স্পেনের ভূগোল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্পেনের ভূগোল
মহাদেশইউরোপ
অঞ্চলদক্ষিণ ইউরোপ
ইবেরীয় উপদ্বীপ
উপকূলরেখা
সীমানা১,৯১৭.৮ কিমি (১,১৯১.৭ মা)
পর্তুগাল:
১,২১৪ কিমি (৭৫৪ মা)
ফ্রান্স:
৬২৩ কিমি (৩৮৭ মা)
অ্যান্ডোরা:
৬৩.৭ কিমি (৩৯.৬ মা)
মরক্কো (মেলিলা):
৯.৬ কিমি (৫.৯৭ মা)
মরক্কো (সিউটা):
৬.৩ কিমি (৩.৯১ মা)
জিব্রাল্টার:
১.২ কিমি (০.৭৫ মা)
সর্বোচ্চ বিন্দুটেইডে (কানারি দ্বীপপুঞ্জ)
৩,৭১৮ মি (১২,১৯৮ ফু)
মুলহাসেন (ইবেরীয় উপদ্বীপ)
৩,৪৭৭ মি (১১,৪০৭ ফু)
সর্বনিম্ন বিন্দুআটলান্টিক মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর
০ মি (০ ফু) (সমুদ্র সমতল)
দীর্ঘতম নদীটেগাস
বৃহত্তম হ্রদলাগো ডি সানাব্রিয়া
ডি. টমাস লোপেজ প্রকাশিত মানচিত্র থেকে সংশোধিত ও উদ্দীপিত স্পেন এবং পর্তুগালের মানচিত্র (১৮১০)।

স্পেন হ'ল দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপ এ অবস্থিত একটি দেশ। দেশটি ইবেরীয় উপদ্বীপের বেশিরভাগ (প্রায় ৮২ শতাংশ) অংশ নিয়ে গঠিত। এতে ফ্রান্সের অভ্যন্তরে ল্লেভিয়া নামে একটি ছোট বহিঃক্ষেত্র এর পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরে বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ, আটলান্টিক মহাসাগর এর উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ১০৮ কিমি (৬৭ মা) দূরে অবস্থিত ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং রয়েছে পাঁচটি সার্বভৌম স্থান (প্লাজাস ডি সোবারানিয়া) যা উত্তর আফ্রিকা উপকূলে এবং তার বাইরে অবস্থিত। এগুলির নাম: সিউটা, মেলিলা, ইসলাস চাফারিনাস, পেনন ডি আলহুচেমাস এবং পেনন দে ভেলেজ দে লা গোমেরা

স্পেনীয় মূল ভূখণ্ড দক্ষিণ ও পূর্ব দিক প্রায় ভূমধ্যসাগর দ্বারা সীমাবদ্ধ (ব্রিটিশদের ছোট্ট জিব্রাল্টার অঞ্চল বাদে), উত্তরে ফ্রান্স, অ্যান্ডোরা, বিস্কায়া উপসাগর এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর এবং পর্তুগাল দ্বারা সীমাবদ্ধ। ইবেরীয় উপদ্বীপের ৫,০৪,৭৮২ বর্গকিলোমিটার (১,৯৪,৮৯৭ মা) ভূখন্ড সহ [১] স্পেন হ'ল দক্ষিণ ইউরোপ এর বৃহত্তম দেশ, পশ্চিম ইউরোপ এর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ (ফ্রান্সের পরে) এবং ইউরোপীয় মহাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ (রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ফ্রান্সের পরে)। এর গড় উচ্চতা ৬৫০ মি।

স্পেনীয় দ্বীপ অঞ্চল সহ দেশটির মোট আয়তন ৫,০৫,৩৭০ কিমি (১,৯৫,১২৪ মা) যার মধ্যে স্থলভাগ হ'ল ৪,৯৯,৫৪২ কিমি (১,৯২,৮৭৪ মা) এবং জলভাগ ৫,২৪০ কিমি (২,০২৩ মা)। [২] এখানে ৩০ তম বৃহত্তম একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে যার আয়তন ১০,৩৯,২৩৩ কিমি (৪,০১,২৫০ মা)। স্পেনের অক্ষাংশ ২৭° এবং ৪৪° উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ১৯° পশ্চিম এবং ৫° পূর্ব এর মধ্যে অবস্থিত। দেশটির আটলান্টিক উপকূলের দৈর্ঘ্য হল ৭১০ কিমি (৪৪১ মা)। দেশটিতে ভূমধ্যসাগর থেকে বিস্কায়া উপসাগর পর্যন্ত ৪৩৫ কিমি (২৭০ মা) পাইরেনিস পর্বতমালা প্রসারিত রয়েছে। স্পেনের মূল ভূখণ্ডের সর্ব্বো দক্ষিণে অবস্থিত জিব্রাল্টার প্রণালী যা ইবেরীয় উপদ্বীপ এবং বাকী ইউরোপকে উত্তর আফ্রিকার সিউটা এবং মরক্কো থেকে পৃথক করেছে।

নিষ্কাশন, বন্যা এবং জলের চাপ[সম্পাদনা]

মহাদেশীয় স্পেনের নদীর অববাহিকা

স্পেনের প্রায় ১,৮০০ নদী এবং স্রোতধারার মধ্যে কেবল টোগাস নদী ৯৬০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ। বাদবাকি সমস্ত কম-বেশি ৯০ থেকে ৯৬ কিলোমিটারের চেয়ে কম দীর্ঘ। এই ছোট সংক্ষিপ্ত নদীগুলি অনিয়মিতভাবে অল্প পরিমাণে জল বহন করে এবং মরসুম কালে শুকনো নদীর চর পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে যখন তারা প্রবাহিত হয় তখন তারা প্রায়ই দ্রুত এবং প্রবলধারায় বাহিত হয়। বেশিরভাগ প্রধান নদী পর্বতমালার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বা মেসেতা সেন্ট্রালকে ভেদ করে পর্তুগাল এর মালভূমি পেরিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে আটলান্টিক মহাসাগর এ উন্মুক্ত হয়েছে। একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম হ'ল স্পেনের সর্বাধিক পরিমাণে প্রবাহিত নদী এবরো। সেটি পূর্ব দিকে ভূমধ্যসাগর এর দিকে প্রবাহিত হয়েছে। সবচেয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকের এবং সরু উত্তরের উপকূলীয় সমভূমির নদীগুলি সরাসরি আটলান্টিক মহাসাগরে গিয়ে পড়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলরেখার রিয়াস, জলাশয় একইভাবে সমুদ্রের খাঁড়িতে গিয়ে মিশেছে।[৩]

মেসেতা সেন্ট্রাল দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত প্রধান নদীগুলির মধ্যে রয়েছে দোরু, টেগাস, গুয়াদিয়ানা এবং গুয়াদালকিবির। রিও গুয়াদালকিবির স্পেনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নদী। এর দ্বারা স্পেনের উর্বর উপত্যকায় সেচকার্য চলে। ফলে একটি সমৃদ্ধ কৃষিক্ষেত্র তৈরি হয়েছে এবং এটি অভ্যন্তরীণ চলাচলযোগ্য হওয়ায় স্পেনের সমুদ্রগামী পথে একমাত্র অভ্যন্তরীণ নদী বন্দর সেভিলে তৈরি হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান নদী হ'ল মিনো[৪][তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

জল সরবরাহ করার জন্য মাদ্রিদ এর নিকটে নির্মিত একটি প্রধান জলাধার হ'ল এল আতাজার বাঁধ

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

উদ্ধৃতি[সম্পাদনা]

  1. Eur (৩০ নভেম্বর ২০০২)। Western Europe 2003। Psychology Press। পৃষ্ঠা 559। আইএসবিএন 978-1-85743-152-0 
  2. "Spain"The World Factbook। Central Intelligence Agency। ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  3. "Spain - Rivers"countrystudies.us। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০১৭ 
  4. Lagasse, Paul, সম্পাদক (২০১৮)। The Columbia Encyclopedia (8th সংস্করণ)। Columbia University: Columbia University Press – Credo Reference-এর মাধ্যমে। 

সূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

স্থানাঙ্ক: ৪০°০০′ উত্তর ৪°০০′ পশ্চিম / ৪০.০০০° উত্তর ৪.০০০° পশ্চিম / 40.000; -4.000