টাফটি মান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
টাফটি মান
টাফটি মান.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামনরম্যান বারট্রাম ফ্লিটউড মান
জন্ম(১৯২০-১২-২৮)২৮ ডিসেম্বর ১৯২০
বেনোনি, ট্রান্সভাল, দক্ষিণ আফ্রিকা
মৃত্যু৩১ জুলাই ১৯৫২(1952-07-31) (বয়স ৩১)
হিলব্রো, জোহেন্সবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৫৯)
৭ জুন ১৯৪৭ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট২৬ জুলাই ১৯৫১ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৯ ৭৩
রানের সংখ্যা ৪০০ ১৪৪৬
ব্যাটিং গড় ১৩.৩৩ ১৭.৪২
১০০/৫০ ০/১ ০/৩
সর্বোচ্চ রান ৫২ ৯৭
বল করেছে ৫৭৯৬ ২০৩৭৩
উইকেট ৫৮ ২৫১
বোলিং গড় ৩৩.১০ ২৩.৭১
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৪
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/৫৯ ৮/৫৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/- ২৫/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯

নরম্যান বারট্রাম ফ্লিটউড টাফটি মান (ইংরেজি: Tufty Mann; জন্ম: ২৮ ডিসেম্বর, ১৯২০ - মৃত্যু: ৩১ জুলাই, ১৯৫২) ট্রান্সভাল প্রদেশের বেনোনিতে জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫১ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।[১]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্সকোয়াজুলু-নাটাল দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকরী ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন টাফটি মান

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

ট্রান্সভালের বেনোনিতে টাফটি মানের জন্ম। দক্ষিণ আফ্রিকার মাইকেলহাউজ বোর্ডিং স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গনভিল ও কায়ান কলেজে পড়াশুনো করেন। প্রথমে গল্ফ খেলার দিকে মনোনিবেশ ঘটান। ১৬ বছর বয়সেই নাটাল অ্যামেচার গল্ফ চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করেন।[২]

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার বার্ষিক খেলায় অংশগ্রহণের সুবাদে গল্ফে ব্লুধারী হন।[৩] কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম একাদশ দলের পক্ষে ক্রিকেট খেলার সুযোগ হয়নি তার। ফ্রেশম্যানের পক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশগ্রহণ করলেও কোন উইকেট পাননি ও পরবর্তীতে আর চেষ্টাও করেননি তিনি।[৪]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৫০-৫১ মৌসুম পর্যন্ত টাফটি মানের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। লম্বা, লিকলিকে ও চশমা পরিহিত অবস্থায় টাফটি মান নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং ও স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স স্পিন বোলার হিসেবে খেলতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই নাটাল দলের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। এরপর, ১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে ইস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে খেলেন। অংশগ্রহণকৃত ৭৩টি প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোর দুই-তৃতীয়াংশই দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পক্ষে খেলেছেন।

১৯৩৯ সালের শীতে ইংল্যান্ড থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যান। ১৯৩৯-৪০ মৌসুমে নাটালের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অভিষেক ঘটে তার। পাঁচ খেলায় অংশ নিয়ে মিতব্যয়ী বোলিং করেন। তবে, কোন ইনিংসেই তিনের অধিক উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখাতে পারেননি।[৫]

বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ইতালিতে ধৃত হন। অতঃপর যুদ্ধ বন্দীশিবির থেকে উদ্ধার পান।[২] যুদ্ধকালীন বড়ধরনের দিনলিপি ব্যবহার করতেন। ১৯৫১ সালে ইংল্যান্ডে ক্রিকেট সফরে তার ঐ স্মৃতিগ্রন্থ বিক্রয়ের চেষ্টা চালান।[৬] তার ইচ্ছানুসারে ১৯৫২ সালে দেহাবসানের পর সঞ্চিত ৪০০ পাউন্ড-স্টার্লিং দুই ইতালীয় কৃষকের মাঝে বণ্টন করা হয়। ঐ কৃষকেরা ইতালির উত্তরাংশের জলাভূমি থেকে তাকে উদ্ধার করে আশ্রয় দিয়েছিলেন।[৭]

যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালন শেষে নাটাল দলে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুমে তিন খেলায় অংশ নিলেও কোন ইনিংসেই তিনের বেশি উইকেট পাননি। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে ইস্টার্ন প্রভিন্সে যোগদান করে তাৎক্ষণিকভাবে লাভবান হন। নতুন দলে প্রথম খেলায় অংশ নিয়ে ট্রান্সভালের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬/৫৯ লাভ করেন। তন্মধ্যে পাঁচজনই টেস্ট ব্যাটসম্যান ছিলেন। আট বল নিয়ে গড়া ৬৭.৬ ওভারের ৩৮টিই মেইডেন ছিল তার।[৮] ঐ সময়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৫৪২ বল করা সর্বাধিক ঘটনা ছিল।[২] পরের খেলায় আবারও নাটালের বিপক্ষে ৬/১২৬ পান।[৯]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে উনিশটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন টাফটি মান। ১৯৪৭ ও ১৯৫১ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্বদেশে খেলেছিলেন।[১০] ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিন্দ্য সুন্দর বোলিংয়ের কল্যাণে ১৯৪৭ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ৭ জুন, ১৯৪৭ তারিখে নটিংহামে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৬ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে লিডসে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

ইংল্যান্ড গমন, ১৯৪৭[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। ডেনিস কম্পটনবিল এডরিচের ন্যায় সেরা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদ্বয় তার বল যথাযথভাবে মোকাবেলায় হিমশিম খান। পাঁচ টেস্টে নিয়ে গড়া ঐ সিরিজের প্রথম খেলায় উপর্যুপরি আট ওভার মেইডেন পেয়েছিলেন। ঐ ইনিংসে কোন উইকেট না পেলেও ২০ ওভারে তিনি মাত্র ১০ রান দিয়েছিলেন।[১১] এর পরের খেলায় ফলো-অনের কবলে পড়ে স্বাগতিক দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬০ ওভারে ১/৯৪ পান। কম্পটনের উইকেট পেলেও ১৬৩ রান তুলে ইংরেজ দলকে খুব সহজেই রক্ষা করেছিলেন।

প্রথম টেস্টেই মানের মূল্যায়ণে দক্ষিণ আফ্রিকা দল নির্ধারিত হয়েছিল। পাশাপাশি তার সীমাবদ্ধতাও লক্ষ্যণীয় ছিল। উইজডেনে তার সম্পর্কে মন্তব্য করা হয় যে, মান খুব কমই তার অর্থোডক্স বোলিংকে মিডল কিংবা অফস্ট্যাম্প বরাবর রাখতে পেরেছিলেন। ফলে ব্যাটসম্যানের তার নিচু হয়ে আসা বলগুলো থেকে এড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে অবস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।[১২] গ্রীষ্মের প্রখর কিরণে মানকে প্রায়শঃই রক্ষণাত্মক বোলার হিসেবে আবির্ভূত হতে দেখা যায়। তবে, সহায়ক উইকেটে বলে স্পিন এনেও সময়ে সময়ে প্রভূতঃ ভূমিকা পালন করতেন। তৃতীয় টেস্ট সম্পর্কে উইজডেনে উল্লেখ করা হয় যে, জয়ের স্বল্প লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হয় ইংল্যান্ড দল। তবে, মানের বামহাতি অফ-ব্রেক বোলিংয়ে বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। ইংল্যান্ড দল জয়লাভের পূর্বে লেন হাটন ও কম্পটন উভয়েই তার শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।[১৩]

