কামানযুক্ত পালতোলা যুদ্ধজাহাজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে ইম্পেরিয়াল চীনা বেইয়াং ফ্লিটের চীনা কর্ভেট "কোয়ান শিয়া"
ইতালীয় নৌবাহিনীর কর্ভেট "কম্যান্ডেন্ট ফসকারী"

কর্ভেট একটি ছোট যুদ্ধ জাহাজ । ঐতিহ্যগতভাবে এটিকে সবচেয়ে ছোট প্রজাতির প্রকৃত (বা "রেটযুক্ত" ) রণতরী বলে মনে করা হয়। কার্ভেটের উপরের শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ হল ফ্রিগেট, এবং পূর্বে কর্ভেটের নীচের শ্রেণি ছিল স্লুপ-অফ-ওয়ার। একটি কার্ভেটের নিচের শ্রেণির আধুনিক যুদ্ধ নৌযান হল উপকূলীয় টহল জাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র নৌকা এবং দ্রুত হামলা নৌযান। আধুনিক ভাষায়, একটি কর্ভেটের ওজন সাধারণত ৫০০ টন থেকে ২,০০০ টন এর মধ্যে হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক নকশাগুলোতে এর ওজন ৩,০০০ টন পর্যন্ত হতে পারে, যেটিকে কর্ভেটের পরিবর্তে একটি ছোট ফ্রিগেট বলা যেতে পারে।

"কর্ভেট" শব্দটি প্রথম পাওয়া যায় মধ্য ফরাসি ভাষায়। ওলন্দাজ শব্দ কর্ফ এর অর্থ "ক্ষুদ্র জাহাজ", ও অর্থ ল্যাটিন শব্দ কর্বিসের অর্থ "ঝুড়ি"। [১]

অনেক নৌবাহিনীতে "কার্ভেট ক্যাপ্টেন" পদটি "লেফটেন্যান্ট কমান্ডারের" সমতুল্য। কার্ভেট ক্যাপ্টেন নামটি কর্ভেট জাহাজের নাম থেকে এসেছে। এই র‍্যাঙ্কটি বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় (যেমন, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, ক্রোয়েশিয়া) এবং দক্ষিণ আমেরিকান (যেমন, আর্জেন্টিনা, চিলি) নৌবাহিনীর তিনটি "ক্যাপ্টেন" পদের মধ্যে সবচেয়ে জুনিয়র, কারণ কর্ভেট রেটযুক্ত রণতরীর মধ্যে সবথেকে ছোট্ট শ্রেণির হওয়ায়, ঐতিহ্যগতভাবে এটি "ক্যাপ্টেন" র‍্যাঙ্কের অধিকারী জাহাজের মধ্যে ক্ষুদ্রতম শ্রেণী।

পালতোলা নৌযান[সম্পাদনা]

ফরাসি কর্ভেট, লা ড্রাগন, পূর্বের লুণ্ঠনকারী পালযুক্ত জাহাজ ড্রাগন এবং সাবেক ইউ.এস. ব্রিগেটিন ওয়াশিংটন ১৭৭৬

নৌযুগের সময়, কর্ভেট ছিল ফ্রিগেটের থেকে আকারে ছোট ও একসারি বন্দুকযুক্ত যুদ্ধজাহাজের মধ্যে অন্যতম। [২] এরা স্লুপস-অফ-ওয়ারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ছিল। কর্ভেটের ভুমিকার মধ্যে বেশিরভাগ ছিল উপকূল পাহারা দেয়া, ছোটখাটো যুদ্ধে লড়াই, বড় নৌবহরকে সমর্থন দেয়া বা পতাকা-প্রদর্শন মিশনে অংশগ্রহণ করা। ইংরেজ নৌবাহিনী ১৬৫০ এর দশকে ছোট জাহাজ ব্যবহার করা শুরু করলেও, এদেরকে কর্ভেটের স্থলে স্লুপ হিসেবে বর্ণনা করত। কর্ভেটের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৬৭০ এর দশকে ফরাসি নৌবাহিনীতে, সম্ভবত সেখান থেকেই এই শব্দটির উৎপত্তি। ফরাসি নৌবাহিনীর কর্ভেটগুলো সময়ের সাথে উন্নত হতে থাকে এবং ১৭৮০ দশকের মধ্যে এগুলো প্রায় কুড়িটি বন্দুকের জাহাজে পরিণত হয়, যা ছিল ব্রিটিশ নৌবাহিনীর পোস্ট জাহাজের প্রায় সমতুল্য। ব্রিটিশ নৌবাহিনী ১৮৩০ এর দশকের আগে এই শব্দটি গ্রহণ করেনি, যা নেপলীয় যুদ্ধেরও অনেক পরে একটি ছোট ষষ্ঠ-মাত্রার ও স্লুপের চেয়ে সামান্য বড় নৌযান বোঝাতে ব্যবহৃত হত।

