ইরানি বর্ষপঞ্জী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ইরানি বর্ষপঞ্জী অথবা পারস্য বর্ষপঞ্জী (ফার্সি: گاهشماری ایرانی) হল বৃহত্তর ইরানে প্রায় দুই সহস্রাব্দব্যাপী প্রচলিত বর্ষপঞ্জী। ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে জলবায়ু, ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে এই বর্ষপঞ্জী সংস্কার করা হয়েছে।

অধুনা ইরানি বর্ষপঞ্জী বা সৌর হিজরি হল ইরানআফগানিস্তানের জাতীয় বর্ষপঞ্জী। এই বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছর শুরু হয় ইরানি সময়ে গণিত মহাবিষুবের দিনে। বর্ষশুরুর এই দিনটি নির্ণীত হয় গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জীর তুলনায় অধিকতর নিখুঁত উপায়ে। কারণ মহাবিষুবের প্রকৃত সময় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এই বর্ষপঞ্জী গাণিতিক নিয়মের পরিবর্তে[১] জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনার উপর নির্ভরশীল।

ইংরেজিতে এই বর্ষপঞ্জীর অব্দ চিহ্নিতকরণে AP অর্থাৎ লাতিন শব্দ Anno Persico-র সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়। ইরানি বর্ষপঞ্জীতে সাধারণতঃ ২১ মার্চ অথবা তার দুই একদিন আগে বা পরে বর্ষ শুরু হয়। এই অব্দের সাথে ৬২১ অথবা ৬২২ যোগ করে খ্রিস্টাব্দ নির্ণয় করা যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীন বর্ষপঞ্জীসমূহ[সম্পাদনা]

খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে পারস্য ধর্মপ্রচারক জরথুস্ত্রের সময় থেকে পারস্য বর্ষপঞ্জীর ইতিহাস সূচিত হলেও প্রথম সংরক্ষিত বর্ষপঞ্জর নিদর্শন পাওয়া যায় হাখমানেশী সাম্রাজ্যের আমলে। সমগ্র ইতিহাস জুড়েই লক্ষিত হয় যে পারস্যরা একটি বর্ষপঞ্জী নির্মাণের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিল। পারস্য সংস্কৃতিই বিশ্বে প্রথম যেখানে বর্ষপঞ্জী নির্মাণের ক্ষেত্রে চান্দ্র-সৌর অথবা চান্দ্র পদ্ধতির পরিবর্তে সম্পূর্ণ সৌর পদ্ধতি গৃহীত হয়। সূর্য হল পারস্য সভ্যতার প্রতীক এবং পারস্য সম্রাট কুরুকে কেন্দ্র করে প্রচলিত লোকগাথার সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত।[২]

প্রাচীন পারস্য বর্ষপঞ্জী[সম্পাদনা]

প্রাচীন পারস্য শিলালিপি থেকে জানা যায় যে প্রাচীন ইরানিরা ব্যাবিলনিয় পদ্ধতির চান্দ্র বর্ষপঞ্জী সংস্কার করে ৩৬০ দিন সম্বলিত একটি বর্ষপঞ্জী ব্যবহার করত। এই বর্ষপঞ্জীতে কোন বারের নামকরণ করা হয়নি। চন্দ্রকলার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন মাস দুই অথবা তিন ভাগে বিভক্ত থাকত। বিবিধ উৎসবের নামে তিরিশ দিনের বারটি মাসের নামকরণ করা হয়েছিল। এই বর্ষপঞ্জীতে প্রতি ছয় বছর অন্তর বছরে একটি অতিরিক্ত মাস যোগ করে এটিকে ঋতুভিত্তিক রাখার ব্যবস্থা প্রচলন ছিল। নিম্নে প্রদত্ত ছকে প্রাচীন পারস্য মাসের তালিকা দেওয়া হল।[৩]

