আইভি রহমান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জেবুন্নাহার আইভি
Replace this image female bn.svg
জন্ম ৭ জুলাই, ১৯৪৪
ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, তৎকালীন অবিভক্ত ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু ২৪ আগস্ট, ২০০৪
ঢাকা, বাংলাদেশ
অন্য নাম আইভি রহমান
প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
রাজনৈতিক আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ
বাংলাদেশ মহিলা সমিতি
দম্পতি জিল্লুর রহমান
সন্তান নাজমুল হাসান প্রাপন (এমপি); তানিয়া ও ময়না
পিতা-মাতা জালাল উদ্দিন আহমেদ ও হাসিনা বেগম
আত্মীয় ৮ বোন ও ৪ ভাই (শামসুন্নাহার সিদ্দিক)
পুরস্কার স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, ২০০৯ (মরণোত্তর)

আইভি রহমান (জন্ম: ৭ জুলাই, ১৯৪৪- মৃত্যু: ২৪ আগস্ট, ২০০৪) বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী। তাঁর পুরো নাম জেবুন্নাহার আইভি। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সক্রীয় সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ এবং সমাজসেবায় অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখার জন্য তিনি স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আইভি রহমান ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার চন্ডিবের গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ আট বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে তাঁর অবস্থান ছিল পঞ্চম। তাঁর বাবা জালাল উদ্দিন আহমেদ ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। মা হাসিনা বেগম গৃহিণী ছিলেন।[১] তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা জীবন ভৈরব থানার অন্তর্গত একটি বিদ্যালয়ে সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বি.এ (অনার্স) ডিগ্রী লাভ করেন৷

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জিল্লুর রহমান তাঁকে ১৯৫৮ সালের ২৭ জুন তারিখে নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন সময়ে বিয়ে করেন।[২] পারিবারিক জীবনে ১ পুত্র নাজমুল হাসান প্রাপন বর্তমান সংসদ সদস্য ও ২ কন্যা সন্তান - তানিয়া ও ময়না'র মা ছিলেন তিনি৷

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রের সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেন৷ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বেগম সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে তিনি রাইফেল ও ফাস্ট-এইড ট্রেনিং নেন এবং অন্যান্য মহিলাদেরকেও ট্রেনিং দেন৷ তাছাড়া তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও উদ্যম সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি জয়বাংলা রেডিওতে নিয়মিত কথিকা পাঠ করতেন৷ ১৯৬৯ সালে মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে জাতীয় মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী হন। ১৯৭৮ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও ১৯৮০ সালে সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পূর্বে আইভি রহমান সাধারণ সম্পাদকের তায়িত্ব পালন করেছিলেন। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি পুণঃগঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মৃত্যু-পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ সমিতির সভানেত্রী ও জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি একাধারে মহিলা সংস্থা ও জাতীয় মহিলা সমিতির সভানেত্রী ছিলেন।[১]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধ এবং সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখার জন্য আইভি রহমান-কে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার-২০০৯ (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়৷ জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাস, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তোরণ ও নামফলক তাঁর নামে নামাঙ্কিত হয়েছে।

দেহাবসান[সম্পাদনা]

২১ আগস্ট, ২০০৪ সালে ঢাকায় এক গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন আইভি রহমান। অতঃপর ২৪ আগস্ট, ২০০৪ সালে রাত ২টায় প্রয়াত হন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ দৈনিক প্রথম আলো, মুদ্রিত সংস্করণ, খোলা কলম, পৃষ্ঠা-১১, ২৪ আগস্ট, ২০১২ইং, ভৈরবের আইভি রহমান
  2. আনোয়ারা বেগম: বাংলাদেশের বর্তমান ফার্স্ট লেডি, সংগ্রহকাল: ২৯ ডিসেম্বর, ২০১১ইং