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স কর্তৃক হারানো শেষ নৌযানটি ছিল লা ড্রাগন, যেটিকে এর অধিনায়ক ১৭৮৩ এর জানুয়ারিতে হাইতির মন্টে ক্রিস্টি থেকে আগত একটি ব্রিটিশ দলের হাতে ধরা না পড়ার জন্য ছিদ্র করে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। [৩]

সপ্তদশ শতকের বেশিরভাগ কর্ভেট ও স্লুপস দৈর্ঘ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ ফু (১২ থেকে ১৮ মি) এবং ৪০ থেকে ৭০ টনস বার্থেন ওজনের হত। এগুলোর একটি পাটাতনে চার থেকে আটটি ছোট বন্দুক থাকত। সময়ের সাথে সাথে, বর্ধিষ্ণু আকার ও ধারণক্ষমতার নৌযানগুলোকে কর্ভেট বলা হয়। ১৮০০ সালের মধ্যে এরা দৈর্ঘ্যে ১০০ ফু (৩০ মি) এর বেশি ও ৪০০ থেকে ৬০০ টনস বার্থেন ওজনের হয়ে দাঁড়ায়।

বাষ্পচালিত জাহাজ[সম্পাদনা]

ফরাসি বাষ্প কর্ভেট ডুপ্লেইক্স (১৮৫৬-১৮৮৭)

বাষ্প যুগের সময় তৈরি জাহাজগুলি তাদের পূর্ববর্তী পালতোলা জাহাজগুলোর চেয়ে আরও দ্রুত এবং ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে। এই যুগের কর্ভেটগুলি সাধারণত ঔপনিবেশিক অভিযানের সময় গানবোটের পাশাপাশি ব্যবহৃত হত। দূরবর্তী পূর্বাঞ্চল ও আফ্রিকার অধিবাসীদের সাথে যুদ্ধ করার সময় যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য বড় নৌযান প্রয়োজন হত না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি সহজ-নির্মিত প্রহরী নৌযান এবং পাহারা সহচর নৌযান হিসেবে আধুনিক কর্ভেটের উদ্ভব হয়েছিল। [২] ব্রিটিশ নৌযান নকশাকার উইলিয়াম রিড, স্মিথস ডক কোম্পানির একক শ্যাফ্ট বিশিষ্ট তিমি শিকারি জাহাজ সাউদার্ন প্রাইডের নকশার উপর ভিত্তি করে একটি ছোট জাহাজের নকশা করেন। এর সরল নকশা এবং বাণিজ্যিক নির্মাণের মানদণ্ডের ফলে এটিকে নৌবাহিনীর অব্যবহৃত ছোট ইয়ার্ডগুলোতে গণহারে দ্রুত উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছিল। ফার্স্ট লর্ড অফ দ্য অ্যাডমিরালটি এবং পরবর্তীকালের প্রধানমন্ত্রী, উইনস্টন চার্চিল "কর্ভেট" নামটি প্রচলিত করার পেছনে ভূমিকা রাখেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী সামরিক শক্তি নির্মাণের সময়, "কর্ভেট" শব্দটি ট্রাইবাল-শ্রেণী ডেস্ট্রয়ার এর সাথে ব্যবহার করা হত। ট্রাইবাল শ্রেণিটি অন্যান্য ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার থেকে যথেষ্ট বড় ও আলাদা হওয়ায় "কর্ভেট" শ্রেণীবিভাগটির পুনরুত্থান ও ট্রাইবালকে এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করার বিবেচনা করা হয়েছিল। এই পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়, ও কর্ভেট শব্দটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফ্লাওয়ার শ্রেণীর মত ছোট আকারের ও গণহারে উৎপাদিত ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী সহচরী নৌযান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

