সেইন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
সেইন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয়
200px
সেন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ
অবস্থান
৮২,মিউনিসিপ্যাল অফিস ষ্ট্রীট লক্ষ্মীবাজার ,ঢাকা-১১০০।
বাংলাদেশ
তথ্য
ধরন বেসরকারী
প্রতিষ্ঠাকাল ১৮৮২ সাল
প্রধান শিক্ষক Rev. Brother Prodip Placid Gomes C.S.C.
শ্রেণী শ্রেণী ১-১২
ওয়েবসাইট

সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল এন্ড কলেজ , বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ । এটি পুরোন ঢাকার লক্ষীবাজারে অবস্থিত।এ বিদ্যালয়ের রয়েছে এক বিশাল ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস।১৮৮২ সালে আমেরিকান মিশনারীদের দ্বারা এই বিদ্যালয় এর জন্ম। ঢাকার নটরডেম কলেজ-এর জন্ম এই স্থানেই। ১৯৫৩ সালে এখানকার ক্যাম্পাস থেকে নটরডেম কে সরিয়ে মতিঝিল এ স্থানান্তরিত করা হয় এবং একে সেন্ট গ্রেগরী উচ্চ বিদ্যালয় হতে আলাদা করে দেয়া হয়। ১৯১২ সালে সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস হাই স্কুল প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এখানে ছেলে ও মেয়ে এক সাথে পড়াশুনা করত। পরর্বতীতে এটি বয়েজ স্কুল এ পরিণত হয়।বাংলাদেশ স্কাউটের সূচনা হয় এখানেই ১৯১৪সালে।অপরদিকে ১৯২৩ সালে এই স্কুল এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে বাস্কেটবল খেলার প্রচলন হয়।দেশ বিভক্তির আগে সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুলে শুধু ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা হতো। পরে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর এখানে বাংলা মিডিয়ামের পড়াশোনা শুরু করা হয় ।১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখানে ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়া হয় ।শুধু বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা চলতে থাকে ।তবে ২০০৮ সালের দিকে আবার ইংরেজি ভার্সন চালু করা হয়।২০১৬ সালে স্কুলটিকে কলেজে উন্নতি করা হয় ।

৩১ শে মার্চ এই স্কুলের ইতিহাসে এক বেদনাময় দিন।১৯৭১ সালের এই দিন এই স্কুলের প্রাঙ্গণ থেকে ছাত্র,শিক্ষক ৩০ জন কে পাক হানাদার বাহিনী জগন্নাথ কলেজ সংলগ্ন আর্মি ক্যাম্প এ ধরে নিয়ে যায় ও নির্মম ভাবে হত্যা করে ।এই দিন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক পি ডি কস্তা সহ আরো একাধিক শিক্ষক কে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় ।।প্রতি বছর এই দিন টিতে তাই তাদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা অর্পণ করে এই প্রতিষ্ঠানটি।।

ফাদার গ্রেগরী ডি গ্রুট এর প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বর্তমান প্রধান শিক্ষক এর নাম ব্রাদার ব্রাদার প্রদীপ প্লাসিড গোমেজ সি, এস, সি। এটা বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই অমর্ত্য সেন, বিকে চৌধুরী,কামাল হোসেন চৌধুরীদের মত গুণীজনেরা বেরিয়েছেন। তাছাড়া, এ স্বনামধন্য বিদ্যালয়েরই ছাত্র ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ যিনি কিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুখ্য অবদান রেখেছিলেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বিখ্যাত ব্যান্ড শিরোনামহীনের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জিয়া ও এই স্কুলেরই ছাত্র ছিলেন। এছাড়া ড.জামিলুর রেজা চৌধুরী এই স্কুল এর সুযোগ্য সন্তান ।।