জাবির ইবন হাইয়ান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাবির ইবন হাইয়ান
Jabir ibn Hayyan.jpg
"জেবার" এর ১৫তম শতাব্দীতে ইউরোপীয় প্রতিকৃতি, কোডিচি আশবুরনহামিয়ানি ১১৬৬, বিবলেওটেকা মেডিচেয়া লাউরেন্টিয়ান, ফ্লোরেন্স
উপাধি আবু মুসা জাবির ইবন হাইয়ান
জন্ম ৭২২ খ্রিস্টাব্দ তুস, পারস্য
মৃত্যু প্রায় ৮০৪ খ্রিস্টাব্দ
জাতিভুক্ত আরব[১][২] বা পারস্য[৩]
যুগ ইসলামী স্বর্ণযুগ
মূল আগ্রহ আলকেমি ও রসায়ন, জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যোতিষশাস্ত্র, মেডিসিন ও ফার্মাসি, দর্শন, পদার্থবিজ্ঞান, বিশ্বপ্রেমিক
লক্ষণীয় কাজ কিতাব আল-কিমিয়া, কিতাব আল-সাবিন, বুক অফ দ্য কিংডম, বুক অফ দ্য ব্যালেন্স , বুক অফ ইস্টার্ন মার্কারি, ইত্যাদি।

আবু মুসা জাবির ইবন হাইয়ান (আল-বারিজি / আল-আযদি / আল-কুফি / আল-তুসি / আল-সুফি, আরবি: جابر بن حیان‎, ফার্সি: جابرحیان) (জন্ম:৭২১ - মৃত্যু:৮১৫ খ্রিস্টাব্দ)[৪] বিখ্যাত শিয়া মুসলিম বহুশাস্ত্রজ্ঞ। পাশ্চাত্য বিশ্বে তিনি "জেবার" নামে পরিচিত যা তার নামের লাতিন সংস্করণ। তিনি ছিলেন একাধারে রসায়নবিদ ও আলকেমিবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানীজ্যোতিষী, প্রকৌশলী, দার্শনিক, পদার্থবিজ্ঞানী এবং ঔষধ বিশারদ ও চিকিৎসক। তার প্রকৃত জাতীয়তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। অনেকে বলেন তিনি আরব, অনেকে আবার বলেন তিনি পারস্যের নাগরিক ছিলেন। তাকে "রসায়নের জনক" হিসেবে আখ্যায়িত করেন। জাবির ইবন হাইয়ান আলকেমিতে পরীক্ষণমূলক পদ্ধতির গোড়াপত্তন করেছিলেন।[৫]

১০ম শতাব্দীর প্রাথমিক দিকে, জাবিরের কাজের পরিচয় এবং সঠিক রচনাসমূহের সংগ্রহ ইসলামী চক্রের মধ্যে বিতর্ক ছিল।[৬] তিনি ১৩শ শতাব্দীতে ইউরোপে একজন বেনামী লেখক ছিলেন এবং পাশ্চাত্যের খ্রিস্টানরা লাতিন অনুযায়ী তাঁর নাম "জেবার" দেন। সাধারণত তাকে ছদ্ম-জেবার হিসাবে উল্লেখ করে। তিনি কলম-নাম জেবার অধীনে আল-কেমি ও ধাতুবিদ লিখেন।[৭]

তিনি রসায়নের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছিলেন যার অনেকগুলো এখনও ব্যবহৃত হয়। যেমন: হাইড্রোক্লোরিক ও নাইট্রিক এসিড সংশ্লেষণ, পাতন এবং কেলাসীকরণ। তার অধিকাংশ রচনায় দুর্বোধ্য এবং বিভিন্নভাবে সংকেতায়িত। বিশেষজ্ঞ ছাড়া তার রচনা কেউ খুব একটা বোঝেন না, বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও কেউ জানেন না ঠিক কি সংকেতের মাধ্যমে লিখেছিলেন তিনি। তাক্বিনের ধারণা এবং সে সময় আরবে প্রচলিত বিভিন্ন পদার্থের নামের মাধ্যমে তিনি বিস্তৃত রাসায়নিক সংখ্যায়ন পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন। তার আলকেমি ক্যারিয়ার এই পদ্ধতিকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। তাক্বিন বলতে আলকেমি গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে জীবন সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বর্তমানে প্রমাণিত হয়েছে যে, জাবিরের প্রাথমিক গবেষণামূলক রচনাগুলো পারস্যের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতির পটভূমিতে রচিত হয়েছে। কৌশলগত শব্দভাণ্ডারে ব্যবহৃত ফার্সি ভাষা এবং মধ্য পারস্য দেশীয় শব্দের মাধ্যমে তার অভিসন্দর্ভগুলো পড়া যায়।

