মোড়লগঞ্জ উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(মোরেলগঞ্জ উপজেলা থেকে পুনর্নির্দেশিত)

স্থানাঙ্ক: ২২°২৭′০০″ উত্তর ৮৯°৫১′৩০″ পূর্ব / ২২.৪৫০০° উত্তর ৮৯.৮৫৮৩° পূর্ব / 22.4500; 89.8583

মোড়লগঞ্জ উপজেলা
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
মোড়লগঞ্জ
বিভাগ
 - জেলা
খুলনা বিভাগ
 - বাগেরহাট জেলা
স্থানাঙ্ক ২২°২৭′০০″ উত্তর ৮৯°৫১′৩০″ পূর্ব / ২২.৪৫০০° উত্তর ৮৯.৮৫৮৩° পূর্ব / 22.4500; 89.8583
আয়তন ৪৩৮ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (২০১১)
 - ঘনত্ব
 - শিক্ষার হার
২,৯৪,৫৭৬জন[১]
 - ৬৭২ বর্গকিমি
 - ৬২.৩৫%
ওয়েবসাইট: উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট

মোড়লগঞ্জ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

এর অবস্হান 22.4500°N 89.8583°E এ. মোট উপজেলার আয়তন ৪৬০.৯১ km²। মোট জনসংখ্যা ৩২১১৫৩ জন। পুরুষ ৫০.৪৮%; মহিলা ৪৯.৫২ জন। মুসলিম ৮৬.৫৯; হিন্দু ১৩.২৮% অন্যান্য ০.১৩%। মসজিদ ৬১৬ টি এবং মন্দির ৬৫ টি রয়েছে।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

খুলনা বিভাগের সর্ববৃহৎ উপজেলা মোরেলগঞ্জ। ইংরেজ মোরেল পরিবারের নামে নামকরণ হয় এ উপজেলার। জানা যায়, ইংরেজ শাসনের সুত্রপাতের পর ১৭৮১ সালে ইংরেজ সরকার কর্তিক এখানে প্রথম শাসন কেন্দ্রর স্থাপিত হয় এবং এর ম্যাজিষ্টেট ও কালেক্টর হন বিদেশি সিভিলিয়ন মি: টিলম্যান হেঙ্কেল। এরপর যশোর জেলার প্রতিষ্ঠা ঘটে। বাগেরহাট তখন মহকুমাও হয়নি। বৃহত্তর খুলনা জেলা তখন ছিল যশোর জেলার অন্তর্গত। আর এর বড় অংশ জুড়ে ছিল সুন্দরবন। সে সময় হেঙ্কেল সাহেব প্রথম সুন্দরবন আবাদের প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু জমিদারদের সাথে বিবাদের জেরে তা আর বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেনা। ১৮২৮ সালে সুন্দরবনের সীমানা নির্ধারনের জন্য Regulation III of 1828 আইন পাস হয়। এ আইনের আওতায় ১৮৩০ সালে সুন্দরবন জরিপ করা হয়। সে সময় মি: ডামপায়ার সুন্দরবন এলাকা জরিপ করে একে কয়েকট লটে (Lot) বিভক্ত করেন এবং পরে তা বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। ১৮৪৯ সালে মোরেল পরিবারের মিসেস মোরেল পানগুচি ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় সুন্দরবন বন্দোবস্ত (ইজারা) নিয়ে বন আবাদ করে বসতি গড়ে নীল চাষ শুরু করেন। তারপর সেখানে তারা বহু শ্রমিক নিয়োগ করে আবাদকৃত জমির পরিমান বাড়াতে থাকে। মোড়েল ভাতাদের মধ্যে সবচেয়ে বৈষয়িক ও কর্মী ছিলেন রবার্ট মোরেল। তার উপর দায়িত্ব ছিল সমস্ত জমিদারদের দেখাশুনা ও পরিচালনা কারা। তিনি সুন্দরবন আবাদের জন্য বরিশাল থেকে প্রচুর শ্রমিক আনেন। জানা যায়, এসব আবাদির শ্রমিকের অনেকেই সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যায়। এছাড়া পারবর্তিতে দূরদুরন্ত থেকেও প্রজারা এখানে আসতে থাকে। এতে মোড়েল সাহেবদের আয় ক্রমস বাড়তে থাকে। তারা বসবাস ও নিজেদের শাসন পরিচালনার জন্য তখন বিরাট পাকা ভবন নির্মান করেন। এই ভবনটির অস্তিত্ব এখনও আছে যাকে স্থানীয় ভাবে কুঠীবাড়ি বলা হয়। তারা সেথানে বিরাট নারকেল সুপারির বাগনে করেন এবং বাজার বসান। ক্রমে মোরেলদের নামানুসারে এ বাজারে নাম হয়ে যায় মোরেলগঞ্জ। পরে ইংরেজ সরকার কর্তিক এ বাজারকে বন্দর হিসাবে ঘোষনা করা হয়। সে সময় বিভিন্ন পন্য নিয়ে বিদেশি জাহাজ এসে ভিড়ত মোরেলগঞ্জ বন্দরে। পরে চর পড়ে যাওয়ায় ধিরে ধিরে এ বন্দর বন্ধ হয়ে যায়। নীল, নীলকর নিয়ে এই মোরেল পরিবারের সাথে মিশে আছে অনেক কাহিনী। কৃষক বিদ্রোহের এক রক্তাক্ত অধ্যায়, যার নায়ক ছিলেন কৃষক রহিমুল্লাহ (১৮৬১ সাল)। মোরেল পরিবারের সাথে প্রবল যুদ্ধে বীরত্বের সাথে সাথে নিহত হন রহিমুল্লাহ। পরে অবশ্য এই রহিমুল্লাহ হত্যার জের ধরে মোরেলগঞ্জ থেকে মোরেল পরিবারের শাসন গোটাতে হয়েছিল ১৮৭৮ সালে। কিন্তু শুধু কালের স্বাক্ষী হয়ে এখনও রয়ে গেছে ‘কুঠিবাড়ি’ নামে পরিচিত তাদের নীলকুঠি।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

