টাইগার ল্যান্স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
টাইগার ল্যান্স
টাইগার ল্যান্স.jpg
১৯৬৫ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে টাইগার ল্যান্স
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামহার্বার্ট রয় টাইগার ল্যান্স
জন্ম৬ জুন, ১৯৪০
ট্রান্সভাল, প্রিটোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা
মৃত্যু১০ নভেম্বর, ২০১০
জোহেন্সবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার, কোচ
সম্পর্কউইলিয়াম ল্যান্স (পিতা), অ্যান্থনি ল্যান্স (কনিষ্ঠ ভ্রাতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২১৪)
২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬২ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ টেস্ট৫ মার্চ ১৯৭০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৩ ১০৩
রানের সংখ্যা ৫৯১ ৫৩৩৬
ব্যাটিং গড় ২৮.১৪ ৩৪.৮৭
১০০/৫০ ০/৫ ১১/২৫
সর্বোচ্চ রান ৭০ ১৬৯
বল করেছে ৯৪৮
উইকেট ১২ ১৬৭
বোলিং গড় ৩৯.৯১ ২৫.৬৫
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/৩০ ৬/৫৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭/- ১০১/-

হার্বার্ট রয় টাইগার ল্যান্স (ইংরেজি: Tiger Lance; জন্ম: ৬ জুন, ১৯৪০ - মৃত্যু: ১০ নভেম্বর, ২০১০) প্রিটোরিয়ার ট্রান্সভাল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬২ থেকে ১৯৭০ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।[১]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নর্থ ইস্টার্ন ট্রান্সভাল, নর্দার্ন ট্রান্সভাল ও ট্রান্সভাল দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন টাইগার ল্যান্স

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান ছিলেন টাইগার ল্যান্স। মাঝারিসারিতে আগ্রাসী ব্যাটিং করতেন ও কার্যকরী সীম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন তিনি। তার পিতা উইলিয়াম ল্যান্স[২] ও কনিষ্ঠ ভ্রাতা অ্যান্থনি ল্যান্স[৩] দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত টাইগার ল্যান্সের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। দীর্ঘাকায় ও শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন টাইগার ল্যান্স। নিচেরদিকে মাঝারিসারিতে বেশ দর্শনীয় স্ট্রোক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়াও, তৃতীয় কিংবা চতুর্থ পরিবর্তিত মিডিয়াম-ফাস্ট সীম বোলার হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা রাখেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে সাত খেলায় অংশ নিয়ে ৬৬.২৭ গড়ে ৭২৯ রান তুলেছিলেন তিনি। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে ঘরোয়া পর্যায়ের খেলাগুলোয় তার খেলার মান নিচেরদিকে যেতে থাকে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তেরোটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন টাইগার ল্যান্স। ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে জোহেন্সবার্গে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। প্রথম টেস্ট ইনিংসে ৩/৩০ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। ৫ মার্চ, ১৯৭০ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সফলতম সিরিজ খেলেন। শুরুতেই বেশ তাড়াতাড়ি উইকেট পতনের পর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। পোর্ট এলিজাবেথে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে ইয়ান চ্যাপেলের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের পাশাপাশি সিরিজ বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। দুই দেশের মধ্যকার এগারোটি সিরিজে এটিই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সিরিজ জয় ছিল। সিরিজের সবগুলো টেস্টে অংশ নিয়ে ৩৭.২৮ গড়ে ২৬১ রান তুলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টের জন্যে তাকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কিন্তু, অধিনায়ক আলী বাখেরের অনুরোধক্রমে সিরিজের বাদ-বাকী খেলাগুলোয় তাকে রাখা হয়।[৪] জোহেন্সবার্গ টেস্টে ৪৪ ও ৭০ রান তুলেন। ঐ পর্যায়ে প্রথম ইনিংসে তার দল পিছিয়ে ছিল।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৭০ সালে ইংল্যান্ড ও ১৯৭১-৭২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে তাকে দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, বর্ণবৈষম্যবাদের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত সিরিজটি পরবর্তীতে আর অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭১-৭২ মৌসুম শেষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

গাড়ী চালানো অবস্থায় ভুল পথে আসা মহিলা চালকের সাথে সংঘর্ষে সড়ক দূর্ঘটনায় নিপতিত হন। চার সপ্তাহকাল জোহেন্সবার্গের হাসপাতালে তাকে অবস্থান করতে হয়। অতঃপর ১০ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে ৭০ বছর বয়সে জোহেন্সবার্গ এলাকায় টাইগার ল্যান্সের দেহাবসান ঘটে।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Christopher Martin-Jenkins (১৯৮০)। The Complete Who's Who of Test Cricketers (1980 সংস্করণ)। Orbis Publishing, London। পৃষ্ঠা 263আইএসবিএন 0-85613-283-7 
  2. William Lance at Cricket Archive
  3. Anthony Lance at Cricket Archive
  4. Rodney Hartman, Ali: The Life of Ali Bacher, Penguin, Johannesburg, 2006, p. 132.
  5. "Roy "Tiger" Lance dies"timeslive.co.za। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-১১-১০ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]