লুসিতানো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্রাক-রোমান যুগে ইবেরীয় উপদ্বীপের ভাষিক মানচিত্র। এদের মধ্যে L - 1 চিহ্নিত অঞ্চলটিতে লুসিতানোরা বসবাস করতো বলে মনে করা হয়।

লুসিতানো (স্পেনীয় - Lusitano) হল প্রাকরোমীয় যুগে ইবেরীয় উপদ্বীপের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলে বসবাসকারী একটি ইন্দোইউরোপীয় জাতিগোষ্ঠী। বস্তুত একটি জাতি না বলে একে একাধিক সাংস্কৃতিক, ভাষিক ও নৃতাত্ত্বিক দিক থেকে খুব কাছাকাছি জাতির মিলিত নাম বলাই বেশি সঙ্গত। এদের মূল বসতি ছিল বর্তমান পর্তুগালের পূর্বসীমাস্থ জেলা কাস্তেলো ব্রাঙ্কো; এখান থেকে এদের বিস্তার ছিল উত্তরে দোরু নদীর তীরভূমি (এখানেই ছিল গালাইকোদের সাথে তাদের বসতির সীমানা), পূর্বে বর্তমান স্পেনের এক্সত্রামাদুরা স্বশাসিত প্রদেশ ও দক্ষিণে বর্তমান পর্তুগালের আলতো আলেনতেখো জেলা পর্যন্ত।[১] তবে তারা প্রকৃতই কেল্টিক জাতি ছিল, না ঐ অঞ্চলে আগে থেকেই বসবাসকারী স্থানীয় একটি উপজাতি ছিল, যারা পরবর্তীকালে মধ্য ইউরোপ থেকে আগত কেল্টিকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়েছিল - এই নিয়ে ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক আছে।[২] তাদের বসতি অঞ্চল অতলান্ত উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল না। সেখানে পাওয়া বিভিন্ন ফলক ও শিলালিপি থেকে বোঝা যায় সেখানে আরেকটি কেল্টিক জাতি তুরদুলোরা বসবাস করত।

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দ নাগাদ ইবেরীয় উপদ্বীপে বসবাসকারী বিভিন্ন উপজাতির অবস্থান সম্বলিত মানচিত্র

সাধারণভাবে মনে করা হয় লুসিতানো শব্দটি যতদূরসম্ভব কেল্টিক শব্দ লুস বা লুসিস থেকে এসেছে; অন্যদিকে শব্দটির শেষাংশ -ইতানুস (-itanus) বা -এতানুস (-etanus) পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অনেক স্থাননামের ক্ষেত্রেই দেখতে পাওয়া যায় (গাদিতানুস, মালাথিতানুস, ইলিথিতানুসীয়, তুরদেতানুস, প্রভৃতি)। সম্ভবত স্থানবাচক শব্দের এই শেষাংশটির উৎপত্তি কোনও ভূমধ্যসাগরীয় ভাষায়, বা হয়তো কোনও ইবেরীয় ভাষায়; অথবা এমনও হতে পারে যে, এটি আসলে গ্রিক সাফিক্স -এতেস, ইতেস বা ওতেস-এর লাতিনীকৃত রূপ। গ্রিকরা যখন প্রথম এই অঞ্চলে আসে তখন তাদের সাথে অন্যান্য স্থানীয় উপজাতির সাথে লুসিতানোদেরও পরিচয় ঘটে। তখন থেকেই সম্ভবত তারা এই নামে পরিচিতি লাভ করে। এর থেকে অনেকেই ধারণা করে থাকেন যে হয়তো এরা একটি ভূমধ্যসাগরীয় জাতি; কেল্টিকদের এখানে আসার আগে থেকেই এরা এই অঞ্চলেই বসবাস করত। তবে সেক্ষেত্রেও তারা ইবেরীয় ছিল, না অন্য কোনও অ-কেল্টীয় বহিরাগত জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল - তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্লিনি এবং পম্পোনিয়াস মেলার লেখায় তারা প্রতিবেশী অন্যান্য কেল্টিক উপজাতিদের থেকে পৃথক হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে;[৩] অন্যদিকে স্ট্রাবো আবার তাদের ইবেরীয় জাতি হিসেবে গণ্য করেননি।[৪]

