ইলমী গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

ইলমী গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (আরবি: اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء‎, প্রতিবর্ণী. আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ লিল বুহুসিল ইলমিয়াহ ওয়াল ইফতা‎‎, এছাড়াও ইলমী গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সি হিসাবেও পরিচিত) হল সৌদি আরবের বাদশাহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একমাত্র সরকারী ফতোয়া বিষয়ক ইসলামিক প্রতিষ্ঠান। এটি সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের জন্য ইসলামী আইনশাস্ত্র বা ফিকাহর বিধিবিধান এবং গবেষণাকর্ম প্রস্তুত করেন। সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ ধর্মীয় বিষয়ে সৌদি বাদশাহকে পরামর্শ দেন। মুসলিম বিশ্বে ইলমী গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি খুবই সম্মানিত ও সুপরিচিত একটি নাম। সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের একটি অংশ এই কমিটি। সৌদি আরবের ফিকাহ বিষয়ক সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ উলামাগণ এর সদস্য এবং সৌদি আরবের প্রধান মুফতি এর প্রধান। কুরআনুল কারীম, সহীহ হাদিস এবং সালাফে সালেহীনের ইলমের আলোকে উনারা সারা বিশ্বের মুসলিমদেরও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রধান হচ্ছেন আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ আল আশ-শাইখ। উনার আগে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন আব্দুল আযীয ইবন আবদুল্লাহ ইবন বায। প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলায় একাডেমিক গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি, ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি, সবোর্চ্চ ইসলামী গবেষণা পরিষদ ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়।

প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সাল ইবনে আব্দুল আজিজ কর্তৃক ২৯শে আগস্ট, ১৯৭১ সালে (০৮ই রজব ১৩৯১ হিজরী) একটি রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের পাশাপাশি এই কমিটিও প্রতিষ্ঠিত হয়।[১] আদেশটির চতুর্থ ধারা অনুযায়ী,

স্থায়ী কমিটি রাজকীয় আদেশ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে থেকে তার সদস্যদের নির্বাচন করবে। এর লক্ষ্য সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের জন্য গবেষণাকর্ম প্রস্তুত করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে ফতোয়া জারি করা। জনসাধারণের আক্বীদাহ, ইবাদত এবং সামাজিক ফতোয়া বিষয়ক ইস্যুতে এটি কাজ করবে। ইলমী গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি হিসেবে (আল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ লিল বুহুসিল ইলমিয়াহ ওয়াল ইফতা) এটি পরিচিত হবে।

নির্দিষ্ট বিষয়ে ফতোয়ার জন্য স্থায়ী কমিটির কাছে অনুরোধ করে চিঠি লেখা যায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থায়ী কমিটি শুধুমাত্র সৌদি আরবের নয় বরং অন্যান্য অনেক দেশের মুসলিমদের ইসলামী শরিয়াহর বিধিবিধানের বিভিন্ন প্রশ্নের মতামতসহ জবাব দিয়েছেন, একই সঙ্গে হাদিস (নবী মুহাম্মাদ সাঃ এর আদর্শ), ইবাদত ও আক্বীদা (বিশ্বাস) বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন।

স্থায়ী কমিটি তাঁদের ফতোয়াতে সর্বদাই সর্বোচ্চ বিশুদ্ধতা অর্জনের চেষ্টা করেন। সমস্ত ফতোয়া ইসলামী জ্ঞানের তিনটি উত্স থেকে উদ্ভূত হয় - কুরআনুল কারীম, সহীহ সুন্নাহ এবং সঠিকপথে পরিচালিত রাসূলুল্লাহর (সা:) সাহাবীগণের (রাঃ) ইলম। ফতোয়া লেখকগণ সাধারণত একটি সমস্যা সম্পর্কে সকল সম্ভাব্য ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই করেন এবং তারপর তাদের ইলম অনুযায়ী যেই মতামতটি দলিল অনুযায়ী সর্বাধিক বিশুদ্ধ তা বর্ণনা করেন। কমিটির দ্বারা জারিকৃত ফতোয়া ৩২টি ভলিউমে সাজিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।[১]

কর্তৃপক্ষ[সম্পাদনা]

ফেব্রুয়ারী ২০০৯ সালে এক সরকারি আদেশে, বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বোচ্চ উলামা পরিষদকে বাড়িয়ে ২১ সদস্য বিশিষ্ট করেন এবং শুধু হানবালি মাযহাবের নয়, বরং সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চারটি সুন্নি ফিকহী মাযহাব থেকেই উলামাদের সদস্যপদ প্রদানের ব্যবস্থা করেন। অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করেন যে, সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের সকল সদস্যই একই আক্বীদা (বিশ্বাস) পোষণ করেন। ২০১০ সালে সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ ঘোষণা করেন যে, সৌদি আরবে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত উলামাগণই ফতোয়া জারি করার অনুমতি পাবেন, উদাহরণস্বরূপ ২১ সদস্যের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ যেটি দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং (চার বা পাঁচজন) স্থায়ী কমিটির সদস্য, যাদেরকে সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ থেকেই আনা হয়।[২] সালেহ বিন মোহাম্মদ আল-লুহায়দানের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির সাথে সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ কর্তৃক গঠিত একটি নতুন কমিটি ফতোয়া প্রদানের কাজটি তত্ত্বাবধান করেন এবং অননুমোদিত আলেমদের ফতোয়া প্রদান থেকে বিরত রাখেন। সকল ইমাম ও দাঈগণকে ইসলামীক বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ফতোয়া মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়, তাদের শুক্রবারের খুৎবায় ফতোয়া ব্যাখ্যা করতে বলা হয় এবং অমান্যকারীকে সাবধান করা হয়। ২০১০ সালে সৌদি আলেম মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ পরিচালিত ইসলামী ফতোয়ার ওয়েবসাইট ইসলামকিউএ.ইনফো-কে সৌদি আরবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কারণ এটি স্বাধীনভাবে ফতোয়া জারি করছিল। ২০১৭ সালে আবশ্য এই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়।

সদস্য[সম্পাদনা]

বর্তমান

২০১৪ সালের শুরুতে কমিটির সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন:[৩]

প্রাক্তন

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Islamopedia: "Standing Committee for Scholarly Research and Issuing Fatwas, (Saudi Arabia)" archive.org থেকে ১৩ মার্চ ২০১৪ সালে সংগৃহীত।
  2. Carnegie Endowment: "Saudi Fatwa Restrictions and the State-Clerical Relationship"। Christopher Boucek। ২৭ অক্টোবর ২০১০
  3. "The Permanent Committee for Islaamic Research and Fataawa" (ইংরেজি ভাষায়)। Kingdon of। সংগৃহীত ১৩ মার্চ ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]