২০১৯ বালাকোট বিমান হামলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
২০১৯ বালাকোট বিমান হামলা
মূল যুদ্ধ: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ,
কাশ্মীর সমস্যা
এবং ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষ
তারিখ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ (2019-02-26)
অবস্থানবালাকোট, পাকিস্তান[১][২]
যুধ্যমান পক্ষ

 ভারত

Jaishi-e-Mohammed.svg জইশ-ই

 পাকিস্তান

সেনাধিপতি
অজানা
জড়িত ইউনিট
অজানা
শক্তি
১২ টি মিরাজ ২০০০ জেট অজানা অজানা
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
২০০-৩০০ জন নিহত (ভারতীয় দাবি)[৩]
কেউ নিহত হয়নি (পাকিস্তানী দাবি)
২০১৯ বালাকোট বিমান হামলা কাশ্মীর-এ অবস্থিত
২০১৯ বালাকোট বিমান হামলা
কাশ্মীর-এ অবস্থান
২০১৯ বালাকোট বিমান হামলা পাকিস্তান-এ অবস্থিত
২০১৯ বালাকোট বিমান হামলা
কাশ্মীর-এ অবস্থান

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বারোটি মিরাজ ২০০০ জেট বিমান কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করেছিল এবং পুলওয়ামার আক্রমণের প্রতিশোধ হিসাবে একটি বিমান হামলা চালানো হয়েছিল, যা বিমান হামলার দুই সপ্তাহ আগে ঘটেছিল।[৪]

ভারতীয় গণমাধ্যম অনুসারে, জেটগুলি বালাকোটে একটি জাইশ-ই-মোহাম্মদ পরিচালিত জঙ্গি ক্যাম্প আক্রমণ করে এবং বিমান হামলা চলাকালে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জঙ্গি নিহত হয়।[৪][৫] পাকিস্তানের মতে, ভারতীয় সামরিক বিমান মুজফফরাবাদ কাছে তাদের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে, পাকিস্তান বাহিনী জেট বিমানগুলোকে প্রতিক্রিয়া জানায়, ফলে ভারতীয় জেটগুলি ফিরে যায় এবং ফিরে আসার সময় পেলোড ফেলে দেয়। পাকিস্তান দাবি করে যে কোনও প্রাণহানি বা ক্ষতি করা হয়নি।[৬][৭]

পটভূমি[সম্পাদনা]

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভারতের জম্মু ও কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলার লেথপোরা (আতন্তিপোরাের নিকট) জম্মু শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়কে নিরাপত্তা বাহিনীকে বহনকারী গাড়িকে একটি গাড়ি দ্বারা আত্মঘাতী বোমা হামলা করা হয়। এই হামলার ফলে ৪৯ জন সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) [এ] কর্মী এবং আক্রমণকারীর মৃত্যু ঘটে। এই হামলার দায় পাকিস্তান-ভিত্তিক ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মুহাম্মদ স্বীকার করে।[৮][৯][১০]

বিমান হামলা[সম্পাদনা]

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ১২ টি মিরাজ ২০০০ জেট বিমান নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে বালাকোটে জইশ-ই-মুহাম্মদ পরিচালিত একটি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে আঘাত করে। ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিমান হামলাটিকে "অসামরিক, স্বতপ্রণোদিত বিমান হামলা" বলে অভিহিত করেছেন।[৪] এটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম বিমান হামলা ছিল।[১১] কিছু ভারতীয় সংবাদ চ্যানেল চকোতি ও মুজাফ্ফরাবাদে সন্ত্রাসী লঞ্চ প্যাডগুলিতে ভারতের আরো দুটি বিমান হামলার খবর দিয়েছে।[১২][১৩]

ভারতীয় প্রচার মাধ্যম জানায় যে এই অপারেশনের সময় ২০০ থেকে ৩০০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।[১৪]

পাকিস্তান জানিয়েছে যে মুজাফ্ফরাবাদের কাছে ভারতীয় বিমানগুলি তাদের আকাশ লঙ্ঘন করেছে এবং বালকোটের কাছে এসেছিল "একটি পেলোড ফেলে দিয়েছে"। তারা বলেছিল যে সেখানে খোলা জায়গা রয়েছে যেখানে ভারতীয় যোদ্ধা বোমা ফেলেছে। কিন্তু কোন হতাহতের বা ক্ষতি হয়নি বলে দাবী করা হয়েছে।[৭][১৫]

বিবৃতি[সম্পাদনা]

ভারত[সম্পাদনা]

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে বলেন ২০১৯ সালের পুলওয়ামা আক্রমণের পরে ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) বালাকোটের একটি জাইশ-ই-মোহাম্মদ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের বিরুদ্ধে "অ-সামরিক" এবং "অগ্রক্রয়াধিকার-সংক্রান্ত" হামলার পরিচালনা করেছিল। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সরকারের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে "আসন্ন বিপদ" সহ সন্ত্রাসীদী আক্রমণের কথাভেবে ভারতীয় বিমান বাহিনী বিমান হামলা চালায়। তিনি দাবি করেন, হামলার ফলে জইশ-ই-মুহাম্মদ জঙ্গি সংগঠনের কর্মীরা নিহত। তিনি বলেন যে গোয়েন্দা সূত্র অনুসরণ করে নাগরিকদের ক্ষতি কমিয়ে লক্ষ্যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল বোমা ফেলার জন্য।[১৬]