মোড়েলগঞ্জে শতকরা ৩৫.৪৯ ভাগ মানুষ কৃষি নিভর্শীল, তাছাড়া ৩.৬৫% জেলে; ২০.৭৩ ভাগ কৃষি শ্রমিক; ৬.৮৫% দিনমজুর; ব্যাবসা ১১.৮৫%; পরিবহন ১.৪%; বিভিন্ন সোর্স ও অন্যান্য কাজে ৫.৬ ও ১৪.৪৩ ভাগ লোক জড়িত।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

উত্তরে বাগেরহাট সদর ও কচুয়া; দখিনে শরনখোলা এবং মঠবাড়িয়া; পূরবে পিরোজপুর ও ভান্ডারিয়া আর পশ্চিমে রামপাল ও মংলা দ্বারা পরিবেষ্টিত। প্রধান নদীসমূহ যথাক্রমে পানগুছি; বলেশ্বর; ঘষিয়াখালী ও ভোলা উল্লেখযোগ্য।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বরফ কারখানা ৪ টি, ধানকল ৫৯ টি, কল ৪৬ টি এবং ৩০ টি ঢালাই কারখানা রয়েছে।

কুটির শিল্প: বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন কুটিরশিল্প উল্লেখযোগ্য।

হাট, বাজার ও মেলা: হাট উল্লেখযোগ্য মোরেলগঞ্জ(প্রধান বাজার),দইবজ্ঞ হটী,পোলেরহাট এবং বহর বুনিয়া ইত্যাদি; উল্লিখিত মেলা কালাচাঁদ আউলিয়া মেলা, লখিখালি মেলা, বহর বুনিয়া মেলা ইত্যাদি।

প্রধান মাছ, সুপারি, নারিকেল এবং কলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।

এনজিও কার্যক্রম ব্র্যাক, প্রশিকা, আশা, গ্রামীণ ব্যাংক,গণ সাস্থ কেন্দ্র, ডাক দিয়ে যাই, সিডিসি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


বাগেরহাট জেলা Flag of Bangladesh
উপজেলা/থানাঃ কচুয়া | চিতলমারী | ফকিরহাট | বাগেরহাট সদর | মংলা | মোড়লগঞ্জ | মোল্লাহাট | রামপাল | শরণখোলা


  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে মোরেলগঞ্জ"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২০ জানুয়ারী, ২০১৫