সিডনি স্মিথ (ক্রিকেটার, জন্ম ১৮৮১)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সিডনি স্মিথ
সিডনি স্মিথ.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামসিডনি গর্ডন স্মিথ
জন্ম(১৮৮১-০১-১৫)১৫ জানুয়ারি ১৮৮১
স্যান ফার্নান্দো, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো
মৃত্যু২৫ অক্টোবর ১৯৬৩(1963-10-25) (বয়স ৮২)
অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৮৯৯/১৯০০-১৯০৫/০৬ত্রিনিদাদ
১৯০৭-১৯১৪নর্দাম্পটনশায়ার
১৯১৭/১৮-১৯২৫/২৬অকল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২১১
রানের সংখ্যা ১০৯২০
ব্যাটিং গড় ৩১.২৮
১০০/৫০ ১৪/৬০
সর্বোচ্চ রান ২৫৬
বল করেছে ৪০৩৯৬
উইকেট ৯৫৫
বোলিং গড় ১৮.০৮
ইনিংসে ৫ উইকেট ৭১
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৯
সেরা বোলিং ৯/৩৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৫৬/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সিডনি গর্ডন স্মিথ (ইংরেজি: Sydney Smith; জন্ম: ১৫ জানুয়ারি, ১৮৮১ - মৃত্যু: ২৫ অক্টোবর, ১৯৬৩) ত্রিনিদাদের স্যান ফার্নান্দো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ত্রিনিদাদ, নর্দাম্পটনশায়ারঅকল্যান্ড দলের পক্ষে খেলেছেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকা পালন করতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন সিডনি স্মিথ

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

বামহাতি মাঝারীসারির বামহাতি ব্যাটসম্যান ও বামহাতি স্পিন বোলার হিসেবে খেলতেন। তার বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজে থাকাকালীন ত্রিনিদাদের, ইংল্যান্ডে থাকাকালীন নর্দাম্পটনশায়ারের এবং নিউজিল্যান্ডে থাকাকালীন অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১৯১০-১১১৯১২-১৩ মৌসুমে এমসিসি’র সদস্য হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে যান। এছাড়াও নিউজিল্যান্ডের সদস্যরূপে এমসিসিঅস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজে[সম্পাদনা]

১৮৯৯-১৯০০ মৌসুমে আন্তঃঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতায় ত্রিনিদাদের পক্ষে সর্বপ্রথম অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তী কয়েক মৌসুম মূলতঃ বোলার হিসেবে প্রভূতঃ সফলতা পান। ১৯০১-০২ মৌসুমে রিচার্ড বেনেটের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ডের টেস্ট খেলোয়াড় বার্নার্ড বোসানকুয়েত, ফ্রেডরিক ফেনরকলি উইলসন সমৃদ্ধ ত্রিনিদাদে সফরকারী দলের বিপক্ষে সম্মিলিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পক্ষে খেলেন। প্রথম ইনিংসে ৯/৩৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৫১ পান। তিন বছর পর লর্ড ব্রাকলি’র দলের বিপক্ষে ত্রিনিদাদে পুণরায় সম্মিলিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্যরূপে অংশ নেন।

১৯০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় একাদশের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। সফরের পূর্বে তাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা শৌখিন বোলাররূপে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।[১] বামহাতে ধীরগতিতে বোলিং করার পাশাপাশি ব্যাটহাতেও তার বেশ দক্ষতা ছিল। স্লিপ অঞ্চলে দারুণ ফিল্ডিংয়ে অভ্যস্ত ছিলেন।[২] সফরে তার ভূমিকা ছিল দারুণ। বিশেষ করে দূর্বল দলের বিপক্ষে। ৪টি প্রথম-শ্রেণীর ও ৪টি ক্ষুদ্রতর দলের বিপক্ষে সাত শতাধিক রান ও ৫০-এর বেশী উইকেট পান। এরপর থেকেই তার ব্যাটিং দূর্বলতর হতে থাকলেও বল হাতে ঠিকই সফলতা পেয়েছেন। তন্মধ্যে, চূড়ান্ত খেলায় নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ১২ উইকেট পেয়েছিলেন।

ইংল্যান্ডে[সম্পাদনা]

১৯০৬ সালের সফরের পর তিনি ইংল্যান্ডে অবস্থান করেন ও কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলার যোগ্যতা লাভ করেন। দুই বছর অবস্থানকালীন সময়ে তিনি কেবলমাত্র সফরকারী দলের বিপক্ষে খেলার অনুমতি পান। ১৯০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০ উইকেট এবং ফিলাডেলফিয়ান দলের বিপক্ষে ২৩ ও অপরাজিত ৭৬-সহ ৯ উইকেট নেন।

নিউজিল্যান্ডে[সম্পাদনা]

পুণরায় স্থান পরিবর্তন করে নিউজিল্যান্ডে চলে আসেন। ১৯১৭-১৮ মৌসুম থেকে ১৯২৫-২৬ মৌসুমে অবসর নেয়ার পূর্ব-পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৯১৯-২০ মৌসুমে অকল্যান্ডের পক্ষে খেলেন ও ক্যান্টারবারির বিপক্ষে নিজস্ব সর্বোচ্চ ২৫৬ রান তুলেন। পরের খেলায় ওয়েলিংটনের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৮/৫৫ পান ও খেলায় ১৩ উইকেট দখল করেন। ১৯২০-২১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্য নিউজিল্যান্ড দলের সদস্য হন। ১৯২২-২৩ মৌসুমে এমসিসি ও ১৯২৩-২৪ মৌসুমে সফরকারী নিউ সাউথ ওয়েলস দলের বিপক্ষে খেলেন। তিনি তার উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে লেগ-ব্রেক বল করতেন ও ব্যাট হাতে কিছু দর্শনীয় খেলা উপহার দিতেন। তখন তার বয়স ত্রিশের মাঝামাঝি ছিল।[৩] সর্বমোট পাঁচবার নিউজিল্যান্ড ও ২৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

তার কাকা ফ্রেডরিক ও অগাস্টাস স্মিথ আন্তঃঔপনিবেশিক ক্রিকেটের শুরুর দিকে বার্বাডোসের পক্ষে খেলেছেন। ২৫ অক্টোবর, ১৯৬৩ তারিখে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে তার দেহাবসান ঘটে।

১৯১৪ সালে চমকপ্রদ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করায় উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন সিডনি স্মিথ। ২০১৪ সালে বিল ফ্রান্সিস কর্তৃক ‘ক্রিকেটস মিস্ট্রি ম্যান: দ্য স্টোরি অব সিডনি গর্ডন স্মিথ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এমসিসি, নিউজিল্যান্ড’ অস্ট্রেলিয়ায় প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Cricket - A Weekly Record of the Game, 1906 page 178
  2. The West Indian Tour of England 1906 by Gerry Wolstenholme, page 8
  3. New Zealand Cricket, Volume II 1914-1933, T.W. Reese, 1936, page 38

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]