শনি গ্রহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Saturn Astronomical symbol for Saturn
The planet Saturn
Saturn, as seen by Voyager ২
বিবরণ
বিশেষণ Saturnian
কক্ষপথের বৈশিষ্ট্য
ইপক জে২০০০
এপhelion ১,৫০৩,৯৮৩,৪৪৯ km
১০.০৫৩ ৫০৮ ৪০ AU
৯৩৪,৫৩৪,২৩১ miles
পেরিhelion ১,৩৪৯,৪৬৭,৩৭৫ km
৯.০২০ ৬৩২ ২৪ AU
৮৩৮,৫২২,১৬৩ miles
অর্ধ-মুখ্য অক্ষ ১,৪২৬,৭২৫,৪১৩ km
৯.৫৩৭ ০৭০ ৩২ AU
৮৮৬,৫২৮,১৯৬ miles
উৎকেন্দ্রিকতা ০.০৫৪ ১৫০ ৬০
যুতিকাল ৩৭৮.১০ day
গড় কক্ষীয় দ্রুতি ৯.৬৩৯ km/s
নতি ২.৪৮৪ ৪৬°
(৫.৫১° to Sun's equator)
উদ্বিন্দুর দ্রাঘিমা ১১৩.৭১৫৩২৮১১ ০৪°
উপগ্রহসমূহ ৬১[১]
ভৌত বৈশিষ্ট্যসমূহ
বিষুবীয় ব্যাসার্ধ্য ৬০,২৬৮ km [২]
(৪.৭২৫ Earths)
মেরু ব্যাসার্ধ্য ৫৪,৩৬৪ km
(৪.২৭৬ Earths)
পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল ৪.২৭×১০১০ km²
(৮৩.৭০৩ Earths)
আয়তন ৮.২৭×১০১৪ km³
(৭৬৩.৫৯ Earths)
ভর ৫.৬৮৪৬×১০২৬ kg
(৯৫.১৬২ Earths)
গড় ঘনত্ব ০.৬৮৭৩ g/cm³
(less than water)
বিষুবীয় পৃষ্ঠের অভিকর্ষ ৮.৯৬ m/s
(০.৯১৪ g)
মুক্তি বেগ ৩৫.৪৯ km/s
নাক্ষত্রিক ঘূর্ণনকাল ০.৪৪৯ ৩৭৫ day
(১০ h ৪৭ min ৬ s) [৩]
বিষুবীয় অঞ্চলে ঘূর্ণন বেগ ৯.৮৭ km/s = ৩৫,৫০০ km/h
(at the equator)
এক্সিয়াল টিল্ট ২৬.৭৩°
উত্তর মেরুর বিষুবাংশ ৪০.৫৯° (২ h ৪২ min ২১ s)
উত্তর মেরুর বিষুবলম্ব ৮৩.৫৪°
অ্যালবেডো ০.৪৭
বায়ুমণ্ডল
পৃষ্ঠের চাপ ১৪০ kPa
গঠন >৯৩% hydrogen
>৫% helium
০.২% methane
০.১% water vapor
০.০১% ammonia
০.০০০৫% ethane
০.০০০১% phosphine

শনি সৌরজগতের ৬ষ্ঠ গ্রহ। বৃহস্পতির পর এটি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। সূর্যের দিক থেকে এর অবস্থান ষষ্ঠ। হিন্দু পৌরাণিক দেবতা 'শনি'র নামানুসারে এই গ্রহের নামকরণ করা হয়েছে। এর ইংরেজি নাম Saturn। রোমান দেবতা Saturn (স্যাটার্ন) এর নামানুসারে ইংরেজি Saturn নামটি গ্রহণ করা হয়েছে। নিরক্ষীয় এলাকায় এর ব্যাস ১২০৮০ কিলোমিটার। সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ১৪৭,২০,০০,০০০ কিলোমিটার। মেরু অঞ্চলের ব্যাস ১০৯০০০। এর ঘনত্ব জলের ০.৬৮ গুণ। সূর্যপ্রদক্ষিণকাল ২৯.৪৬ পার্থিব বৎসর। এটি নিজ অক্ষের উপর একবার আবর্তিত হতে সময় নেয় ১০ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট ২৪ সেকেন্ড। এই গ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে পাথুরে উপকরণ। মধ্য ও উপরিভাগের অধিকাংশই হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দিয়ে তৈরি। এর সাথে রয়েছে জল, মিথেন এবং এ্যামোনিয়া। আর এই গ্রহকে ঘিরে রয়েছে বিস্তৃত বলয়। শনির উপরিভাগের ৭০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত মেঘরাশির উপর থেকে এই বলয়ের শুরু এবং তা প্রায় ৭৪০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বলয়রাশির ভিতর বিভিন্ন পরিমাপের ফাঁকা জায়গা আছে। এই ফাঁকা স্থানের বিচারে এর বলয়গুলিকে কয়েকটি নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ভাগগুলি হলো- ডি, সি, বি, এ, এফ , জি, ই। এর সবচেয়ে বড় ফাঁকা স্থানের নাম ক্যাসিনি বিভাজন (Cassini Division)। এর বিস্তৃতির পরিমাণ প্রায় ১২০,৬০০ কিলোমিটার। পক্ষান্তরে এ এবং বি বলয়ের মধ্যকার দূরত্ব প্রায় ৪৮০০ কিলোমিটার।

