ময়মনসিংহ জিলা স্কুল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ময়মনসিংহ জিলা স্কুল
হার্ডিঞ্জ স্কুল (2004 to2010)
ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের প্রধান ফটক
ঠিকানা
জিলা স্কুল রোড
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ,
তথ্য
ধরন মাধ্যমিক স্কুল
প্রতিষ্ঠাকাল ১৮৫৩
লিঙ্গ বালক
ওয়েবসাইট

ময়মনসিংহ জিলা স্কুল ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ভাগে তৎকালীন ভারতের সর্ববৃহৎ জেলা ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রসিদ্ধ হাই স্কুল। এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। কেবল ছেলেদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এ স্কুলের অবস্থান ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রস্থলে ; সংলগ্ন সড়কটি দীর্ঘদিন যাবৎ জিলা স্কুল রোড নামে পরিচিত। এই সরকারী স্কুলটিতে ৩য় থেকে ১০ম ম্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা প্রদান করা হয়। এন্ট্রেন্স তথা ম্যাট্রিক এবং বর্তমানের সেকেন্ডারী স্কুল সার্টিফিকেট(এস এস সি) পরীক্ষায় এ স্কুলের ছাত্ররা যথাক্রমে পূর্ববঙ্গ, পূর্ব পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে এসেছে। পূর্ব এবং পশ্চিম বাংলার বহু গুণী ব্যক্তিত্ব এ স্কুলে বাল্যকাল অতিবাহিত করেছেন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ময়মনসিংহ জিলা স্কুল বাংলাদেশের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম যা ৩ নভেম্বর, ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয়। এই স্কুলটি হার্ডিঞ্জ স্কুল (১৮৪৬ থেকে ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) নামেও পরিচিত ছিল। বর্তমানে এখানে ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম প্রধান শিক্ষকের আসন অলংকৃত করেন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর পিতা শ্রী ভগবানচন্দ্র বসু। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের প্রথম মুসলমান প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ। পরবর্তীকালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছিলেন।

প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে স্কুলে দুটি অধিবেশনে শিক্ষাদান কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে যথা প্রভাতী অধিবেশন এবং দিবাকালীন অধিবেশন। সকাল ৭.৩০ থেকে প্রভাতী অধিবেশন এবং দুপুর ১২.০০ থেকে দিবা অধিবেশনের কার্য্যক্রম শুরু হয়। এটি বালক বিদ্যালয় হলেও ১৯৯০-এর দশক থেকে এখানে পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও শিক্ষকতা করেন। প্রতি বছর এই বিদ্যালয়ে তৃতীয় এবং ষষ্ঠ শ্রেণীতে ছাত্র ভর্তি করা হয়। আবার ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি শ্রেণীতে দুটি করে শাখা রয়েছে যথা 'ক' শাখা এবং 'খ' শাখা। অভিজ্ঞ এবং দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে উচ্চমানের শিক্ষা প্রদানকারী প্রাচীন বিদ্যালয়গুলির মধ্যে এটি একটি। পাশাপাশি, সরকারী বিদ্যালয় হওয়ায় লেখাপড়ার খরচও এখানে নিতান্ত কম।

ভর্তি প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

এই সরকারী হাই স্কুলটিতে ৩য় থেকে ১০ম ম্রেণী পর্যন্তশিক্ষা প্রদান করা হয়। সাধারণত ৩য় ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ছাত্র ভর্তি করা হয়। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে কোন কোন বছর অন্যান্য শ্রেণীতেও ভর্তি করা হয়।ভর্তি পরীক্ষা দিতে কোন আলাদা যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না এবং যেসব ছাত্র ভর্তি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করে তারাই ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়।

বেতন[সম্পাদনা]

সরকারী স্কুল হওয়ায় এই বিদ্যালয়ে বেসরকারী স্কুলের তুলনায় খরচ অনেক কম। প্রতি মাসে বেতনের সাথে টিফিন ফি নেয়া হয়। টিফিন সাধারণত ৩র্থ ঘণ্টার পর দেয়া হয়। ছাত্রাবাসের ছাত্রদের বেতনের সাথে ছাত্রাবাসের ভাড়াও দিতে হয়।

ইউনিফর্ম ড্রেস[সম্পাদনা]

১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে স্কুলের ছাত্রদের জন্য সর্বপ্রথম ইউনিফর্ম ড্রেস এবং আইডেনটিটি কার্ড প্রবর্তন করা হয়। বর্তমান ইউনিফর্ম ড্রেস নিম্নরূপ:

  • ফুল হাতা সাদা শার্ট
  • খাকী রঙের ফুল প্যান্ট
  • সাদা মোজা ও জুতা(কেড্স বা পাম্প শু)
  • নেভী ব্ল সোয়েটার(শীতকালে)
  • নীল রঙের নেমপ্লেট(প্রভাতী শাখা) ও লাল রঙের নেমপ্লেট(দিবা শাখা)
  • বাম পকেটের ওপর স্কুলের মনোগ্রাম

শিক্ষা সুবিধাসমূহ[সম্পাদনা]

এই বিদ্যালয়ে একটি উঁচুমানের বিজ্ঞানাগার, একটি সুপরিসর লাইব্রেরী, একটি কম্পিউটার ল্যাবরেটরি, একটি ব্যায়ামাগার ও কর্মশালা রয়েছে। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিদ্যার প্রায়োগিক পাঠসমূহ সাধারণত বিজ্ঞানাগারে পড়ানো হয়। বিদ্যালয়ে একটি ঘাট বাঁধানো পুকুর রয়েছে যাতে প্রতি বছর সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের মূল ভবনে বড় একটি হলঘর আছে যেখানে সভা-সমিতি এবং প্রতি বছর ইনডোর গেম্সের আয়োজন হয়। এছাড়া দূরবর্তী ছাত্রদের অধ্যয়নের সুবিধার্থে বিদ্যালয়ের অদূরে একটি ছাত্রাবাস রয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস মাঠে প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ে জাতীয় কিছু সংস্থার শাখা চালু রয়েছে। যথাঃ-

উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন ছাত্রবৃন্দ[সম্পাদনা]