এপ্রিল ফুল
| এপ্রিল ফুল দিবস | |
|---|---|
২০০১ সালে ডেনামার্কের কোপেনহেগেনে এপ্রিল ফুল দিবস উপলক্ষে রাস্তায় সৃষ্টি করা একটি স্থাপত্য। | |
| অন্য নাম | সকলকে বোকা বানানোর দিন |
| ধরন | সাংস্কৃতিক |
| পালন | কৌতুক |
| তারিখ | ১লা এপ্রিল |
এপ্রিল ফুল দিবস প্রতিবছর এপ্রিল মাসের প্রথম দিন পালিত হওয়া একটি দিবস। মাঝে মাঝে একে সকলকে বোকা বানানোর দিন বলে উদ্যাপন করা হয়।
উদ্ভব
[সম্পাদনা]
এই দিন প্রতিবেশীদের উপর কৌতুক করার জন্য একটি দিন হিসাবে সর্বত্র স্বীকৃত।[১] এপ্রিল ফুলস ডে এর কিছু প্রিকার্সর হলো, এটি রোমান হিলারিয়া উৎসব,[২]ভারতের হোলি উৎসব,[৩] এবং এর মধ্যযুগীয় ফুল ফিস্ট জড়িত। [৪] চসারের ক্যান্টারবারি টেলস (১৩৯২) ও এর সাথে জড়িত। এটি দুই ভাগে ছিল Nun's Priest's Tale এবং Syn March was gon।[৫] আধুনিক পণ্ডিতদের বিশ্বাস এই পান্ডুলিপি অর্থাৎ আসলে চসার যা লিখেছিলেন, Syn March was gon তা অনুসরন করা এক ধরনের পথভ্রষ্টতা[৬]
জুলীয় ও গ্রেগোরীয় বর্ষপঞ্জি
[সম্পাদনা]ইরানে পার্সি ক্যালেন্ডার অনুসারে নববর্ষের ১৩তম দিনে আনন্দ মজা করা হয়। এই দিন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে ১ এপ্রিল ও ২ এপ্রিল সদৃশ্য। ঐতিহাসিকদের মতে, ১৫৬৪ সালে ফ্রান্সে নতুন ক্যালেন্ডার চালু করাকে কেন্দ্র করে এপ্রিল ফুল ডে'র সুচনা হয়। ঐ ক্যালেন্ডারে ১লা এপ্রিলের পরিবর্তে ১ জানুয়ারীকে নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে গণনার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে কিছু লোক তার বিরোধিতা করে। যারা পুরনো ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী ১ এপ্রিলকেই নববর্ষের প্রথম দিন ধরে দিন গণনা করে আসছিল, তাদেরকে প্রতি বছর ১ এপ্রিলে বোকা উপাধি দেয়া হতো। ফ্রান্সে পয়সন দ্য আভ্রিল(poisson d'avril) পালিত হয় এবং এর সাথে সম্পর্ক আছে মাছের। এপ্রিলের শুরুর দিকে ডিম ফুটে মাছের বাচ্চা বের হয়। এই শিশু মাছগুলোকে সহজে বোকা বানিয়ে ধরা যায়। সেজন্য তারা ১ এপ্রিল পালন করে পয়সন দ্য এভ্রিল অর্থাৎ এপ্রিলের মাছ। সে দিন বাচ্চারা অন্য বাচ্চাদের পিঠে কাগজের মাছ ঝুলিয়ে দেয় তাদের অজান্তে। যখন অন্যরা দেখে তখন বলে ওঠে পয়সন দ্য আভ্রিল বলে চিৎকার করে। কবি চসারের ক্যান্টারবারি টেইলস(১৩৯২) বইয়ের নানস প্রিস্টস টেইল এ এই দিনের কথা খুজে পাওয়া যায়।
দীর্ঘ স্থায়ী প্রথা
[সম্পাদনা]যুক্তরাজ্য
[সম্পাদনা]যুক্তরাজ্যে এপ্রিল ফুলের দিন প্রাপককে অর্থাৎ যিনি এপ্রিলের বোকা হন তাকে "এপ্রিল ফুল!" বলে হাসি তামাশা ও চিৎকার করে প্রকাশ করা হয়।
ইরান
[সম্পাদনা]ইরানে, সিজদাহ বে-দারের অংশ হিসেবে দরুগ-এ সিজদাহ (তেরোর মিথ্যা) পালিত হয়।[৭] এটি এপ্রিল ফুল দিবসের মতো এবং পারস্য পঞ্জিকার ফারভারদিন মাসের ১৩ তারিখে পালিত হয়, যা সাধারণত ১ বা ২ এপ্রিলের কাছাকাছি পড়ে। জানা যায় যে, ৫৩৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে এই ছুটির দিনে কৌতুক বা কৌতুকপূর্ণ প্রতারণা করা হয়ে আসছে, যা একে সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিত কৌতুক দিবসে পরিণত করেছে।[৮] ধারণা করা হয় যে, এই শব্দটি পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে আধুনিক ইরানি সমাজে এপ্রিল ফুল হিসেবে আমদানি করা হয়েছে; এবং এপ্রিল ফুল ও ফারভারদিন ১৩ তারিখের (যা সিজদাহ বে-দার নামেও পরিচিত এবং ইরানি নববর্ষের ছুটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে) মধ্যে তারিখের নৈকট্যের কারণে ভুলবশত একে তাদের প্রাচীন জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
প্রাচীন পারসিকরা "মিথ্যা" বলাকে একটি মারাত্মক পাপ হিসেবে গণ্য করত এবং মিথ্যা বলাকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হতো; কারণ তাদের সমাজে সত্যবাদিতাকে অত্যন্ত মূল্যায়ন করা হতো এবং এই বিষয়ে জরথুস্ট্রবাদের নির্দেশনা অনুসরণ করা হতো।[৯][১০] পারসিকরা বিশ্বাস করত যে প্রতারণা বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যেতে পারে, যার ফলে সততা তাদের সংস্কৃতির একটি মৌলিক নীতি হয়ে উঠেছিল।[১১][১২] হিরোডোটাস উল্লেখ করেন যে:[১৩]
পারসিকরা মিথ্যা বলাকে "বিশ্বের সবচেয়ে অপমানজনক কাজ" মনে করত, যা ইঙ্গিত দেয় যে গ্রিকরা তুলনামূলকভাবে মিথ্যার প্রতি বেশি প্রবণ ছিল।
ইসলামে এপ্রিল ফুল