জীবনী[সম্পাদনা]

জাবির ইবন হাইয়ান ৭২২ খ্রিস্টাব্দে তুস, পারস্যে জন্ম গ্রহন করেন।[৪] ধ্রুপদী সূত্রের অনিযায়ী জাবির ভিন্নভাবে আল-আযদি বা আল-বারিজি বা আল-কুফি বা আল-তুসি বা আল-সুফী হিসেবে অধিকারী হয়েছ।[৮] তার জন্ম স্থান নিয়ে মত পার্থক্য রয়েছে, কারো মতে তিনি ছিলেন একজন খোরাসান, পারস্য যিনি পরে কুফাতে যায়, অন্যদের মতে তিনি ছিলেন সিরিয়া আদিবাসি পরে তিনি পারস্য ও ইরাকে বসবাস করে।[৮] তার পুরুষগনের পটভূমি স্পষ্ট নয়, কিন্তু অধিকাংশ সূত্র তাকে একজন ফার্সি হিসেবে উল্লেখ করে।[৩] কিছু সূত্র জানা যায় যে, তার পিতা ছিলেন হাইয়ান আল-আযদি। তিনি ছিলেন আরব আযদ উপজাতির একজন ফার্মাসিস্ট যিনি উমাইয়া খিলাফতের সময় ইয়েমেন থেকে কুফাতে প্রবসিত হন।[৯][১০]

জাবিরের রচনাসমূহ[সম্পাদনা]

জাবির ইবন হাইয়ানকে প্রায় ৩,০০০ থেরাপিই এবং নিবন্ধসমূহের কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে।[১১] তার রচনার পরিধি ছিল সুবিশাল: সৃষ্টিতত্ব, সঙ্গীত, ঔষধ, জাদু, জীববিজ্ঞান, রাসায়নিক প্রযুক্তি, জ্যামিতি, ব্যাকরণ, দর্শনশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা, জীবিত প্রাণীর কৃত্রিম প্রজন্ম, জ্যোতির্বিদ্যার পূর্বাভাস এবং সাঙ্কেতিক ইমামি কাল্পনিক।[১২]

  • ১১২টি বই বারমাকিডসকে উত্সর্গীকৃত করেছে।
  • দ্য সেভেন্টি বুক, যার বেশিরভাগ মধ্যযুগে লাতিন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।
  • দ্য টেন বুক অন রেক্টিফিকেশন, আল-কেমির বিবরণ ধারণকারী, যেমন, পাইথাগোরাস (পিথাগোরাস), সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল
  • দ্য বুক অন ব্যালেন্স, এই গ্রুপে তার বিখ্যাত 'প্রকৃতি মধ্যে ভারসাম্য তত্ত্ব' রয়েছে।


