সিস পার্কিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সিস পার্কিন
Cecil Parkin 1922 card.jpg
১৯২২ সালের কার্ডে সিস পার্কিন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামসিসল হ্যারি পার্কিন
জন্ম(১৮৮৬-০২-১৮)১৮ ফেব্রুয়ারি ১৮৮৬
ঈগলসক্লিফ, স্টকটন-অন-টিস, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১৫ জুন ১৯৪৩(1943-06-15) (বয়স ৫৭)
চিদাম হিল, ম্যানচেস্টার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৮২)
১৭ ডিসেম্বর ১৯২০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১০ ১৯৭
রানের সংখ্যা ১৬০ ২৪২৫
ব্যাটিং গড় ১২.৩০ ১১.৭৭
১০০/৫০ -/- -/৪
সর্বোচ্চ রান ৩৬ ৫৭
বল করেছে ২০৯৫ ৪২১০১
উইকেট ৩২ ১০৪৮
বোলিং গড় ৩৫.২৫ ১৭.৫৮
ইনিংসে ৫ উইকেট ৯৩
ম্যাচে ১০ উইকেট ২৭
সেরা বোলিং ৫/৩৮ ৯/৩২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/- ১২৬/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

সিসল হ্যারি সিস পার্কিন (ইংরেজি: Cec Parkin; জন্ম: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৬ - মৃত্যু: ১৫ জুন, ১৯৪৩) স্টকটন-অন-টিসের ঈগলসক্লিফ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯২০ থেকে ১৯২৪ সময়কালে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি অফ ব্রেক বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকরী ব্যাটিং করতেন সিস পার্কিন

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে ১৫৭টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯০৬ সালে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এরপর অবশ্য জানা যায় যে, তিনি ঐ কাউন্টির সীমারেখার বিশ গজ বাইরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[১] তার বিষয়ে ছাড়াও অনেক ক্রিকেটারই কাউন্টি সীমানায় জন্মগ্রহণ না করা সত্ত্বেও ইয়র্কশায়ারের পক্ষে অংশগ্রহণে করেছিলেন। তাসত্ত্বেও পরবর্তী আট বছর লীগ ও মাইনর কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপর তিনি ল্যাঙ্কাশায়ার ক্লাবে যোগ দেন। ১৯১৪ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত ওল্ড ট্রাফোর্ডে খেলেন।

১৯১৪ সালে লিভারপুলের রেড রোজে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ১৪ উইকেট পেয়েছিলেন। এ সময় তার বয়স ছিল ২৮। ১৯১৯ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত গোলাপের খেলায় মাত্র ১০ গড়ে ১৪ উইকেট পেয়েছিলেন। এছাড়াও, ১৯২০ সালে ওভালে প্লেয়ার্সের খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম ইনিংসে ৮৫ রান খরচায় ৯ উইকেট পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ছয়জনই পরিষ্কার বোল্ড হয়েছিলেন। ১৯২১ সালে ৩৪ বছর বয়সে পরিপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে আবির্ভূত হন। ঐ সময়ে শনিবাসরীয় লীগে ল্যাঙ্কাশায়ারের সদস্যরূপে সমান তালে অংশ নিতে থাকেন।

১৯২৩ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারে থাকাকালে সেরা বোলারে পরিণত হন। ১৬.৯৪ গড়ে ২০৯ উইকেট ও ১৯২৪ সালে ১৩.৬৭ গড়ে ২০০ উইকেট তুলে নেন। কিন্তু, ১৯২৫ সালে ২০.৭৯ গড়ে মাত্র ১২১ উইকেট পান। টেড ম্যাকডোনাল্ডডিক টিল্ডসলে ল্যাঙ্কাশায়ারের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ বিভাগ গড়ে তুললে ইয়র্কশায়ারের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের একাধিপত্যবাদ শেষ হতে শুরু করে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১০টি টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ১৭ ডিসেম্বর, ১৯২০ তারিখে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৯২১ সালে তিনি ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলীয় দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজে বোলিং গড়ে শীর্ষস্থান অধিকার করেন। ১৯২১ সালের শীতকালে অস্ট্রেলিয়া গমনের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। অ্যাডিলেড টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫/৬০ নিলেও ইংল্যান্ডের কষ্টার্জিত রাবার জয়ের স্বপ্নে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেননি। ঐ সফরে তিনি ইংল্যান্ডের সর্বাপেক্ষা সফলতম বোলারে পরিণত হয়েছিলেন। সকল প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২১ গড়ে ৭৩ উইকেট দখল করেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮ টেস্টে অংশ নিলেও কোনবারই বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেননি। স্বল্প কয়েকজন ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে বোলিং ও ব্যাটিং - উভয় বিভাগেই উদ্বোধনে নেমেছিলেন। অংশগ্রহণকৃত মাত্র ১০ টেস্ট খেলাকালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবিস্মরণীয় স্পিন বোলিং করেছিলেন সিস পার্কিন। ড্র হওয়া ঐ টেস্টে ৫/৩৮ পেয়েছিলেন। অস্ট্রেলীয় এইচ. এল. কলিন্স সাত ঘন্টায় ৪০ রান তোলার পর এলবিডব্লিউতে বিদায় করেন। ১৮৭ রানে এগিয়ে থেকে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন তিনি।

