খৎনা-বিতর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

পুরুষ খৎনা বা ত্বকচ্ছেদ প্রায়ই কতিপয় পটভূমির কারণে একটি বিতর্কিত বিষয় হয়ে রয়েছে- পটভূমিগুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয়, নৈতিক, যৌনতা এবং স্বাস্থ্যগত। 

সেই প্রাচীন গ্রীকরোমীয় সভ্যতার জনগণ লিঙ্গত্বককে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে করত এবং খৎনা বা লিঙ্গত্বকচ্ছেদনের বিরোধিতা করত-  এরা ছিল পশ্চিমা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিরোধী, যারা কিনা খৎনার পক্ষে ছিল। ঐতিহাসিক হজেস-এর মতে, মধ্যযুগ পর্যন্ত খ্রিষ্টানরা ইউরোপে খৎনা করত[১] প্রথাগত ইহুদীধর্ম এবং ইসলামধর্ম পুরুষ-সুন্নতকে একটি ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা হিসেবে সমর্থন ও পালন করে থাকে।

খৎনার নৈতিকতা অনেক বিতর্কিত একটি বিষয়। ১৯ শতকের শেষে ও ২০ শতকের শুরুতে, খৎনাকে সমর্থন করা হত এই কারণে যে এটি হস্তমৈথুন প্রতিরোধ করে। হস্তমৈথুনকে সেই সময়ে একটি পাপ হিসেবে মনে করা হত এবং নানা রকম অসুখ-বিসুখের কারণ হিসেবে ধরা হত। কিন্তু এই ধারণা বর্তমান সময়ে পুরোপুরি হাস্যকর কারণ হস্তমৈথুন কোন রোগের কারণ তো নয়ই বরং হস্তমৈথুনকে বিজ্ঞানীরা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অভ্যাস বলে প্রমাণ করেছেন। খৎনা করার ফলে হস্তমৈথুনের প্রবণতা বিন্দুমাত্র কমে যায় না।[২][৩]  আধুনিক খৎনা-প্রবক্তারা দাবি করে থাকেন যে, খৎনা নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং যৌন সুবিধা প্রদান করে থাকে।[৪] অপরদিকে, খৎনা-বিরোধীরা সাবি করে থাকেন যে, রোগ হওয়ার আগেই খৎনা করার যৌক্তিকতা নেই এবং বিশেষ করে নবজাতকের খৎনা করার কোন বৈজ্ঞানিক যুক্তি বা স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নেই। তারা এও দাবি করেছেন যে, শিশুদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেটে ফেলে দেয়া কেবল ঝুঁকিপূর্ণই নয়, খৎনা করার কারণে পরবর্তীতে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় যৌন সুখ অনেক কমে যায়।[৫]

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব[সম্পাদনা]

প্রাচীন বিশ্ব[সম্পাদনা]

ইব্রাহীম এর পুত্র ইসহাক এর সুন্নত। Regensburg বাইবেল, ইজরায়েল মিউজিয়াম, জেরুজালেম (সি. ১৩০০)

আদিপুস্তক (বাইবেল)-এ খৎনাকে ঈশ্বরের সাথে আব্রাহাম একটি চুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে,[Gen 17:10] কিন্তু, অধিকাংশ পণ্ডিতই এই ঐতিহাসিক মতবাদকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ বিজ্ঞান অনুযায়ী সৃষ্টিতত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং ইতিহাসবিদরাও আব্রাহামের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। আব্রাহাম কেবলই বাইবেলীয় একটি রূপকথার চরিত্র ছাড়া আর কিছু নন।[৬]  পৃথিবীর প্রথম ইতিহাসবিদ হেরোডেটাস এর ইতিহাস অনুযায়ী, খৎনা প্রথা প্রথম চালু হয় মিশরীয়দের মধ্যে, তাঁদের দাস প্রথা চালুর সময়ে। ১৯ শতকের একটি নৃতত্ত্ব ও ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া যায় যে, খৎনা ছিল   অনেক সেমিটিক গোত্র সহ ইহুদি, আরব এবং ফিনিশীয় জাতির মধ্যে একটি সাধারণ উপজাতীয় প্রথা।

ইহুদী ও ইসলামী ঐতিহ্য উভয়ই খৎনাকে অন্য গোষ্ঠী থেকে নিজেদের আলাদা করে চেনার উপায় হিসেবে দেখত।[৭] বাইবেলে খৎনা না করাকে বিরোধী পক্ষের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।[1Sam 17:26] এবং ইহুদিরা যেসব যুদ্ধে বিজয়ী হত, যুদ্ধ শেষে তারা শত্রুদের মৃতদেহের খৎনা করত যাতে করে কি পরিমাণ শত্রু পক্ষের সৈন্য নিহত হয়েছে তাঁর হিসেব রাখা যায়।[1Sam 18:27]. ইহুদীরা পরিবারের সকলের খৎনা করত, এমনকি দাসদেরও খৎনা করত।[Gen 17:12-14] – এই অনুশীলন পরবর্তীতে রোমান ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের আইনের সাথে বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। (নীচে দেখুন)।