কিন্তু এদের উদ্ভবের এই তত্ত্ব নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে যথেষ্টই বিতর্ক আছে। অনেকেই মনে করে থাকেন, তারা আসলে একটি কেল্টিক জাতি; খ্রিস্টপূর্ব ৬ শতাব্দীতে তারা প্রথম এই অঞ্চলে পদার্পণ করে। এই মতের সমর্থনেও বিভিন্ন রোমান লেখার উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন রোমানদের বিরুদ্ধে লুসিতানোদের বিদ্রোহের বিখ্যাত নেতা ভিরিয়াতো রোমান স্থপতি, রাজনীতিবিদ ও লেখক ফ্রন্টিনাসের লেখায় কেল্টিক উপজাতি থেলতিবেরোদের নেতা হিসেবে উল্লিখিত হয়েছেন।[৫] অন্যদিকে খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর গ্রেকো-রোমান ঐতিহাসিক ডিওডোরাস সিকুলাস তাদের অন্য একটি কেল্টিক উপজাতি সিম্ব্রিদের অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।[৬] আবার অনেক ক্ষেত্রে তারা অন্য একটি নামে - বেলিতানিয়ান হিসেবেও অভিহিত হয়েছে।[৭]

বর্তমান স্পেন ও পর্তুগালের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লুসিতানো ভাষায় লিখিত যে যৎসামান্য উপাদান এতাবৎ পাওয়া গেছে, তার থেকেও উপরিউক্ত বিতর্কের কোনওরকম সমাধানে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। ভাষাটি কেল্টিক, না ইবেরীয় উপদ্বীপে কেল্টিকদের পৌঁছনোর আগে থেকেই সেখানে প্রচলিত কোনও ভাষা - তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমনকী অনেকে সন্দেহ করেন, ভাষাটি আসলে ইতালি থেকে যাওয়া কোনও অভিবাসী জাতির।[৮] আবার অন্যরা একে শুধুমাত্র একটি ইন্দোইউরোপীয় ভাষা বলেই অভিহিত করেছেন। তারা লুসিতানোদের সংস্কৃতির সাথে গ্লকেনবেখার সংস্কৃতির একটি যোগসূত্র দেখতে পান। তাদের মতে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দে এই সংস্কৃতির মানুষ পশ্চিম ইউরোপের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।[৯] পরবর্তীকালে এদের সাথে কেল্টিক বা প্রোটো-কেল্টিক ভষ্মাধার সংস্কৃতি্র (Urnfield Culture; খ্রিস্টপূর্ব ১৩ - ৮ শতাব্দী) মানুষদের[১০][১১] মিশ্রনেই লুসিতানোদের ভাষা ও সংস্কৃতি উদ্ভব ঘটে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বসবাসস্থল ও সীমানা[সম্পাদনা]

খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের শেষের দিকে রোমানরা প্রথম ইবেরীয় উপদ্বীপে পদার্পণ করলে[১২] তাদের সাথে সেখানে বসবাসকারী যেসব উপজাতির পরিচয় ঘটে, লুসিতানোরা ছিল তাদের অন্যতম। অনেকের মতে সে' সময় তারাই ছিল উপদ্বীপে বসবাসকারী সংখ্যাগুরু উপজাতি। উপদ্বীপের পশ্চিম দিকে বসবাসকারী এই উপজাতির সাথে রোমানদের উপদ্বীপে কর্তৃত্ব স্থাপন করতে গিয়ে দীর্ঘসময় লড়তেও হয়। আগেই বলা হয়েছে, এদের উদ্ভব সম্বন্ধে খুব বেশি কিছু নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে "লুসিতানো" শব্দটি ঐতিহাসিকরা অনেকসময়েই অনেকটা বৃহত্তর অর্থেও ব্যবহার করে থাকেন। যেমন বহুক্ষেত্রেই তাদের উত্তর দিকের প্রতিবেশি উপজাতি গালাইকোদেরও "লুসিতানো" হিসেবেই গণ্য করা হয়ে থাকে।[১৩] সেক্ষেত্রে তাদের পূর্বদিকের প্রতিবেশী হিসেবে থেলতিবেরোদের পাশাপাশি আস্তুরীয়দেরও গণ্য করতে হয়। লুসিতানোদের তথা ইবেরীয় উপদ্বীপের উপজাতিদের নেতা হিসেবে যখন ভিরিয়াতো রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন, তার সেনাবাহিনীতেও আমরা গালাইকোদেরও ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে লড়তে দেখতে পাই।[১৪] কিন্তু পরবর্তীকালে রোমানরা সমগ্র উপদ্বীপের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর দোরু নদীর উত্তরে বসবাসকারী গালাইকোদের (কাস্ত্রেখোদের) জন্য বর্তমান গালিথিয়ায় গাইয়েথিয়া নামক একটি পৃথক কিছুটা স্বশাসিত একটি প্রদেশ গঠন করে তাদের লুসিতানোদের থেকে পৃথক করে দেয়। এই গাইয়েথিয়া প্রদেশটি রোমান প্রদেশ লুসিতানিয়াহিসপানিয়া তারাকোনেনসের সীমান্তবর্তী ছিল। এই সময় থেকে তাদের গালাইকো হিসেবে পৃথক পরিচিতি গড়ে ওঠে।[১৫]

হানিবলের কার্থেজীয় বাহিনীতে ভূমিকা[সম্পাদনা]

খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর রোমান ঐতিহাসিক ও লেখক টিটাস লিভিয়াসের লেখা থেকে আমরা জানতে পারি যে, হানিবলের সেনাবাহিনীতে লুসিতানোরা ভাড়াটে সেনা হিসেবে কাজ করেছিল। সাগুন্তো শহর ধ্বংসের পর যখন হানিবল সেনাবাহিনী নিয়ে পিরেনিজ পর্বতমালা অতিক্রম করে ইতালির পথে যাত্রা করে, তখনও তারা তার সাথে ছিল; ত্রেবিয়ার যুদ্ধেও তারা অংশগ্রহণ করেছিল; এইসময় তারা মূলত অশ্বারোহী বাহিনী হিসেবে থেলতিবেরো ভাড়াটে সেনাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংঘর্ষে অংশ নেয়। হানিবলের বিখ্যাত নুমিদীয় অশ্বারোহী বাহিনীকেও তারা দুর্গম পথ পাড়ি দেবার কাজে সহায়তা করে। সম্ভবত তারা কার্থেজীয় বাহিনীতে ইসপানিক (বর্তমান স্পেনের তৎকালীন অধিবাসী) ও গলদের (বর্তমান ফ্রান্সের তৎকালীন অধিবাসী) নিয়ে তৈরি যে সুদক্ষ ঘোড়সওয়ার বাহিনী ছিল তাদের অংশ ছিল। কানেই'এর যুদ্ধে হানিবলের সেনাপতি আসদ্রুবালের নেতৃত্বে তারা অংশগ্রহণ করে।[১৬]

জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস ও প্রথা[সম্পাদনা]

