হাইসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হাইসন
প্রকারসবুজ
উৎপত্তিস্থলচীন
রংসবুজ

হাইসন, বা সৌভাগ্যবান ড্রাগন চা, হচ্ছে চীনের আনহুই প্রদেশের একটি চৈনিকসবুজচা। এটি কচি পাতার থেকে তৈরি করা হয় যা সরু করে বলে লম্বা করা হয়, এর পাকানো আকৃতি হালকাভাবে ঘূর্ণিত হয়। খুব সম্ভবত হাইসন একটি ক্যান্টনীয় নাম (চীনা: 熙春茶; জিউটপিং: hei1ceon1caa4) থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যা আক্ষরিক অর্থে "সমৃদ্ধ বসন্ত চা", যদিও এ নিয়ে একটি কথা প্রচলিত আছে যে এটি একজন ইংরেজ চা বণিক, ফিলিপ হাইসনের নাম থেকে এসেছে।[১][২] হাইসন চাকে নিম্নলিখিত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে: মি সি, চেং সি এবং ফু সি।

হাইসন চাকে প্রায়ই একটি নিম্ন মানের বা মধ্যম মানের চা হিসাবে চিন্তা করা হয়, যখন কচি হাইসনকে উচ্চ মানের বিবেচনা করা হয়। এটি আগেভাগেই তোলা হয়, "বর্ষা কালের আগেই," এবং একটি পূর্ণবিস্তৃত, তীব্র স্বাদযুক্ত এবং সোনালী রঙের হয়ে থাকে।[৩] কচি হাইসন চা , চুন মে (একটি শক্ত, ছোট, জটবাধা পাতা), ফোং মী (দীর্ঘ, বড়, কোঁকড়ানো পাতা), সো মে (একটি ছোট, অ-কঠিন, জটবাধা পাতা) এবং অন্য বিভাজিত উপশ্রেণীতে বিভক্ত। এটিকে কখনও কখনও প্রথম, দ্বিতীয়, এবং তৃতীয় কচি হাইসন হিসেবেও শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। কচি হাইসনের জন্য চীনা নাম হল- ইয়ু চিন চা এবং নিম্নোক্ত শ্রেণীতে শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছেঃ মি ইয়ু, ও ইয়ু, আই ইয়ু, ইয়া ইয়ু এবং সি ইয়ু।

প্রস্তুত পদ্ধতি[সম্পাদনা]

হাইসন প্রস্তুত করতে, ৬ আউন্সের কাপের জন্য ১ চা-চামচ ব্যবহার করুন, স্ফুটনাংকের নিচে পানি ব্যবহার করুন, এবং ২-৩ মিনিটের জন্য জ্বাল দিন।[১]

হাইসন চাকে হালকা, উষ্ণ, মসৃণ, ভাল-আকৃতির, মাটিসদৃশ, স্নিগ্ধ, এবং প্রাণবন্ত স্বাদ হিসাবে বর্ণিত করা হয়েছে। এটাকে গরম বা জমাটবদ্ধ বরফের মতো করে পরিবেশন করা যেতে পারে। এতে দুধ এবং চিনি সাধারণত যোগ করা হয় না, এবং এগুলো হাইসন চায়ের স্বাদ হ্রাস করে দেয় বলে মনে করা হয়, তবে ঠান্ডা হাইসন চা প্রায়ই চুন বা লেবু দিয়ে সুশোভিত করে পরিবেশন করা হয়।

ঐতিহাসিক এবং সাহিত্যিক উল্লেখ[সম্পাদনা]

প্রায়শই মধ্যম মানের বিবেচনা করা হলেও, ১৮ শতকের ব্রিটিশরা হাইসন চাকে অত্যন্ত মূল্যবান বলে প্রশংসা করত এবং অন্যান্য চায়ের তুলনায় হাইসন চায়ের জন্য ট্যাক্স বেশি দিতে হত। বোস্টন টি পার্টির সময়কালে হাইসান চা, যা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এমন তিনশরো অধিক চা সিন্ধুকের থেকে ১৫টি চায়ের প্রতিনিধিত্ব করে।

হাইসন চা’কে ১৮৪৭ সালের রালফ ওয়াল্ডো এমারসনের "জিনোফেনস" এর প্রথম স্তবকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন: "ভাগ্য ক্রমে, বিকল্প পথে নয়, সাবধানী প্রকৃতি হাইসনকে এবং প্রাচীর-ফুলে এক সুগন্ধি দিয়েছে, আঙ্গুর-লতা ও জলপ্রপাতের এক শব্দ, মরুভূমি এবং হ্রদের থেকে এক অবয়ব।"[৪]

ইংরেজ প্রবন্ধকার চার্লস ল্যাম্ব তাঁর প্রবন্ধ "ওল্ড চায়নাতে" হাইসন চা’কে উল্লেখ করেছেন, যা এলিয়ার প্রবন্ধ (১৮৩৫ সালে প্রকাশিত, এলিয়াসের শেষ প্রবন্ধে) সংষ্করণে প্রকাশিত হয়: গত সন্ধ্যায় আমি আমার চাচাত ভাইয়ের কাছে ইঙ্গিত করেছিলাম, আমাদের হাইসন শেষ হওয়াতে (যা আমরা তখনও এক বিকালে পুরাতন চলনে যথেষ্ট পান করি) এই স্পেসিওসা মিরাকুলায় কিছু অসাধারণ পুরানো নীল চীনা পাত্রের উপর।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Nottinghall"। Nottinghall.com। ২০০২-০৭-২৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৪-২৩ 
  2. "Monticello tea shop"। ১৩ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৭ 
  3. "Teas of Yore: Bohea, Hyson and Congou"। Teamuse.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৪-২৩ 
  4. "Ralph Waldo Emerson: Xenophanes"। Infoplease.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৪-২৩