লিও ও’ব্রায়ান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
লিও ও’ব্রায়ান
লিও ও’ব্রায়ান.jpg
৭৭ বছর বয়সে সংগৃহীত স্থিরচিত্রে লিও ও’ব্রায়ান
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামলিও প্যাট্রিক যোসেফ ও’ব্রায়ান
জন্ম(১৯০৭-০৭-০২)২ জুলাই ১৯০৭
পশ্চিম মেলবোর্ন, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু১৩ মার্চ ১৯৯৭(1997-03-13) (বয়স ৮৯)
মেনটোন, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৪৫)
৩০ ডিসেম্বর ১৯৩২ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৮ ডিসেম্বর ১৯৩৬ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৬১
রানের সংখ্যা ২১১ ৩৩০৩
ব্যাটিং গড় ২৬.৩৭ ৩৬.৭০
১০০/৫০ ০/২ ৭/১৬
সর্বোচ্চ রান ৬১ ১৭৩
বল করেছে ১৬৬
উইকেট
বোলিং গড় - ৪২.৩৩
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং - ১/৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/০ ২৪/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

লিও প্যাট্রিক যোসেফ ও’ব্রায়ান (ইংরেজি: Leo O'Brien; জন্ম: ২ জুলাই, ১৯০৭ - মৃত্যু: ১৩ মার্চ, ১৯৯৭) ভিক্টোরিয়ার পশ্চিম মেলবোর্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩২ থেকে ১৯৩৬ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন লিও ও’ব্রায়ান

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

ভিক্টোরিয়ার পশ্চিম মেলবোর্নে জন্মগ্রহণ করলেও পরবর্তীতে মেনটোনে চলে যান। ভিক্টোরীয় পুলিশ ইন্সপেক্টর লুক যোসেফ ও’ব্রায়ান ও ক্যাথরিন যোসেফাইন রায়ান দম্পতির সন্তান ছিলেন তিনি। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ ছিলেন। দাদা জেমস ও’ব্রায়ান সৈনিক ও পুলিশ ছিলেন। ১৮৫০-এর দশকে ভিক্টোরিয়ায় স্বর্ণ উদগীরনের সময়কালে আয়ারল্যান্ড থেকে তার পূর্ব-পুরুষেরা চলে আসেন।

১৯১৪ থেকে ১৯১৯ সালে জাভিয়ের কলেজে ক্যাথলিক শিক্ষালাভ করেন। এরপর, ১৯২০ সালে সেন্ট যোসেফস সিবিসি নর্থে অধ্যয়নের পর বলারাতের সেন্ট প্যাট্রিক্স কলেজে পড়েন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত লিও ও’ব্রায়ানের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে মেলবোর্নভিত্তিক রিচমন্ড ক্লাবে খেলেন। দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে রিচমন্ড ক্রিকেটে ক্লাবের পক্ষে খেলেন যা বর্তমানে মনাশ টাইগার্স নামে পরিচিত। এরপর, ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটান। ১৯৩০-এর দশকে শেফিল্ড শিল্ডে ভিক্টোরিয়া দলে বিল পন্সফোর্ড ও বিল উডফুলের ন্যায় কীর্তিমান খেলোয়াড়দের সাথে একত্রে খেলেছিলেন তিনি।[২]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন। ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৩২ তারিখে মেলবোর্নে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে সিডনিতে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট পাঁচ টেস্টে অংশ নিলেও, ১৯৩২-৩৩ মৌসুমের বডিলাইন সিরিজের দ্বিতীয় ও পঞ্চম টেস্ট অন্তর্ভূক্ত ছিল। অন্যপ্রান্তে অবস্থান করে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে এমসিসি দলকে বিল উডফুলকে লক্ষ্য করে লেগ অঞ্চলে পাঁচজন ফিল্ডারের অবস্থান লক্ষ্য করেছিলেন। ঐ দিন তিনি ৪৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, মেলবোর্ন টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হন। খেলায় তিনি ১০ ও ১১ রান তুললেও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের একমাত্র জয়ের সন্ধান পেয়েছিল। সিডনিতে অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্টে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। ৬১ রানের ইনিংস খেলেন।[৩]

