সিজারিয়ান সেকশন

সিজারিয়ান সেকশন (ইংরেজি: Caesarean section বা মার্কিন ইংরেজিতে Cesarean section), যা সি-সেকশন (C-section) বা সিজার (Caesar) নামেও পরিচিত। এটি এক প্রকার শল্যচিকিৎসা যা এক বা একাধিক শিশু জন্মদানের জন্য মায়ের উদর ও জরায়ুতে করা হয়। এটি সাধারণত করা হয় তখন, যখন প্রাকৃতিক নিয়মে জন্মনালির মাধ্যমে যোনীয় প্রসব সম্ভব হয় না, বা সম্ভব করতে গেলে মায়ের বা শিশুর, জীবন বা স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। যদিও বর্তমান সময়ে প্রাকৃতিক পন্থায় জন্মদান সম্ভব হলেও অনেক মা সিজারিয়ানের মাধ্যমে শিশু জন্মদানের জন্য অনুরোধ করেন। [১][২][৩] বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পরামর্শ দেয় যে, কোনো দেশের সিজারিয়ানের মাধ্যমে শিশু জন্মদানের হার, যেন মোট জন্মহারের ১৫%-এর বেশি না হয়।[৪]
সিজার করতে প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে।[৫] এটি মেরুদন্ড ব্লকের মাধ্যমে করা যেতে পারে যে ব্যবস্থায় গর্ভবতীকে ঘুম পাড়ানো হয় না বা সাধারণ মাত্রার এনেস্থেশিয়া প্রয়োগকৃত অবস্থায় থাকে।[৫] প্রস্রাব নিঃস্কাষনের জন্য ক্যাথিটার ব্যবহৃত হয়। পেটের চামড়া এন্টিসেপটিক দ্বারা পরিষ্কার করা হয়।[৫] তারপর প্রায় ৬ ইঞ্চি পরিমাণ (প্রায় ১৫ সেমি) তলপেটের অংশে অপারেশন করেন একজন অভিজ্ঞ শল্যবিদ।[৫] তারপর জরায়ুতেও একইভাবে অপারেশনপূর্বক শিশুকে বের করে আনা হয়।[৫] তারপর চামড়া সেলাই করে জোড়া দেয়া হয়।[৫] অপারেশনের পরপরই সদ্য মাকে অপারেশন কক্ষের বাইরে নিয়ে আসা হয় তখন তিনি যদি সজাগ থাকেন তবে শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে পারেন।[৬] তবে পরিপূর্নভাবে সুস্থ হতে গেলে হাসপাতালে কয়েকদিন থাকতে হতে পারে।[৫]
কম-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সিজারের ফলাফল সামান্য অসন্তোষজনক হতে পারে।[৭] কেননা সাধারণ সন্তান জন্মদান প্রক্রিয়া থেকে অপারেশনের ক্ষেত্রে প্রায় ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে পুরোপুরি ভাল হবার জন্য।[৫] অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে আছে শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, মায়ের মধ্যে অ্যামনিওটিক তরল রক্তে মিশে যাওয়া এবং প্রসবকালীন রক্তপাত ইত্যাদি।[৭] নির্দেশনা অনুযায়ী, গর্ভধারণের ৩৯ সপ্তাহ পার হবার আগে কোনও কারণ ছাড়া সীজারিয়ান উপায়টি ব্যবহার করা উচিত কাজ নয়।[৮] এ পদ্ধতির ডেলিভারির সাথে পরবর্তী যৌন কার্যক্রমের কোনো সম্পর্ক নেই।[৯]
২০১২ সালে প্রায় ২৩ মিলিয়ন সিজার করা হয় পুরো বিশ্বে।[১০] আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রদায় পূর্বে ১০-১৫% জন্মদান পদ্ধতি সিজারে করানোকে ভাল বলে সুপারিশ করেছিল।[১১] কিছু প্রামাণিক কারণে দেখা গেছে ১৯ ভাগ পর্যন্ত ভাল ফলাফল লাভ করা যেতে পারে।[১০] প্রায় ৪৫টির বেশি দেশে সিজাররের হার ৭.৫ ভাগ কিন্তু ৫০টিরও বেশি দেশে এ হার ২৭ ভাগেও বেশি।[১০] সিজারের হার কমানো এবং প্রয়োজন হলেই ব্যবহার করার উপর জোর দেয়া হয়।[১০] ২০১৭ সালে আমেরিকায় প্রায় ৩২ ভাগ জন্মদান হয়েছে সিজারের মাধ্যমে।[১২] এই শল্যচিকিৎসার ইতিহাস খুজে পাওয়া যায় ৭১৫ বিসিতেও, তখন মায়ের সাথে শিশুর বাচার হার খুব কম ছিল।[১৩] ১৫০০ দিকে মায়ের বেচে থাকার পরিমানে বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়। জুলিয়াস সিজারও সিজারের মাধ্যমে জন্মদান করে। ধারণা করা হয় সেই থেকে এই শল্য ব্যবস্থার নাম হয় সিজারিয়ান।[১৩] ১৯শ শতকে এন্টিসেপটিক এবং এনেস্থেশিয়ার প্রচলনের মাধ্যমে মা এবং শিশু মৃত্যুহার ব্যাপক আকারে কমে যায়।[১৩][১৪]
ব্যবহার