[সম্পাদনা]ইসলামে এপ্রিলের মিথ্যাচার বা এপ্রিল ফুল হারাম; কারণ ইসলামে এই দিনে বা অন্য যেকোনো দিনে মিথ্যা বলা নিষিদ্ধ।[১৪][১৫] একইভাবে, একজন মুসলিমের জন্য এই বিষয়ে বা অন্য কোনো বিষয়ে অন্যদের (অমুসলিমদের) সাদৃশ্য অবলম্বন করা বৈধ নয়; কারণ আল্লাহর রাসূল বলেন:[১৬][১৭]
যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেন:[১৮]
তোমরা সত্যকে আঁকড়ে ধরো; কারণ সত্য পুণ্যের পথ দেখায়, আর পুণ্য জান্নাতের পথ দেখায়। কোনো ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বললে এবং সত্যের অন্বেষণে থাকলে আল্লাহর কাছে তাকে সিদ্দিক (মহাসত্যবাদী) হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। আর তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ মিথ্যা পাপাচারের পথ দেখায়, আর পাপাচার জাহান্নামের পথ দেখায়। কোনো ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বললে এবং মিথ্যার অন্বেষণে থাকলে আল্লাহর কাছে তাকে কাজ্জাব (মহামিথ্যাবাদী) হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
— মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ৬৩৯৮৩
আরো পড়ুন
[সম্পাদনা]- Wainwright, Martin (2007). The Guardian Book of April Fool's Day. Aurum. আইএসবিএন ১-৮৪৫১৩-১৫৫-X
- ব্রিটানিকা বিশ্বকোষ
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Bonner, John; Curtis, George William; Alden, Henry Mills; Samuel Stillman Conant; John Foord; Montgomery Schuyler; John Kendrick Bangs; Richard Harding Davis; Carl Schurz; George Brinton McClellan Harvey; Henry Loomis Nelson; Norman Hapgood (১৯০৮)। Harper's Weekly। Harper's Magazine Company। পৃ. ৬।
- ↑ "April Fools' Day"। Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ৪ এপ্রিল ২০১৩।
- ↑ Brand, John (১৭২৫)। Brand's Popular Antiquities of Great Britain। খণ্ড Volume I (R&T, 1905 সংস্করণ)। London: Reeves and Turner। পৃ. ১২।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|খণ্ড=-এ অতিরিক্ত লেখা রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Santino, Jack (১৯৭২)। All around the year: holidays and celebrations in American life। University of Illinois Press। পৃ. ৯৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৫২-০৬৫১৬-৩।
- ↑ The Canterbury Tales, "The Nun's Priest's Tale" - "Chaucer in the Twenty-First Century", University of Maine at Machias, 21 September 2007
- ↑ Carol Poster, Richard J. Utz, Disputatio: an international transdisciplinary journal of the late middle ages, ২য় ভলিয়ম, পৃষ্ঠা ১৬-১৭ (১৯৯৭)।
- ↑ "For Your Pranking Inspiration: April Fools' Day Traditions From 9 Countries"। AFAR Media (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ মার্চ ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২৪।
- ↑ Berry, Allison (১ এপ্রিল ২০১২)। "April Fools' Day Traditions Around the World"। Time (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0040-781X। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ book: «The Persian Empire: A Corpus of Sources from the Achaemenid Period»
- ↑ [[suspicious link removed] Lying and Deception in Ancient Persia]
- ↑ Truth and Falsehood in Zoroastrianism
- ↑ The Role of Truth in Zoroastrianism
- ↑ Herodotus: On The Customs of the Persians
- ↑ "'এপ্রিল ফুল' পালন যে কারণে ইসলামে নিষিদ্ধ"। jagonews24.com। ১ এপ্রিল ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০২৬।
- ↑ "'এপ্রিল ফুল' যে কারণে ইসলামে নিষিদ্ধ"। dhakamail.com। ১ এপ্রিল ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০২৬।
- ↑ "এপ্রিল ফুল - islamqa.info"। islamqa.info (আরবি ভাষায়)। ৩ এপ্রিল ২০১৮। ৯ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন"। dorar.net। ৩ এপ্রিল ২০১৮। ১৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- ↑ "আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের হাদিস - মুসনাদে আহমদ"। dorar.net। ৪ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]| গ্রন্থাগার সংরক্ষণ সম্পর্কে এপ্রিল ফুল |