গ্রহ
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন ২০০৬ সালে গ্রহের সংজ্ঞা পুনঃনির্ধারণ করেছে। মূলত প্লুটো নিয়ে বাকবিতণ্ডার সূচনা হওয়ার ফলেই এই সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিলো। নতুন এই সংজ্ঞা অনুসারে গ্রহ হচ্ছে সৌর জগতের অভ্যন্তরের একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু;[১]
- যা সূর্যের চারদিকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান;
- যার নিজস্ব অভিকর্ষের জন্য প্রয়োজনীয় যথেষ্ট পরিমাণ ভর রয়েছে যাতে তা দৃঢ় বস্তু শক্তিকে অতিক্রম করতে পারে এবং এর মাধ্যমে একটি তরলস্থৈতিক সাম্যাবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। এবং
- যা তার কক্ষপথের চারপাশের প্রতিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারে, অর্থাৎ এর কক্ষপথের ভিতরে কোন কিছুকে থাকতে দেয়না।
অথবা সৌর জগতের বাইরে অন্য কোন তারার ব্যবস্থায় অবস্থিত একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু;[২]
- যা একটি তারা বা তারার অবশেষকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান;
- যার ভর ডিউটেরিয়াসের তাপ-নিউক্লীয় সংযোজন বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সীমাস্থিত ভরের চেয়ে কম; এবং
- যার ভর বা আকার সৌর জগতের ভিতরে গ্রহ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভর বাআকারের সমান বা বেশী।
এই সংজ্ঞা বিবেচনা করলে আমাদের সৌর জগতে মোট আটটি গ্রহ রয়েছে। ২০০৬ সালে আইএইউ সৌর জগতে তিনটি বামন গ্রহ চিহ্নিত করেছে: সেরেস, প্লুটো এবং এরিস। এ পর্যন্ত মোট ২০০ 'র-ও বেশী গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে যার অধিকাংশই সৌর জগতের বাইরে অবস্থিত।[৩] ঐতিহানিকভাবে গ্রহের কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ছিলনা। এ কারণে আমাদের সৌর জগতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংখ্যাক গ্রহ ধরা হয়েছে। এই সমস্যা নিরসনের জন্য আইএইউ ২০০৬ সালে সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে। তবে আইএইউ-এর এই পরিবর্তন অনেকটাই তাৎক্ষণিক এবং এরও পরিবর্তন হতে পারে। তাছাড়া সৌর জগতের বাইরে মুক্তভাবে ভাসমান প্ল্যানেমো এবং নবীন তারা স্তবক বিষয়ে আইএইউ-এর অবস্থান এখনও সুনিশ্চিত নয়।
পরিচ্ছেদসমূহ |
ব্যুৎপত্তি [সম্পাদনা]
প্রাচীনকালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে লক্ষ্য করতেন, কিভাবে নির্দিষ্ট কিছু আলো আকাশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যেতো যার সাথে অন্যান্য তারার আলোর পার্থক্য রয়েছে। অথাৎ এই আলোগুলো তারা ছিল না; তারা মনে করতো এগুলো পৃথিবীর চারিদিকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে অবস্থান করছে এবং স্থির অবস্থায় আছে। এই আলোগুলোকে প্রথম প্রথম প্রাচীনকালের গ্রিকরা πλανήτης (planētēs) নামে অভিহিত করতো। এই গ্রিক শব্দটির অর্থ হল বিক্ষিপ্তভাবে পরিভ্রমনকারী। সকলের ধারণা মতে এই শব্দটি থেকেই planet শব্দ উৎপত্তি লাভ করেছে। আর planet শব্দের বাংলা হিসেবে গ্রহ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
পশ্চিমা বিশ্বে নিকট-মহাবিশ্বের পরিমণ্ডলে তথা সৌর জগতে অবস্থিত এই গ্রহগুলোর নামকরণ করা হয়েছে গ্রিকো-রোমান দেবতাদের নামে। গ্রহের এই নামগুলো গ্রিকরাই রেখেছিল। অবশ্য দেবতাদের নামে গ্রহের নামকরণের সূচনা করেছিল প্রাচীন পশ্চিমের সুমেরীয় সভ্যতার মানুষেরা, প্রায় ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বর্তমানে ইরাকে এই সভ্যতার উৎপত্তি ঘটেছিল। পরবর্তীতে মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় এই নামগুলো গৃহীত হয়েছিল যদিও নামগুলোকে তারা উচ্চারণের সুবিধার্থে নিজেদের মত করে নিয়েছিল। উদাহরণস্বরুপ: ব্যাবিলনীয়দের নামকরণ পদ্ধতির উল্লেখ করা যায়। গ্রিকরা তাদের জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং রাশিচক্রের মূল নামকরণগুলো এই ব্যাবিলনীয়দের কাছ থেকেই ধার করেছিল। খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে গ্রিসে ব্যাবিলনিয়ার তত্ত্ব ও নামগুলোর ব্যবহার শুরু হয়।