প্রথম আধুনিক কর্ভেট ছিল ফ্লাওয়ার শ্রেণী (রয়্যাল নৌবাহিনীদের নাম রাখা হত ফুলের নামানুসারে এবং রয়্যাল কানাডিয়ান নৌবাহিনীর অধিনস্থ জাহাজের নাম হত কানাডার ছোট ছোট শহরের নামে)। এদের প্রধান কাজ ছিল, আটলান্টিক যুদ্ধে ও যুক্তরাজ্য থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের মারমান্সকে রসদ সরবরাহের সময় নৌবহরের নিরাপত্তা প্রদান।

ফ্লাওয়ার-শ্রেণী কর্ভেট প্রাথমিকভাবে নকশা করা হয় সমুদ্রতীরবর্তী পাহারার কাজের জন্য। এগুলো ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী সহচর হিসেবে উপযোগী ছিল না, মুক্ত সমুদ্র কাজের জন্য অত্যন্ত ছোট ছিল এবং বিমান ধ্বংস করার পক্ষে যথেষ্ট অস্ত্র ধারণ করত না। এছাড়াও এরা যে সব বাণিজ্যতরী পাহারা দিত তাদের তুলনায় এগুলো কিছুটা দ্রুত চলত, যে কারণে সে সময় জার্মান ইউ-বোটের নকশার উদ্ভব ঘটে। এগুলো সমুদ্রযাত্রার পক্ষে বেশ উপযোগী ও ঘূর্ণনযোগ্য ছিল, তবে এগুলোতে সমুদ্রযাত্রায় বসবাসের অবস্থা খুবই ভয়াবহ হত। এই কারণে, রয়্যাল নৌবাহিনীতে সহচরী জাহাজ হিসেবে কর্ভেটের জনপ্রিয়তা ফ্রিগেটকে ছাপিয়ে যায়। ফ্রিগেট ছিল আকারে বড়, দ্রুততর, অধিক অস্ত্রবিশিষ্ট ও এর দুটি শ্যাফ্ট থাকত। তবে অনেক জাহাজ নির্মাণের ছোট কারখানা ফ্রিগেট এর মত বড় আকারের নৌযান প্রস্তুত করতে পারত না, যার ফলে পরে ক্যাসল শ্রেণী নামে একটি উন্নত ধরনের কর্ভেট যুদ্ধে যোগ দেয়। এদের মধ্যে অনেকগুলো ১৯৫০ এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত কর্মক্ষম ছিল।

রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনী ৬০টি ব্যাথ্রাস্ট-শ্রেণী কর্ভেট নির্মাণ করে, যাদের মধ্যে ২০টি অস্ট্রেলিয়ান নাবিকদের দ্বারা পরিচালিত রয়্যাল নৌবাহিনীর জন্য ও চারটি ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য প্রস্তুত করা হয়। iআনুষ্ঠানিকভাবে এদেরকে অস্ট্রেলিয় মাইনসুইপার বা রয়্যাল নৌবাহিনীর মাইনসুইপিং স্লুপ বলা হত ও এদের নাম রাখা হয় বিভিন্ন অস্ট্রেলিয় শহরের নামানুসারে।

রয়্যাল নিউজিল্যান্ড নৌবাহিনীতে বার্ড-শ্রেণী মাইনসুইপার বা ট্রলারকে কর্ভেট বলা হত। ১৯৪৩ সালে সলোমন দ্বীপপুঞ্জে দুইটি কিউইমোয়া একটি অপেক্ষাকৃত বড় জাপানী ডুবোজাহাজকে আক্রমণ করে ও ডুবিয়ে দেয়।

ইতালিতে, রেজিয়া মেরিনা এর বহরের জন্য সহচর নৌযানের তীব্র সংকটের কারণে গ্যাবিয়ানো-শ্রেণী কর্ভেট তৈরি করে। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে এদের ২৯টিকে তৈরি করা হয় (পরিকল্পিত ৬০টির মধ্যে); এবং ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন অভিযানে এরা অত্যন্ত কার্যকরী হিসেবে প্রমাণিত হয়। বিশেষত বিমান-বিধ্বংসী ও ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষমতার সাপেক্ষে এরা এতটাই সফল ছিল যে এগুলো যুদ্ধের পরেও ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ইতালিয়ান নৌবাহিনীতে টিকে ছিল।

আধুনিক কর্ভেট[সম্পাদনা]