ইতিহাসবিদদের মতে লুসিতানোরা যোদ্ধা হিসেবে গেরিলা যুদ্ধে বিশেষভাবে দক্ষ ছিল। ভিরিয়াতোর নেতৃত্বে তারা যেভাবে কাইয়ো বেতিলিও'র অবরোধ থেকে বেরিয়ে আসে ও শেষপর্যন্ত রোন্দার কাছে যুদ্ধে রোমান সেনাকে তছনছ করে দেয় - তা তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। তাদের সম্পর্কে আরও যা শোনা যায় - তারা স্পার্টার অধিবাসীদের মতোই তেল মেখে প্রথমে গরম বাস্প স্নানে (স্টিম বাথ) অভ্যস্ত ছিল; এরজন্য তারা গরম পাথর থেকে উঠে আসা বাস্প ব্যবহার করত; তারপর ঠাণ্ডা জলে স্নান করে নিত। দিনে তারা একবারই মূল খাদ্যগ্রহণ করত।[১৭] তাদের জীবনযাত্রা ছিল সহজসরল ও পরিচ্ছন্ন। তাদের মধ্যে নরবলির প্রথা চালু ছিল। সাধারণত যুদ্ধবন্দীদেরই বলি দেওয়া হত। তবে মানুষ ছাড়াও ঘোড়া ও ছাগলও বলি দেওয়া হত।[১৭] খেলাধূলা হিসেবে জিমন্যাস্টিকের চর্চা ছিল তাদের প্রিয়। এছাড়া দৌড়প্রতিযোগিতাতেও তারা অংশগ্রহণ করত। তাদের আরেক অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ছিল ঘোড়ায় চেপে বা পায়ে নকল যুদ্ধক্রীড়া।[১৭] নাচগানও ছিল তাদের মধ্যে যথেষ্ট জনপ্রিয়। এমন এক ধরনের দ্রুতগতির নাচ তাদের মধ্যে প্রচলিত ছিল, যার জন্য অংশগ্রহণকারীদের কখনও লাফিয়ে উঠতে হত, কখনও বা নীচু হয়ে বসে পড়তে হত।[১৭][১৮] লুসিতানোদের মধ্যে সাধারণভাবে এক বিবাহপ্রথাই প্রচলিত ছিল, অর্থাৎ একই ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকত না। তারা নৌকার ব্যবহার জানত। নৌকাগুলি সাধারণত একটিই গাছের গুঁড়ি কেটে তৈরি হত। নৌকা তৈরির কাজে তারা মোম দেওয়া চামড়াও ব্যবহার করত।[১৭] তাদের বাড়িগুলো ছিল একতলা ও নীচু। সাধারণত সেগুলি চৌকাকার হত। তবে উত্তরের দিকে কিছু গোলাকৃতি বাড়ির অবশেষও দেখতে পাওয়া গেছে। তারা মূলত পশম ও ছাগলের চামড়া দিয়ে তৈরি পোশাক ব্যবহার করত।

রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ[সম্পাদনা]

রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ভিরিয়াতোর সংগ্রাম

খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের শেষের দিকে রোমানরা কার্থেজের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইবেরীয় উপদ্বীপে প্রথম পা দিলে লুসিতানোদের সাথে তাদের সাক্ষাত ঘটে। দ্বিতীয় পুনিক যুদ্ধে কার্থেজের পরাজয়ের পর রোমানরা উপদ্বীপের পশ্চিমাঞ্চলে তাদের সম্প্রসারণ ঘটাতে সচেষ্ট হলে লুসিতানোদের সাথে তাদের সংঘাত শুরু হয়। ১৯৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে এই সংঘাতের খবর আমরা পেয়ে থাকি। ১৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দক্ষিণ হিসপানিয়ার রোমান প্রেটর সেরভিয়ুস সুল্পিসিয়ুস গালবা যুদ্ধে লুসিতানোদের পরাস্ত করার পর তাদের সাথে একটি শান্তিচুক্তি করেন। তাতে তাদের অস্ত্রসমর্পনের শর্ত আরোপ করা হয়। কিন্তু তারা অস্ত্র সমর্পণ করলে তাদের নিরস্ত্র অবস্থার সুযোগ নিয়ে রোমান সৈন্য তাদের ঘিরে ধরে ও আক্রমণ চালায়। ফলে অন্তত ৯০০০ লুসিতানো অসহায় অবস্থায় মারা যায় ও আরও ২০,০০০ বন্দীকে গলে (আজকের ফ্রান্সে) দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়।[১৯][২০] এই ঘটনার ফলে রোমানদের প্রতি লুসিতানোদের অবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পায় ও তাদের বিদ্রোহও আরও গতি পায়। পরবর্তী আট বছর এর ফলে রোমানদের যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়। শেষপর্যন্ত ১৩৯ বা ১৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে লুসিতানোদের নেতা ভিরিয়াতো তারই তিন সহযোগীর হাতে বিশ্বাসঘাতকতার ফলে খুন হলে[২১][২২], রোমানরা বিদ্রোহ কিছুটা সামাল দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু তাতেও বিদ্রোহের অবসান ঘটেনি। শেষপর্যন্ত রোমানরা এই বিদ্রোহ দমন করতে ১৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাদের কনসাল ডেসিমাস জুনিয়াস ব্রুটাস গালাইকাসকে পাঠায়। তিনি ওলিসিপোতে (আজকের লিসবন) একটি দুর্গ নির্মাণ করেন; আজকের পর্তুগালের সান্তারেম শহরের কাছে মেরোন-এ তার মূল ঘাঁটি সরিয়ে নিয়ে যান; এরপর সেখানে থেকে উত্তর অভিমুখে অভিযান চালান এবং লিমিয়া নদী পর্যন্ত পথিমধ্যে নির্বিচারে হত্যা ও ধ্বংসলীলা চালান। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও রোমের কাছে লুসিতানোরা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করেনি। শেষপর্যন্ত থেলতিবেরিয়ায় নুমানথিয়ার পতন ঘটলে (১৩৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)[২৩] উত্তরপশ্চিমের লুসিতানো কেন্দ্রগুলি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও একক হয়ে পড়লে, তবেই লুসিতানিয়ার উত্তরাংশে লুসিতানোদের বিদ্রোহের পরিসমাপ্তি ঘটে।

