ইন্ডিয়ান ক্যাম্প

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

"ইন্ডিয়ান ক্যাম্প" (ইংরেজি: Indian Camp) হল আর্নেস্ট হেমিংওয়ে রচিত ছোটগল্প। এটি ১৯২৪ সালে প্যারিস থেকে ফোর্ড ম্যাডক্স ফোর্ডের সাহিত্য পত্রিকা ট্রান্সআটলান্টিক রিভিউ-এ প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৯৯৫ সালে বনি অ্যান্ড লিভরাইট কর্তৃক হেমিংওয়ের প্রথম মার্কিন ছোটগল্প সংকলন ইন আওয়ার টাইম-এ প্রকাশিত হয়। হেমিংওয়ের অর্ধ-আত্মজীবনীমূলক চরিত্র নিক অ্যাডামস ইন্ডিয়ান ক্যাম্প ছোটগল্পেই প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।

গল্পে নিক অ্যাডামসের ডাক্তার পিতাকে এক স্থানীয় আমেরিকান বা "ইন্ডিয়ান" ক্যাম্পে একজন মহিলার সন্তান প্রসবের জন্য ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্যাম্পে তাকে জ্যাক-ছুরি দিয়ে জরুরী অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য করা হয়, তার সহকারী ছিল নিক। অস্ত্রোপচারের পর তারা সেই মহিলার স্বামীকে মৃত অবস্থায় পান, যে তার নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এই গল্পে হেমিংওয়ের অল্প কথায় বর্ণনাশৈলীর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। ইন্ডিয়ান ক্যাম্প হেমিংওয়ের শুরুর দিকের গল্প, যার মূল বিষয়বস্তু সন্তান জন্মদান ও মৃত্যুভীতি, যা তার পরবর্তী কাজগুলোতেও পাওয়া যায়। গল্পটি প্রকাশিত হওয়ার পর এর লেখনীর মান আলোচিত ও প্রশংসিত হয়। পণ্ডিতবৃন্দ "ইন্ডিয়ান ক্যাম্প"-কে হেমিংওয়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্ম বলে গণ্য করেন।

কাহিনি সংক্ষেপ[সম্পাদনা]

গল্পের শুরুতে কিশোর নিক অ্যাডামস, তার পিতা, ও তার চাচা ভোরের পূর্বে এক ভারতীয় ব্যক্তির সাথে নৌকায় করে নিকটবর্তী ইন্ডিয়ান ক্যাম্পে যায়। নিকের ডাক্তার পিতাকে সেই ক্যাম্পে প্রসব যন্ত্রণায় কাতর একজন মহিলার সন্তান প্রসবের জন্য ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্যাম্পে তারা একটি ছোট ঘরে মহিলাটিকে মাটিতে পাটাতনের বিছানায় শোয়া অবস্থায় পান, এবং তার স্বামী তার উপরে বিছানায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত পা নিয়ে শুয়েছিল। মহিলার পেটের সন্তান উল্টা অবস্থায় থাকায় নিকের পিতা জ্যাক-ছুরি দিয়ে জরুরী অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য হন। নিক পানি রাখার পাত্র ধরে রেখে তাকে সাহায্য করেন। অস্ত্রোপচারের সময় মহিলাটি চিৎকার করতে থাকেন এবং নিকের চাচা তাকে থামাতে গেলে সে তার হাতে কামড় দেয়। অস্ত্রোপচারের পর তারা সেই মহিলার স্বামীকে উপরে পাটাতনের বিছানায় মৃত অবস্থায় পান, যে তার নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিককে ঘরটি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং নিকের চাচা দুজন ভারতীয়ের সাথে বেরিয়ে যান। নিক ও তার পিতা নৌকায় করে ক্যাম্প থেকে ফিরে যান। ফিরার পথে নিক তার পিতাকে জন্ম ও মৃত্যু সম্পর্কে প্রশ্ন করে, এবং ভাবতে থাকে সে কখনো মারা যাবে না।

পটভূমি ও প্রকাশনার ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯২০-এর দশকের শুরুর দিকে হেমিংওয়ে ও তার স্ত্রী হ্যাডলি প্যারিসে বসবাস করতেন, সেখানে হেমিংওয়ে টরন্টো স্টার-এর বিদেশি প্রতিবেদক ছিলেন। যখন হ্যাডলি অন্তঃসত্ত্বা হন, তিনি টরন্টোতে ফিরে আসেন।[১] হেমিংওয়ের জীবনীকার কেনেথ লিন বলেন হ্যাডলির সন্তান জন্মদান এই গল্পের অনুপ্রেরণা। হ্যাডলির প্রসব বেদনা শুরু হয় যখন হেমিংওয়ে নিউ ইয়র্ক থেকে রেলগাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। লিন মনে করেন হেমিংওয়ে ভয় পেয়েছিলেন যে হ্যাডলি হয়ত সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে বাঁচবেন না এবং তিনি "ভয়ার্ত অবস্থায় ছিলেন... তার [হ্যাডলির] কষ্ট ও অসহায় অবস্থায় কথা চিন্তা করে তিনি মনে করেন তিনি সম্ভবত তাকে সাহায্য করার মত অবস্থার অনেক পরে ফিরে এসেছেন।"[২] হেমিংওয়ে ১৯২৩ সালের ১০ অক্টোবর টরন্টোতে জন হেমিংওয়ের জন্মের কয়েক মাস পর "ইন্ডিয়ান ক্যাম্প" রচনা করেন।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বেকার (১৯৭২), পৃ. ১৫-১৮।
  2. লিন (১৯৮৭), পৃ. ২২৯।
  3. মেয়ার্স (১৯৮৫), পৃ. ২১৪।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]