বিংশ শতকের শেষ ও একবিংশ শতকের শুরুর দিকে ছোট আকার ও অধিক ঘূর্ণনযোগ্য তল ক্ষমতার কর্ভেটের প্রচলন শুরু হয়। কর্ভেটের উৎপাটন ৫৪০ থেকে ৩,০০০ লং টন (৫৫০ থেকে ৩,০৫০ t) ও দৈর্ঘ্য ১৮০–৪২০ ফু (৫৫–১২৮ মি) হয়ে থাকে। সাধারণত এরা মধ্যম ও স্বল্প পাল্লার বন্দুক, স্থল-স্থল ক্ষেপণাস্ত্র, স্থল-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী অস্ত্র দ্বারা সজ্জিত থাকে। অনেক কর্ভেট একটি ছোট থেকে মাঝারি আকারের ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী যুদ্ধবিগ্রহ হেলিকপ্টার বহন করতে সক্ষম। [৪] সমুদ্রসীমাযুক্ত অধিকাংশ দেশ তাদের বাণিজ্যিক জাহাজনির্মাণ কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে অথবা উদ্দেশ্য-নির্মিত জাহাজ কারখানায় কর্ভেট আকারের জাহাজ তৈরি করতে পারে। তবে এর সেন্সর, অস্ত্র এবং স্থলযুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জামাদি আরও অধিক বিশেষায়িত হয়ে থাকে এবং এর পেছনে মোট নির্মাণব্যয়ের প্রায় ৬০% খরচ হয়। এই উপাদানগুলো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ক্রয় করা হয়ে থাকে।

বর্তমান কর্ভেট শ্রেণীসমূহ[সম্পাদনা]

বর্তমানে অনেক দেশ কর্ভেট পরিচালনা করে; যাদের মধ্যে আর্জেন্টিনা,[৫] বাংলাদেশ, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, চীন, জার্মানি, মিশর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইসরায়েল, ইতালি, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইডেন, মালয়েশিয়াতুরস্ক অন্যতম। বাল্টিক সাগর বা পারস্য উপসাগরের মত যে সকল দেশের সমুদ্রসীমা অপেক্ষাকৃত ছোট, তাদের ক্ষুদ্রতর ও অধিক ঘূর্ণনযোগ্য কর্ভেট তৈরির প্রবণতা দেখা যায়। রাশিয়া বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক কর্ভেট পরিচালনা করে।

আর্জেন্টাইন এস্পোরা-শ্রেণী কর্ভেট মেকো
একটি সুইডিশ ভিসবি-শ্রেণীর গুপ্ত কর্ভেট

১৯৬০ এর দশকে, পর্তুগীজ নৌবাহিনী জোয়াও কৌচিনহো-শ্রেণী কর্ভেট নামে বহুমুখী-ভূমিকা যুক্ত ছোট আকারের ফ্রিগেটের প্রচলন করে যা কোন ছোট নৌবাহিনীর পক্ষে সাশ্রয়ী হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। শীঘ্রই জোয়াও কৌচিনহো-শ্রেণী একটি অনুরূপ ধারার কার্যক্রমকে উদ্বুদ্ধ করে – যার মধ্যে স্পেনীয় ডেসকোবিয়ের্তা, জার্মান মেকো ১৪০, ফরাসি এ৬৯ এবং পর্তুগীজদের নিজস্ব ব্যাপ্টিস্টা দে আন্দ্রাদে – এগুলো বেশ কয়েকটি মধ্যম ও ছোট আকারের নৌবাহিনী কর্তৃক গৃহীত হয়।

গুপ্ত প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি প্রথম কার্যকরী কর্ভেট হচ্ছে রয়্যাল নরওয়েজিয়ান নৌবাহিনীরশল্ড শ্রেণী কর্ভেট। সুইডিশ নৌবাহিনী একই রকম গুপ্ত ক্ষমতা সম্পন্ন ভিসবি শ্রেণীর প্রচলন করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপকূলবর্তী যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে, যা মূলত বৃহদাকার কর্ভেট। এদের প্রশস্ত কাঠামো মিশন মডিউলের জন্য স্থানসংকুলান করে, যার ফলে এরা এমন সব কাজের দায়িত্ব নিতে পারে যা পূর্বে শুধুমাত্র করতে মাইনসুইপার বা ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী অলিভার হ্যাজার্ড পেরি-শ্রেণী ফ্রিগেট এর মত বিশেষ শ্রেণীর নৌযানের উপরেই ন্যাস্ত হত।