ক্রম জুলিয়ান মাস প্রাচীন পারস্য নাম অর্থ ব্যাবিলনিয় মাস
মার্চ–এপ্রিল আদুকানাইসা অনিশ্চিত নিসান্নু
এপ্রিল–মে থুরাভাহারা সম্ভবত "বসন্তের মাস" আইয়ারু
মে–জুন থাইগ্রাসিস "রসুন সংগ্রহের মাস" সিমান্নু
জুন–জুলাই গার্মাপাদা "গ্রীষ্মের মাস" দু'উজু
জুলাই–অগস্ট - - আবু
অগস্ট–সেপ্টেম্বর - - উলুলু
সেপ্টেম্বর–অক্টোবর বাগায়াদিস "ভাগা দেবতার আরাধনার মাস" তাসরিতু
অক্টোবর–নভেম্বর *ভ্রকাজানা "নেকড়ে হত্যার মাস" আরাহ্‌সামনা
নভেম্বর–ডিসেম্বর আসিয়াদিয়া "অগ্নি উপাসনার মাস" কিসিলিমু
১০ ডিসেম্বর–জানুয়ারি আনামাকা "নামহীন এক দেবতার উপাসনার মাস" তেবেতু
১১ জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি *থোয়া "ভয়াবহ মাস" সাবাতু
১২ ফেব্রুয়ারি–মার্চ ভিয়াক্স(আ)না "খনন করার মাস" আদ্দারু

মধ্যযুগীয় জালালি বর্ষপঞ্জী[সম্পাদনা]

ইয়াজ্‌দগেরদি বর্ষপঞ্জী সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হওয়ার আগেই খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে মুসলমান আরবরা আক্রমণ করে স্যাসানিদ সাম্রাজ্যের পতন ঘটায় এবং চান্দ্র ইসলামি বর্ষপঞ্জী প্রতিষ্ঠা করে।

এরপর ১০৭৯ খ্রিস্টাব্দের ১৫ মার্চ সেলজুগ সুলতান প্রথম জালাল আল-দিন মালিক শাহ্‌ এসফাহনে অবস্থিত মানমন্দিরে ওমর খৈয়াম সহ বিশিষ্ট জ্যোতির্বিদ্‌দের নিয়ে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশ অনুসারে সুলতানেরই নামে নামাঙ্কিত সৌর জালালি বর্ষপঞ্জী (ফার্সি: گاهشماری جلالی یا تقویم جلالی) গ্রহণ করেন।[৪] এই বর্ষপঞ্জীতে মাস গণনা করা হত একেকটি ক্রান্তীয় রাশিতে সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে। এই মাসগণনা পদ্ধতির ধারণাটি হিন্দু সৌর বর্ষপঞ্জী থেকে গ্রহণ করা হয়। এটি খ্রিস্টীয় অষ্টম শতক পর্যন্ত প্রচলিত ছিল। ৩৫৪ দিন বিশিষ্ট ইসলামি বর্ষপঞ্জী সম্পূর্ণ চান্দ্র হওয়ার ফলে তা কোন ঋতুকে চিহ্নিত করতে অক্ষম। সেই কারণে এই বর্ষপঞ্জী আরবের অনুর্বর মরু অঞ্চলে ব্যবহারযোগ্য হলেও পারস্যের মত উর্বর ও কৃষিভিত্তিক অঞ্চলে তা একেবারেই অব্যবহার্য হয়ে পড়ে। তাই পারস্যের মুসলমান শাসকেরাও ইসলামি বর্ষপঞ্জীর পরিবর্তে ইরানি সৌর পঞ্জিকা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ১০৭৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান প্রথম জালাল আল-দিন মালিক শাহ্‌ একটি ব্যবহারোপযোগী সৌর পঞ্জিকা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেন। ১০৯২ খ্রিস্টাব্দে সুলতানের মৃত্যুর বহু আগেই সেই বর্ষপঞ্জী নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়।[৪]

