ইমাম বুখারী
| ইমাম বুখারী | |
|---|---|
উজবেকিস্তানের, সমরকন্দ কাছাকাছি অবস্থিত মুহাম্মদ আল-বুখারী মাজার। |
|
| উপাধি | আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদীস |
| জন্ম | ১৩ই শাওয়াল, ১৯৪ হিজরী (৮১০ খ্রিস্টাব্দ)[১] বুখারা বর্তমান উজবেকিস্তানে অবস্থিত |
| মৃত্যু | ১লা শাওয়াল, ২৫৬ হিজরী (৩১শে আগস্ট, ৮৭০ খ্রিস্টাব্দ) (৬২ বছর)[২] খরতঙ্গ, সমরকন্দের নিকটে অবস্থিত |
| জাতীয়তা | তুর্কী/পারসিক |
| School tradition | স্বতন্ত্র মুজতাহিদ[৩] |
| প্রধান আগ্রহ | হাদীসশাস্ত্র |
| উল্ল্যেখযোগ্য ধারণা | শুধুমাত্র সহীহ হাদীসের সংকলন |
| কাজ | সহিহ বুখারী, আদাবুল মুফরাদ |
| যাদের প্রভাবিত করেছেন | আহমাদ বিন হাম্বল আলী ইবনুল মাদীনী ইয়াহয়া বিন মায়ীন ইসহাক বিন রাহওয়াই[৪] |
| যাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন | ইমাম মুসলিম |
ইমাম বুখারী (জন্মঃ ৮১০-মৃত্যুঃ ৮৭০ খ্রিস্টাব্দ), আরব রীতি অনুযায়ী বংশধারাসহ পুরো নাম হলো মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহীম বিন মুগীরাহ বিন বারদিযবাহ (আরবি/ফার্সি ভাষায়: محمد بن اسماعيل بن ابراهيم بن مغيره بن بردزبه بخاری), একজন বিখ্যাত হাদীসবেত্তা ছিলেন। তিনি "বুখারী শরীফ" নামে একটি হাদীসের সংকলন রচনা করেন, যা মুসলমানদের নিকট হাদীসের সবোর্ত্তম গ্রন্থ বিবেচিত হয়। [৫] তার নাম মুহাম্মদ। উপনাম হলো আবু আবদুল্লাহ। আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদীস তাঁর উপাধি।
পরিচ্ছেদসমূহ |
[সম্পাদনা] জীবনী
তিনি ১৩ই শাওয়াল শুক্রবার, ১৯৪ হিজরীতে (৮১০ খ্রিস্টাব্দ) খোরাসানের বুখারাতে (বর্তমানে উজবেকিস্তানের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম। তিনি ছিলেন একজন হাদীসবিদ। ইমাম বুখারী শৈশবেই বাবাকে হারান, ফলে মায়ের কাছে প্রতিপালিত হন। শৈশবে তিনি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তার মায়ের প্রার্থনার কারণে অলৌকিকভাবে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি কুরআন মুখস্ত করেন। ১০ বছর বয়স থেকে তিনি হাদীস মুখস্ত করা শুরু করেন। ১৬ বছর বয়সেই তিনি "আবদুল্লাহ বিন মুবারক" এবং "ওয়াকীর পান্ডুলিপিসমূহ" মুখস্ত করে ফেলেন।[৬][৭]
[সম্পাদনা] সফরসমূহ
ষোল বছর বয়সে তিনি মা এবং বড় ভাইয়ের সাথে হজ্জে গমন করেন। হজ্জের পর তিনি মক্কাতে রয়ে গেলেন এবং হিজাযের হাদীসবিশারদদের কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করতে থাকলেন। এ সময় তিনি "কাজায়াস সাহাবা ওয়াত তাবীয়ীন" নামক গ্রণ্থ রচনা করেন। এরপর হাদীস অন্বেষণের জন্য তিনি ইরাক, সিরিয়া ও মিশরসহ বহু অঞ্চলে সফর করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর তিনি হাদীস অন্বষণের ভ্রমণ শেষ করে নিজ মাতৃভূমি বুখারায় ফিরে আসেন।[৮][৯]
[সম্পাদনা] রচনাবলী
ইমাম বুখারী রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ২০টিরও বেশি। এগুলোর কিছু বিলুপ্ত হয়ে গেছে কিংবা পান্ডুলিপি আকারে সংরক্ষিত রয়েছে। আর কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর রচিত গ্রণ্থাবলীর মাঝে সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ হলো বুখারী শরীফ। নীচে তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থের নাম দেয়া হলোঃ
- কাজায়া আস-সাহাবা ওয়া আত-তাবিয়ীন (আরবীতেঃقضايا الصحبة و التابعين)
- আত-তারীখ আস-সগীর (আরবীতেঃالتاريخ الصغير)
- আল-আদাব আল-মুফরাদ (আরবীতেঃالأدب المفرد)
- কিতাব আল-জুআফা আস-সগীর (আরবীতেঃكتاب الضعفاء الصغير)
- কিতাব আল-কুনা (আরবীতেঃكتاب الكُنى)
- কিতাবু খালকি আফআলিল ইবাদ (আরবীতেঃكتاب خلق أفعال العباد)
- সহীহ আল-বুখারী (আরবীতেঃ صحيح البخاري )[১০]
[সম্পাদনা] বুখারী শরীফ
