ইসরাইল-পাকিস্তান সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
ইসরাইল-পাকিস্তান সম্পর্ক 
Map indicating locations of Israel and Pakistan

Israel


Pakistan

"ইসরাইল-পাকিস্তান সম্পর্ক" ইসলামিক রিপাব্লিক অফ পাকিস্তান ও ইসরাইল রাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলিকে নির্দেশ করে, যেটা সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় থেকে কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে পরস্পরকে অস্বীকৃতি দেয়ার পরিবর্তে নিবিড় সহযোগিতায় রুপলাভ করেছে। দুটি দেশই ব্রিটিশদের কাছ থেকে কিছু আদর্শগত মতবাদের উপর ভিত্তিকরে স্বাধীনতা লাভ করে। যদিও তাদের মধ্যে কোন কূটনৈতিক বন্ধন নেই, কারণ মুসলিম অধ্যুষিত পাকিস্তান ইসরাইলকে কখনো রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকার করে নি। তবুও উভয় দেশ ইস্তাম্বুলে অবস্থিত নিজেদের দুতাবাসের মাধ্যমে পারস্পরিক মদ্ধস্ততা ও তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে। উইকিলিক্স দাবী করে যে, ২০১০ পাকিস্তান গোপনে কিছু জঙ্গিসংক্রান্ত তথ্য ইসরাইলে সরবরাহ করেছিল। বহিঃবিশ্বের কাছে ইসরাইল ও পাকিস্তান পরস্পর শত্রু দেশ হিসাবে পরিচিত। 


ইতিহাস [সম্পাদনা]

পাকিস্তানী পাসপোর্টধারীদের ইসরাইলে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়। 

দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বন্ধন গঠনের প্রাথমিক উদ্যোগ গৃহীত হয় ১৯৪৭ সালে, যখন ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেনগারিন পাকিস্তানের প্রতিস্থতা মোহাম্মাদ আলি জিন্নাকে একটি তারবার্তা প্রেরণ করেন, কিন্তু জিন্না কোন প্রকার সাড়া দেয়া থেকে বিরত থাকেন। ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের কর্তাব্যাক্তিরা বিশ্বাস করতেন যে করাচীর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নির্মাণ করা সম্ভব, অন্তত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক। ১৯৫০ এর প্রথম দিকে লন্ডনের পাকিস্তান দূতাবাস ও ইহুদী-ইসরাইলের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়। ভারত কিছু আফগান ইহুদীদের ইসরাইলে প্রত্ত্যাবাসনের জন্য পাকিস্থানের মাটি ব্যাবহারের করার অনুমতি চায়। পাকিস্তান অস্বীকৃতি জানালে ইহুদীরা ইরানের মাটি ব্যাবহার করে।

১৯৫২ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার জাররুল্লাহ খান ইসরাইলের ব্যাপারে দেশটির বৈরিনীতি প্রয়নন করেন এবং আরব জাতীয়তাবাদের গড়ার দিকে জোড় দেন। এভাবেই আরব বিশ্বের সাথে পাকিস্তানের নিবিড় সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। 


রাজনৈতিক মনোবৃত্তি[সম্পাদনা]

ইসরাইলের প্রতি পাকিস্তানের মনোভব [সম্পাদনা]

ইসরাইলের তথাকথিত স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন ওয়াশিংটনের ইসরাইলের দূতাবাসকে এইমর্মে অবহিত করা হয় যে, পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যে সৈন্য প্রেরণ করতে যাচ্ছে। আরও বলা হয় যে, দেশটি আরবদের জন্য চেকশ্লোভাকিয়া থেকে ২৫০০০০ রাইফেল ও মিসরীয় বাহিনীর জন্য ইতালি থেকে ৩ টি প্লেন ক্রয় করবে। 

পাকিস্তানের বিমান বাহিনী ১৯৬৭ সালের "৬ দিনের যুদ্ধ" ও ১৯৭৩ সালের "ইওম কাপোর যুদ্ধে" সরাসরি অংশগ্রহণ করে। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান ও পিএলও এক সমঝোতায় আসে যার ফলে পিএলওর অফিসাররা পাকিস্তানের মিলিটারি স্কুলগুলোতে প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে পারবে। ১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের স্বেচ্ছাসেবী সৈনিকরা অংশগ্রহণ করে এবং বৈরুত অবরোধের সময় ৫০ জনকে আটক করা হয়। 

ফরাসী প্রবীণ সাংবাদিক বার্নার্ড হেনরি লেভি টাইম সাময়িকীতে অভিযোগ করেন যে, ডেনিয়াল পার্ল নামক এক মার্কিন-ইসরাইলি সাংবাদিক আল কায়েদার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাকে ইসরাইলে চর সন্দেহে পাকিস্তানি গোয়েন্দারা আটক করে এবং হত্যা করে ( যদিও লেভি কোন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেন নি )। বিবিসি ও টাইমের অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয় যে পার্লকে সাংবাদিক বেশধারী মোসাদের চর সন্দেহে আটক করে শিরচ্ছেদ করে হত্যা করা হয়। 

এই ঘটনার পরে পাকিস্তানের ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ও চরমপন্থি সংগঠন যেমন জামাত-ই-ইসলাম, জামিয়াত উলামাহ-ই-ইসলাম ও লস্করে তয়েবা পৃথক বিবৃতিতে ইসরাইলের সাথে সকল সম্পর্কের বিরধিতা করে এবং ইসরাইলকে ইসলাম ও পাকিস্তানের শত্রু ঘোষণা দেয়। 

পাকিস্তানী পাসপোর্টে এই মর্মে উল্লেখ আছে যে, "এই পাসপোর্ট ইসরাইল ব্যাতিত পৃথিবীর সকল দেশের জন্য প্রযোজ্য।"

পাকিস্তানের প্রতি ইসরাইলের মনোভব [সম্পাদনা]

বলা হয় যে, ১৯৮০ এর দিকে ভারতের সহযোগিতা সহ বা ছাড়া ইসরাইল পাকিস্তানের বোমার মজুদের উপর সম্ভাব্য আক্রমনের পরিকল্পনা করে। ১৯৮১ সালে ইরাকি পারমাণবিক চুল্লীতে আক্রমনের পড় ইসরাইল ভারতের সহযোগিতা নিয়ে পাকিস্তানের কাহুতা পারমাণবিক স্থাপনার উপর অনুরূপ আক্রমণের পরিকল্পনা করে। স্যাটেলাইট চিত্র ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যাবহার করে এই আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয় যেখানে এফ-১৫ ও এফ-১৬ বিমান দ্বারা উসকানিমূলক আক্রমন রচিত হবে। 

"দি এশিয়ান এজ" এর সাংবাদিক আদ্রেয়ান লেভি ও ক্যাথরিন স্কট ক্লার্কের বই "Deception: Pakistan, the US and the Global Weapons Conspiracy" এ বলা হয় যে ইসরাইল ১৯৮০ এর মধ্য ভাগে গুজরাটের জামনগর বিমান ঘাঁটি ব্যাবহার করে কাহুতা নিউক্লিয়ার স্থাপনায় হামলা চালাতে চেয়েছিল। আরও বলা হয় যে, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিজেদের সীমানার খুব কাছে তিনটি দেশের এমন সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশংকায় পরিকল্পনাটি রদ করে দেন।