আইভি রহমান
| জেবুন্নাহার আইভি | |
|---|---|
| জন্ম | ৭ জুলাই, ১৯৪৪ ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, তৎকালীন অবিভক্ত ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ) |
| মৃত্যু | ২৪ আগস্ট, ২০০৪ ঢাকা, বাংলাদেশ |
| অন্য নাম | আইভি রহমান |
| প্রতিষ্ঠান | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| রাজনৈতিক আন্দোলন | বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বাংলাদেশ মহিলা সমিতি |
| দাম্পত্য সঙ্গী | জিল্লুর রহমান |
| সন্তান | নাজমুল হাসান প্রাপন (এমপি); তানিয়া ও ময়না |
| পিতা-মাতা | জালাল উদ্দিন আহমেদ ও হাসিনা বেগম |
| আত্মীয় | ৮ বোন ও ৪ ভাই (শামসুন্নাহার সিদ্দিক) |
| পুরস্কার | স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, ২০০৯ (মরণোত্তর) |
আইভি রহমান (জন্ম: ৭ জুলাই, ১৯৪৪- মৃত্যু: ২৪ আগস্ট, ২০০৪) বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী। তাঁর পুরো নাম জেবুন্নাহার আইভি। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সক্রীয় সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ এবং সমাজসেবায় অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখার জন্য তিনি স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন।
পরিচ্ছেদসমূহ |
[সম্পাদনা] ব্যক্তিগত জীবন
আইভি রহমান ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার চন্ডিবের গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন৷ আট বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে তাঁর অবস্থান ছিল পঞ্চম। তাঁর বাবা জালাল উদ্দিন আহমেদ ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। মা হাসিনা বেগম গৃহিণী ছিলেন।[১] তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা জীবন ভৈরব থানার অন্তর্গত একটি বিদ্যালয়ে সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বি.এ (অনার্স) ডিগ্রী লাভ করেন৷
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জিল্লুর রহমান তাঁকে ১৯৫৮ সালের ২৭ জুন তারিখে নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন সময়ে বিয়ে করেন।[২] পারিবারিক জীবনে ১ পুত্র নাজমুল হাসান প্রাপন বর্তমান সংসদ সদস্য ও ২ কন্যা সন্তান - তানিয়া ও ময়না'র মা ছিলেন তিনি৷
[সম্পাদনা] কর্মজীবন
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রের সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেন৷ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বেগম সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে তিনি রাইফেল ও ফাস্ট-এইড ট্রেনিং নেন এবং অন্যান্য মহিলাদেরকেও ট্রেনিং দেন৷ তাছাড়া তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও উদ্যম সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি জয়বাংলা রেডিওতে নিয়মিত কথিকা পাঠ করতেন৷ ১৯৬৯ সালে মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে জাতীয় মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী হন। ১৯৭৮ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও ১৯৮০ সালে সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পূর্বে আইভি রহমান সাধারণ সম্পাদকের তায়িত্ব পালন করেছিলেন। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি পুণঃগঠনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মৃত্যু-পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ সমিতির সভানেত্রী ও জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি একাধারে মহিলা সংস্থা ও জাতীয় মহিলা সমিতির সভানেত্রী ছিলেন।[১]
[সম্পাদনা] সম্মাননা
মুক্তিযুদ্ধ এবং সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখার জন্য আইভি রহমান-কে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার-২০০৯ (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়৷ জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাস, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তোরণ ও নামফলক তাঁর নামে নামাঙ্কিত হয়েছে।
[সম্পাদনা] দেহাবসান
২১ আগস্ট, ২০০৪ সালে ঢাকায় এক গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন আইভি রহমান। অতঃপর ২৪ আগস্ট, ২০০৪ সালে রাত ২টায় প্রয়াত হন।
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- ↑ ১.০ ১.১ দৈনিক প্রথম আলো, মুদ্রিত সংস্করণ, খোলা কলম, পৃষ্ঠা-১১, ২৪ আগস্ট, ২০১২ইং, ভৈরবের আইভি রহমান
- ↑ আনোয়ারা বেগম: বাংলাদেশের বর্তমান ফার্স্ট লেডি, সংগ্রহকাল: ২৯ ডিসেম্বর, ২০১১ইং