শেষপর্যন্ত খ্রিস্টপূর্ব ৬১ - ৬০ অব্দে জুলিয়াস সিজার ২০ কোহর্ত (প্রায় ১০,০০০) রোমান সৈন্য ও ৫০০০ স্থানীয় ভাড়াটে সেনার এক বাহিনী নিয়ে আক্রমণ করলে লুসিতানোরা পুরোপুরি পরাস্ত হয় ও তাদের বিদ্রোহের অবসান ঘটে।[২৪]

যুদ্ধকৌশল[সম্পাদনা]

প্রাচীন গ্রিক ও রোমান লেখকদের লেখায় লুসিতানোরা প্রায়শই একটি যোদ্ধাজাতি বলে উল্লিখিত হয়েছে; তারা ছিল অদম্য, আত্মসমর্পণ, অস্ত্রত্যাগ বা দাসত্ববরণের চেয়ে তারা মৃত্যুকেই শ্রেয় হিসেবে বরণ করত।[২৫] যুদ্ধে, বিশেষত গেরিলা যুদ্ধে তাদের দক্ষতা ছিল এতটাই যে স্ট্রাবো তাদের ইবেরীয় উপদ্বীপের সবচেয়ে বিপদজনক গোষ্ঠী বলে বর্ণনা করেছেন।[১৭][২৬]

