রাফায়েল নাদাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
রাফায়েল নাদাল
খেলোয়াড়ী  রেকর্ড ৮৭১–১৮৪
খেলোয়াড়ী  রেকর্ড ১৩১–৭২

রাফায়েল "রাফা" নাদাল পারেরা (জন্ম ৩ জুন, ১৯৮৬) স্পেনের একজন পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় যিনি বর্তমানে পুরুষ এককের ১ নম্বরে অবস্থান করছেন। “লাল কোর্টের রাজা” বা “কিং অফ ক্লে” বলে পরিচিত নাদালকে সর্বকালের সেরা ক্লে-কোর্ট খেলোয়াড় বলে অভিহিত করা হয়। সব ধরনের কোর্টে বিস্তৃত অর্জনের জন্য নাদালকে বিশ্ব টেনিসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা দেয়া হয়।

নাদাল ১৬ টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা (১০ টি ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা, ২টি উইম্বলডন, ৩টি ইউএস ওপেন ও একটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন) জিতেছেন। এছাড়াও তিনি ২০০৮ অলিম্পিকে স্বর্ণ পদক (একক), ২০১৬ অলিম্পিকে স্বর্ণ পদক (দ্বৈত),৩০ টি টেনিস মাস্টার্স সিরিজ (এটিপি ১০০০) শিরোপা (যৌথভাবে সর্বোচ্চ, নোভাক জোকোভিচ) এবং ১৮ টি এটিপি-৫০০ মাস্টার্স জিতেছেন (যৌথভাবে সর্বোচ্চ, ফেদেরার)। স্পেনের হয়ে তিনি চারটি ডেভিস কাপ শিরোপা (২০০৪, ২০০৮, ২০০৯, ২০১১) জয়লাভ করেন। বাঁহাতি এই খেলোয়াড় উন্মুক্ত যুগের ষষ্ঠ বাক্তি হিসেবে ১০০ টির উপরে এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর এর ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করেন। নাদাল ২০১১ সালে মর্যাদাপূর্ণ “Laureus Sportsman of the Year” এর খেতাব অর্জন করেন।

নাদাল এবং ম্যাটস উইল্যান্ডার দুজন মাত্র ব্যাক্তি যারা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কোর্টে (হার্ড, ক্লে এবং ঘাস) অন্তত ২ টি করে গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জিতেছেন। নাদাল বিশ্বের একমাত্র পুরুষ টেনিস খেলোয়াড় যিনি কিনা টানা ১০ বছর (২০০৫-২০১৪) কমপক্ষে একটি করে গ্র্যান্ড স্লাম এবং একটি মাস্টার্স ১০০০ সিরিজ জিতেছেন। ২০১২ সালে প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৮ টি মন্তে-কার্লো মাস্টার্স জিতেন। ২০১৭ সালের মন্তে-কার্লো মাস্টার্স জিতে তিনি গুইলারমো ভিলাসের ৪৯ টি ক্লে-কোর্ট শিরোপা জেতার রেকর্ড ভেঙ্গে দেন। নাদাল ইতিহাসের একমাত্র বাক্তি যিনি কিনা এক টুর্নামেন্ট ১০ বার জিততে সক্ষম হয়েছেন। ২০১৭ সালে তিনি ১০ম বারের মতো মন্তে-কার্লো মাস্টার্স ও বার্সেলোনা ওপেন জিতেন। ৭টি ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা জিতে তিনি ২০১২ সালে বিয়র্ন বোর্গের রেকর্ড ভেঙে দেন। ২০১৭ সালেন ফ্রেঞ্চ-ওপেন জিতে নাদাল একমাত্র পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে কোন গ্র্যান্ড-স্লাম ১০ম বারের মতো জেতার বিরল খ্যাতি অর্জন করেন।

২০১০ সালের ইউ এস ওপেনের শিরোপা জিতে তিনি ইতিহাসের সপ্তম খেলোয়াড় হিসেবে এবং ওপেন যুগের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় (২৪ বছর) হিসেবে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম (চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের শিরোপা) অর্জন করেছেন। তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে (আন্দ্রে আগাসির পর) "ক্যারিয়ার গোল্ডেন স্ল্যাম" (চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং অলিম্পিক স্বর্ণ পদক) জিততে সক্ষম হয়েছেন । নাদাল হলেন ওপেন যুগের একমাত্র টেনিস খেলোয়াড় যিনি একই বছরে ফ্রেঞ্চ ওপেন, কুইন্স চ্যাম্পিয়নশিপউইম্বলডন জিততে সক্ষম হয়েছেন। ।

১৮ অাগস্ট, ২০০৮ সালে নাদাল প্রথমবারের মতো পুরুষ এককের র‌্যাঙ্কিং-এ শীর্ষে উঠেন। তিনি আগস্ট ১৮, ২০০৮ থেকে ৫ জুলাই, ২০০৯ পর্যন্ত বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং-এ ১ নম্বরে ছিলেন।

ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় জুড়েই নাদাল, রজার ফেদেরারের সাথে দ্বৈরথে অবতীর্ণ থেকেছেন যাকে অনেক সমালোচক টেনিস ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ দ্বৈরথ বলে মনে করেন। তারা হলেন একমাত্র খেলোয়াড় যারা ৯টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডন, ২০০৯ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ২০১১ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনালে এবং ২০১৭ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন তাঁরা মুখোমুখি হন। এর মধ্যে ফেদেরার ২০০৬ ও ২০০৭ সালের উইম্বলডন ফাইনাল এবং ২০১৭ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন। বাকি ৬টি ফাইনালে নাদাল বিজয়ী হয়েছেন। ২০০৮ সালের উইম্বলডন ফাইনাল ম্যাচটিকে অনেক টেনিস বিশেষজ্ঞ সর্বকালের সেরা ম্যাচ বলে অভিহিত করেন, যেটাতে নাদাল পূর্ববর্তী ৫ বছরের চ্যাম্পিয়ন ফেদেরারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো উইম্বলডন শিরোপা জেতেন। নাদাল বিশ্বের দুই নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড সংখ্যক ১৬০ সপ্তাহ ফেদেরারের পেছনে অবস্থান করেছিলেন। ফেদেরারের বিরদ্ধে খেলা ৩৭ টি ম্যাচের মধ্যে নাদাল ২৩ টিতে বিজয়ী হয়েছেন।