এই পাতাটি স্থানান্তর করা থেকে সুরক্ষিত।

শাজাহান খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(শাহজাহান খান থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শাজাহান খান
Shajahan Khan.jpg
জাতীয়তাবাংলাদেশি
নাগরিকত্বপাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
বাংলাদেশ
পেশারাজনীতিবিদ

শাজাহান খান হলেন বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ এবং জাতীয় সংসদের সদস্য। তিনি শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রীসভায় বাংলাদেশের নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষা ও প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

শাজাহান খান ১৯৫২ সালের ১লা জানুয়ারি মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম অ্যাডভোকেট মৌলভী আচমত আলী খান এবং মাতা তজন নেসা বেগম। তার পিতা আচমত ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং জাতীয় সংসদের সদস্য।

খান, ১৯৫৭ সালে মাদারীপুরের নুতন শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবন শুরু করেন এবং ১৯৬৬ সালে মাদারীপুরের ইউনাইটেড ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা পাশ করেন। ১৯৬৮ সালে মাদারীপুর নাজিমউদ্দিন কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

খান, ১৯৬৪ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগদান করার মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ছাত্র রাজনীতিতে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। তিনি ১৯৬৬-৬৭ এবং ১৯৬৭-৬৮ সালে মাদারীপুর উপবিভাগের ছাত্রলীগের নির্বাচিত সেক্রেটারি ছিলেন। এছাড়া তিনি নাজিমউদ্দিন কলেজের সাধারণ সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি ছিলেন।

বর্তমানে তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি।

খান সর্বপ্রথম ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাদারীপুর-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। একই আসন থেকে পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন।

৩১শে জুলাই, ২০০৯ সালে নৌপরিবহন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। নভেম্বর ২০১৩-তে, অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রীসভায় তাকে নৌপরিবহন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জানুয়ারি ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি শুধুমাত্র নৌপরিবহন মন্ত্রীর কার্যভার গ্রহণ করেন।[১][২]

সমালোচনা[সম্পাদনা]

শাজাহান খান বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্য ও অবস্থানের কারণে সমালোচনার মুখমুখি হয়েছেন।[৩] যদিও বিতর্কের মুখে তা প্রত্যাহার করেন ।[৪][৫] এছাড়া ২০১৬ সালে পরিবহন খাতে অনিয়মের জন্য তাকে অভিযুক্ত করে তার অপসারণ দাবি করা হয়েছিল।[৬] ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় দুজন শিখার্থীর মৃত্যুর পর মন্ত্রীর করা মন্তব্য সমালোচিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা শাজাহান খানের বিরুদ্ধে এবং সড়কে নৈরাজ্য দূরীকরণের জন্য বিক্ষোভ শুরু করে।[৭] এছাড়াও সড়ক দূর্ঘটনার পর বিভিন্ন সময় তার দোষী চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষে নমনীয় থাকার অভিযোগেও তাকে অনেকে অভিযুক্ত করে থাকেন।[৮][৯][১০] নৌমন্ত্রীর এহেন আচরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে আরো সংযত হয়ে কথা বলতে নির্দেশ দেন।[১১]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

খান ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং তার এক মেয়ে এবং দুই ছেলে রয়েছে। তার সহধর্মিণী, সৈয়েদা রোকেয়া বেগম, একজন কলেজ প্রভাষক।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Shipping Minister Shajahan Khan urges workers to be vigilant against radicals"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৮-০৭ 
  2. "Trial run of Payra port starts today"। ২০১৬-০৭-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৮-০৭ 
  3. "অশিক্ষিত চালকদেরও লাইসেন্স দেওয়া দরকার: নৌমন্ত্রী"। প্রথম আলো। ১৮ আগষ্ট ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০১৮ 
  4. "একি বললেন শাজাহান খান"। সমকাল। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৮ 
  5. "ধর্মঘট নয় শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়েছে"। সময় সংবাদ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৮ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. "নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এবং সমবায় প্রতিমন্ত্রীকে অপসারণের দাবী"। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৮ 
  7. "রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু"। ইত্তেফাক। ২৯ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৮ 
  8. "নৌমন্ত্রী লজ্জ্বিত ও বিব্রত"। প্রথম আলো। ৩১ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০১৮ 
  9. "সাজা বাড়ালেই দুর্ঘটনা কমবে না: শাজাহান খান"। বিডিনিউজ২৪। ৩০ এপ্রিল ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৮ 
  10. "কামাল লোহানীর প্রশ্ন শাজাহান খান কী করে মন্ত্রী"। মানবজমিন। ৩ মে ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৮ 
  11. "সংযত হয়ে কথা বলার নির্দেশ"। বাংলাট্রিবিউন। ৩০ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]