এই বর্ষপঞ্জী অনুসারে মহাবিষুবের দিন থেকে বর্ষগণনা শুরু হত এবং একেকটি ক্রান্তীয় রাশিতে সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে একেকটি মাস নির্ণয় করা হত। এই পদ্ধতিটি জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক ভারতীয় গ্রন্থ সূর্য সিদ্ধান্তে উল্লিখিত বর্ষগণনা সূত্রকে সামান্য সংশোধন করে গ্র‌হণ করা হয়েছিল। কিন্তু এইভাবে প্রতিটি মাস গণনা সম্পূর্ণ জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়ার ফলে ফলে প্রত্যেক মাসের দৈর্ঘ্য বিভিন্ন বছরে বিভিন্ন রকম হত। একেকটি মাসের দৈর্ঘ্য ২৯ দিন থেকে ৩২ দিনের মধ্যে হত। উদাহরণ, জালালি বর্ষপঞ্জীর ১৩০২ এবং ১৩০৩ অব্দে প্রতিটি মাসের দৈর্ঘ্য ছিল নিম্নরূপ:

  • ১৩০২ পারস্য অব্দ: ৩০, ৩১, ৩২, ৩১, ৩১, ৩১, ৩১, ২৯, ৩০, ২৯, ৩০ এবং ৩০ দিন,
  • ১৩০৩ পারস্য অব্দ: ৩০, ৩১, ৩২, ৩১, ৩২, ৩০, ৩১, ৩০, ২৯, ৩০, ২৯ এবং ৩০ দিন।

প্রতিটি মাসকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভিত্তিতে নির্ণয় করার ফলে এই বর্ষপঞ্জী এক দিনের জন্যেও নির্দিষ্ট ঋতু থেকে সরে যেত না। ফলে জালালি বর্ষপঞ্জীতে কোন অধিবর্ষের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু এই বর্ষপঞ্জী গণনা ছিল একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক সমস্ত তথ্য ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দ্বারা সূর্যের আপাত আবর্তন নির্ণয় করা হত।

১০৭৯ খ্রিস্টাব্দে গঠিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কমিটি একটি সৌর বর্ষের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করে ৩৬৫.২৪২১৯৮৫৮১৫৬ দিন।[৪] (অর্থাৎ ২৮২০ বছরে ১,০২৯,৯৮৩ দিন)[৫] প্রকৃতপক্ষে একটি সৌর বর্ষের দৈর্ঘ্য হল ৩৬৫.২৪২২৪৬৪ দিন।[৬]

কিন্তু বিভিন্ন বছরে মাসের দৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হওয়ার কারণে এবং বর্ষপঞ্জী গণনাপ্রক্রিয়ায় বিবিধ জটিলতার কারণে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩০৪ পারস্য অব্দে) ইরানি বর্ষপঞ্জীর সরলীকরণ করা হয়।

আধুনিক বর্ষপঞ্জী (সৌর হিজরি)[সম্পাদনা]

ইরান[সম্পাদনা]

১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ইরানি সংসদ সৌর জালালি বর্ষপঞ্জীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। এই বর্ষপঞ্জীর মাসের নামকরণ করা হয়েছিল বারোটি রাশির নামানুসারে এবং ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটি প্রচলিত ছিল।[৭] ৩১ মার্চ ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে পহ্লবী সাম্রাজ্যের আমলে অধুনা ইরানি বর্ষপঞ্জী সরকারি ভাবে গ্রহণ করা হয়। সেই সংক্রান্ত আইনে বলা হয় যে বছরের প্রথম দিনটি "যেভাবে ছিল" সেভাবেই হবে "প্রকৃত সৌর বর্ষ" অনুসারে বসন্তের প্রথম দিন। ওই আইনে বছরের শেষ মাসটি ছাড়া বাকি ১১টি মাসের দিনসংখ্যা স্থির করে দেওয়া হয় যা, আগে ক্রান্তীয় রাশিতে সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হত। এই বর্ষপঞ্জীতে ১২টি মাসের প্রাচীন পারস্য নাম ফিরিয়ে আনা হয় এবং সেই নামগুলিই বর্তমানে বিদ্যমান। সংস্কারকৃত এই বর্ষপঞ্জীর অব্দ গণনা করা হয় ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মাদের হিযরতের সময় থেকে। এই বর্ষপঞ্জী গ্রহণের সময় সরকার সাধারণের মধ্যে প্রচলিত দ্বাদশ বর্ষীয় চক্র বিশিষ্ট চীনা-উইগুর বর্ষপঞ্জীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

