আবু হানিফা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইমামে আযম
আবু হানিফা
জন্ম নোমান বিন সাবিত
সেপ্টেম্বর ৫, ৬৯৯ খ্রিস্টাব্দ/ শাবান ৪, ৮০ হিজরী
কুফা, Umayyad Flag.svg উমাইয়া খিলাফত
মৃত্যু জুন ১৪, ৭৬৭(৭৬৭-০৬-১৪) (৬৭ বছর)/ ১৫০ হিজরী
বাগদাদ Black flag.svg আব্বাসী খিলাফত
মৃত্যুর কারণ কারাগারে নির্যাতন (কারো মতে বিষপ্রয়োগ)[১]
জাতীয়তা কুফী
জাতিভুক্ত পারসিকফার্সি[২][৩][৪]
যুগ হিজরী প্রথম শতাব্দী
পেশা হানাফি ফিকহের ইমাম
সম্প্রদায় ইমাম মুহাম্মদ, ইমাম আবু ইউসুফ
আইনশাস্ত্র স্বতন্ত্র মুজতাহিদ
মূল আগ্রহ ফিকহ, হাদীস
উল্লেখযোগ্য ধারণা কিয়াস,ইসতিহসান
লক্ষণীয় কাজ হানাফি মাযহাব প্রতিষ্ঠা, ফিকহশাস্ত্রের উন্নয়ন

নোমান ইবনে সাবিত ইবনে যুতা ইবনে মারযুবান (৬৯৯ — ৭৬৭ CE / ৮০ — ১৪৮ AH)[৫](আরবি: نعمان بن ثابت بن زوطا بن مرزبان‎), উপনাম ইমাম আবু হানিফা নামেই অত্যাধিক পরিচিত, তিনি ফিকহশাস্ত্রের একজন প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ এবং হিজরী প্রথম শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী ব্যক্তিত্ব। ইসলামী ফিকহের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও পরিচিত চারটি সুন্নি মাযহাবের একটি হানাফী মাযহাবের প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি।

জীবনী[সম্পাদনা]

জন্ম, নাম ও বংশধর[সম্পাদনা]

উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের রাজত্বকালে ইমাম আবু হানিফা ইরাকের কুফা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।[৬][৭] তাঁর ছয় বছর বয়সে আবদুল মালিক মৃত্যুবরণ করে। ষোল বছর বয়সে তিনি পিতার সাথে হজ্জে গিয়েছিলেন তার পিতা সাবিত বিন যুতা কাবুল, আফগানিস্তানের একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তার পিতার বয়স যখন ৪০ বছর তখন আবু হানিফা জন্মগ্রহণ করেন। বংশধরের দিক থেকে তাকে অ-আরবীয় বলে ধরা হয়ে থাকে কারণ তার দাদার নামের শেষে যুতা। প্রখ্যাত মুসলিম ইতিহাসবিদ খতীবে বাগদাদী আবু হানিফার নাতি ইসমাইল বিন হামাদের বক্তব্য থেকে আবু হানিফার বংশ ব্যাখা দেন। অন্য আরেক ইতিহাসবিদ হামাদ আবু হানিফাকে পারসিক বংশ্বদ্ভূত বলে দাবি করেন।[৩][৪] আবু হানিফার বংশ নিয়ে অনেক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় তবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য মত হলো তিনি কাবুলের পারসিক বংশদ্ভূত।[৩][৪]

সাবালকত্ব ও মৃত্যু[সম্পাদনা]

৭৬৩ আব্বাসীয় বংশের আল-মনসুর আবু হানিফাকে রাজ্যের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব দেন কিন্তু স্বাধীনভাবে থাকার জন্য তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। তার পরীবর্তে তার ছাত্র আবু ইউসুফকে প্রধান বিচারপতির দ্বায়িত দেওয়া হয়। প্রস্তাব প্রত্যাখানের ব্যাপারে আবু ইউসুফ আল মনসুরকে ব্যাখা দেন তিনি নিজেকে এই পদের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন না। আল-মনসুরের এই পদ প্রস্তাব দেওয়ার পেছেনে তার নিজস্ব কারণ ছিল, আবু হানিফা প্রস্তাব প্রত্যাখান করার পর মনসুর তাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে অভিযুক্ত করেন। এই অভিযোগের ব্যাখ্যায় আবু হানিফা বলেন, “আমি যদি মিথ্যাবাদী হই তাহলে প্রস্তাব প্রত্যাখান করার ব্যাপারে আমার মতামত সঠিক, কারণ কিভাবে আপনি প্রধান বিচারপতির পদে একজন মিথ্যাবাদিকে বসাবেন।” এই ব্যাখার উত্তরে আল-মনসুর আবু হানিফাকে গেফতার করেন ও তাকে নির্যাতন করে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়। এমনকি বিচারকরা সিদ্ধান্ত নিতেন কে তার সাথে দেখা করতে পারবে।

৭৬৭ সালে আবু হানিফা কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার নয়। কেউ কেউ বলেন আবু হানিফা আল মনসুরের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের চেষ্ঠা করেন এ জন্য তাকে জেলখানর ভেতর মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।[৮] এটা বলা হয়ে থাকে যে, আবু হানিফার জানাযায় অনেক লোক সমাগম হয়েছিল। ইতিহাসবিদ খাতিবের পক্ষে বলা হয় তার জন্য লোকজন মৃত্যুর ২০ দিন পর্যন্ত প্রার্থনা করেছিল। পরবর্তীতে, অনেক বছর পর বাগদাদের পাশে আধামিয়াতে আবু হানিফ মসজিদ নামে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয় আবু হানিফার নামে।

১৫০৮ সালে সাফাভি সম্রাজ্যের শাহ ইসমাইল আবু হানিফা ও আব্দুল কাদের জিলানীর মাজার এবং অন্যান্য সুন্নি নিদর্শন ধংস্ব করে দেন।[৯] ১৫৩৩ সালে অটোমানস পুনরায় ইরাক দখল করেন ও মাজরসহ অন্যান্য সুন্নি নিদর্শন পূণঃনির্মান করেন।[১০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ড. আহমদ আমীন (লেখক), আবু তাহের মেসবাহ (অনুবাদক) (২০০২)। দুহাল ইসলাম (ইসলামের দ্বিপ্রহর)। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। পৃ: ১৮০–২০১। আইএসবিএন 9840606816 
  2. Mohsen Zakeri (1995), Sasanid soldiers in early Muslim society: the origins of 'Ayyārān and Futuwwa, p.293 [১]
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ S. H. Nasr(1975), "The religious sciences", in R.N. Frye, the Cambridge History of Iran, Volume 4, Cambridge University Press. pg 474: "Abū Ḥanīfah, who is often called the "grand imam"(al-Imam al-'Azam) was Persian
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ Cyril Glasse, "The New Encyclopedia of Islam", Published by Rowman & Littlefield, 2008. pg 23: "Abu Hanifah, a Persian, was one of the great jurists of Islam and one of the historic Sunni Mujtahids"
  5. ABŪ ḤANĪFA, Encyclopedia Iranica
  6. Josef W. Meri, Medieval Islamic Civilization: An Encyclopedia, 1 edition, (Routledge: 2005), p.5
  7. Hisham M. Ramadan, Understanding Islamic Law: From Classical to Contemporary, (AltaMira Press: 2006), p.26
  8. Najeebabadi, Akbar S. (2001). The History of Islam. vol, 2. Darussalam Press. pp. 287. ISBN 9960-892-88-3.
  9. Encyclopedia of the Ottoman Empire
  10. History of the Ottoman Empire and modern Turkey

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]