লোকনাথ ব্রহ্মচারী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান


লোকনাথ ব্রহ্মচারী
BabaBIG.jpg
জন্ম লোকনাথ ঘোষাল
(১৭৩০-০৮-৩১)৩১ আগস্ট ১৭৩০[১]
কচুয়া, বঙ্গদেশ
মৃত্যু ১ জুন ১৮৯০(১৮৯০-০৬-০১) (১৫৯ বছর)[২][তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
বারদি, ঢাকা, বঙ্গদেশ, ব্রিটিশ ভারত

লোকনাথ ব্রহ্মচারী (জন্ম : ১৭৩০ - মৃত্যু : ১৮৯০)[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ছিলেন একজন হিন্দু ধর্মগুরু। তিনি লোকনাথ বাবা নামেও পরিচিত।

বাবা লোকনাথ শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমীতে ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অাগস্ট[১] (১৮ ভাদ্র, ১১৩৭ বঙ্গাব্দ) কলকাতা থেকে কিছু দূরে ২৪ পরগণার চৌরাশি চাকলা গ্রামে একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম রামনারায়ণ ঘোষাল এবং মাতা কমলাদেবী। তিনি ছিলেন তাঁর বাবা-মায়ের ৪র্থ পুত্র ।

শিষ্যত্ব[সম্পাদনা]

দীক্ষাগুরু হিসেবে ভগবান গাঙ্গুলী/ভগবান চন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় কয়েক বছর দেশে বাস করে লোকনাথ ও বেণীমাধব বন্দ্যোপাধ্যায় নামে শিষ্যদ্বয়কে সাথে নিয়ে কালীঘাটে আসেন। পরে ভগবান গাঙ্গুলী/ভগবান চন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় তাদেরকে নিয়ে বারাণসীতে গমন করে দেহত্যাগ করার পূর্বে ত্রৈলিঙ্গস্বামীর হাতে ভার দিয়ে যান। সেখানে স্বামীজীর সাথে তারা কিছুকাল যোগশিক্ষা করে ভ্রমণে বের হন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ভ্রমণ[সম্পাদনা]

লোকনাথ পশ্চিম দিকে দিয়ে আফগানিস্তান, মক্কা, মদিনা ইত্যাদি স্থান অতিক্রম করে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূল পর্যন্ত গমন করেছিলেন। মক্কাদেশীয় মুসলিম জনগোষ্ঠী তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। সেখানে আবদুল গফুর নামে এক মহাপুরুষের সাথে পরিচিত হন। পরে তিনি বেণীমাধবকে সাথে নিয়ে উত্তরের পথে গমন করেন। তারা সুমেরু এলাকা গমনের ইচ্ছায় প্রাক-প্রস্তুতি উপলক্ষে শৈত্যপ্রধান এলাকা হিসেবে বদরিকা আশ্রমে অবস্থান করে সেখান থেকে আধুনিক পরিজ্ঞাত সীমা অতিক্রম করে উত্তরে বহুদূরে চলে যান। সেখানে সূর্যোদয় না হওয়ায় সময় নির্ণয় করা যায় নাই; তবে তারা সে পথে ২০ বার বরফ পড়তে ও গলতে দেখেছিলেন। শেষে হিমালয় শৃঙ্গে বাঁধা পেয়ে তারা পূর্ব দিকে গমন করে চীন দেশে উপস্থিত হন । তারপর উভয়ে চন্দ্রনাথে আগমন করে কিছুকাল থেকে বেণীমাধব কামাখ্যায় এবং লোকনাথ বারদী গ্রামে গমন করে বাস করতে থাকে। সে সময় থেকেই “বারদী’র ব্রহ্মচারী” হিসেবে লোকনাথ পরিচিতি পান।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আধ্যাত্মিক শক্তি[সম্পাদনা]

বাবা লোকনাথের আধ্যাত্মিক শক্তি সম্বন্ধে অনেক কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। কেউ কেউ বলেন, তিনি জাতিস্মর; দেহ হতে বহির্গত হতে এবং অন্যের মনের ভাব অবলীলায় তিনি জানতে পারতেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]এছাড়াও, অন্যের রোগ নিজ দেহে এনে রোগীকে রোগমুক্ত করতে পারতেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

জন্মস্থান বিতর্ক[সম্পাদনা]

লোকনাথে জন্মস্থান নিয়ে শিষ্যদেরও ভেতরে বিতর্ক আছে। নিত্যগোপাল সাহা এ বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন ও রায় অনুযায়ী তার জন্মস্থান কচুয়া বলে চিনহিত হয়। যদিও অনেকে মনে করেন তার জন্মস্থান বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার চাকলা। যা চাকলাধাম নামে লোকনাথ ভক্তদের নিকট পরিচিত।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

বাংলা ১২৯৭ সালের ১৯ জ্যৈষ্ঠ (১ জুন, ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ[২]) ১৬০ বছর বয়সে লোকনাথ ব্রহ্মচারী দেহত্যাগ করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

উক্তি[সম্পাদনা]

  • "রনে বনে জলে জঙ্গলে যখন বিপদে পরিবে, আমাকে স্বরন করিও আমিই রক্ষা করিব"[৩]
  • "বাক্যবাণ ও বিচ্ছেদবাণ সহ্য করিতে পারিলে মৃত্যুকেও হটাইয়া দেওয়া যায়"[৪]
  • "এ আমার উপদেশের স্থল নয়, আদেশের স্থল"[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দের গ্রেগোরিয়ান ও বাংলা বর্ষপঞ্জী
  2. ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দের গ্রেগোরিয়ান ও বাংলা বর্ষপঞ্জী
  3. "বাণী চিরন্তণী" 
  4. "বাণী চিরন্তণী" 
  5. "বাণী চিরন্তণী" 

বহিসংযোগ[সম্পাদনা]