এর আগে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ভারতীয় বিমানের দ্বারা আকাশ সীমা লঙ্ঘন সম্পর্কীত পাকিস্তানি অভিযোগ সম্পর্কে তার কাছে কোন তথ্য ছিল না।[১৭]

পাকিস্তান[সম্পাদনা]

এই আক্রমণের সময় অবশ্য পাকিস্তানের বিমান বাহিনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর (পিএইচএফ) বিমানগুলির দ্বারা আক্রমনের ফলে ভারতীয় বিমানগুলি নিয়ন্ত্রন রেখা জুড়ে দ্রুতগতিতে পিছু হটেছিল।[১৮] এই পাক বাহিনীর প্রক্রিয়াতে একটি উন্মুক্ত অঞ্চলে জ্বালানী ডাম্প সহ তাদের পেলোডগুলি ফেলেদেয় ভারতীয় বিমান বাহিনী - যার ফলে কোনও ক্ষতি বা ক্ষতি হয়নি।এসময় দুটি মিরাজ ২০০০ বিধ্বস্ত করে পাকিস্তান এয়ারফোর্স। একজন ভারতীয় পাইলটকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান আর্মি। [১৯][২০][২১][২২]

প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

চীন[সম্পাদনা]

চীন-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং বলেছেন, "আমরা আশা করি ভারতপাকিস্তান উভয়ই সংযমী ব্যবহার করবে এবং এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যা অঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত করতে সহায়তা করবে"।[২৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "India destroys JeM terror camps: Where exactly is Balakot?"বিজনেস টুডে। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  2. "India-Pakistan tension: Where is the real Balakot, the Indian Air Force target?"গালফ নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  3. "IAF Destroys Jaish-E-Mohammed Control Rooms, Launch Pads In Three Locations; Inflicts 200-300 Casualties: Reports"। Swarajya। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  4. "India Hits Main Jaish Camp In Balakot, "Non-Military" Strike: Government"NDTV.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-২৬ 
  5. "Indian jets bomb targets within Pakistan"www.news.com.au। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-২৬ 
  6. "Indian aircraft violate LoC, scramble back after PAF's timely response: ISPR"Dawn (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  7. "India says carried out air strike on 'terror camps' inside Pakistan"Reuters (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  8. "Pulwama attack: India will 'completely isolate' Pakistan"BBC (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  9. "Jaish terrorists attack CRPF convoy in Kashmir, kill at least 38 personnel"The Times of India। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  10. Pulwama Attack 2019, everything about J&K terror attack on CRPF by terrorist Adil Ahmed Dar, Jaish-eMohammad, India Today, 16 February 2019.
  11. Farmer, Ben; Bedi, Rahul (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "Indian planes bomb Pakistan as Kashmir tensions escalate"The Telegraph। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  12. "Twitter mocks Pakistan defence after IAF bombs terror launch pads in Balakot, Chakothi & Muzaffarabad | Trending & Viral News"web.archive.org। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  13. "IAF strike Pakistan, POK beyond LOC, Balakot Sector, Mirage planes live updates: Veteran actor Anupam Kher salutes PM Narendra Modi - NewsX"web.archive.org। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  14. "IAF jets strike and destroy Jaish camp across LoC, 200 killed: Sources" (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  15. Dawn.com (২০১৯-০২-২৬)। "Indian aircraft violate LoC, scramble back after PAF's timely response: ISPR"DAWN.COM (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-২৬ 
  16. "Full statement of Foreign Secretary Vijay Gokhale on air strikes on JeM's largest training camp in Balakot"Mumbai Mirror (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। 
  17. "Indian defense ministry says no information about air violations..."Reuters (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  18. Ghafoor, Maj Gen Asif (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "Indian aircrafts intruded from Muzafarabad sector. Facing timely and effective response from Pakistan Air Force released payload in haste while escaping which fell near Balakot. No casualties or damage."@OfficialDGISPR (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  19. Ghafoor, Maj Gen Asif (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "Indian aircrafts' intrusion across LOC in Muzafarabad Sector within AJ&K was 3-4 miles.Under forced hasty withdrawal aircrafts released payload which had free fall in open area. No infrastructure got hit, no casualties. Technical details and other important information to follow."@OfficialDGISPR (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  20. Ghafoor, Maj Gen Asif (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "Payload of hastily escaping Indian aircrafts fell in open.pic.twitter.com/8drYtNGMsm"@OfficialDGISPR (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  21. "Pakistan releases pictures of Indian Air Force payload"www.thenews.com.pk (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  22. Dawn.com (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "Indian aircraft violate LoC, scramble back after PAF's timely response: ISPR"DAWN.COM (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  23. "China urges India, Pakistan to 'exercise restraint' after air strike"The Economic Times। ২০১৯-০২-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-২৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]