নবগঠিত ইরানি বর্ষপঞ্জীতে ফারওয়ারদিন থেকে শাহ্‌রিওয়ার, এই প্রথম ছয় মাসের দিনসংখ্যা হল ৩১ এবং পরবর্তী পাঁচ মাস মেহ্‌র থেকে বাহ্‌মানের দিনসংখ্যা হল ৩০। শেষ মাস এসফান্দের দৈর্ঘ্য হল জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনার উপর ভিত্তি করে ২৯ অথবা ৩০ দিন। এটি জালালি বর্ষপঞ্জীর একটি সরলীকৃত রূপ। জালালি বর্ষপঞ্জীতে একেকটি ক্রান্তীয় রাশিতে সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে মাসের দৈর্ঘ্য নির্ণয় করা হত। জানুয়ারি মাসের শুরুতে (পারস্য মাস "দেই") বিভিন্ন রাশিতে সূর্যের গমনের বেগ থাকে সর্বাধিক এবং জুলাই মাসের শুরুতে (পারস্য মাস "তির") সূর্যের বেগ থাকে ন্যূনতম। বর্তমানে মহাবিষুব থেকে জলবিষুব পর্যন্ত সময় হল ১৮৬ দিন ১০ ঘণ্টা এবং জলবিষুব থেকে মহাবিষুব পর্যন্ত সময় হল ১৭৮ দিন ২০ ঘণ্টা।

সৌর হিজরি বর্ষপঞ্জীতে (ফার্সি: گاهشماری هجری خورشیدی یا هجری شمسی) সাতটি চার বছর অন্তর অধিবর্ষের পর একটি পাঁচ বছর অন্তর অধিবর্ষ হয়। এর কারণ ইরানি বর্ষপঞ্জীতে গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জীর মত গাণিতিক নিয়মে অধিবর্ষ গণনা করা হয় না বরং বর্ষশুরুর জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকৃত মহাবিষুবকে গণ্য করা হয়।

১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে শাহ্‌ মুহাম্মাদ রেজা পহ্লবী পারস্য অব্দের সূচনাকাল হিসেবে মুহাম্মাদের হিযরতের পরিবর্তে পারস্য সম্রাট কুরুর জন্মসালকে নির্দিষ্ট করেন। রাতারাতি সেই অব্দকে ১৩৫৫ থেকে ২৫৩৫ অব্দে পরিবর্তিত করা হয়। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার আগে পর্যন্ত এই অব্দগণনা প্রচলিত ছিল। কিন্তু ইসলামি বিপ্লবের পর পুনরায় সৌর হিজরি অব্দকেই ফিরিয়ে আনা হয়।[৮]

আফগানিস্তান[সম্পাদনা]

১৯২২ খ্রিস্টাব্দে আফগানিস্তান সরকারি ভাবে জালালি বর্ষপঞ্জী গ্রহণ করে।[৭] কিন্তু বর্ষপঞ্জীতে মাসের নামগুলি পরিবর্তিত করা হয় এবং দারিপশতু ভাষায় বারোটি রাশির নামে নামকরণ করা হয়। বর্তমানে ইরানি বর্ষপঞ্জীই হল আফগানিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক বর্ষপঞ্জী এবং সমস্ত জাতীয় ছুটির ঘোষণা ও প্রশাসনিক কাজকর্ম এই বর্ষপঞ্জী অনুসারেই নির্ধারিত হয়।

আধুনিক বর্ষপঞ্জীর বিশদ বিবরণ[সম্পাদনা]