[সম্পাদনা]যখন যোনিপথে প্রসব মা বা শিশুর জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে, তখন সিজারিয়ান সেকশন (সি-সেকশন) করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিছু দেশে ব্যক্তিগত ও সামাজিক কারণে মায়ের অনুরোধেও সি-সেকশন করা হয়ে থাকে।
চিকিৎসাগত ব্যবহার
[সম্পাদনা]প্রসবকালীন জটিলতা এবং যোনিপথে প্রসবের সাথে যুক্ত ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অস্বাভাবিক অবস্থান (ব্রিচ বা আড়াআড়ি অবস্থান)
- দীর্ঘস্থায়ী প্রসব বা প্রসব এগোতে ব্যর্থ হওয়া (রোধক প্রসব, যা ডিস্টোসিয়া নামেও পরিচিত)
- ফিটাল ডিস্ট্রেস (ভ্রূণের কষ্ট বা শ্বাসকষ্ট)
- কর্ড প্রোল্যাপ্স (নাড়ির স্থানচ্যুতি)
- জরায়ু বিদারণ বা এর উচ্চ ঝুঁকি
- মায়ের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্লাম্পসিয়া,[১৫] অথবা এক্লাম্পসিয়া
- অ্যামনিওটিক থলি ফেটে যাওয়ার (পানি ভাঙা) পর মা বা শিশুর হৃদ্দ্রুতি (হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া)
- অমরাজনিত সমস্যা (প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, প্লাসেন্টাল অ্যাবরাপশন বা প্লাসেন্টা অ্যাক্রিটা)
- ব্যর্থ লেবার ইন্ডাকশন (কৃত্রিম প্রসববেদনা সৃষ্টিতে ব্যর্থতা)
- যন্ত্রের সাহায্যে প্রসব করাতে ব্যর্থ হওয়া (ফরসেপ বা ভেন্টুজ দ্বারা (কখনও কখনও, ফরসেপ/ভেন্টুজ প্রসবের চেষ্টা করা হয়, এবং সেটি ব্যর্থ হলে, সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে শিশুটিকে প্রসব করানোর প্রয়োজন হয়।)
- বড় আকারের শিশু, যার ওজন ৪,০০০ গ্রামের বেশি (ম্যাক্রোসোমিয়া)
- নাড়ির অস্বাভাবিকতা (ভাসা প্রিভিয়া, বাইলোবেট ও সাকসেন্টুরিয়েট-লোবড প্লাসেন্টাসহ মাল্টিলোবেট, ভেলামেন্টাস ইনসার্শন)
গর্ভাবস্থার অন্যান্য জটিলতা, আগে থেকে থাকা শারীরিক অবস্থা এবং আনুষঙ্গিক রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- পূর্ববর্তী (উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ) ভ্রূণ
- মায়ের উচ্চ ভাইরাল লোড যুক্ত এইচআইভি সংক্রমণ (মায়ের কম ভাইরাল লোড যুক্ত এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রে সিজারিয়ান সেকশন করাটা অপরিহার্য নয়)
- গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকে জেনিটাল হার্পিসের প্রাদুর্ভাব[১৬] (যোনিপথে জন্ম নিলে যা শিশুর শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে)
- পূর্বে হওয়া লম্বালম্বি সিজারিয়ান সেকশন
- পূর্বে জরায়ু ফেটে যাওয়ার ঘটনা
- পেরিনিয়াম শুকানোর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সমস্যা (আগের প্রসব বা ক্রোনের রোগের কারণে)
- বাইকর্নিয়েট জরায়ু
- মায়ের মৃত্যুর পর মরণোত্তর প্রসবের বিরল ঘটনা
অন্যান্য
- ব্রিচ প্রেজেন্টেশন (বাচ্চার উল্টো অবস্থান) সামলানোর ক্ষেত্রে প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি। যদিও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ এবং মিডওয়াইফদের কৃত্রিম পুতুল (ম্যানিকুইন) ব্যবহার করে ব্রিচ প্রেজেন্টেশন প্রসবের সঠিক পদ্ধতির উপর ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তবে বাস্তবে যোনিপথে ব্রিচ প্রসব করানোর অভিজ্ঞতা ক্রমশ কমে আসছে, যা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।[১৭]
প্রতিরোধ
[সম্পাদনা]অনেক দেশে সিজারিয়ান সেকশনের প্রচলন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বলে সাধারণভাবে স্বীকার করা হয় এবং চিকিৎসকদের সক্রিয়ভাবে এই হার কমিয়ে আনার জন্য উৎসাহিত করা হয়। কারণ সিজারিয়ানের হার ১০–১৫% এর বেশি হলে তা মা বা শিশু মৃত্যুহার হ্রাসের সাথে সম্পর্কিত নয়,[১১] যদিও কিছু প্রমাণ সমর্থন করে যে ১৯% এর উচ্চতর হার তুলনামূলক ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারে।[১০]
