আলজেরিয়ার ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আলজেরিয়ার ইতিহাস উত্তর আফ্রিকার উর্বর উপকূলীয় সমভূমি বা মাগরেবে সংগঠিত ঘটনাবলি। উত্তর আফ্রিকা ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যে লোকজনের গমনপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই অঞ্চলের বসবাসকারীগণ কার্থাজিনীয়, রোমান, ভান্ডালসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজনের দ্বারা প্রভাবিত। খ্রিষ্টীয় ৮ম শতাব্দীতে মুসলিমরা এই অঞ্চল জয় করে; কিন্তু ৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে বার্বার বিদ্রোহের পর এই অঞ্চল উমাইয়া খিলাফত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তী কালে বিভিন্ন বার্বার, আরব, পারস্য মুসলিম রাজ্য, সুন্নি, শিয়া ও ইবাদি সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত হয়, তন্মধ্যে রুস্তমি, ইফ্রানি, ফাতেমি, মাগ্রাওয়া, জিরি, হাম্মাদি, আলমোরাভি, আলমোহাদ, হাফসি ও জিয়্যানি রাজবংশ বর্তমান সময়ের আলজেরিয়া অঞ্চল শাসন করে। উসমানীয় যুগে আলজিয়ার্স বার্বারি ক্রীতদাস বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং এখানে একাধিক নৌ-দ্বন্দ্ব সংগঠিত হয়। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল আলজেরীয় যুদ্ধআলজেরীয় গৃহযুদ্ধ

প্রাক-ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৯২ সালে আইন হানেখে ১.৮ মিলিয়ন বছরের পুরনো ওল্ডোওয়ান পাথরের যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে আলজেরিয়ার মানুষের বসবাসের প্রমাণ পাওয়া যায়।[১] ১৯৫৪ সালে তের্নেফিনেতে সি. আরামবুর্গ ৭০০,০০০ বছরের পুরনো হোমো ইরেক্টাসের হাড়ের ফসিল আবিষ্কার করেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৬,০০০ থেকে ২,০০০ অব্দে সাহারা ও ভূমধ্যসাগরীয় মাগরিবে নব্য প্রস্তর যুগীয় সভ্যতা বিকাশ লাভ করে।

খ্রিষ্টপূর্ব ৪,০০০ অব্দ থেকে উত্তর আফ্রিকার স্থানীয় লোকজন ফিনিশীয়, রোমান, ভান্ডাল, বাইজেন্টীয়, তুর্কি, ফরাসি হানাদারদের প্রতিহত করে; কিন্তু ৭ম থেকে ৯ম শতাব্দীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং বর্তমানে দেশটির অধিকাংশ লোকজন আরবি ভাষায় কথা বলেন।

কার্থেজ[সম্পাদনা]

ফিনিশীয় বণিকেরা খ্রিষ্টপূর্ব ৯০০ অব্দে উত্তর আফ্রিকান উপকূলে পৌঁছায় এবং খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ অব্দের দিকে কার্থেজ শহর (বর্তমান তিউনিসিয়ায়) প্রতিষ্ঠা করে। ধ্রুপদী সভ্যতায় বার্বার সভ্যতা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে কৃষিকাজ, উৎপাদন, বাণিজ্য, ও রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে কয়েকটি রাজ্যের লোকজন তাদের ভরণপোষণ করত। কার্থেজ ও বার্বারদের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠতে শুরু করে; কিন্তু ভূখণ্ড সম্প্রসারণের ফলে কিছু বার্বার জনগণকে ক্রীতদাসে পরিণত করা হয় বা সামরিক বাহিনীতে প্রেরণ করা হয়।

রোমানদের কাছে পিউনিক যুদ্ধসমূহে পরাজিত হওয়ার পর কার্থেজীয় রাজ্যের পতন হয়, এবং খ্রিষ্টপূর্ব ১৪৬ অব্দে কার্থেজ শহরটি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। কার্থেজীয় ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকলে বার্বার নেতাদের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

খ্রিষ্টপূর্ব ২য় শতাব্দীতে কয়েকটি বৃহৎ কিন্তু দুর্বল প্রশাসনিক ক্ষমতাসম্পন্ন বার্বার রাজ্য বিকাশ লাভ করে। এরপর রাজা মাসিনিয়া তার শাসনের অধীনে নুমিদিয়া একত্রীত করেন।[২][৩][৪]

রোমান সাম্রাজ্য[সম্পাদনা]

খ্রিষ্টপূর্ব ১২ থেকে ৩ অব্দ পর্যন্ত মাদগাসেন নুমিদিয়ার স্বাধীন রাজ্যগুলোর রাজা ছিলেন।[৫]

২য় শতাব্দীতে খ্রিষ্টধর্মের আগমন ঘটে এবং ৪র্থ শতাব্দীর শেষভাগে জনবসতিপূর্ণ এলাকাসমূহ খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হয়ে যায়। অন্যদিকে কিছু বার্বার জনগোষ্ঠী এন মাস ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়।

পশ্চিমা রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর আলজেরিয়া ভান্ডাল রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। পরবর্তী কালে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য (যা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য নামেও পরিচিত) ভান্ডালদের হাত থেকে আলজেরিয়া জয় করে এবং আফ্রিকার প্রিটোরিয়ার বিভাগে রূপান্তর করে।

মধ্যযুগ[সম্পাদনা]

৮ম শতাব্দীতে মুসা বিন নুসাইরের নেতৃত্বে উত্তর আফ্রিকায় উমাইয়া বিজয়ের ফলে আরব উপনিবেশ শুরু হয়। ১১শ শতাব্দীতে আরব উপদ্বীপের অভিবাসীদের আক্রমণের ফলে প্রাচ্য উপজাতীয় রীতিনীতির আগমন ঘটে। ইসলাম ধর্ম ও আরবি ভাষার সূত্রপাত উত্তর আফ্রিকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। নতুন ধর্ম ও ভাষা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে পরিবর্তন নিয়ে আসে এবং আরব বিশ্বের সাথে সংযোগ স্থাপন করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Site of Ain Hanech Revisited: New Investigations at this Lower Pleistocene Site in Northern Algeria" (PDF)Gi,ulpgc.es। ২০১৩-০৫-১০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২০ 
  2. Karina Slimani-Direche। Histoire de l'émigration kabyle en France au XXe siécle: réalités। Google Livres। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২০ 
  3. Les cultures du Maghreb De Maria Angels Roque, Paul Balta, Mohammed Arkoun
  4. Dialogues d'histoire ancienne De Université de Besançon, Centre de recherches d'histoire ancienne
  5. Félix Gautier (২০০৬-১০-২৬)। Le passé de l'Afrique du Nord: les siècles obscurs -émile। Google Livres। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২০