প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা একটি সরকারী পরীক্ষা যা প্রাথমিক বোর্ড বাংলাদেশের অধীনে নেওয়া হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে পঞ্চম শ্রেণীতে বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কোন বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদেরকে টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে মূল পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদেরকে বসতে হয়।

যদিও ২০০৫ সাল থেকে উপজেলা পর্যায়ে চলে আসছে। কিন্তু ২০০৯ সালে বাংলাদেশে প্রবর্তিত একটি পাবলিক পরীক্ষা যার মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের (পঞ্চম শ্রেণির) শিক্ষার্থীদের অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। কেবল এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই পরবর্তীকালে নিম্ন মাধ্যমিকের ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়।[১] গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় প্রতিবছর এই পাবলিক পরীক্ষাটি আয়োজন করে থাকে। এর যাত্রা শুরু হয় ২০০৯ সালে প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষার মাধ্যমে। সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী দের এবছরেই প্রথম প্রাথমিক বৃত্তি ও সমাপনি পরীক্ষা একই প্রশ্ন পত্রে অনুষ্ঠিত হয় পরবর্তীতে ২০০৯ সালে দেশব্যাপী প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। [২]

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত ৩য় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় গড় পাসের হার বৃদ্ধি পেয়ে ৯৭ দশমিক ২৬ শতাংশে উন্নীত হয়।[৩] প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেওয়া হলেও ২০১১ সাল থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল দেওয়া হচ্ছে। ২০১০ থেকে এই পরীক্ষার সময় আধা ঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়।[৪][৫]

এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা[সম্পাদনা]

ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা বা পি.ডি.সি হল প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা সার্টিফিকেট সমমানের পঞ্চম শ্রেণীতে বাংলাদেশের শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সরকারী পরীক্ষা যা প্রাথমিক বোর্ড বাংলাদেশের অধীনে নেওয়া হয়। এই পরীক্ষা প্রাথমিক ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত। ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা পি.ডি.সি পরীক্ষা ২০১০ সাল হতে চালু হয়। প্রথম দুই বছর বিভাগভিত্তিক ফল দেওয়া হলেও ২০১১ সাল থেকে গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল দেওয়া হচ্ছে। ২০১১ থেকে এই পরীক্ষার সময় আধা ঘণ্টা বাড়িয়ে আড়াই ঘণ্টা করা হয়।[৪][৬][৭]

পরীক্ষা পদ্ধতি[সম্পাদনা]

ন্যাপ (জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী) কর্তৃক প্রণীত অভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে সমগ্র দেশে একইসময়ে এই পরীক্ষার আয়োজন করে থাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়। উল্লেখ্য অন্যান্য স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (জে.এস.সি, এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি) বাংলাদেশের শিক্ষাবোর্ডসমূহ কর্তৃক আয়োজিত হলেও কেবল প্রাথমিক ও সমমানের পরীক্ষাগুলো আয়োজন করে থাকে মন্ত্রনালয়। প্রায় প্রতিবছরই প্রশ্নকাঠামোতে পরিবর্তন আনা হলেও সাধারণত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও সমমানের পরীক্ষা ৬টি বিষয়ের উপর অনুষ্ঠিত হয় যার প্রতিটিতে সর্বমোট ১০০ নম্বর করে থাকে এবং পাস নম্বর থাকে ৩৩।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "বিস্ময়কর সাফল্য"। ৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১১ 
  2. "খুদে শিক্ষার্থীদের উল্লাস"www.prothom-alo.com। ২৩ ডিসেম্বর ২০০৯। 
  3. ছোটমণিদের আকাশছোঁয়া সাফল্য
  4. "প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা প্রসঙ্গে"। যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০১৩ 
  5. "PSC Result 2014 Primary Education Board"বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০১৫ 
  6. "ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার নম্বরবন্টন"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৩ 
  7. "প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু ২৩ নভেম্বর"। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১৪ 

http://www.bbc.com/bengali/news/story/2009/08/printable/090831_msprimary_publicexam.shtml