সৈয়দপুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সৈয়দপুর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি শহর। এটি নিলফামারী জেলায় অবস্থিত। শহরটি খুব গুরুত্বপূর্ণ তার আসেপাশের জেলা শহরগুলোর মধ্যমনি হিসেবে কাজ করার জন্য। শহরটি১৫টি ওয়ার্ড এবং ৪৩টি মহল্লায় বিভক্ত। সৈয়দপুর পৌরসভা ১৮৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭০ সালে তৎকালীন আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের প্রধান মেরামত কারখানা এখানে স্থাপন করা হয়। সৈয়দপুরে একটি বিমানবন্দর আছে।

এক নজরে সৈয়দপুর উপজেলাঃ[সম্পাদনা]

  • আয়তনঃ ১২১.৬৮ বর্গ কিলোমিটার
  • জনসংখ্যাঃ ২,৬৪,৯৫১ জন।
  • ঘনম্বঃ ২,১৭৭ জন ( প্রতি কিলোমিটারে)
  • নির্বাচনী এলাকাঃ ১৫- নীলফামারী-৪

(সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন)

  • থানা/ইউনিয়নঃ থানা(পুলিশ ষ্টেশন) - ০১ টি, ইউনিয়ন- ০৫ টি।
  • মৌজাঃ ৪২ টি
  • সরকারী হাসপাতালঃ ০২ টি ( ১টি ১০০ শয্যা ও ১টি রেলওয়ে)
  • স্বাস্থ্য কেন্দ্র/ক্লিনিকঃ ০৭ টি
  • পোষ্ট অফিসঃ ০৭ টি
  • নদ-নদীঃ ০২ টি ( চিকলী, খরখড়িয়া )
  • হাট- বাজারঃ ০৭ টি
  • ব্যাংকঃ ২৬ টি শাখা

উপজেলা পটভূমিঃ[সম্পাদনা]

সৈয়দপুর থানা একটি অনেক পুরাতন থানা। ১৯১৫ সালে সৈয়দপুর থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। অধিকাংশদের মতে ভারত বর্ষের কুচ বিহার থেকে আগত মুসলিম সাইয়্যেদ পরিবার প্রথমে এ অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন। উক্ত সাইয়্যেদ পরিবারের নামানুসারে প্রথমতঃ সাইয়্যেদপুর পরে সৈয়দপুর নামকরণ করা হয়। বিগত ০৭/১১/৮২ তারিখে মান উন্নীত থানা হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ উপজেলার আয়তন ১২১.৬৮ বর্গ কিঃ মিঃ। ২০১১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী মোট লোক সংখ্যা - ২,৬৪,৯৫১ জন। শিক্ষার হার ৪৮.৫১%। আসাম, পশ্চিম বাংলা, রাজস্থান, কাশ্মিরের লোকজন স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য এখানে আসিয়া বসবাস করিতেছে। সৈয়দপুর এক কথায় বিচিত্র শহর। বিভিন্ন ভাষাভাষি লোকের একত্রে বসবাস। অন্যান্য উপজেলা থেকে সৈয়দপুর একটি ব্যতিক্রমধর্মী উপজেলা । এ উপজেলার অধিকাংশ লোকজন শহর এলাকায় বসবাস করে। মুলতঃ রেলওয়ে কারখানাকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুর শহরের গোড়া পত্তন হয়েছিল। এ রেলওয়ে কারখানাটি ১৮৭০ খ্রীঃ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। অধিবাসীদের অধিকাংশই ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্প কারখানায় দক্ষ শ্রমিক ও কারিগর। এদের উৎপাদিত সামগ্রী দেশ ও বিদেশে সমাদৃত হইয়াছে। এ শহরে একটি সেনানিবাস এবং বাংলাদেশের একমাত্র ই.এম.ই সেন্টার ও স্কুল আছে। এখানে একটি বিমান বন্দরও আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি উপ-বিভাগ রয়েছে। একটি ছোট আকারে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রও রয়েছে। এখানে একটি বিসিক শিল্প এস্টেট রয়েছে। যেখানে পুরো এলাকা জুড়েই শিল্প কারখানা স্থাপিত হয়েছে এবং বর্তমানে চালু রয়েছে। এ এস্টেট সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জোর দাবী রয়েছে। রেলওয়েকে কেন্দ্র করে এ শহর গড়ে উঠলেও সময়ের বিবর্তনে এ শহর উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বানিজ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। পরিবহনের ক্ষেত্রে সৈয়দপুর বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুরসহ ৮টি জেলার করিডোর বা নার্ভ সেন্টার হিসেবে পরিচিত।

উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থানঃ[সম্পাদনা]

বাঙ্গালীপুর মৌজার জে.এল নং- ৩৮, ৬৫৫ দাগে ২’৪৩ একর জমির উপর অবস্থিত উপজেলা পরিষদের ত্রিতল অফিস ভবনের নীচতলার পশ্চিম অংশে উপজেলা নির্বাহী অফিসটি পরিচালিত হচ্ছে। একই মৌজার ৮১৫,৮১৯,৮২১,৮২৩-২৫,৯২৭-২৮ মোট ০৮টি দাগে ৮’৫৫ একর জমিতে উপজেলা পরিষদের পুরাতন অফিস ভবন এবং আবাসিক ভবন সমুহ অবস্থিত। উপজেলা পরিষদের দক্ষিণে সৈয়দপুর সেনানিবাস ও বিমান বন্দর,পশ্চিমে বাংলাদেশ রেলওয়ের আবাসিক এলাকা ও সৈয়দপুর শহর,উত্তরে সাধারন আবাসিক এলাকা,পূর্বে কৃষি জমি। উপজেলা পরিষদের অদূরে ক্যান্টঃপাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ,সরকারী কারিগরী মহাবিদ্যালয় রয়েছে। পরিষদের দক্ষিণ পাশ দিয়ে একটি পাকা সড়ক সেনানিবাস ও উপজেলা পরিষদের সীমানা ঘেষে শহরে প্রবেশ করেছে।