[৪] গ্রিকরা ব্যাবিলনীয় নামের তালিকায় অনেকগুলো নামের পরিবর্তে তাদের নিজেদের দেবতাদের নাম যোগ করে দিয়েছিল। অবশ্য নামের এই অনুবাদে অনেক সন্দেহ রয়ে যায়: যেমন, ব্যাবিলনিয়ার মতে একটি জ্যোতিষ্কের নাম ছিল তাদের যুদ্ধ দেবতা নেরগুল-এর নাম অনুসারে, গ্রিকরা এই জ্যোতিষ্কের নাম রাখে তাদের যুদ্ধ দেবতা এরেসের নামে। কিন্তু এরিস এবং নেরগুলের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে; এরিস শুধু যুদ্ধ দেবতা ছিল, কিনবতু নেরগুল একইসাথে মৃত্যু এবং মহামারীর দেবতা ছিল।[৫]
পরবর্তীতে রোমান সম্রাজ্যের কর্তৃত্ব এবং তারও পরে রোমান ক্যাথলিক চার্চের একাধিপত্যের কারণে কয়েক শতাব্দী জুড়ে গ্রিক নামগুলোর পরিবর্তে রোমান তথা ল্যাটিন নামগুলোই ব্যবহৃত হয়েছে।
সৌর জগতের অভ্যন্তরে [সম্পাদনা]
গ্রহসমূহের উপাত্ত ও ধর্ম [সম্পাদনা]
| গ্রহের বৈশিষ্ট্যসমূহ | |||||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| নাম | বিষুবীয়* ব্যাস |
ভর* | কক্ষীয় ব্যাসার্ধ্য (এইউ) |
কক্ষীয় পর্যায় (বছর) |
সৌর বিষুবের সাথে নতি (°) |
কক্ষীয় উৎকেন্দ্রিকতা |
ঘূর্ণন কাল (দিন) |
প্রাকৃতিক উপগ্রহ | বলয় | পরিবেশ | |
| পার্থিব গ্রহ | বুধ | ০.৩৯ | ০.০৬ | ০.৩৯ | ০.২৪ | ৩.৩৮ | ০.২০৬ | ৫৮.৬৪ | নেই | নেই | নিম্নতম |
| শুক্র | ০.৯৫ | ০.৮২ | ০.৭২ | ০.৬২ | ৩.৮৬ | ০.০০৭ | -২৪৩.০২ | নেই | নেই | CO2, N2 | |
| পৃথিবী** | ১.০০ | ১.০০ | ১.০০ | ১.০০ | ৭.২৫ | ০.০১৭ | ১.০০ | ১ | নেই | N2, O2 | |
| মঙ্গল | ০.৫৩ | ০.১১ | ১.৫২ | ১.৮৮ | ৫.৬৫ | ০.০৯৩ | ১.০৩ | ২ | নেই | CO2, N2 | |
| গ্যাসীয় দানব | বৃহস্পতি | ১১.২১ | ৩১৭.৮ | ৫.২০ | ১১.৮৬ | ৬.০৯ | ০.০৪৮ | ০.৪১ | ৬৩ | হ্যাঁ | H2, He |
| শনি | ৯.৪১ | ৯৫.২ | ৯.৫৪ | ২৯.৪৬ | ৫.৫১ | ০.০৫৪ | ০.৪৩ | ৫৬ | হ্যাঁ | H2, He | |
| ইউরেনাস | ৩.৯৮ | ১৪.৬ | ১৯.২২ | ৮৪.০১ | ৬.৪৮ | ০.০৪৭ | -০.৭২ | ২৭ | হ্যাঁ | H2, He | |
| নেপচুন | ৩.৮১ | ১৭.২ | ৩০.০৬ | ১৬৪.৮ | ৬.৪৩ | ০.০০৯ | ০.৬৭ | ১৩ | হ্যাঁ | H2, He | |
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
- ↑ IAU 2006 General Assembly: Result of the IAU Resolution votes
- ↑ "Working Group on Extrasolar Planets (WGESP) of the International Astronomical Union"। IAU। 2001। সংগৃহীত 2006-05-25।
- ↑ Schneider, Jean (2006-10-30)। "Interactive Extra-solar Planets Catalog"। The Extrasolar Planets Encyclopaedia। সংগৃহীত 2006-10-31।
- ↑ Thompson, Gary D., A Chronological History of Babylonian Astronomy
- ↑ The Days of the Week
বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]
- International Astronomical Union
- Solar System Live (an interactive orrery)
- Solar System Viewer (animation)
- Pictures of the Solar System
- Renderings of the planets
- NASA Planet Quest
- Illustration comparing the sizes of the planets with each other, the sun, and other stars
সংজ্ঞা ও পুনঃশ্রণীকরণ বিতর্ক [সম্পাদনা]
- Working definition of "planet" from IAU WGESP — the lower bound remained a matter of consensus in February 2003
- Steven Soter's article "What is a Planet" in Scientific American, January 2007, pp 34-41.
- Dan Green's page on planet classification
- Stern & Levinson's article "Regarding the criteria for planethood and proposed planetary classification schemes."
- Gravity Rules: The Nature and Meaning of Planethood; S. Alan Stern; March 22, 2004
- IAU Press Release 01/99 "The status of Pluto: A Clarification"; IAU, 1999-02-03
- BBC: "Planets plan boost tally 12" 2006-08-16
- BBC: "Pluto loses status as a planet" 2006-08-24
- BBC: "Pluto vote 'hijacked' in revolt" 2006-08-25
|
||||||||||||||||||||