এই প্রচেষ্টাসমূহের মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো: প্রসবের দীর্ঘ '"ল্যাটেন্ট ফেজ'" বা সুপ্ত দশা যে অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং এটি সিজারিয়ানের কোনো যৌক্তিক কারণ হতে পারে না তা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা; "অ্যাক্টিভ লেবার" বা সক্রিয় প্রসব যন্ত্রণার শুরুর সংজ্ঞাকে জরায়ুমুখের ৪ সেমি প্রসারণের পরিবর্তে ৬ সেমি প্রসারণে উন্নীত করা; এবং প্রসবের অগ্রগতি থমকে গেছে বলে ধরে নেওয়ার আগে, যেসব নারী ইতিপূর্বে সন্তান জন্ম দিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে অন্তত ২ ঘণ্টা এবং প্রথমবারের মায়েদের ক্ষেত্রে অন্তত ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সন্তান বের করার চেষ্টার সুযোগ দেওয়া।[৭] গর্ভাবস্থায় শারীরিক ব্যায়াম ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে দেয়।[১৮] এছাড়াও, ২০২১ সালে পদ্ধতিগত পর্যালোচনার ফলাফলে দেখা গেছে যে, কম-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে জরায়ুমুখ প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করলে মা বা শিশুর ক্ষতির ঝুঁকি কিংবা সিজারিয়ান ডেলিভারির হার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে করানোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হয় না।[১৯]
ঝুঁকি
[সম্পাদনা]কম-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় যোনিপথে প্রসবের ক্ষেত্রে ৮.৬% এবং সিজারিয়ান সেকশন প্রসবের ক্ষেত্রে ৯.২% নেতিবাচক পরিণতি দেখা যায়।[৭]
মা
[সম্পাদনা]উন্নত বিশ্বে কম-ঝুঁকিপূর্ণ মায়েদের ক্ষেত্রে, সিজারিয়ান সেকশনে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রতি ১,০০,০০০ জনে ১৩ জন, যেখানে যোনিপথে প্রসবের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রতি ১,০০,০০০ জনে ৩.৫ জন।[৭] যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের তথ্যমতে, যোনিপথে প্রসবের তুলনায় এতে মায়ের মৃত্যুর ঝুঁকি তিনগুণ বেশি।[২০]
কানাডায়, মায়ের গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর (যেমন: হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া, ক্ষতের হেমাটোমা বা হিস্টেরেক্টমি) ক্ষেত্রে পার্থক্য ছিল প্রতি ১০০ জনে অতিরিক্ত ১.৮টি ঘটনা।[২১] হাসপাতালে অবস্থানকালে মাতৃমৃত্যুর হারের পার্থক্যটি উল্লেখযোগ্য ছিল না।[২১]

সিজারিয়ান সেকশনের কারণে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী এডহেশন, ইনসিশনাল হার্নিয়া (যা নিরাময়ের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে) এবং কাটা স্থানে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।[২২] জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান করা হলে বেশ কয়েকটি কারণে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এসময় রোগীর পাকস্থলী খালি নাও থাকতে পারে, যা অবেদনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।[২৩] অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (যার জন্য রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হতে পারে) এবং পোস্ট-ডুরাল-পাংচার মাথাব্যথা।[২২]
সিজারিয়ান সেকশনের পর ৩–১৫% ক্ষেত্রে ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা যায়।[২৪] কোরিওঅ্যামনিওনাইটিস এবং অতিস্থূলতার উপস্থিতি নারীদের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের স্থানে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।[২৪]