ইসরায়েলি নৌবাহিনী তিনটি সা'র ৫ শ্রেণীর কর্ভেট পরিচালনা করে। এগুলো ইসরায়েলি নকশা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করা হয়। এগুলো একটি হেলিকপ্টার বহন করতে সক্ষম এবং আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র ব্যাবস্থা (যার মধ্যে বারাক ৮ এসএএম অন্তর্ভুক্ত), অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক সেন্সর ও প্রতিব্যাবস্থা দ্বারা সুসজ্জিত। সর্বোচ্চ গতিতে এটি ১,২০০ টন পরিমাণ ভর স্থানান্তরিত করতে পারে।

ভারতীয় নৌবাহিনী চারটি কামর্তা-শ্রেণী কর্ভেট পরিচালনা করে যা গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স কর্তৃক নির্মিত হয়। ২০১৭ সালের মধ্যে এগুলোর সবকয়টি কাজে যোগদান করে।

জার্মান নৌবাহিনীর নতুন ব্রাউনশেইগ শ্রেণী কর্ভেট জার্মানির দ্রুত আক্রমণ নৌযানের সম্পূরক হিসেবে তৈরি হয়। এটিতে গুপ্ত প্রযুক্তি ও স্থল-আঘাত করার সক্ষমতা রয়েছে। ইসরায়েলি নৌবাহিনী এই শ্রেণীর আরও ভারী অস্ত্রযুক্ত সংস্করণের চারটি সা'র ৬ শ্রেণী কর্ভেট তৈরির আদেশ দেয়, যেগুলো ২০১৯ সালে সম্পূর্ণ হওয়ার কথা রয়েছে।

২০০৫ সালে তুরস্ক মিলগেম-শ্রেণী কর্ভেট নির্মাণ শুরু করে। মিলগেম শ্রেণীটি ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী যুদ্ধবিগ্রহ ও উপকূলীয় প্রহরার কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি। এদের মধ্যে প্রধান জাহাজ টিসিজি হেবেলিয়াডা ২০১১ সালে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়। মিলগেম শ্রেণীর গঠনশৈলী ও মিশন প্রোফাইল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিডম শ্রেণীর উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজের অনুরূপ।

ফিনল্যান্ড এর নৌবাহিনীর প্রজেক্ট স্কোয়াড্রন ২০২০ এর অংশ হিসেবে ২০২০ সালে চারটি বহুমুখী-ভূমিকা যুক্ত কর্ভেট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই কর্ভেটগুলোর হেলিকপ্টার বহন, মাইন স্থাপন, বরফ ভাঙা, বিমান-বিধ্বংসী ও জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষমতা থাকবে। এরা ১০০ মিটার (৩৩০ ফু) এরও বেশি লম্বা হবে ও এর নির্মাণে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ইউরো খরচ হবে।

গ্রীক নৌবাহিনী কর্ভেটকে দ্রুত আক্রমণ ক্ষেপণাস্ত্র নৌযান হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করেছে। এর একটি অনুরূপ নৌযান হচ্ছে তুর্কী নৌবাহিনীর কুলুচ-শ্রেণীর দ্রুত আক্রমণ ক্ষেপণাস্ত্র নৌযান, যেটিকে জার্মান জাহাজ নকশাকার লুর্সেন ভের্ফ্ট কর্ভেট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

যাদুঘরে সংরক্ষিত কর্ভেট[সম্পাদনা]

এআরএ উরুগুয়ে, ১৮৭৪ সালের একটি আর্জেন্টাইন কর্ভেট যা ১৯৬৭ সাল থেকে বুয়েনস আইরেসের একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "corvette"Merriam-Webster। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৮-১৩ 
  2. Keegan, John (১৯৮৯)। The Price of Admiralty। Viking। পৃষ্ঠা 277। আইএসবিএন 978-0-670-81416-9 
  3. Freddy Van Daele "The Enigmatic Ostend Model "The Dragon-1783"-Alfred Van Daele publisher September 2015
  4. Magnuson, Stew. "East/West Divide Grows In the International Navy Shipbuilding Business." ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৯ মে ২০১১ তারিখে National Defense Industrial Association, 16 May 2011.
  5. Corbeta Clase Espora (Meko 140), Armada Argentina, Unidades, Corvetas.

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]