সামগ্রিকভাবে ঐ সিরিজে ইংল্যান্ড দল ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে ও বাদ-বাকি দুই টেস্টে ড্রয়ে পরিণত হলেও টাফটি মান দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বাধিক সফলতম বোলারে পরিণত হন। ৪০.২০ গড়ে ১৫ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। ৩২৯.৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ১.৮৫ গড়ে রান দিয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় টেস্টে এডরিচ (১৮৯) ও কম্পটনের (২০৮) তৃতীয় উইকেটে ৩৭০ রানের জুটি গড়াকালে ওভারপ্রতি দুই রানেরও কম দেন। এডরিচকে আউট করে জুটি ভাঙ্গেন ও খেলায় একমাত্র উইকেট পান।[১৪] সিরিজের চতুর্থ টেস্টের একমাত্র ইনিংসে নিজস্ব সেরা বোলিং করেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৫০ ওভার বোলিং করে ৪/৬৮ পান।[১৫] চূড়ান্ত টেস্টে ৬৪ ওভারে ৪/৯৩ ও এরপর ইংল্যান্ডের বিশাল রানের ইনিংস ঘোষণার প্রাক্কালে ২৭ ওভারে ২/১০২ লাভ করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।[১৬]

সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৫.২৫ গড়ে ৭৪ উইকেট পান ও ৩৫১ ওভার মেইডেন করেন।[১৭] মৌসুমের শেষদিকে কেন্টের বিপক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সফলতার পরিচয় দেন। প্রথম ইনিংসে ৬/১৩২ পাবার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৯৫ পান।[১৮] এছাড়াও, মাঝেমধ্যেই ব্যাট হাতে সফল হয়েছিলেন। গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ৫৫ মিনিটে ৯৭ রান করেন। এ ইনিংসে একটি ছক্কা ও ১৩টি চারের মার ছিল। সেঞ্চুরি হাঁকাতে গিয়ে ডিপ ফিল্ড এলাকায় ক্যাচ দিয়ে বিদেয় হন।[১৯][২০] এ সংগ্রহটিই তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বোচ্চ হিসেবে রয়ে যায়।

ইংল্যান্ডের মুখোমুখি, ১৯৪৮-৪৯[সম্পাদনা]

১৯৪৭-৪৮ মৌসুমের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে আসেন। প্রথম খেলাতেই ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে ৮/৫৯ পেয়েছিলেন।[২১] পরবর্তী দুই মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার সফরের কারণে ঘরোয়া ক্রিকেট থেমে যায়। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে ইংল্যান্ড ও ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া দল দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে আসে। এ দুই দলের বিপক্ষে ১০ টেস্টের সবকটিতেই তার অংশগ্রহণ ছিল। উভয় মৌসুমেই একটি করে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান। এ দুটো খেলাও সফরকারীদের বিপক্ষে ছিল।[১০]

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং গড়ে টাফটি মান শীর্ষে ছিলেন। তবে, ১৭ উইকেট নিয়ে কুয়ান ম্যাকার্থিঅ্যাথল রোয়ানের চেয়ে পিছিয়েছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং উপযোগী পিচ ও প্রায়শঃই দক্ষিণ আফ্রিকানদের রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণে সফরকারী ইংরেজ দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। তিনটি খেলা ড্রয়ে পরিণত হয় ও এ তিনজন বোলারের কাঁধেই বোলিং আক্রমণ পরিচালিত হয়েছিল। এ সিরিজেই ইংল্যান্ড দলনেতা জর্জ মান টাফটি মানের বলে আউট হলে ধারাভাষ্যকার জন আরলট মন্তব্য করেন যে, ‘মানের বিষয়টি অমানবিকভাবে মানের কাছে চলে গেছে।’[২২] তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথম খেলায় ব্যক্তিগত সেরা বোলিং করেছিলেন। বৃষ্টি আক্রান্ত খেলায় ইংল্যান্ড কষ্টার্জিতভাবে দুই উইকেটে জয় পায়। প্রথম ইনিংসে ৬/৫৯ পান। কিন্তু, দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ও প্রথম ইনিংসে চার উইকেট লাভকারী রোয়ান ভেজা বলে খুব কমই বোলিং করেছিলেন।[২৩]