হেলেনীয় সভ্যতার মানুষেরা খৎনা-কে বীভৎস আচার-অনুষ্ঠান হিসেবে দেখত।[৮] 

রোমান সাম্রাজ্য-এ, সুন্নত বা খৎনাকে একটি বর্বর ও ঘৃণ্য প্রথা হিসেবে গণ্য করা হত। রোমান বানিজ্যদূত টিটাস ফ্লাভিউস ক্লিমেন্স-কে  নিজের খৎনা করে ইহুদী ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার অপরাধে রোমান সিনেট মৃত্যুদণ্ড দেয়।

পল খৎনা সম্বন্ধে উল্লেখ করেছিলেন যে, এই খৎনা কারও ওপর চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়। [1Cor 7:18]  গবেষকরা বলেন যে, ২য় শতকের মাঝামঝি ইহুদীরা এমন এক খৎনা পদ্ধতি আবিষ্কার করে( পদ্ধতিটির নাম পেরিয়াহ) যে শিশ্নমুণ্ডের বাম পাশের চামড়া সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয় যাতে করে পরবর্তীতে আর লিঙ্গত্বক পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পারে।[৯]

প্রথম দিকের খ্রিস্টান ধর্মে সুন্নত বিতর্ক[সম্পাদনা]

প্রায় ৫০ ইসি সালে প্রথম খ্রিস্টান চার্চ কাউন্সিল ইন জেরুজালেম এক সভায়  ডিক্রি জারী করে যে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য খৎনার কোন প্রয়োজন নেই। এর ফলে রাব্বানিক ইহুদি ধর্ম থেকে খ্রিষ্টান ধর্মের লোকদের আলাদা করা সহজ হয়ে যায়।

কলাম্বিয়া এনসাইক্লোপিডিয়া অনুযায়ী,[১০] "খ্রিষ্টানদের খৎনা পালনের কোন দরকার নেই এই আইনটি ধারা-১৫ তে লিপিবদ্ধ করা হয়;[১১]এরপর থেকে কপটিক খ্রিস্টানরাই কেবল খৎনা করত।"

ইসলাম[সম্পাদনা]

সপ্তম শতকের শুরুর দিকে নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বহু সেমেটিক জাতিগোষ্ঠীকে একত্রিত করেন। একটি বিষয়ে ইতিহাসবিদরা সুনিশ্চিত প্রমাণ পেয়েছেন যে, মহানবীর জন্মের বহু পূর্বেই নারী ও পুরুষদের খৎনা প্রথা এই সেমেটিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চালু ছিল। কিছু গল্প চালু আছে যে, নবী মুহাম্মদ নারী খৎনাকেও অনুমোদন দিয়েছিলেন, কিন্তু পণ্ডিতদের মতে, এসব গালগল্পের কোনই সত্যতা এবং ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।

মধ্যযুগ থেকে ১৯ শতক[সম্পাদনা]

টমাস আকুইনাস তাঁর সুম্মা থিওলজিকা গ্রন্থে প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে, "যদি ইহুদী মতবাদে খৎনা মানুষের আদি পাপ দূর করে, যীশুর তো কোন আদি পাপ ছিল না, তবে যীশু কেন খৎনা করলেন?"

আধুনিক বিতর্ক[সম্পাদনা]

ওয়াশিংটন-এ খৎনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

নৈতিকতা[সম্পাদনা]

খৎনার নৈতিকতা বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন। আমেরিকায় খৎনার হার অনেক বেশি, এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এর বিরোধিতা করেছেন।

যেসব দেশে খৎনার হার কম যেমন ডেনমার্ক এবং সুইডেন, পুরুষ এবং নারী খৎনাকে তুলনা করেছেন এবং দুই খৎনার মধ্যেই অনেক বেশি সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন। তারা নারী ও পুরুষ উভয়ের খৎনা করার ক্ষতিকারক দিক উল্লেখ করেছেন। খৎনা  শারীরিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করে বলে এসব দেশ মনে করেন।[১২] ডেনমার্ক ও সুইডেন ২০১৪ ও ২০১৬ সালে মেডিক্যাল কারণ ব্যতীত খৎনা করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।[১৩][১৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

