২০১৯ পুলওয়ামা আক্ৰমণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
২০১৯ পুলওয়ামা আক্ৰমণ
জম্মু ও কাশ্মীরের বিদ্রোহ-এর অংশ
২০১৯ পুলওয়ামা আক্ৰমণ জম্মু ও কাশ্মীর-এ অবস্থিত
২০১৯ পুলওয়ামা আক্ৰমণ
২০১৯ পুলওয়ামা আক্ৰমণ (জম্মু ও কাশ্মীর)
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে হামলার অবস্থান
স্থানলেথপোরা, পুলওয়ামা জেলা, জম্মু ও কাশ্মীর, ভারত
স্থানাংক৩৩°৫৭′৫৩″ উত্তর ৭৪°৫৭′৫২″ পূর্ব / ৩৩.৯৬৪৭২° উত্তর ৭৪.৯৬৪৪৪° পূর্ব / 33.96472; 74.96444 (Attack location)স্থানাঙ্ক: ৩৩°৫৭′৫৩″ উত্তর ৭৪°৫৭′৫২″ পূর্ব / ৩৩.৯৬৪৭২° উত্তর ৭৪.৯৬৪৪৪° পূর্ব / 33.96472; 74.96444 (Attack location)
তারিখ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ (2019-02-14)
১৫:১৫ আইটি (ইউটিএস+০৫:৩০)
লক্ষ্যসেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স- এর নিরাপত্তা কর্মী
হামলার ধরনআত্মঘাতী আক্রমণ, গাড়ি বোমা হামলা
নিহত৪৭ সিআরপিএফ সদস্য, এক আক্রমণকারী
আহত৩৫
হামলাকারী দলজইশ-ই-মুহাম্মদ

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়কে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি গাড়িকে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের পুলওয়ামা জেলার লেথপোরায় (আবন্তিপোরারের কাছে) স্করপিও গাড়ি দ্বারা আত্মঘাতী বোমা হামলা করে সন্ত্রাসবাদীরা। এই হামলার ফলে ৪৮ জন সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) কর্মীর এবং আক্রমণকারীর মৃত্যু ঘটে।[১] এই হামলার দায় পাকিস্তান-ভিত্তিক ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মুহাম্মদ স্বীকার করেছে।[২]

পটভূমি[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে কাশ্মীরের শুরু হয় পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গিদের দ্বারা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে উচ্চ আত্মঘাতী হামলা। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে তিন বন্দুকধারী গুরুদাসপুরে একটি বাস ও থানায় হামলা চালায়। ২০১৬ সালের প্রথম দিকে চার থেকে ছয় জন বন্দুকধারীরা পঠনকোট এয়ার ফোর্স স্টেশনে আক্রমণ করেছিল।[৩] ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী ও জুন মাসে জঙ্গিরা যথাক্রমে পাম্পোরে নয় জন সৈনিক এবং আটজন নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যা করে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে চার জঙ্গি ১৯ জন সেনা সদস্যকে হত্যা করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেড সদর দফতর আক্রমণ করে। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর, লেথপোরাতে কমান্ডো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালায় জঙ্গিরা এবং পাঁচ জন নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যা করে। এই হামলা জম্মু কাশ্মীর জাতীয় মহাসড়কের আশেপাশে সংঘটিত হয়েছিল।[২]

আক্রমণ[সম্পাদনা]

নিহত কর্মী[১][৪][৫]
রাজ্য সংখ্যা
উত্তরপ্রদেশ ১২
রাজস্থান
পাঞ্জাব
পশ্চিমবঙ্গ
ওড়িশা
উত্তরাখণ্ড
বিহার
মহারাষ্ট্র
তামিলনাড়ু
আসাম
কর্ণাটক
জম্মু ও কাশ্মীর
হিমাচল প্রদেশ
কেরল
ঝাড়খণ্ড
মধ্যপ্রদেশ
সনাক্ত করা যায়নি এমন
মোট ৪৭

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, জম্মু থেকে শ্রীনগরের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)[২] এর ২,৫০০ জনের বেশি কর্মীকে ৭৫ টি গাড়িতে করে জাতীয় সড়ক ৪৪ ধরে আনা হয়ছিল। এই কনভটি ৩:৩০ টার দিকে জম্মু ছেড়ে চলে যায় এবং দুই দিন আগে মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কনভয়টি বিপুল সংখ্যক কর্মী বহন করে। সূর্যাস্তের পূর্বে কনভয়টির গন্তব্য পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল।[২]

১৫:১৫ টার দিকে আবন্তিপোরাের কাছে লেথাপোরাতে[৬] নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি বাসকে বিস্ফোরক পূর্ণ মহিমা স্কর্পিও এসইভি ধাক্কা দেয়। এতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ৭৬ তম ব্যাটালিয়নের কমপক্ষে ৪৬ জন সিআরপিএফ সদস্য নিহত এবং আরও অনেককে আহত হয়। আহতদের শ্রীনগরে সেনাবাহিনীর বেস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।[৭]

পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জাইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা কাকাপোরা থেকে ২২ বছর বয়স্ক একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ড্রপআউটের এক বছর আগে গোষ্ঠীটিতে যোগদানকারী আদিম আহমদ দার ওরফে আদিল আহমদ গাডি তাকনওয়ালা ওরফে ওয়াকাস কমান্ডোর একটি ভিডিও প্রকাশ করে।[২][৮][৯] পাকিস্তান জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং জাইশ-ই-মোহাম্মদ নেতা মাসুদ আজহার দেশে মুক্ত রয়েছে এখনও।[১০]

১৯৮৯ সালের পরে থেকে এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কর্মীদের উপর সবচেয়ে মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলা।[৬]

তদন্ত[সম্পাদনা]

জাতীয় তদন্ত সংস্থার ১২ সদস্যের দল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সাথে হামলার তদন্ত করবে।[১][২]

প্রাথমিক অনুসন্ধানের সুপারিশ অনুসারে গাড়ীতে ৩০০ কিলোগ্রাম (৬৬০ পাউন্ড) বিস্ফোরক,[২] সহ ৮০ কিলোগ্রাম (১৮০ পাউন্ড) আরডিএক্স ছিল, যা একটি উচ্চ বিস্ফোরক।[১১]

প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

ভারত[সম্পাদনা]

 ভারত: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করেছেন: "পুলওয়ামার সিআরপিএফ কর্মীদের উপর হামলা হতাশাব্যঞ্জক। আমি এই মারাত্মক আক্রমণকে দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাচ্ছি। আমাদের সাহসী নিরাপত্তা কর্মীদের আত্মত্যাগের বৃথা যাবেনা। সাহসী শহীদদের পরিবারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুরো জাতি দাঁড়িয়ে আছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতার প্রার্থনা করি"। তিনি আরও বলেন, "পুলওয়ামা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন সেই সকল সৈন্যদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তাদের সাহসের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এই আক্রমণের পরিবর্তে সন্ত্রাসীদের ভারী মূল্য পরিশোধ করতে হবে।" কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং আশ্বাস দিয়েছিলেন যে সন্ত্রাসী হামলায় শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।[২]

আন্তর্জাতিক[সম্পাদনা]

   নেপাল: প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ অলি নিরাপত্তা কর্মীদের মৃত্যুর শোক জানাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টেলিফোন করেন[১২]
 পাকিস্তান: বিদেশী কার্যালয়ের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে।[১৩]

ফ্রান্স, বাংলাদেশ, ভুটান এবং মালদ্বীপও সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে।[১৪]

আন্তর্জাতিক সংগঠন[সম্পাদনা]

 জাতিসংঘ: মহাসচিব আন্তোনিও গুয়েরেসের মুখপাত্র স্টেফেন ডুজারিক দৈনিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, "আমরা জম্মু ও কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলায় আজকের হামলার জোরালো ভাবে নিন্দা জানাচ্ছি এবং যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবার এবং সরকার ও ভারতের জনগণের জন্য গভীরতম সমবেদনা।"[১৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Punjab announces Rs 12 lakh compensation for families of martyred CRPF soldiers"Times Now (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০২-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-১৭ 
  2. "Jaish terrorists attack CRPF convoy in Kashmir, kill at least 38 personnel"The Times of India। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  3. Ankit Panda, Gurdaspur, Pathankot, and Now Uri: What Are India's Options?, The Diplomat, 19 September 2016.
  4. "Pulwama terror attack: Complete list of martyred CRPF jawans - Details inside"Times Now (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  5. "At 12, Highest Number of Jawans Martyred in Pulwama Hailed from UP"The Quint (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  6. "Deadliest Kashmir militant attack on troops"BBC News (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  7. "Pulwama attack: India will 'completely isolate' Pakistan"BBC (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  8. "India will 'completely isolate' Pakistan" (ইংরেজি ভাষায়)। BBC। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। 
  9. Sharma, Neeta (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। "Terrorist Lived 10 km From Site Where He Killed 40 Soldiers In Kashmir"NDTV। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  10. "How far might India go to 'punish' Pakistan?" (ইংরেজি ভাষায়)। BBC। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। 
  11. "Pulwama attack: Seven detained, 80 kg high-grade RDX used by Jaish terrorist"dna। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। 
  12. "Condolences pour in from across the globe for Pulwama terror attack"India Today। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  13. "Pulwama attack 'matter of grave concern': Pakistan"The Times of India। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  14. "US, Russia, France & India's neighbours extend solidarity and support after Pulwama attack"The Economic Times। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। 
  15. "UN Chief Condemns Pulwama Terror Attack"। NDTV। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