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Kraus, P. (1962)। "Djābir B. Ḥayyān"। Encyclopaedia of Islam 2 (2nd সংস্করণ)। Brill Academic Publishers। পৃ: 357–359। "As for Djābir's historic personality, Holmyard has suggested that his father was "a certain Azdī called Hayyan, druggist of Kufa...mentioned...in connection with the political machinations that were used by many people, in the eighth century, finally resulted in the overthrow of the Umayyad dynasty." 
  2. Holmyard, Eric John, "Introduction" to The Works of Geber, Englished by Richard Russell (London: Dent, 1928), p. vii: "Abu Musa Jabir ibn Hayyan, generally known merely as Jabir, was the son of a druggist belonging to the famous South Arabian tribe of Al-Azd. Members of this tribe had settled at the town of Kufa, in Iraq, shortly after the Muhammadan conquest in the seventh century A.D., and it was in Kufa that Hayyan the druggist lived."
  3. ৩.০ ৩.১
    • William R. Newman, Gehennical Fire: The Lives of George Starkey, an American Alchemist in the Scientific Revolution, Harvard University Press, 1994. p.94: "According to traditional bio-bibliography of Muslims, Jabir ibn Hayyan was a Persian alchemist who lived at some time in the eighth century and wrote a wealth of books on virtually every aspect of natural philosophy"
    • William R. Newman, "The Occult and Manifest Among the Alchemists", in F. J. Ragep, Sally P Ragep, Steven John Livesey, Tradition, Transmission, Transformation: Proceedings of Two Conferences on pre-Modern science held at University of Oklahoma, Brill, 1996/1997, p.178: "This language of extracting the hidden nature formed an important lemma for the extensive corpus associated with the Persian alchemist Jabir ibn Hayyan"
    • Henry Corbin, "The Voyage and the Messenger: Iran and Philosophy", Translated by Joseph H. Rowe, North Atlantic Books, 1998. p.45: "The Nisba al-Azdin certainly does not necessarily indicate Arab origin. Geber seems to have been a client (mawla) of the Azd tribe established in Kufa"
    • Tamara M. Green, "The City of the Moon God: Religious Traditions of Harran (Religions in the Graeco-Roman World)", Brill, 1992. p.177: "His most famous student was the Persian *Jabir ibn Hayyan (b. circa 721 C.E.), under whose name the vast corpus of alchemical writing circulated in the medieval period in both the east and west, although many of the works attributed to Jabir have been demonstrated to be likely product of later Ismaili' tradition."
    • David Gordon White, "The Alchemical Body: Siddha Traditions in Medieval India", University of Chicago Press, 1996. p.447
    • William R. Newman, Promethean Ambitions: Alchemy and the Quest to Perfect Nature, University of Chicago Press, 2004. p.181: "The corpus ascribed to the eighth-century Persian sage Jabir ibn Hayyan.."
    • Wilbur Applebaum, The Scientific revolution and the foundation of modern science, Greenwood Press, 1995. p.44: "The chief source of Arabic alchemy was associated with the name, in its Latinized form, of Geber, an eighth-century Persian."
    • Neil Kamil, Fortress of the Soul: Violence, Metaphysics, and Material Life in the Huguenots New World, 1517–1751 (Early America: History, Context, Culture), JHU Press, 2005. p.182: "The ninth-century Persian alchemist Jabir ibn Hayyan, also known as Geber, is accurately called pseudo-Geber since most of the works published under this name in the West were forgeries"
    • Aleksandr Sergeevich Povarennykh, Crystal Chemical Classification of Minerals, Plenum Press, 1972, v.1, ISBN 0-306-30348-5, p.4: "The first to give separate consideration to minerals and other inorganic substances were the following: The Persian alchemist Jabir (721–815)..."
    • George Sarton, Introduction to the History of Science, Pub. for the Carnegie Institution of Washington, by the Williams & Wilkins Company, 1931, vol.2 pt.1, page 1044: "Was Geber, as the name would imply, the Persian alchemist Jabir ibn Haiyan?"
    • Dan Merkur, in The psychoanalytic study of society (eds. Bryce Boyer, et al.), vol. 18, Routledge, ISBN 0-88163-161-2, page 352: "I would note that the Persian alchemist Jabir ibn Hayyan developed the theory that all metals consist of different 'balances' ..."
    • Anthony Gross, The Dissolution of the Lancastrian Kingship: Sir John Fortescue and the Crisis of Monarchy in Fifteenth-century England, Paul Watkins, 1996, ISBN 1-871615-90-9, p.19: "Ever since the Seventy Books attributed to the Persian alchemist Jabir Ibn Hayyan had been translated into Latin ...."
  4. ৪.০ ৪.১ "Abu Musa Jabir ibn Hayyan"। Encyclopædia Britannica Online। সংগৃহীত 11 February 2008 
  5. Julian, Franklyn, Dictionary of the Occult, Kessinger Publishing, 2003, ISBN 0-7661-2816-4, ISBN 978-0-7661-2816-3, p. 8.
  6. Glick, Thomas; Eds (2005)। Medieval science, technology, and medicine: an encyclopedia। New York: Routledge। পৃ: 279। আইএসবিএন 0-415-96930-1 
  7. Principe, Lawrence (2013)। "2"The Secrets of Alchemy। Chicago: University of Chicago। আইএসবিএন 0226682951 
  8. ৮.০ ৮.১ S.N. Nasr, "Life Sciences, Alchemy and Medicine", The Cambridge History of Iran, Cambridge, Volume 4, 1975, p. 412: "Jabir is entitled in the traditional sources as al-Azdi, al-Kufi, al-Tusi, al-Sufi. There is a debate as to whether he was a Persian from Khorasan who later went to Kufa or whether he was, as some have suggested, of Syrian origin and later lived in Iran".
  9. Holmyard, Eric John (1931)। Makers of chemistry। The Clarendon press। সংগৃহীত 19 June 2010 
  10. Richard Russell (1928)। Holmyard, E.J., সম্পাদক। The Works of Geberআইএসবিএন 0-7661-0015-4 
  11. Josef W. Meri, Jere L. Bacharach (2006)। Medieval Islamic CivilizationTaylor and Francis। পৃ: 25। আইএসবিএন 0-415-96691-4 
  12. Haq, Syed Nomanul (28 February 1995)। Names, Natures and Things: The Alchemist Jabir Ibn Hayyan and His Kitab Al-Ahjar (Book of Stones)। Springer। পৃ: 5। আইএসবিএন 978-0-7923-3254-1। সংগৃহীত 18 June 2010 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]