কল-রেডী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কল-রেডী
কল-রেডী.jpg
পূর্বসূরীআরজু লাইট হাউজ
গঠিত১৯৪৮
প্রতিষ্ঠাতাহরিপদ ঘোষ
দয়াল ঘোষ
প্রতিষ্ঠাস্থানঢাকা, বাংলাদেশ
ধরনমাইক পরিষেবা
সদরদপ্তরসূত্রাপুর,ঢাকা

কল-রেডী বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী মাইক পরিষেবা।[১][২] বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে এবং পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন আন্দোলনে প্রায় সব সময় এ মাইক সার্ভিসটি ব্যবহার করা হয়েছে।[১][৩] এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় সভা ও সমাবেশে এবং সাতই মার্চের ভাষণ[১][৪][৫][৬][৭]

বাংলাদেশি রাজনীতিবীদ ছাড়ও বাংলাদেশে বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানেও কল-রেডী ব্যবহার করা হয়েছে। যারা কল-রেডীর মাইক দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইন্দিরা গান্ধী, ইয়াসির আরাফাত, নেলসন ম্যান্ডেলা, বিল ক্লিনটন, প্রণব মুখার্জিঅটল বিহারী বাজপেয়ী। ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও অধিকাংশ সময় কল-রেডী ব্যবহার করে।[৮]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৪৮ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সূত্রাপুরে ‘আরজু লাইট হাউস’ নামে একটি দোকান চালু করেন হরিপদ ঘোষ ও দয়াল ঘোষ নামে দুই ভাই।[১][৩][৮] প্রতিষ্ঠার শুরুতে তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গ্রামোফোন ভাড়া ও আলোকসজ্জার কাজ করতেন। প্রথমিদিকে ভারত থেকে কয়েকটি মাইক আমদানি করে এবং তারা নিজেরা কিছু হ্যান্ডমাইক তৈরি করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সভা-সমাবেশে ভাড়া দেওয়া শুরু করেন। কিন্তু চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চীন, তাইওয়ানজাপানসহ অন্যান্য দেশ থেকেও মাইক আমদানি করেন।[১]

একই সময় থেকে ভাষা আন্দোলনের দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এসময় মাইক সার্ভিসের জন্য ‘কল-রেডী’ নামটি ঠিক করা হয়। নামের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, ‘মাইক যারা ভাড়া করবেন তারা কল (ডাকলে) করলে যাতে তাদের প্রতিষ্ঠান রেডী (প্রস্তুত) থাকেন।’ অর্থাৎ কল করলে মাইক নিয়ে রেডী। সে ভাবনা থেকে কল-রেডী নামটি এসেছে।[৮] দুই ভাইয়ের প্রতিষ্ঠা করা এ মাইক সার্ভিসে ১৯৫৪ সাল নাগাদ কর্মী সংখ্যা ২০ জন অতিক্রম করে।

সাতই মার্চের ভাষণ[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্সে ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক এক ভাষণ প্রদান করেন। যে ভাষণটিকে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শেষে ইউনেস্কো "ডকুমেন্টারী হেরিটেজ" (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[৯] সাতই মার্চের ভাষণের সময় কল-রেডী মাইক ব্যবহার করা হয়।[৩][৫][৭][৮][১০][১১][১২]

৭ই মার্চের পূর্বে শেখ মুজিবুর রহমান তার ধানমন্ডির বাসভবনে হরিপদ ঘোষ ও দয়াল ঘোষ দুজনকে ডেকে রেসকোর্সে ময়দানে মাইক প্রস্তুত করতে বলেন। সমাবেশের তিনদিন পূর্বেই তারা রাতের আধারে মাইক প্রস্তুত করেন এবং সেগুলো ঢেকে রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছু মাইক মজুদ রেখেছিলেন। ৭ই মার্চের ভাষণের সময় যে মাইক্রোফোন, মাইক্রোফোনের স্ট্যান্ড ব্যবহার করা হয়েছিল তা বর্তমানে কল-রেডির কাছে সংরক্ষিত আছে।[১][৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "কল-রেডী একটি মাইকের ইতিবৃত্ত"কালের কণ্ঠ। ৭ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮ 
  2. আরিফ, আলাউদ্দিন (২২ এপ্রিল ২০১৫)। "মাইক ব্যবসায় খরা"দৈনিক যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮ 
  3. দেবনাথ, সেবিকা (৭ মার্চ ২০১৮)। "যে মাইকে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক"দৈনিক সংবাদ। ১৯ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮ 
  4. আহমেদ, মোসাব্বির (২৫ নভেম্বর ২০১৬)। "কল-রেডী ও তাহের"বণিক বার্তা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. আহমেদ, মুসা (২৩ অক্টোবর ২০১৬)। "ইতিহাসের সাক্ষী কল-রেডি"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮ 
  6. চৌধুরী, মঈনুল হক (১৭ মার্চ ২০১৭)। "ডাকের অপেক্ষায় 'কল-রেডী'"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮ 
  7. রহমান, আতিকা (২৪ মার্চ ২০১৭)। "স্বাধীনতার সাক্ষী কল-রেডী"আরটিভি অনলাইন। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮ 
  8. "'দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অন্য কেউ সেই মাইক্রোফোনে ভাষণ দেননি'"দৈনিক ইত্তেফাক। ২৫ নভেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮ 
  9. "ইউনেস্কোর তালিকায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ"বিবিসি বাংলা। ৩১ অক্টোবর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  10. "৭ই মার্চ ২০১৮ উদযাপন"dfp.gov.bd। ৭ মার্চ ২০১৮। ১৯ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮ 
  11. জনি, রাফসান (২৬ মার্চ ২০১৭)। "কল-রেডী: বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি সংরক্ষণ হবে তো?"বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮ 
  12. "কল রেডীর ৭ মার্চ"banglanews24.com। ঢাকা। ৭ মার্চ ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