শনির বলয়[সম্পাদনা]

শনি গ্রহটি তার আকর্ষণীয় বলয়ের কারণেই সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের তুলনায় সৌন্দর্য্যের উৎকর্ষে রয়েছে, যা মহাজাগতিক ক্যানভাসে সৃষ্টি করেছে এক বিমূর্ত চিত্র। ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি সর্বপ্রথম টেলিস্কোপের মাধ্যমে শনি গ্রহকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং এর দৃষ্টিনন্দন বলয় দেখতে পান।[৪] নাসার বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বিশাল গ্রহ শনির চারপাশে ঘূর্ণায়মান বিশাল আকারের নতুন একটি বলয় (রিং)-এর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অবশ্য দীর্ঘদিন চেষ্টার পর বিজ্ঞানীরা এটি আবিষ্কারে সফল হন। মজার ব্যাপার হলো সদ্য আবিষ্কৃত বলয়টি এতটাই বিশাল যে, এর ভেতর একশ কোটি বা এক বিলিয়ন পৃথিবী ভরে রাখার মত জায়গা আছে। বলয়টির মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বরফ, ধুলাবালি ইত্যাদি ধরা পড়ে।[৫]

উপগ্রহ[সম্পাদনা]

মূলত শনি গ্রহের রয়েছে ১৫০ টিরো বেশী উপ গ্রহ , কিন্তু এর মধ্যে নাম দেয়া হয়েছে মাত্র ৫৩ টি উপগ্রহের , এবং আকার বিবেচনায় ১৮ টি উপ গ্রহ কে মূল উপগ্রহ ধরা হয় । টাইটান উপগ্রহটি সবচেয়ে বড়। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের সাথে তুলনা করলে এটি ব্যাসে প্রায় ১৪৮% বড়। নিম্নে উপগ্রহগুলোর বিবরণ দেয়া হলোঃ-

  1. প্যান (Pan)
  2. ড্যাফনিস (Daphnis)
  3. এ্যাটলাস (Atlas)
  4. প্রমিথিউস (Prometheus)
  5. প্যান্ডোরা বা প্যানডোরা (Pandora)
  6. এপিমেথিউস (Epimetheus)
  7. জ্যানাস (Janus)
  8. এগিয়ন (Aegaeon)
  9. মাইমাস (Mimas)
  10. মেথোনে (Methone)
  11. এন্থে (Anthe)
  12. প্যালেন (Pallene)
  13. এনসেলাডাস (Enceladus)
  14. টেথিস (Tethys)
  15. টেলেস্টো (Telesto)
  16. ক্যালিপ্সো (Calypso)
  17. ডাইয়োনে (Dione)
  18. হেলেন (Helene)
  19. পলিডিউসেস (Polydeuces)
  20. রিয়া (Rhea)
  21. টাইটান (Titan)
  22. হাইপেরিয়ন (Hyperion)
  23. আইয়াপেটাস (Iapetus)
  24. কিভিউক (Kiviuq)
  25. ইজিরাক (Ijiraq)
  26. ফোবে (Pheobe)
  27. পালিয়াক (Paaliaq)
  28. স্কাথি (Skathi)
  29. এ্যালবাইয়োরিক্স (Albiorix)
  30. এস/২০০৭ এস ২ (S/2007 S 2)
  31. বেভিওন (Bebhionn)
  32. এরিয়াপাস (Erriapus)
  33. স্কল (Skoll)
  34. সিয়ারনাক (Siarnaq)
  35. তার্কেক (Tarqeq)
  36. এস/২০০৪ এস ১৩ (S/2004 S 13)
  37. গ্রেয়িপ (Greip)
  38. হাইরোক্কিন (Hyrrokkin)
  39. জার্‌ন্‌সাক্সা (Jarnsaxa)
  40. তারভোস (Tarvos)
  41. মানডিলফারি (Mundilfari)
  42. এস/২০০৬ এস ১ (S/2006 S 1)
  43. এস/২০০৪ এস ১৭ (S/2004 S 17)
  44. বার্গেলমির (Bergelmir)
  45. নার্ভি (Narvi)
  46. এস/২০০৪ এস ১২ (S/2004 S 12)
  47. ফারবাউটি (Farbauti)
  48. থ্রাইম্‌র (Thrymr)
  49. এজির (Aegir)
  50. এস/২০০৭ এস ৩ (S/2007 S 3)
  51. বেস্টলা (Bestla)
  52. এস/২০০৪ এস ৭ (S/2004 S 7)
  53. এস/২০০৬ এস ৩ (S/2006 S 3)
  54. ফেনরির (Fenrir)
  55. সুরতুর (Surtur)
  56. কারি (Kari)
  57. ইমির (Ymir)
  58. লোগে (Loge)
  59. ফোর্নজোট (Fornjot)