খৎনা ১৯ শতকেই খৎনার দ্রুত বিস্তার ঘটে। ডাক্তার স্যার জোনাথন Hutchinson ইংল্যান্ড নিবন্ধ লিখেছিলেন খৎনা পদ্ধতির পক্ষে। পিটার চার্লস Remondino, সান দিয়েগোর একজন চিকিত্সক খৎনাকে উন্নীত করার জন্য একটি বই লিখেছেন, বইটির নাম- খৎনার ইতিহাস নিকটতম বার থেকে বর্তমান: নৈতিক এবং শারীরিক কারণে তার কর্ম সঞ্চালনের জন্য (১৮৯১), লুইস Sayre, একটি বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন সময়ে ছিল অন্য দিকে আমেরিকান উকিল. যাইহোক, তত্ত্ব, যা অনেক তাড়াতাড়ি দাবি করা হয়, যেমন প্রতিবিম্ব তত্ত্ব, রোগ, এবং কথিত ক্ষতিকর প্রভাব, মেয়েদের হস্তমৈথুন, আছে দীর্ঘ থেকে পরিত্যক্ত হয়েছে দ্বারা চিকিৎসা পেশা।

চিকিৎসা বিতর্ক[সম্পাদনা]

খৎনা প্রথার সমর্থকেরা খৎনার স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কথা সবসময়ই উল্লেখ করে থাকেন। আসলে খৎনা প্রথার উপকারিতা তেমন একটা নেই। যে ধরনের যৌন রোগের ভয়ে চিকিৎসক ও বাবা-মায়েরা খৎনাকে সমর্থন করেন, সেসব যৌনরোগ(যেমন-পেনাইল ইনফেকশন) হওয়ার সম্ভাবনা আসলে খুবই কম। যদি সেই রোগ হয়েও তাহলে রোগাক্রান্তের পরও খৎনা করলে সেই রোগ ভাল হয়ে যায়। বিরল যৌনরোগের ভয়ে আগেভাগেই শিশুদের খৎনা করা আসলেই অন্যায়।

গবেষণা সংস্থা এনএইচএস তাঁদের এক গবেষণাপত্রে উল্লেখ করে যে, কনডম ব্যবহার করে সকল প্রকার যৌন-মিলনজনিত রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব, এর জন্য খৎনা করার কোন প্রয়োজন নেই।

যৌনাঙ্গের অখণ্ডতা[সম্পাদনা]

যৌনাঙ্গের অখণ্ডতা হচ্ছে সম্পূর্ণ ও অপরিবর্তনীয় যৌনাঙ্গ থাকা। ইউরোপীয় চিকিৎসকরা বলেন যে, খৎনা করার ফলে যৌনাঙ্গের সবচাইতে সংবেদনশীল অংশ কেটে ফেলে দেয়া হয়, যা মানুষকে যৌন-জীবনে পঙ্গু করে ফেলে। পরিপূর্ণ যৌন-জীবনের জন্য খৎনা বর্জন করে যৌনাঙ্গের অখণ্ডতা বজায় রাখা উচিত। যৌনাঙ্গের অখণ্ডতা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

শিশু খৎনার বিরুদ্ধে শিকাগো এর প্রাইড প্যারেড।

অন্যান্য সমসাময়িক বিতর্ক[সম্পাদনা]

ভারত ও পাকিস্তানে বিতর্ক[সম্পাদনা]

অখণ্ড ভারতবর্ষে ইসলাম প্রবর্তনের আগে কোন অঞ্চলের মানুষই খৎনা পালন করত না। পাকিস্তানীরা ইসলাম প্রবর্তনের পর থেকেই খৎনা প্রথা পালন করে আসছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল পাকিস্তানের পশ্চিম অঞ্চলের উপজাতীয়রা খৎনা প্রথা পালন করা না।

ইস্রাইলে বিতর্ক[সম্পাদনা]

খৎনা-বিরোধী পক্ষ[১৫] ইসরাইল-এর ইহুদিদের মধ্যেও বিদ্যমান। শিশু-অধিকার সংরক্ষনের জন্য অনেক খৎনা বিরোধী প্রতিবাদ এখানে হয়ে থাকে। যদিও পরিবার থেকে খৎনা করার জন্য অনেক চাপ প্রয়োগ করা হয়, তারপর অনেক পরিবারই শিশুদের খৎনা করানো থেকে ইদানীং বিরত থাকছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

 দক্ষিণ আফ্রিকায় বিতর্ক[সম্পাদনা]

দক্ষিণ আফ্রিকার জসা প্রদেশে খৎনা করানোর সময় প্রচুর পরিমাণ শিশু মৃত্যু হয়ে থাকে। ২০০৯ সালে পূর্ব কেপ প্রদেশ , ৮০ জন ছেলে শিশু মারা গেছে এবং শত শত শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই বিতর্ক আবার দেখা দেয় জুলু প্রদেশেও, যেখানে ১৯ শতকে রাজা শাকা খৎনা নিষিদ্ধ করার পর আবার রাজা গুডউইল জএলথিনি খৎনা প্রথা প্রবর্তন করার উদ্যোগ নেন। অনুরূপ সমস্যা, অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী অঞ্চলগুলির মধ্যেও হয়ে থাকে।

