গাজওয়াতুল হিন্দ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নাসা ভারতীয় উপমহাদেশের ছবি

গাজওয়াতুল হিন্দ ইসলামের সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ এর একটি ভবিষ্যদ্বাণী যেখানে উল্লেখ আছে মুসলিম এবং অমুসলিমদের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে যুদ্ধ হবে, যার ফলে মুসলমানদের বিজয় ঘটবে। [১]

ধর্মীয় পান্ডুলিপিতে[সম্পাদনা]

হাদিস[সম্পাদনা]

হযরত আবু হুরায়রা কর্তৃক বর্ণিত রাসূলুল্লাহ হিন্দুস্তানের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন,

অবশ্যই আমাদের একটি দল হিন্দুস্তানের সাথে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ্ সেই দলের যোদ্ধাদের সফলতা দান করবেন, আর তারা রাজাদের শিকল/বেড়ি দিয়ে টেনে আনবে । এবং আল্লাহ্ সেই যোদ্ধাদের ক্ষমা করে দিবেন (এই বরকতময় যুদ্ধের দরুন)”। এবং সে মুসলিমেরা ফিরে আসবে তারা ঈসা ইবন-ই-মারিয়াম কে সিরিয়ায় (শাম) পাবে। হযরত আবু হুরায়রা বলেন, “ আমি যদি সেই গাযওয়া পেতাম, তাহলে আমার সকল নতুন ও পুরাতন সামগ্রী বিক্রি করে দিতাম এবং এতে অংশগ্রহণ করতাম । যখন আল্লাহ্ (সুবঃ) আমাদের সফলতা দান করতেন এবং আমরা ফিরতাম, তখন আমি একজন মুক্ত আবু হুরায়রা হতাম; যে কিনা সিরিয়ায় হযরত ঈসা কে পাবার গর্ব নিয়ে ফিরত । ও মুহাম্মাদ ! সেটা আমার গভীর ইচ্ছা যে আমি ঈসা এর এত নিকটবর্তী হতে পারতাম, আমি তাকে বলতে পারতাম যে আমি মুহাম্মাদের একজন সাহাবী ।

”বর্ণনাকারী বলেন যে মুহাম্মাদ মুচকি হাসলেন এবং বললেনঃ ‘ খুব কঠিন, খুব কঠিন ’ ।

(মুসনাদে আহমাদ, শাইখ নাসের উদ্দিন আলবানী রহঃ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন)

হাদীসে উল্লেখ পাওয়া যায়, নবী বলেছিলেনঃ

"আমার উম্মতের দুটি দল, আল্লাহ্ তা‘আলা তাদেরকে জাহান্নাম হতে পরিত্রাণ দান করবেন। একদল যারা হিন্দুস্থানের জিহাদ করবে, আর একদল যারা ঈসা ইব্ন মারিয়াম -এর সঙ্গে থাকবে।"[২][৩]

আরও উল্লেখ পাওয়া যায় আবু হুরায়রা বলেছেন,

"রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে হিন্দুস্থানের জিহাদের (ভারত অভিযানের) ওয়াদা দিয়েছিলেন। যদি আমি তা (ঐ যুদ্ধের সুযোগ) পাই, তা হলে আমি তাতে আমার জান-মাল ব্যয় করব। আর যদি আমি তাতে নিহত হই, তাহলে আমি শহীদের মধ্যে উত্তম সাব্যস্ত হব। আর যদি আমি ফিরে আসি তা হলে আমি হবো আযাদ বা জাহান্নাম হতে মুক্ত আবূ হুরায়রা।"[৪][৫][৬][সনদ দুর্বল (Da'if)]

হযরত কা’ব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,

"বায়তুল মোকাদ্দাসের (জেরুজালেমের) একজন বাদশাহ ভারতের দিকে সৈন্য প্রেরণ করবে এবং সেখানের যাবতীয় সম্পদ ছিনিয়ে নিবে। ঐ সময় ভারত বায়তুল মোকাদ্দাসের (জেরুজালেমের) একটি অংশ হয়ে যাবে। তখন তার সামনে ভারতের সৈন্য বাহিনী গ্রেফতার অবস্থায় পেশ করা হবে। প্রায় গোটা পৃথিবী তার শাসনের অধীনে থাকবে। ভারতে তাদের অবস্থান দাজ্জালের আবির্ভাব হওয়া পর্যন্ত থাকবে"।

— আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ - ১২৩৫

বিশেষজ্ঞদের অভিমত[সম্পাদনা]

কিছু পন্ডিত বিশ্বাস করেন যে এই ভবিষ্যদ্বাণী ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে যখন মুসলমানরা দ্বিতীয় উমাইয়া খলিফা, মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান এর শাসনামলে মাহমুদ গজনভি ভারত আক্রমণ করেছিল এবং অন্যরা বিশ্বাস করে যে, এটা ঘটবে ঈমাম মাহদির সময়কালে কারন "[২][৩]}} এই হাদিসে ঈসা ইবনে মারিয়াম এর সাথে থাকার উল্লেখ আছে । কিছু পাকিস্তানি বুদ্ধিজীবীগণ পাকিস্তানকে উক্ত যুদ্ধের পটভুমিতে বিবেচনা করেন যেহেতু পাকিস্তান খোরাসান ও হিন্দে অবস্থিত, কারন অন্য হাদিসে খোরাসানের ধর্মযোদ্ধাদের ঈসা ইবনে মারিয়ামের সাথে যুক্ত হবার কথা উল্লেখ আছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "অখণ্ড ভারত? নাকি গাজওয়াতুল হিন্দ?"banglarbarta.com। ২০১৮-০৭-২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৭-২৬ 
  2. সুনানে আন-নাসায়ী ৩১৭৫, iHadis.com
  3. "হাদীস, জিহাদ গ্রন্থ, সুন্নাহ নাসায়ী, 3175"Sunnah.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৭-২৬ 
  4. সুনানে আন-নাসায়ী ৩১৭৩, iHadis.com
  5. "হাদীস, জিহাদ গ্রন্থ, সুন্নাহ নাসায়ী, 3173"Sunnah.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৭-২৬ 
  6. "হাদীস, জিহাদ গ্রন্থ, সুন্নাহ নাসায়ী,, 3174"Sunnah.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৭-২৬