পরের খেলায় ব্যাটসম্যানদের জন্য আরো সহজ হয়ে যায়। মান ইংরেজদের মাঝারিসারিতে ভাঙ্গন ধরান। মাত্র দশ রান দিয়ে তিনটি উইকেট পান। তারপরও দলটি ৫৪০ রানের বিশাল ইনিংস খেলে। এগুলোই খেলার একমাত্র সাফল্য ছিল।[২৪] সিরিজের তৃতীয় ও চতুর্থ খেলায় দল নির্বাচকমণ্ডলী উইকেট লাভের জন্যে আরও বোলার যুক্ত করে। কিন্তু, কোন খেলাতেই তিনি আর উইকেট পাননি। তবে, সতীর্থ স্পিনার রোয়ান তুলনামূলকভাবে বেশ কার্যকরী ছিলেন ও সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত খেলায় রোয়ান ও মান অধিকাংশ বোলিং করেন। ইংল্যান্ডের পতনকৃত ১৭ উইকেটের ১৫টি উভয়েই ভাগাভাগি করে নেন।[২৫] খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ৯৫ মিনিটে ১৭২ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়। মান আট বলে গড়া ৯.৭ ওভারে ৬৫ রান খরচায় চার উইকেট তুলে দেন। এটিই তার অন্যতম স্বর্ণালী মুহূর্ত ছিল।

১৯৪৯ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে টাফটি মান

অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি, ১৯৪৯-৫০[সম্পাদনা]

১৯৪৯-৫০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আসে। এ সিরিজটি ইংল্যান্ডের চেয়েও দূর্বলমানের ছিল। সফরকারীরা পাঁচ টেস্টের চারটিতেই জয় তুলে নেয়। এছাড়াও, ড্র হওয়া খেলায়ও তারা এগিয়েছিল। রোয়ান আঘাতের কারণে কোন টেস্টে অংশ নিতে পারেননি। তবে, স্পিন জুটি হিসেবে মানের সাথে হিউ টেফিল্ডের উত্থান ঘটে। সিরিজ শেষে দেখা যায় যে, সিম বোলিংয়ে টেফিল্ড ১৭, মান ১৬ ও অন্যান্য বোলার নিজেদের মাঝে ১৭ উইকেট নিয়েছেন।[২৬]

দ্বিতীয় খেলায় সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। অস্ট্রেলিয়া দল ৫২৬/৭ তুলে ইনিংস ঘোষণা করলেও তিনি ৪/১০৫ পেয়েছিলেন।[২৭] তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দল ফলো-অনের কবলে পড়ে। সিরিজে এটিই প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারেরা অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের উপর ছড়ি ঘুড়িয়েছিল। টেফিল্ড ৭/২৩ ও মান ৩/৩১ পেলে সফরকারীরা মাত্র ৭৫ রানে গুটিয়ে যেতে বাধ্য হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা দল প্রথম ইনিংসে ২৩৬ রানে এগিয়ে যায়। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে তারা এ সাফল্যের পুণরাবৃত্তি ঘটাতে না পারলে অস্ট্রেলীয়রা খেলায় পাঁচ উইকেটে জয় তুলে নেয়।[২৮] সিরিজের চতুর্থ টেস্টই কেবল ড্রয়ে পরিণত হয়। মান কোন উইকেট পাননি। তবে, ৫২ রানের ইনিংস খেলেন। এটিই তার টেস্টে একমাত্র অর্ধ-শতকের ইনিংস ছিল।[২৯]

ইংল্যান্ড গমন, ১৯৫১[সম্পাদনা]

