খোংশু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
খোংশু
চন্দ্র দেবতা
Khonsu.svg
নররূপে খোংশু
হায়ারোগ্লিপে নাম
Aa1
N35
O34
M23 G45 G7
প্রধান অর্চনা কেন্দ্র থীব্‌স
প্রতীক চন্দ্রচক্র, পার্শ্ববিনুনি
মাতাপিতা আমুন এবং মুত অথবা বাস্তেত

খোংশু (উচ্চারণান্তরে চোংসু, খেংসু, খোংস্‌, চোংস্‌ বা খোংসু) ছিলেন প্রাচীন মিশরের চন্দ্র দেবতা। তাঁর নামের আক্ষরিক অর্থ "পর্যটক"; সম্ভবত প্রতি রাত্রে আকাশের এক ধার থেকে অন্য ধারে চাঁদের ভ্রমণের ব্যাপারটির সাথে সম্পর্কিত। থোথ-এর সাথে যুগ্মভাবে তিনি কাল প্রবাহের গতি নির্ণয় করেন। সমস্ত জীবে জীবন দানের ক্ষেত্রে খোংশুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। থীব্‌সে দেবী মুত এবং দেবরাজ আমুনের সন্তান হিসেবে তিনি এক দৈব পরিবারের অংশ ছিলেন। কোমওম্বো-তে তিনি সোবেক এবং হাথরের পুত্র হিসেবে পূজিত হতেন।[১]

বৈশিষ্ট্যাবলী[সম্পাদনা]

সাধারণত খোংশুকে শৈশব ও কৈশোরের চিহ্ন পার্শ্ব বিনুনি, মেনাত নেকলেস, রাখালের লাঠি ও শস্য মাড়াই করার লাঠি সমেত চিত্রিত করা হত। হোরাস, শু প্রভৃতি অন্যান্য দেবশিশুদের সাথেও তাঁর সম্পর্ক আছে। কখনও কখনও হোরাসের চিহ্ন বাজপাখির মাথা পরিহিত অবস্থাতেও খোংশুর মূর্তি দেখা যায়। হোরাসের সাথে তিনি রক্ষক এবং নিরাময়কারী হিসেবে পূজিত হতেন। এইরূপে তিনি সূর্যচক্র ও অর্ধচন্দ্র চক্র সম্বলিত।[১]

রামেসিদ যুগে কার্নাকে নির্মিত মন্দির প্রাঙ্গনের অধিকাংশই ছিল খোংশুর উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত।[১] এর একখানি দেওয়ালে খোংশু সৃষ্টির সময় ব্রহ্মান্ডকে বীর্যদানকারী মহাসর্প হিসেবে অঙ্কিত হয়েছেন।[২]

নিরাময়কারী হিসেবে খোংশুর নাম মিশরের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। একটি "স্টেলে" বা স্মারক স্তম্ভ থেকে জানা যায় কেমন করে বেখতেনের একজন রাজকন্যা খোংশুর একটা ছবি দেখামাত্র গুরুতর অসুখ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন।[৩] রাজা চতুর্থ টলেমি একটি অসুখ থেকে সেরে উঠে নিজেকে "মহারাজের রক্ষক ও অশুভ শক্তির অপনেয়ক দেবতা খোংশুর কৃপাধন্য" বলে ঘোষণা করেন।

খোংশুর প্রধান অর্চনা কেন্দ্র ছিল মেম্ফিস, হিবিস ও এদফু-তে।[১]

ক্রমপরিবর্তন[সম্পাদনা]

থীব্‌সের উত্থানের সময় মুত-এর পুত্র হিসেবে যুদ্ধ দেবতা মোন্থুর জায়গায় ক্রমশ খোংশুর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, কারণ মুত-এর মন্দিরের পুকুরটি ছিল অর্ধচন্দ্রাকার। আমুন খোংশুকে প্রতিপালন করেছিলেন এই বিশ্বাস জোরদার হয়ে ওঠে, এবং মুত-কে আমুনের স্ত্রী হিসেবে কল্পনা করাও শুরু হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Oxford Guide: Essential Guide to Egyptian Mythology", Edited by Donald B. Redford, pp. 186–187, Berkley, 2003, আইএসবিএন ০-৪২৫-১৯০৯৬-X
  2. Handbook of Egyptian Mythology, Geraldine Pinch, p156, ABC-CLIO, 2002, আইএসবিএন ১-৫৭৬০৭-২৪২-৮
  3. This incident is mentioned in the opening of chapter one of BolesławPrus' 1895 historical novel Pharaoh

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]