জার্মানিতে বিতর্ক[সম্পাদনা]

জুন ২৬, ২০১২ তারিখে, জার্মানির একটি আদালত রায় দেয় যে, খৎনা কম বয়সী বালকদের জন্য পীড়াদায়ক ও তাঁদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আদালত আরও বলে যে, খৎনা-প্রথা শিশুদের পরবর্তীতে তাঁদের ব্যক্তিজীবনে সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে। এই সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে নিবন্ধ আদালত খৎনা-কে কোন মেডিক্যাল কারণ ব্যতীত করার ব্যাপারে বিধি-নিষেধ আরোপ করেন।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

  • সুন্নত
  • খৎনার নৈতিকতা
  • খৎনার ইতিহাস
  • মানুষের যৌনাঙ্গের অঙ্গহানি
  • মানবাধিকার
  • অক্ষত আমেরিকা
  • প্রজনন অধিকার
  • শৈলশিরাময় ত্বক
  • পুরুষদের সহিংসতার বিরুদ্ধে
  • উইকিমিডিয়া কমন্সে খৎনা-বিতর্ক সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Hodges, F.M. (Fall ২০০১)। "The ideal prepuce in ancient Greece and Rome: male genital aesthetics and their relation to lipodermos, circumcision, foreskin restoration, and the kynodesme"The Bulletin of the History of Medicine75 (3): 375–405। doi:10.1353/bhm.2001.0119PMID 11568485 
  2. Remondino, P.C (১৮৯১)। History Of Circumcision। পৃষ্ঠা 65–69। 
  3. Darby, Robert (Spring ২০০৩)। "The Masturbation Taboo and the Rise of Routine Male Circumcision: A Review of the Historiography"। Journal of Social History36 (3): 737–757। doi:10.1353/jsh.2003.0047 
  4. Brian Morris। "Circumcision: An Evidence-Based Appraisal" 
  5. Wallerstein, Edward (ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫)। "Circumcision: The Uniquely American Medical Enigma"Urologic Clinics of north America12 (1): 123–132। PMID 3883617 
  6. Thompson, Thomas (২০০২)। The Historicity of the Patriarchal Narratives: The Quest for the Historical Abraham। Valley Forge, Pa: Trinity Press International। আইএসবিএন 1-56338-389-6It must be concluded that any such historicity ... about the patriarchs of Genesis is hardly possible and totally improbable. (p. 328) 
  7. See the story of Dina & Shechem in Genesis. Also the mass circumcision during the exodus from Egypt.
  8. Jewish Encyclopedia: Circumcision: In Apocryphal and Rabbinical Literature: "Contact with Grecian life, especially at the games of the arena [which involved nudity], made this distinction obnoxious to the Hellenists, or antinationalists; and the consequence was their attempt to appear like the Greeks by epispasm ("making themselves foreskins"; I Macc. i. 15; Josephus, "Ant." xii. 5, § 1; Assumptio Mosis, viii.; I Cor. vii. 18; Tosef., Shab. xv. 9; Yeb. 72a, b; Yer. Peah i. 16b; Yeb. viii. 9a). All the more did the law-observing Jews defy the edict of Antiochus Epiphanes prohibiting circumcision (I Macc. i. 48, 60; ii. 46); and the Jewish women showed their loyalty to the Law, even at the risk of their lives, by themselves circumcising their sons."; Hodges, Frederick, M. (২০০১)। "The Ideal Prepuce in Ancient Greece and Rome: Male Genital Aesthetics and Their Relation to Lipodermos, Circumcision, Foreskin Restoration, and the Kynodesme" (PDF)The Bulletin of the History of Medicine75 (Fall 2001): 375–405। doi:10.1353/bhm.2001.0119PMID 11568485। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৭-২৪ 
  9. Schultheiss D, Truss MC, Stief CG, Jonas U. Uncircumcision: A Historical Review of Preputial Restoration. Plast Reconstr Surg. 1998;101(7):1990–8. doi:10.1097/00006534-199806000-00037. PMID 9623850.
  10. Entry on "circumcision", The Columbia Encyclopedia, Sixth Edition, 2001-05.
  11. Acts 15
  12. https://www.theguardian.com/law/2011/jun/14/circumcision-ban-row-san-francisco
  13. http://www.ibtimes.com.au/denmark-sweden-ban-non-medical-circumcision-boys-1330592
  14. https://www.independent.co.uk/news/world/europe/denmark-considering-banning-circumcision-for-children-under-18s-a7459291.html
  15. "Explanation of opposing circumcision in Israel"