১৯৫১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাথে দ্বিতীয়বারের মতো ইংল্যান্ড গমন করেন। সফরের শুরুরদিকের খেলাগুলোয় উইকেট লাভের চেয়ে রক্ষণাত্মক ভঙ্গীমায় খেলায় মনোনিবেশ ঘটান। জুনের শুরুতে তিনি মাত্র ১৪টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেছিলেন। তন্মধ্যে, এক-তৃতীয়াংশ ওভারই তিনি মেইডেন পেয়েছিলেন। এ পর্যায়ে ওভার প্রতি ১.৮ রানেরও কম খরচ করেন।[৩০] প্রথম টেস্টে দুইটি বড় ধরনের ইনিংসের পর দক্ষিণ আফ্রিকান দল তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে অ্যালেক বেডসারের বোলিং তোপে পড়ে। বৃষ্টি আক্রান্ত পিচেও ইংল্যান্ড ১৮৬ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হয়।[৩১] অ্যাথল রোয়ান ও মানের বোলিংয়ে স্বাগতিক দল ১১৪ রানে গুটিয়ে যায়। মান ২৪ ওভারে ৪/২৪ পান। তন্মধ্যে, ১৬ ওভারই মেইডেন ছিল। দ্য টাইমসে মানের বোলিংয়ের নিখুঁততার ভূয়সী প্রশংসা করে। তিনি ওভারের পর ওভার করে যাচ্ছিলেন। তিনি যখন প্রথম উইকেট পান তখন ১৫ ওভারে ১/৬ পেয়েছিলেন ও জ্যাক ইকিন তার শিকারে পরিণত হন।[৩২]

পরবর্তী দুই টেস্টে মান ব্যক্তিগতভাবে কিংবা তার দল সফলতা পায়নি। উভয় খেলায় পরাজিত হয়। সিরিজের চতুর্থ টেস্ট লিডসের হ্যাডিংলি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ব্যাটিং উপযোগী পিচে অনুষ্ঠিত হয়। মান ৬০ ওভার বোলিং করে ৩/৯৭ পান। ইংল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার তুলনায় ৫০০ রানে এগিয়েছিল। তবে, চূড়ান্ত দিন বৃষ্টি আক্রান্ত হলে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়।[৩৩] ওভালে চূড়ান্ত ও পঞ্চম টেস্টটি স্পিন বোলারদের উপযোগী ছিল। তবে, মান খেলার উপযুক্ত ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে উইজডেন মন্তব্য করে যে, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে তার ন্যায় বামহাতি স্লো বোলারদের আদর্শ ক্ষেত্র ছিল।[৩৪] লর্ডসে মিডলসেক্সের বিপক্ষে দলের চূড়ান্ত কাউন্টি খেলায় অংশ নেন। তবে, খেলাটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয় ও ছয় ওভার বোলিং করে তিনি কোন উইকেট পাননি।[৩৫] সামগ্রিকভাবে এ সফরে মান দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট বোলিংয়ে গড়ের দিক দিকে শীর্ষস্থানে ছিলেন। ২৬.৪০ গড়ে ১০ উইকেট ও প্রথম-শ্রেণীর খেলায় ২৬.৩৮ গড়ে ৪৪ উইকেট পান।[৩৬]

দেহাবসান[সম্পাদনা]

৩১ জুলাই, ১৯৫২ তারিখে মাত্র ৩১ বছর বয়সে জোহেন্সবার্গের হিলব্রো এলাকায় টাফটি মানের দেহাবসান ঘটে। ইংল্যান্ড সফর শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ১৬জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৪জন ইউনিয়ন ক্যাসল লাইনের জাহাজ এমভি উইনচেস্টার ক্যাসলে চড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে আসেন। ব্যতিক্রম হিসেবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করা কুয়ান ম্যাকার্থিও ইংল্যান্ডে চিকিৎসার লক্ষ্যে টাফটি মান থেকে যান।[৩৭] মানের তলপেটে অস্ত্রোপচার করা হয় ও তিন মাস হাসপাতালে থাকেন। এ সময় ইংল্যান্ডে তার সাথে স্ত্রী ড্যাফিন অবস্থান করেছিলেন।[২][৬]

