রাধানগর মজুমদার একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ, পাবনা
এই নিবন্ধে একাধিক সমস্যা রয়েছে। অনুগ্রহ করে নিবন্ধটির মান উন্নয়ন করুন অথবা আলাপ পাতায় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করুন।
|
| রাধানগর মজুমদার একাডেমী (স্কুল এন্ড কলেজ) পাবনা | |
|---|---|
| অবস্থান | |
পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ সংলগ্ন পূর্ব-দক্ষিণ পাশে, রাধানগর, পাবনা। | |
| তথ্য | |
| ধরন | বেসরকারী(এমপিওভুক্ত) |
| নীতিবাক্য | জ্ঞানের প্রদীপ জ্বলে উঠুক সব সবুজের অন্তরে |
| প্রতিষ্ঠাকাল | ১৩ ডিসেম্বর ১৮৯৯ |
| প্রতিষ্ঠাতা | শ্রী দ্বারকানাথ মজুমদার |
| বিদ্যালয় জেলা | পাবনা |
| প্রধান শিক্ষক | মো:আফজাল হোসেন-অধ্যক্ষ |
| শিক্ষকমণ্ডলী | ৫০+ |
| শ্রেণি | ৩য় - ১২তম S.S.C, H.S.C |
| শিক্ষার্থী সংখ্যা | ৩,০০০+ |
| শিক্ষায়তন | ১.৫৬৬৯ একর |
| ডাকনাম | R.M.A/আর.এম.এ |
| ওয়েবসাইট | pabnarmc |
রাধানগর মজুমদার একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজপাবনা জেলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি পাবনা শহরের এডওয়ার্ড কলেজ সংলগ্ন পূর্ব-দক্ষিণ কোণে অবস্থিত। উনবিংশ শতকের শেষভাগে সমাজসেবী মজুমদার পরিবার শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ বিদ্যালয় ও কলেজ একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা প্রদান করে আসছে।[১]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে রাধানগর মজুমদার পাড়ায় বসবাস করতেন জমিদার তেজস্বী মজুমদার। বিজ্ঞান, শিল্প ও সংস্কৃতিমনা এই পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন দ্বারকানাথ মজুমদার, প্রফুল্লনাথ মজুমদার, নিশেন্দ্রনাথ মজুমদার, নিরেন্দ্রনাথ মজুমদার, জ্ঞানেন্দ্রনাথ মজুমদার প্রমুখ।
১৮৭০-৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বর্গীয় দ্বারকানাথ মজুমদার একটি অবৈতনিক মধ্য-বাংলা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়টি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি শালগাড়িয়ার একটি ভাড়া বাড়িতে পাঠদান চালু রাখেন।
পরবর্তীতে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে ইসলামপুর পরগোনার মজুমদার পরিবার ১.৪২৫ একর জমি দান করলে দ্বারকানাথ মজুমদার সেখানে তিনটি দালান নির্মাণ করেন। একই বছরে পাশ্চাত্য শিক্ষার আদলে বিদ্যালয়টি বৈতনিক উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় এবং এর নামকরণ করা হয় “রাধানগর মজুমদার একাডেমি” (R.M. Academy)। তবে প্রতিষ্ঠার পরবর্তী প্রথম ২৫ বছর বিদ্যালয়টি মজুমদার পরিবারের অর্থায়নেই পরিচালিত হয়।[২]
বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় নবম শ্রেণির পাঠদান দিয়ে। ১৯০০ সালে দশম শ্রেণি চালু করা হয় এবং একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক স্তরের স্কুল হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করে।
অবকাঠামো
[সম্পাদনা]বিদ্যালয়টিতে একটি মাঝারি আকারের খেলার মাঠ এবং তিনটি ভবন রয়েছে। উক্ত মাঠে নিয়মিত প্রাত্যহিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং মাঠটির একাংশে একটি শহীদ মিনার স্থাপিত রয়েছে। বিদ্যালয়ের তিনটি ভবন যথাক্রমে ভোকেশনাল ভবন, একাডেমিক ভবন ও বিজ্ঞান ভবন নামে পরিচিত। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানে একটি হল মিলায়তন, একটি ছাত্রাবাস এবং বিদ্যালয়ের সম্মুখভাগে একটি মসজিদ বিদ্যমান।