আধুনিক ইরানি বর্ষপঞ্জী বা সৌর হিজরি বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছর শুরু হয় উত্তর গোলার্ধে বসন্ত ঋতুর সূচনালগ্নে, মহাবিষুব সংক্রান্তিতে দু'টি দিনের মধ্যাহ্নের মধ্যবর্তী মধ্যরাত্রিতে। এই মধ্যরাত্রির আগের মধ্যাহ্ন হল বিগত বছরের শেষ মধ্যাহ্ন এবং পরের মধ্যাহ্ন হল নতুন বছরের প্রথম দিনের মধ্যাহ্ন অর্থাৎ নওরোজ

মাসের নামসমূহ[সম্পাদনা]

ক্রম দিনসংখ্যা ফার্সি দারি পশতু
বাংলা লিপিতে প্রতিবর্ণীকৃত ফার্সি লিপি বাংলা লিপিতে প্রতিবর্ণীকৃত স্থানীয় লিপি বাংলা লিপিতে প্রতিবর্ণীকৃত স্থানীয় লিপি
৩১ ফারওয়ারদিন فروردین হামাল (মেষ) حمل রে (মেষ) وری
৩১ অর্দিবেহেশ্‌ত اردیبهشت সাওর (বৃষ) ثور ঘোয়ায়ায় (বৃষ) غویی
৩১ খোরদাদ خرداد জাওজা (মিথুন) جوزا ঘ্‌বারগোলে (মিথুন) غبرګولی
৩১ তির تیر সারাতান (কর্কট) سرطان ক্যাঙ্গাক্স (কর্কট) چنګاښ
৩১ মোরদাদ مرداد আসাদ (সিংহ) اسد জ্‌মারে (সিংহ) زمری
৩১ শাহ্‌রিওয়ার شهریور সনবোলা (কন্যা) سنبله ওয়াগে (কন্যা) وږی
৩০ মেহ্‌র مهر মিজান (তুলা) میزان তলা (তুলা) تله
৩০ আবান آبان আক্রব (বৃশ্চিক) عقرب লাড়াম (বৃশ্চিক) لړم
৩০ আজার آذر কোয়াওস (ধনু) قوس লিনদই (ধনু) لیندۍ
১০ ৩০ দেই دی জাদি (মকর) جدی মারঘুমে (মকর) مرغومی
১১ ৩০ বাহ্‌মান بهمن দালভি (কুম্ভ) دلو সালওয়াঘা (কুম্ভ) سلواغه
১২ ২৯/৩০ এসফান্দ اسفند হুট (মীন) حوت কব (মীন) كب

বর্ষপঞ্জীর প্রথম দিনটি হল ইরান, আফগানিস্তান সহ সংলগ্ন অঞ্চলসমূহের বৃহত্তম উৎসব নওরোজ (ফার্সি ভাষায় "নও" অর্থাৎ "নতুন" এবং "রোজ" অর্থাৎ "দিন", এই দু'টি শব্দের মিলনে গঠিত)। প্রায় ১৩ দিনব্যাপী এই উৎসব সাড়ম্বরে উদ্‌যাপিত হয়ে থাকে। এর শেষ দিনটিকে বলা হয় "সিজ-দাহ্‌ বেদার"।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. M. Heydari-Malayeri, A concise review of the Iranian calendar, Paris Observatory.
  2. (Panaino 1990)
  3. Encyclopaedia Iranica. Article "Calendars". By Antonio Panaino, Reza Abdollahy, Daniel Balland.
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ "Omar Khayyam"। The MacTutor History of Mathematics archive। 
  5. Early History of Astronomy - The Middle East
  6. Kazimierz M. Borkowski, "The tropical year and solar calendar", The Journal of the Royal Astronomical Society of Canada 85/3 (June 1991) 121–130.
  7. ৭.০ ৭.১ "Calendars" in Encyclopaedia Iranica
  8. Persian Pilgrimages by Afshin Molavi