টাইটানে জীবনের অস্তিত্ব?[সম্পাদনা]

হইগেনস মহাকাশযানের অভিযানের পর বিজ্ঞানীরা বলছেন শনি গ্রহের উপগ্রহ টাইটানে জীবনের অস্তিত্ব থাকতে পারে। পৃথিবীর তুলনায় শনি গ্রহ সূর্যের চাইতে অনেক বেশী দূরে বলে এমনিতেই সূর্যরশ্মির তেজ সেখানে পৃথিবীর চাইতে অনেক কম। তারপর টাইটানের চতুর্দিকের ধোঁয়াশার জন্য শনির এই উপগ্রহটির উপরিভাগে সূর্যের আলো খুব একটা পৌছায় না। সুতরাং সেই অবস্থায় টাইটানে জীবনের কোনো অস্তিত্ব থাকার কোনো সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। কিন্তু মহাকাশে জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে যে বিজ্ঞানীরা গবেষনা করেন, সেই অ্যাস্ট্রোবায়োলজ্স্টিরা টাইটানে জীবনের সম্ভাব্য অন্য একটি চালিকা শক্তি খুঁজে পেয়েছেন। আর এই উপাদানটির নাম হচ্ছে অ্যাসেটিলিন। টাইটানে জীবনের অস্তিত্ব থাকলে সেই জীব আসেটিলিনের সাথে হাইড্রোজ্বেনের বিক্রিয়া ঘটাবে, যা তারা আবহাওয়ামন্ডল থেকে শুষে নেবে। টাইটানের চতুর্দিকে ধোয়াশার যে আবরণ রয়েছে, সেটা ছাড়িয়ে আবহাওয়া মন্ডলে বেশ ওপরের দিকে সুর্যরশ্মির প্রভাবে আসিটিলিন তৈরি হয়। ওপর থেকে মুশলধারার বৃষ্টির মতন যে এই অ্যাসেটিলিন টাইটানের উপরিভাগের ওপর পড়ে তা নয়। তবে জীবন টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ আসেটিলিন সেখানে রয়েছে বলে মনে করেন ডেভিড গ্রিনস্পুন। সুতরাং, বিজ্ঞানীরা এখন খাতা-কলমে বলতে পারছেন যে টাইটানে জীবন টিকে থাকার পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে তার অর্থ এই নয় যে বাস্তবে সেখানে জীবনের অস্তিত্ব আছে এবং এখন পর্যন্ত সেধরনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এই আবিষ্কারের গুরুত্বপূর্ন দিক হচ্ছে এই যে ভবিষ্যতে টাইটানে যে অভিযান হবে, সেই অভিযানে ঠিক কোন কোন বিষয়ের ওপর বেশি নজর দিতে হবে, সে ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের এখন খুব ভাল ধারনা হয়েছে।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.ifa.hawaii.edu/~sheppard/satellites/satsatdata.html
  2. http://www.onasch.de/astro/showobject.php?lang=en&head=f&anim=১২৯&obj=p০৬
  3. http://saturn.jpl.nasa.gov/news/press-release-details.cfm?newsID=৬৫৬
  4. http://cosmicculture.org/cosmic/Report/view.php?page=30%20july-2010.htm
  5. http://www.theanuranan.com/news_detail.php?news_id=3987
  6. http://www.bbc.co.uk/bengali/news/story/2005/09/printable/050912_mksciencewk37.shtml