অত্র প্রতিষ্ঠানে একটি কম্পিউটার ল্যাবের পাশাপাশি একটি স্থায়ী মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম রয়েছে। এছাড়াও গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও কৃষি শিক্ষার জন্য পৃথক পাঁচটি ল্যাব বিদ্যমান। তদুপরি, এখানে একটি সুবিশাল গ্রন্থাগারও রয়েছে।
একাডেমিক কার্যক্রম
[সম্পাদনা]বিদ্যালয়টি শাখায় তৃতীয় শ্রেণি থেকে দশম এবং কলেজ শাখায় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত পাঠদান পরিচালিত হয়। প্রতি বছর নির্ধারিত আসনসংখ্যা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়ে থাকে। সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) অন্যতম। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে নিয়মিত খেলাধুলা, বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক মিলাদ-মাহফিল, নবীন বরণ অনুষ্ঠান, বোর্ড শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা, বার্ষিক দেয়ালিকা,মেধা ও সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বর্তমান শিক্ষক ও কর্মচারী পরিষদ
[সম্পাদনা]কলেজ শাখায় ১ জন অধ্যক্ষ ও ১৩ জন প্রভাষক কর্মরত আছেন। স্কুল শাখায় ২ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ২২ জন সহকারী শিক্ষক পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১০ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।
কৃতি শিক্ষার্থী
[সম্পাদনা]- বন্দে আলী মিয়া- কবি, লেখক।
- বারীণ মজুমদার- সঙ্গীতজ্ঞ
- গৌরী প্রসন্ন মজুমদার- ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গীতিকার।
- অরুন কুমার বসাক- এমিরেটাস অধ্যাপক।
- মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন- বীর মুক্তিযোদ্ধা; ২২তম মহামান্য রাষ্ট্রপতি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
- কামরুল হাসান মিন্টু- পাবনা পৌরসভার ইতিহাসে টানা তিনবার নির্বাচিত হওয়া প্রথম মেয়র।
- মোঃ সোহেল হাসান শাহীন- সাবেক চেয়ারম্যান, পাবনা সদর উপজেলা।
- জহুরুল ইসলাম বিশু-;সাবেক চেয়ারম্যান, পাবনা পৌরসভা।
- অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাায়ীদ- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও সাবেক সাংসদ। তিনি "বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র" এর প্রতিষ্ঠাতা।
- এ.এইচ.এম মাহমুদার রহমান আলমাজী- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ ও পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক। তিনি পাবনা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
- খন্দকার জিয়াউল ইসলাম ইসলাম মাসুদ- বিশিষ্ট ক্রিয়াবিদ।
- মনোয়ারুল আলম বাবলু- বিশিষ্ট ব্যাডমিন্টনিস্ট।
- তপন কুমার লাহিড়ী- কিংবদন্তী নাট্যশিল্পী।
- বাদশা বুলবুল- বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ।
- এএসএম নজরুল ইসলাম রবি, ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক [৩][৪]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ সাব্বির হোসেন রিপন, রিপন (০৮ মে, ২০১৮)। "স্পন্দন"।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ মনোয়ার হোসেন জাহেদী, জাহেদী (২০০১ সাল)। শতাব্দীর বিদ্যাপীঠ রাধানগর মজুমদার একাডেমী।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|বছর=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক) - ↑ "আমার স্মৃতিতে রাধানগর মজুমদার একাডেমী পাবনা" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৭ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০২০।
- ↑ "দৈনিক জনকন্ঠ || আরএম একাডেমির ১১৯ বছর পূর্তিতে স্মৃতিচারণ"। দৈনিক জনকন্ঠ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুন ২০২০।