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রত্যাবর্তন করলেও ১৯৫২ সালের মাঝামাঝি সময়ে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে তার। এর ছয় সপ্তাহ পর ১৩ জুলাই, ১৯৫২ তারিখে হিলব্রো এলাকায় টাফটি মানের দেহাবসান ঘটে।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Tufty Mann"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০১২ 
  2. "Obituary"। Wisden Cricketers' Almanack (1953 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 945। 
  3. "Golf: A Cambridge Victory"। The Times (48261)। London। ২৩ মার্চ ১৯৩৯। পৃষ্ঠা 5। 
  4. "Freshmen's Match at Cambridge"। The Times (48300)। London। ৯ মে ১৯৩৯। পৃষ্ঠা 6। 
  5. "Scorecard: Natal v Border"। www.cricketarchive.com। ৩০ ডিসেম্বর ১৯৩৯। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১২ 
  6. "Obituaries: Mr. Norman Mann"। The Times (52382)। London। ৫ আগস্ট ১৯৫২। পৃষ্ঠা 6। 
  7. "P.O.W.'s £400 as 'thanks'"। Melbourne Argus। London। ২৩ আগস্ট ১৯৫২। পৃষ্ঠা 6। 
  8. "Scorecard: Transvaal v Eastern Province"। www.cricketarchive.com। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৬। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১২ 
  9. "Scorecard: Natal v Eastern Province"। www.cricketarchive.com। ২০ ডিসেম্বর ১৯৪৬। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১২ 
  10. "First-class Matches played by Tufty Mann"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১২ 
  11. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ৭ জুন ১৯৪৭। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১২ 
  12. "South Africans in England, 1947"। Wisden Cricketers' Almanack (1948 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 186। 
  13. "South Africans in England, 1947"। Wisden Cricketers' Almanack (1948 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 213। 
  14. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ২১ জুন ১৯৪৭। সংগ্রহের তারিখ ৪ মার্চ ২০১২ 
  15. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ২৬ জুলাই ১৯৪৭। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০১২ 
  16. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ১৬ আগস্ট ১৯৪৭। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০১২ 
  17. "Bowling in each season by Tufty Mann"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০১২ 
  18. "Scorecard: Kent v South Africans"। www.cricketarchive.com। ২৭ আগস্ট ১৯৪৭। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০১২ 
  19. "Scorecard: Glamorgan v South Africans"। www.cricketarchive.com। ২৪ মে ১৯৪৭। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০১২ 
  20. "South Africans in England, 1947"। Wisden Cricketers' Almanack (1948 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 198। 
  21. "Scorecard: Western Province v Eastern Province"। www.cricketarchive.com। ২৬ ডিসেম্বর ১৯৪৭। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১২ 
  22. Martin-Jenkins, Christopher (1990). Ball by Ball: The Story of Cricket Broadcasting. Grafton Books. p. 97. আইএসবিএন ০২৪৬১৩৫৬৮৯.
  23. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০১২ 
  24. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ২৭ ডিসেম্বর ১৯৪৮। সংগ্রহের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০১২ 
  25. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ৫ মার্চ ১৯৪৯। সংগ্রহের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০১২ 
  26. "Test Bowling for South Africa: Australia in South Africa 1949/50"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১২ 
  27. "Scorecard: South Africa v Australia"। www.cricketarchive.com। ৩১ ডিসেম্বর ১৯৪৯। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১২ 
  28. "Scorecard: South Africa v Australia"। www.cricketarchive.com। ২০ জানুয়ারি ১৯৫০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১২ 
  29. "Scorecard: South Africa v Australia"। www.cricketarchive.com। ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৫০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১২ 
  30. "The Averages"। The Times (52018)। London। ৪ জুন ১৯৫১। পৃষ্ঠা 7। 
  31. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ৭ জুন ১৯৫১। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১২ 
  32. "The First Test Match: South Africa Win"। The Times (52026)। London। ১৩ জুন ১৯৫১। পৃষ্ঠা 7। 
  33. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ২৬ জুলাই ১৯৫১। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১২ 
  34. "South Africans in England, 1951"। Wisden Cricketers' Almanack (1952 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 249। 
  35. "Scorecard: Middlesex v South Africans"। www.cricketarchive.com। ২৫ আগস্ট ১৯৫১। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০১২ 
  36. "South Africans in England, 1951"। Wisden Cricketers' Almanack (1952 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 213। 
  37. "South Africans leave for home"। The Times (52112)। London। ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৫১। পৃষ্ঠা 9। 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]