ্নে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন ডিক স্পুনার

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত ডিক স্পুনারের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ২৮ বছরের পূর্ব-পর্যন্ত কোন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি তিনি। কিন্তু, তারপর থেকে পরবর্তী এক দশকের অধিক সময় ওয়ারউইকশায়ারের উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। বেশ কয়েকজন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খেলোয়াড় হিসেবে ওয়ারউইকশায়ার দলে যোগ দেন। মাঠে তিনি বেশ সরব ছিলেন। ভাঙ্গা নাক নিয়েই খেলতেন।

বেশ দেরীতে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আগমন ঘটে ডিক স্পুনারের। ২৮ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন তিনি। বামহাতে দ্রুততার সাথে ব্যাটিং চালনায় অভিজ্ঞ ছিলেন। ইনিংসের শুরুতে কিংবা এর পর ব্যাটিংয়ে নামতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বিশ্বস্ত উইকেট-রক্ষক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে স্বল্প সময়ের জন্যে অবস্থান করেন। এ পর্যায়ে তিনি সমসাময়িক গডফ্রে ইভান্সের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।[১]

মাইনর কাউন্টিজ ক্রিকেটে ডারহামের পক্ষে ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত খেলেন। ১৯৪৮ সালে সরাসরি ওয়ারউইকশায়ারের প্রথম একাদশের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। এ পর্যায়ে তার ব্যাটিংয়ের উত্তরণ ঘটতে থাকে। ১৯৫০ সালে সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে কমনওয়েলথ একাদশের সদস্যরূপে ভারত গমনার্থে মনোনীত হন। ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক হিসেবে তিনি বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। তবে, অসুস্থতার কারণে তাকে শুরুতেই দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল।

পরবর্তী মৌসুমে অর্থাৎ ১৯৫১ সালে তাকে সম্মুখসারির উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলানো হয়। ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে নিয়মিতভাবে ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। চারটি শতরান সহযোগে ১,৭০০-এর অধিক রান সংগ্রহ করেন। ওয়ারউইকশায়ার ক্লাব তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ডিক স্পুনার। ২ নভেম্বর, ১৯৫১ তারিখে দিল্লিতে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৩ আগস্ট, ১৯৫৫ তারিখে ওভালে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের সদস্য করা হয়। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে নাইজেল হাওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন নিচুমানের দল পাঠায়। এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত, পাকিস্তান ও সিলন গমন করেন। ঐ দলটিতে গডফ্রে ইভান্সসহ বেশ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি ছিল।[১]

ভারতের বিপক্ষে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই তার অংশগ্রহণ ছিল। ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ৩৫ গড়ে ৩১৯ রান তুলেন। তার ব্যাটিংয়ের দক্ষতার কারণে ঐ সফরে আরেক উইকেট-রক্ষক ডন ব্রেনানের তুলনায় তাকে টেস্ট দলে রাখা হয়েছিল। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে নিষ্প্রাণ পিচে ইংল্যান্ডের উভয় ইনিংসেই তিনি দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৭১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা ৯২ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৫২ সালে নিজ দেশে ভারত দলের আগমন ঘটে। সফরকারী দলের বিপক্ষে তিনি আরও দুই টেস্টে অংশ নেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন[সম্পাদনা]

১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করেন। পোর্ট অব স্পেনে সিরিজের চতুর্থ টেস্টের নিষ্প্রাণ পিচে আঘাতপ্রাপ্ত গডফ্রে ইভান্সের পরিবর্তে খেলার সুযোগ পান। অবশেষে ১৯৫৫ সালে ওভালের চূড়ান্ত টেস্টে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে নিজ দলের বিজয়ে অংশ নেন। তবে, চতুর্থ টেস্টে ইভান্সের আঘাতের কারণে আর্থার ম্যাকইনটায়ারকে দলে নেয়া হয়েছিল। চূড়ান্ত টেস্টের শেষ দিনের বিকেলে ইংল্যান্ড জয়ী হয়ে সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে করায়ত্ত্ব করে। কিন্তু, ব্যক্তিগতভাবে পুরোপুরি সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি তিনি। কোন বাই রান না দিলেও উভয় ইনিংসেই তিনি কোন রান তুলতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন।[১]

১৯৫১ সালে তার ব্যাটিং সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করে। পরবর্তী চার মৌসুমেও তিনি সহস্রাধিক রান তুলেন। তবে, তার ব্যাটিং গড় বেশ নিম্নমূখী ছিল। কিন্তু, ১৯৫০-এর দশকের শেষদিকে তার ব্যাটিং গড় আরও নিচুতে চলে যেতে যায়। নিজের সেরা সময়ে তার গড় ২০-এর কম ছিল। ১৯৫৯ সালে বাজে মৌসুম অতিবাহিত করার পর খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

অবসর গ্রহণের পর ডেভনের মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। ২০ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ৭৭ বছর বয়সে ডেভনের টরকুয়ে এলাকায় ডিক স্পুনারের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 155আইএসবিএন 1-869833-21-X 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]