১৯৩৪ সালে ইংল্যান্ড গমনের জন্য বিবেচিত হননি। তবে, ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে ভিক রিচার্ডসনের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। দুই টেস্টে যথাক্রমে ৫৯ ও ৪৮ রান করেন। উভয়ক্ষেত্রেই সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দল ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। পরবর্তী মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন। ও ১৭ রান করেন। পরের খেলায় দল থেকে বাদ পড়েন ও অস্ট্রেলিয়া দল জয় পেয়ে সিরিজে ফিরে আসে।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি বেসবল খেলায়ও তার সুনাম ছিল। এছাড়াও, মৌসুম বহির্ভূত সময়ে অস্ট্রেলীয় ফুটবলার হিসেবে অংশ নিতেন। শৌখিন মুষ্টিযোদ্ধা হিসেবে শেষ খেলাটি বাদে সবকটিতেই জয় পেয়েছিলেন তিনি। তবে, ক্রিকেটার হিসেবে তিনি বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। এশিয়ায় কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বাদ-বাকি সময়ে ঘোড়দৌড়ের উপযোগী ঘোড়া উৎপাদনের সাথে জড়িত ছিলেন। পঞ্চাশে বছরের অধিক সময়ে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সাংবৎসরিক কমপক্ষে একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।[৪]

সর্বক্রীড়াবিদ হিসেবে ম্যানটোন ক্রিকেট ক্লাব থেকে ১৯২৮ ও ১৯৫৬ সালে লিও ও’ব্রায়ান এবং ইয়ান মেকিফ টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯২৮ সালে লিও ফুলব্যাক অবস্থানে থেকে ম্যানটোনের ফুটবল প্রিমিয়ারশীপে খেলেছেন।[৫] কর্মজীবনের অধিকাংশ সময়ই অস্ট্রেলীয় কর কার্যালয়ে অতিবাহিত করেছিলেন। বন্ধুসুলভ আচরণের অধিকারী হিসেবে মাঠ ও মাঠের বাইরে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। সত্তর বছর বয়সেও ক্রিকেট খেলা সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

১৯৪০ সালে ডরোথি গিন্ডোলিনের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।[৬] এরপর ভিক্টোরিয়ার হ্যাম্পটন এলাকায় চলে যান। ১৩ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে ৮৯ বছর বয়সে ভিক্টোরিয়ার মেনটোন এলাকায় লিও ও’ব্রায়ানের দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন অস্ট্রেলিয়ার সর্ববয়োঃজ্যেষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন। তার মৃত্যুর ফলে স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানকে বডিলাইন সিরিজের একমাত্র জীবিত ক্রিকেটার হিসেবে রেখে যান।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Australia – Test Batting Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  2. QUEENSLAND'S GOOD SCORE (1933, December 4). The Argus (Melbourne, Vic. : 1848 - 1957), p. 13. Retrieved February 3, 2017, from http://nla.gov.au/nla.news-article11716961
  3. Obituary of Leo O'Brien in Wisden, Retrieved September 9, 2019
  4. ESPN Cricinfo:Leo O'Brien (webpage) Retrieved on 3 February 2017 from http://content-aus.cricinfo.com/ci/content/player/6989.html
  5. Gamble, Leo. The Meckiffs of Mentone. (webpage) Retrieved on 3 February 2017 from http://localhistory.kingston.vic.gov.au/htm/article/184.html
  6. WEDDINGS (1940, November 6). The Argus (Melbourne, Vic. : 1848 - 1957), p. 8. Retrieved February 3, 2017, from http://nla.gov.au/nla.news-article11320353

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]