যেসব নারীর সিজারিয়ান সেকশন হয়েছে, তাদের পরবর্তী গর্ভাবস্থায় সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই যেসব নারী বড় পরিবার গঠন করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত কোনো প্রয়োজনীয়তা না থাকলে স্বেচ্ছায় (ইচ্ছাকৃতভাবে) সিজারিয়ান সেকশন করানো উচিত নয়। প্লাসেন্টা অ্যাক্রেটা একটি সম্ভাব্য জীবনঘাতী অবস্থা, এবং পূর্বে সিজারিয়ান সেকশন হওয়া নারীদের ক্ষেত্রে এটি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পরপর দুটি সিজারিয়ান সেকশনের পর এই ঝুঁকি থাকে ০.১৩%, যা চারটির পর বেড়ে ২.১৩% এবং ছয় বা ততোধিক সিজারিয়ানের পর ৬.৭৪%-এ গিয়ে দাঁড়ায়। এর পাশাপাশি প্রসবের সময় জরুরি ভিত্তিতে হিস্টেরেক্টমি (জরায়ু অপসারণ) করার ঝুঁকিও একইভাবে বৃদ্ধি পায়।[২৫]
প্রসব প্রক্রিয়ার সময় প্রসূতিগত হস্তক্ষেপের পর মায়েদের মধ্যে প্রসবোত্তর বিষণ্নতার হার বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তারা উল্লেখযোগ্য মানসিক আঘাত ও দীর্ঘস্থায়ী প্রসব সংক্রান্ত পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের (পিটিএসডি) সম্মুখীন হতে পারেন।[২৬] প্রসবের প্রথম পর্যায়ের ব্যথা, অসহায়ত্বের অনুভূতি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত জরুরি প্রসূতিগত হস্তক্ষেপের মতো বিষয়গুলো পরবর্তীকালে প্রসব ও সন্তান জন্মদান সম্পর্কিত মানসিক সমস্যা সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।[২৬]
পরবর্তী গর্ভাবস্থা
[সম্পাদনা]যেকোনো কারণেই সিজারিয়ান হোক না কেন, স্বাভাবিক যোনিপথে সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের তুলনায় এধরনের নারীদের পুনরায় গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম।[২৭]
যেসব নারীর পূর্বে মাত্র একবার সিজারিয়ান হয়েছে, তাদের দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের সময় সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।[৭] পূর্ববর্তী সিজারিয়ান সেকশনের পর প্রসবের ক্ষেত্রে প্রধানত দুটি বিকল্পের যেকোনো একটি বেছে নেওয়া হয়:[২৮]
- সিজারিয়ান সেকশনের পর যোনিপথে প্রসব (ভিবিএসি)
- পূর্বনির্ধারিত বা ঐচ্ছিক পুনরাবৃত্ত সিজারিয়ান সেকশন (ইআরসিএস)
পূর্বে সিজারিয়ান হয়নি এমন স্বাভাবিক প্রসবের তুলনায়, উল্লিখিত দুটি পদ্ধতিতেই ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে। বিশেষ করে, একবার সিজারিয়ান হওয়ার পর পরবর্তীতে যোনিপথে সন্তান প্রসবের (ভিবিএসি) ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ঝুঁকিগুলোর মাত্রা বেশি থাকে:[২৯]
- জরায়ু বিদারণ: প্রতি ১,০০০ জনে ৫ জনের ক্ষেত্রে।
- জরায়ুর প্রদাহ: প্রতি ১,০০০ জনে ১০ জনের ক্ষেত্রে।
- প্রসবকালীন মৃত্যুহার: প্রতি ১,০০০ জনে ০.২৫ জনের ক্ষেত্রে।
এছাড়াও, সিজারিয়ানের পর স্বাভাবিক প্রসবের (ভিবিএসি) পূর্বপরিকল্পিত চেষ্টার ২০% থেকে ৪০% ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত পুনরায় সিজারিয়ান করার প্রয়োজন দেখা দেয়। আর পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুনরায় সিজারিয়ান করার চেয়ে, জরুরিভিত্তিতে পুনরায় সিজারিয়ান করা হলে জটিলতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।[৩০][৩১] অন্যদিকে, পরিকল্পিত পুনরায় সিজারিয়ান সেকশনের তুলনায় ভিবিএসি-এর ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন রোগ কম থাকে এবং ভবিষ্যতের গর্ভাবস্থায় জটিলতার ঝুঁকিও কমে যায়।[৩২]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Fear a factor in surgical births - National - smh.com.au
- ↑ "Kiwi caesarean rate continues to rise - New Zealand news on Stuff.co.nz"। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০০৯।
- ↑ Finger, C. (২০০৩)। "Caesarean section rates skyrocket in Brazil. Many women are opting for Caesareans in the belief that it is a practical solution."। Lancet। ৩৬২: ৬২৮। ডিওআই:10.1016/S0140-6736(03)14204-3। পিএমআইডি 12947949।
