আলমডাঙ্গা উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৫′৩০″ উত্তর ৮৮°৫৭′০০″ পূর্ব / ২৩.৭৫৮৩° উত্তর ৮৮.৯৫০০° পূর্ব / 23.7583; 88.9500

আলমডাঙ্গা উপজেলা
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
আলমডাঙ্গা
বিভাগ
 - জেলা
খুলনা বিভাগ
 - চুয়াডাঙ্গা জেলা
স্থানাঙ্ক ২৩°৪৫′৩০″ উত্তর ৮৮°৫৭′০০″ পূর্ব / ২৩.৭৫৮৩° উত্তর ৮৮.৯৫০০° পূর্ব / 23.7583; 88.9500
আয়তন ৩৬৫ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (২০১১)
 - ঘনত্ব
 - শিক্ষার হার
৩,৪৫,৯২২জন[১]
 - ৭৮০ বর্গকিমি
 - ৪৯.৪%
ওয়েবসাইট: উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট

আলমডাঙ্গা উপজেলা বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্তর্গত।

উপজেলার নামকরণ[সম্পাদনা]

আলমডাঙ্গা উপজেলার নামকরণ নিয়ে তেমন কোন নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র পাওয়া যায় না। তবে কথিত আছে যে, একদা আলম ফকির নামে একজন কামেল সাধক ইতিহাস প্রসিদ্ধ কুমার নদী সাঁতরিয়ে ডাঙ্গায় উঠে আলমডাঙ্গার উপকন্ঠে তাঁর আস্তানা গড়ে তোলেন। সেই থেকে ঐ সাধকের নামানুসারে এই অঞ্চলের নাম রাখা হয় “আলমডাঙ্গা”। বিভিন্ন সময়ে আলমডাঙ্গা প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কালের পরিক্রমায় এটি থানা এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলা হিসেবে ঘোষিত হয়।

ভৌগলিক অবস্থান[সম্পাদনা]

আলমডাঙ্গা উপজেলা ২৩°৩৭' উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৩°৫০' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৪৭' পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে ৮৯°০০' পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যে অবস্থিত। এর উত্তর পার্শ্বে কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর উপজেলা এবং গাংনী উপজেলা, পূর্বে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা এবং ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ড উপজেলা, পশ্চিমে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলা, দক্ষিনে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা এবং দামুড়হুদা উপজেলা অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

বর্তমানে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১৫ টি ইউনিয়ন রয়েছে । এগুলি হল -

  1. ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ
  2. হারদী ইউনিয়ন পরিষদ
  3. কুমারী ইউনিয়ন পরিষদ
  4. বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদ
  5. গাংনী ইউনিয়ন পরিষদ
  6. খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ
  7. জেহালা ইউনিয়ন পরিষদ
  8. বেলগাছি ইউনিয়ন পরিষদ
  9. ডাউকী ইউনিয়ন পরিষদ
  10. জামজামী ইউনিয়ন পরিষদ
  11. নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদ
  12. খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদ
  13. কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদ
  14. চিৎলা ইউনিয়ন পরিষদ
  15. আইলহাঁস ইউনিয়ন পরিষদ (নবগঠিত)

মুক্তিযুদ্ধে আলমডাঙ্গা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯মাস পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে এদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তৎকালীন নেতৃবৃন্দ চুয়াডাঙ্গা জেলাকে বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী ঘোষণা করে সরকার গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করলে এ অঞ্চলটি পাকিস্থানী বাহিনীর টার্গেট পয়েন্টে রুপান্তরিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুহুর্মুহু প্রতিরোধ ও সম্মুখ যুদ্ধ লেগেই থাকে। আলমডাঙ্গায় সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ গুলোর মধ্যেে উল্লেখযোগ্য মুক্তিযুদ্ধগুলো হচ্ছে- ১. হাড়গাড়ী সুকচা, বাজিদপুর যুদ্ধ- ১৩ আগষ্ট, ১৯৭১। এ যুদ্ধে ১জন শহীদ হন, ২. আলমডাঙ্গা সদরে সংঘটিত যুদ্ধ- ১২ নভেম্বর, ১৯৭১। এ যুদ্ধে ৪জন শহীদ হন।

মুক্তিবার্তা (লাল কভার) অনুযায়ী বর্তমানে আলমডাঙ্গা উপজেলায় মোট মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যাঃ ৪৪৮ জন।

নদ-নদী[সম্পাদনা]

আলমডাঙ্গা উপজেলার অন্যতম নদীঃ মাথাভাঙ্গা, কুমার, ভাটুই, মরানদী আলমডাঙ্গা উপজেলার অন্যতম খালের নামঃ ৪টি ওয়াবদার খাল, ২টি জহুরুলনগর খাল, ১টি অনুপনগর খাল, ২টি মেইনখাল, ২টি পানি নিষ্কাষন খাল আলমডাঙ্গা উপজেলার অন্যতম বিলের নামঃ গাড়িয়াল বিল, বোয়ালিয়া বিল, বলেশ্বরপুর-হাড়োকান্দি বিল, রাযশাবিল, বেলসাদপুর কাঁঠালিয়া বিল, মনিদহ বিল, চাকিলার বিল, খড়কাটি বিল। এছাড়া ঘোলদাড়ী বাজারে অবস্থিত নীলকুটিরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুটির নদী অন্যতম।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

আলমডাঙ্গা উপজেলায় শিক্ষার হার ৪৯.৪%। আলমডাঙ্গা উপজেলায় বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। তার মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামঃ

  1. পাইলট হাই স্কুল,আলমডাঙ্গা
  2. আলমডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ
  3. আলমডাঙ্গা মহিলা ডিগ্রি কলেজ
  4. প্রাইম পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউট
  5. এম.এস.জোহা কৃষি কলেজ,হারদী,আলমডাঙ্গা
  6. মীর সামসুল ইসলাম পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউট,হারদী,আলমডাঙ্গা।
  7. এম.এস.জোহা ডিগ্রি কলেজ,হারদী
  8. গোকুলখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্থাপিত -১৯৪৭ ইং), গোকুলখালি।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

১৮৬২ সালে কলকাতার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হলে রেল পথে পূর্ববঙ্গের সঙ্গে আলমডাঙ্গার যোগাযোগ সুবিধাজনক থাকায় ব্যবসা-বানিজ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৩৫টি হাট-বাজার রয়েছে। এ সকল হাটে বিভিন্ন ধরণের পশু, কৃষি পণ্য, তামাক, ভুট্টা প্রভৃতি ব্যপক আমদানী ঘটে থাকে। আলমডাঙ্গা উপজেলায় প্রায় ১৫০টি চালের মিল রয়েছে। মিলগুলো থেকে উৎপাদিত চাল উপজেলার অভ্যন্তরের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রায় ২৫% লোক ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সাথে জড়িত।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • বেহাল শাহ্ (বাউল শিরমনী ও গীতিকার)
  • দোলাল উদ্দিন শাহ্ (বাউল সাধক ও গীতিকার)
  • জাহাপুরের খোদা বক্স শাহ্ (একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সাধক ও গীতিকার)
  • শিল্পী রইচ উদ্দীন (বেতার শিল্পী)
  • আবু বাক্কা শাহ্ (বাউল কবি)
  • জাহাপুরের প্রখ্যাত বাউল সাধক লতিফ শাহ্ (একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সাধক ও গীতিকার খোদা বক্স শাহ্ এর পুত্র)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে আলমডাঙ্গা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২০ জানুয়ারী, ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]