ইমাম বুখারীর জীবনের শ্রেষ্ঠতম কর্ম হচ্ছে এই হাদীসগ্রন্থের রচনা। তিনি স্বীয় শিক্ষক ইসহাক বিন রাহওয়াইহ থেকে এই গ্রন্থ রচনার প্রেরণা লাভ করেন।একদিন ইসহাক একটি এমন গ্রন্থের আশা প্রকাশ তরেন,যাতে লিপিবদ্ধ থাকবে শুধু সহিহ হাদীস। ছাত্রদের মাঝে ইমাম বুখারী তখন এই কঠিন কাজে অগ্রসর হন।২১৭ হিজরী সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি মক্কার হারাম শরীফে এই গ্রন্থের সংকলন শুরু করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২৩৩ হিজরী সনে এর সংকলনের কাজ সমাপ্ত হয়। বুখারী শরীফের সংকলনকালে তিনি সর্বদা রোজা রাখতেন এবং প্রতিটি হাদীস গ্রন্থ সন্নিবেশিত করার আগে গোসল করে দু' রাকাত নফল নামাজ আদায় করে মুরাকাবা ও ধ্যানের মাধ্যমে হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন।[১১] এই গ্রন্থে তিনি সকল সহিহ হাদীস সংকলন করেননি। বরং সহিহ হাদীসের মাঝে যেগুলো তার নির্ধারিত শর্তে উন্নীত হয়েছে,সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন। ইমাম বুখারীর প্রায় ৩ লাখ হাদীস মুখস্ত ছিল। এরমাঝে মাঝে ২,৬০২ (পুনরুক্ত ছাড়া) উল্লেখ করেন। বুখারী শরীফের পুরো নাম হলোঃ আল-জামি আল-সাহীহ আল-মুসনাদ মিন উমুরি রাসূলিল্লাহ ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি।
[সম্পাদনা] মৃত্যু
জীবনকালের শেষদিকে একবার বুখারার তৎকালীন শাসনকর্তা "খালিদ বিন আহমাদ যুহলী" হাদীসশাস্ত্রে ইমাম বুখারীর পান্ডিত্য দেখে তাকে দরবারে এসে শাসনকর্তার সন্তানদেরকে হাদীস শেখাতে বলেন। ইমাম বুখারী এটাকে হাদীসের জন্য অবমাননাকর মনে করেন। ফলে উভয়ের মাঝে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। তখন তিনি মাতৃভূমি বুখারা ত্যাগ করে সমরকন্দের খরতঙ্গে চলে যান এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ২৫৬ হিজরীর, ১লা শাওয়াল মোতাবেক ৩১শে আগস্ট, ৮৭০ খ্রিস্টাব্দের শুক্রবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন শনিবার যোহরের নামাজের পর খরতঙ্গেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।[১২][১৩][১৪]
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- ↑ S. 'Abdul-Maujood, "The Biography of Imam Bukharee", Maktaba Dar-us-Salam, 2005, p. 13.
- ↑ দাওয়াতুল হক
- ↑ ইসলামী বিশ্বকোষ।ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত।ISBN:984-06-0145-8 ১৬ খন্ড।পৃষ্ঠা নং:৩৮৫
- ↑ Ibn Rāhwayh, Isḥāq (1990), Balūshī, ʻAbd al-Ghafūr ʻAbd al-Ḥaqq Ḥusayn, ed., Musnad Isḥāq ibn Rāhwayh (1st সম্পাদিত), প্রকাশক: Tawzīʻ Maktabat al-Īmān, pp. 150–165
- ↑ দুহাল ইসলাম (ইসলামের দ্বিপ্রহর) ২য় খন্ড, ডা: আহমাদ আমীন রচিত, আবু তাহের মেসবাহ অনূদিত, ইসলামিক ফাউন্ডশন থেকে প্রকাশিত। পৃষ্ঠা-১১৩
- ↑ দুহাল ইসলাম (ইসলামের দ্বিপ্রহর) ২য় খন্ড, ডা: আহমাদ আমীন রচিত,আবু তাহের মেসবাহ অনূদিত,ইসলামিক ফাউন্ডশন থেকে প্রকাশিত। পৃষ্ঠা-১১৩
- ↑ http://articles.ourislam.org/articles/380/1/aaaa-aaaaaa-aa--/Page1.html
- ↑ দুহাল ইসলাম (ইসলামের দ্বিপ্রহর) ২য় খন্ড, ডা: আহমাদ আমীন রচিত,আবু তাহের মেসবাহ অনূদিত,ইসলামিক ফাউন্ডশন থেকে প্রকাশিত। পৃষ্ঠা-১১৩
- ↑ http://dawatul-haq.com/article.php?id=165
- ↑ ইসলামী বিশ্বকোষ।ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত।ISBN:984-06-0145-8 ১৬ খন্ড।পৃষ্ঠা নং:৩৮৭
- ↑ দা্ওয়াতুল হক
- ↑ http://articles.ourislam.org/articles/160/1/aaaaa-aaaaaaaaa-aaaaaaa-aaaa-aaaaaaa-aa/Page1.html
- ↑ http://articles.ourislam.org/articles/380/1/aaaa-aaaaaa-aa--/Page1.html
- ↑ দাওয়াতুল হক
[সম্পাদনা] আরও পড়ুন
- Abdul-Jabbar, Ghassan. Bukhari. New Delhi: Oxford University Press, 2007.
[সম্পাদনা] বহিঃসংযোগ
- ইমাম বুখারীর জীবনী
- ইমাম বুখারী: তাঁর জীবন ও কর্ম অংশ ১
- মুহাম্মদ আল-বুখারীর জীবনী
- ইমাম বুখারী (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
|
|||||||||||||||||