- ↑ who.int intro - first line
- 1 2 3 4 5 6 7 8 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;NIH2010নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Lauwers, Judith; Swisher, Anna (২০১০)। Counseling the Nursing Mother: A Lactation Consultant's Guide (ইংরেজি ভাষায়)। Jones & Bartlett Publishers। পৃ. ২৭৪। আইএসবিএন ৯৭৮১৪৪৯৬১৯৪৮০। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
- 1 2 3 4 5 6 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;ACOG2014নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ American Congress of Obstetricians and Gynecologists, "Five Things Physicians and Patients Should Question", Choosing Wisely: an initiative of the ABIM Foundation, American Congress of Obstetricians and Gynecologists, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০১৩
- ↑ Yeniel, AO; Petri, E (জানুয়ারি ২০১৪)। "Pregnancy, childbirth, and sexual function: perceptions and facts"। International Urogynecology Journal। ২৫ (1): ৫–১৪। ডিওআই:10.1007/s00192-013-2118-7। পিএমআইডি 23812577। এস২সিআইডি 2638969।
- 1 2 3 4 5 Molina, G; Weiser, TG; Lipsitz, SR; Esquivel, MM; Uribe-Leitz, T; Azad, T; Shah, N; Semrau, K; Berry, WR; Gawande, AA; Haynes, AB (১ ডিসেম্বর ২০১৫)। "Relationship Between Cesarean Delivery Rate and Maternal and Neonatal Mortality"। JAMA। ৩১৪ (21): ২২৬৩–৭০। ডিওআই:10.1001/jama.2015.15553। পিএমআইডি 26624825।
- 1 2 "WHO Statement on Caesarean Section Rates" (পিডিএফ)। ২০১৫। ১ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০১৫।
- ↑ "Births: Provisional Data for 2017" (পিডিএফ)। CDC। মে ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০১৮।
- 1 2 3 Moore, Michele C.; Costa, Caroline M. de (২০০৪)। Cesarean Section: Understanding and Celebrating Your Baby's Birth (ইংরেজি ভাষায়)। JHU Press। পৃ. Chapter ২। আইএসবিএন ৯৭৮০৮০১৮৮১৩৩৬।
- ↑ http://www.todayifoundout.com/index.php/2013/10/caesarean-sections-named-emperor-julius-caesar
- ↑ Turner R (১৯৯০)। "Caesarean Section Rates, Reasons for Operations Vary Between Countries"। Family Planning Perspectives। ২২ (6): ২৮১–২। ডিওআই:10.2307/2135690। জেস্টোর 2135690।
- ↑ "Management of Genital Herpes in Pregnancy"। ACOG। মে ২০২০। ১৬ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২০।
- ↑ Savage W (মে ২০০৭)। "The rising caesarean section rate: a loss of obstetric skill?"। Journal of Obstetrics and Gynaecology। ২৭ (4): ৩৩৯–৩৪৬। ডিওআই:10.1080/01443610701337916। পিএমআইডি 17654182। এস২সিআইডি 27545840।
- ↑ Domenjoz I, Kayser B, Boulvain M (অক্টোবর ২০১৪)। "Effect of physical activity during pregnancy on mode of delivery"। American Journal of Obstetrics and Gynecology। ২১১ (4): ৪০১.e১–৪০১.১১। ডিওআই:10.1016/j.ajog.2014.03.030। পিএমআইডি 24631706।
- ↑ McDonagh M, Skelly AC, Hermesch A, Tilden E, Brodt ED, Dana T, Ramirez S, Fu R, Kantner SN, Hsu F, Hart E (২০২১)। Cervical Ripening in the Outpatient Setting। AHRQ Comparative Effectiveness Reviews। Rockville (MD): Agency for Healthcare Research and Quality (US)। পিএমআইডি 33818996।
- ↑ "সিজারিয়ান সেকশন"। এনএইচএস ডিরেক্ট। ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুলাই ২০০৬।