তাদের যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র ছিল যথেষ্ট হালকা; টিটাস লিভিয়াস'এর মতে এই বিষয়ে তারা ছিল গ্রিক হাল্কা অস্ত্রবাহী পেলতাস্তাদের সাথে তুলনীয়; তারা সাধারণত হালকা বর্ম পরত বা কখনও কখনও কোনও বর্মই ব্যবহার করত না, ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে তারা খুবই দ্রুতগতিতে চলাফেরা করতে সক্ষম হত।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Alarcão, Jorge de (2001). "Novas perspectivas sobre os Lusitanos (e outros mundos)" (PDF). Revista Portuguesa de Arqueologia. 4 (2): 293–349 [p. 312 e segs]. (পর্তুগিজ ভাষায়) ISSN 0874-2782
  2. cfr. F. Calo Lourido, 2010. Os celtas. Unha (re)visión dende Galicia. Xerais.
  3. Among them the Praestamarci, Supertamarci, Nerii, Artabri, and in general all people living by the seashore except for the Grovi of southern Galicia and northern Portugal: 'Totam Celtici colunt, sed a Durio ad flexum Grovi, fluuntque per eos Avo, Celadus, Nebis, Minius et cui oblivionis cognomen est Limia. Flexus ipse Lambriacam urbem amplexus recipit fluvios Laeron et Ullam. Partem quae prominet Praesamarchi habitant, perque eos Tamaris et Sars flumina non longe orta decurrunt, Tamaris secundum Ebora portum, Sars iuxta turrem Augusti titulo memorabilem. Cetera super Tamarici Nerique incolunt in eo tractu ultimi. Hactenus enim ad occidentem versa litora pertinent. Deinde ad septentriones toto latere terra convertitur a Celtico promunturio ad Pyrenaeum usque. Perpetua eius ora, nisi ubi modici recessus ac parva promunturia sunt, ad Cantabros paene recta est. In ea primum Artabri sunt etiamnum Celticae gentis, deinde Astyres.', Pomponius Mela, Chorographia, III.7-9.
  4. José María Gómez Fraile (1999). "Los coceptos de "Iberia" e "ibero" en Estrabon". SPAL: Revista de Prehistoria y Arqueología de la Universidad de Sevilla (in Spanish). 8: 159–188.
  5. Julius Frontinus. Stratagems: Book II. V. On Ambushes সংগৃহীত ২৫ আগস্ট, ২০১৯।
  6. Diodorus Siculus. Celtic Literature Collective. Bibliotheka Historia: The Historical Library. সংগৃহীত ২৮ আগস্ট, ২০১৯।
  7. Luciano Pérez Vilatela. Lusitania: historia y etnología, at Google Books (in Spanish). [S.l.]: Real Academia de la Historia, 2000. 33 p. vol. 6 of Bibliotheca archaeologica hispana, v. 6 of Publicaciones del Gabinete de Antigüedades.
  8. "En torno a la clasificación del lusitano” J. Gorrochategui. Veleia 2-3, 1987, 76-92.
  9. "Getrennt und doch vereint: Wie Schnurkeramik- und Glockenbecherkultur zueinander fanden" Spectrum.de. 21-09-2003. সংগৃহীত ২৯ আগস্ট, ২০১৯।
  10. Chadwick and Corcoran, Nora and J.X.W.P. (1970). The Celts. Penguin Books. pp. 28–29.
  11. Kruta, Venceslas (1991). The Celts. Thames and Hudson. pp. 93–100.
  12. "Artigo de apoio Infopédia – Romanização da Península Ibérica". Infopédia – Dicionários Porto Editora. (পর্তুগিজ ভাষায়) সংগৃহীত ৩০ আগস্ট, ২০১৯।
  13. Strabo, Geography, Book III, Chapter 3 "...the most of the Lusitanians are called Callaicans."
  14. Silius Italicus, Punica, 3
  15. Orosius. History Against the Pagans. Lulu Press, Inc, 2015. মূল লাতিন সংস্করন Historiae Adversus Paganos. Ed. Aeneas Vulpes.
  16. Titus Livius. Römische Geschichte (জার্মান ভাষায়) Übersetzt von Konrad Heusinger. FRIEDRICH VIEWEG: Braunschweig, 1821.
  17. Starbo. The Geography III
  18. Diodorus Siculus. Library of History, Book V.
  19. Livius, Periochae 48
  20. Appian, Iberica 58
  21. Pastor Muñoz, Mauricio (2000). «La figura de Viriato y su importancia en la sociedad lusitana». Gorges, Jean Gérard; Nogales Basarrate, Trinidad, eds. ´´Sociedad y cultura en Lusitania romana: IV mesa redonda internacional´´. Casa de Velázquez. pp. 35-52. আইএসবিএন ৯৭৮৮৪৭৬৭১৫৬০৪. P. 41, 48.
  22. Sánchez Moreno, Eduardo (2002). «Algunas notas sobre la guerra como estrategia de interacción social en la Hispania prerromana: Viriato, jefe redistributivo(y II)». Habis (33): 141-174. ISSN 0210-7694. P. 152.
  23. Adolf Schulten. Historia de Numancia]. 2004. আইএসবিএন ৯৭৮-৮৪৯৩৩৩৯৮৩৮
  24. José María Blázquez. Ciclos y temas de la Historia de España: La romanización. La sociedad y la economía en la Hispania romana. Ediciones AKAL, Madrid: 1975. আইএসবিএন ৮৪৭০৯০০৫৬০. pp. 71.
  25. María Paz García-Gelabert. "Estudio del Armamento prerromano en la península ibérica a través de los textos clásicos". Espacio, Tiempo y Forma. Serie II. Antigua II. 1989. pág. 69 - 80.
  26. Maria Goreti Esteves Pinto Monteiro. Celts myths and religion in the Iberian Peninsula and Great-Britain: a common origin?

আরও দেখুন[সম্পাদনা]