১৯২৪ সালে এজবাস্টন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে ইনিংস ও ১৮ রানের ব্যবধানে জয়ী ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। আর্থার জিলিগান ৬/৭, মরিস টেট ৪/১২ পেলে সফরকারীরা মাত্র ৩০ রানে গুটিয়ে যায়। ফলো অনের কবলে পড়লে আবারও তিনি এ সুযোগ পান।

অবসর[সম্পাদনা]

ইংরেজ অধিনায়ক আর্থার জিলিগানের বিষয়ে সংবাদপত্রে সমালোচনাধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে ইংল্যান্ড দল থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়। এর দুই বছর বাদে ল্যাঙ্কাশায়ার কর্তৃপক্ষের সাথে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটকে বিদেয় জানান তিনি। ল্যাঙ্কাশায়ার থেকে চলে আসার পর লীগ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন সেক পার্কিন। সেখানেও তিনি ক্রমাগত অনেকগুলো বছর ব্যাপকসংখ্যক উইকেট লাভে স্বীয় সক্ষমতা তুলে ধরেছিলেন।

১৯২৫ সালে মিডলসেক্সের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলায় আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্যে মনোনীত হন ও ১,৮৮০ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেন। ১৯২৬ সালে এগারোটি কাউন্টি খেলায় অংশ নিয়ে ১৫.১৩ গড়ে ৩৬ উইকেট পান। এরফলে তার দল ১৯০৪ সালের পর প্রথমবারের মতো কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা লাভ সক্ষম হয়। কিন্তু, ৪০ বছর বয়সে দুঃখজনকভাবে দর্শকের সাথে বিবাদ ঘটে ও পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষে সাথে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হলে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টানতে হয়।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

মহান যুদ্ধের কারণে তার খেলোয়াড়ী জীবনের মূল্যবান চারটি বছর নষ্ট হয়ে যায়। মাঝারী গড়ন ও শীর্ণকায় ছিলেন। বল শূন্যে ভাসিয়ে বোলিং করতেন ও বাঁকে ব্যাটসম্যানকে আউট করতেন। প্রয়োজনে অধিনায়কের চাহিদামাফিক আক্রমণধর্মী ফিল্ডিং সাজাতেন সিস পার্কিন। নিষ্প্রাণ পিচে সেরা ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে তিনি বেশ নাকানি-চুবানি খেতেন। তবে, নিজের সেরা দিনগুলোয় যে-কোন দলের বিপক্ষে তিনি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতেন। বিশ্রাম কক্ষে বিশাল হৃদয়ের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। কিন্তু, স্পষ্টতর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রায়শই কর্তৃপক্ষের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়তেন। তেমন দক্ষতা না থাকলেও আনঅর্থোডক্স ও সৃজনশীল ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি পান। ক্রিকেট দিনগুলোকে ঘিরে গ্রন্থ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি যাদুবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।[২]

ঘরোয়া ক্রিকেটে অসামান্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯২৪ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

স্বীয় স্ত্রীকে সাথে নিয়ে নতুন ধরনের বলের পরীক্ষা জালবদ্ধ স্থানে চালাতেন। প্রায়শই আঙ্গুলের শুশ্রুসার জন্যে স্ত্রী বাড়ীতে পাঠিয়ে দিতেন।

১৫ জুন, ১৯৪৩ তারিখে ৫৭ বছর বয়সে ম্যানচেস্টারের চিদাম হিল এলাকার একটি হাসপাতালে সিস পার্কিনের দেহাবসান ঘটে। তার সন্তান রেজিনাল্ড পার্কিনও ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

রচনাসমগ্র[সম্পাদনা]

  • Cricket Reminiscences: Humorous and Otherwise (1923)
  • Parkin Again: More Cricket Reminiscences (1925)
  • Cricket Triumphs and Troubles (1936)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "An unwanted nose job"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  2. "Obituaries in 1943"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০১৮ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]