- 1 2 Liu S, Liston RM, Joseph KS, Heaman M, Sauve R, Kramer MS (ফেব্রুয়ারি ২০০৭)। "Maternal mortality and severe morbidity associated with low-risk planned cesarean delivery versus planned vaginal delivery at term"। CMAJ। ১৭৬ (4): ৪৫৫–৪৬০। ডিওআই:10.1503/cmaj.060870। পিএমসি 1800583। পিএমআইডি 17296957।
- 1 2 Pain M (২০০০)। "Medical Interventions: Caesarean Sections as a Case Study"। Economic and Political Weekly। ৩৫ (31): ২৭৫৫–৬১।
- ↑ "Why are Caesareans Done?"। Gynaecworld। 3 December 2008 তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ 26 July 2006।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=এর 16 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য);|archive-date=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - 1 2 Saeed KB, Greene RA, Corcoran P, O'Neill SM (জানুয়ারি ২০১৭)। "Incidence of surgical site infection following caesarean section: a systematic review and meta-analysis protocol"। BMJ Open। ৭ (1) e013037। ডিওআই:10.1136/bmjopen-2016-013037 । পিএমসি 5253548। পিএমআইডি 28077411।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|doi=এর 28 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Silver RM, Landon MB, Rouse DJ, Leveno KJ, Spong CY, Thom EA, Moawad AH, Caritis SN, Harper M, Wapner RJ, Sorokin Y, Miodovnik M, Carpenter M, Peaceman AM, O'Sullivan MJ, Sibai B, Langer O, Thorp JM, Ramin SM, Mercer BM (জুন ২০০৬)। "Maternal morbidity associated with multiple repeat cesarean deliveries"। Obstetrics and Gynecology। ১০৭ (6): ১২২৬–১২৩২। ডিওআই:10.1097/01.AOG.0000219750.79480.84। পিএমআইডি 16738145। এস২সিআইডি 257455।
- 1 2 Olde E, van der Hart O, Kleber R, van Son M (জানুয়ারি ২০০৬)। "Posttraumatic stress following childbirth: a review"। Clinical Psychology Review। ২৬ (1): ১–১৬। ডিওআই:10.1016/j.cpr.2005.07.002। এইচডিএল:1874/16760। পিএমআইডি 16176853। এস২সিআইডি 22137961।
- ↑ Gurol-Urganci I, Bou-Antoun S, Lim CP, Cromwell DA, Mahmood TA, Templeton A, van der Meulen JH (জুলাই ২০১৩)। "Impact of Caesarean section on subsequent fertility: a systematic review and meta-analysis"। Human Reproduction। ২৮ (7): ১৯৪৩–১৯৫২। ডিওআই:10.1093/humrep/det130। পিএমআইডি 23644593।
- ↑ "UpToDate"। www.uptodate.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
- ↑ "Birth After Previous Caesarean Birth, Green-top Guideline No. 45" (পিডিএফ)। Royal College of Obstetricians and Gynaecologists। February 2007। 7 December 2014 তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|archive-date=এর 16 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য);|archive-date=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;americanpregnancyনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;mayoclinicনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ (আগস্ট ২০১০)। "ACOG Practice bulletin no. 115: Vaginal birth after previous cesarean delivery"। Obstetrics and Gynecology। ১১৬ (2 Pt 1): ৪৫০–৪৬৩। ডিওআই:10.1097/AOG.0b013e3181eeb251। পিএমআইডি 20664418।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|vauthors=এর 1 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য)
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]| শ্রেণীবিন্যাস | |
|---|---|
| বহিঃস্থ তথ্যসংস্থান |
|
টেমপ্লেট:Obstetrical procedures
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |