এএসএম নজরুল ইসলাম রবি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এএসএম নজরুল ইসলাম রবি
জন্ম১৯৫০
আনুগত্যবাংলাদেশ
সার্ভিস/শাখাবাংলাদেশ সামরিক বাহিনী
পদমর্যাদামেজর জেনারেল
নেতৃত্বসমূহ
  • সাবেক মহাপরিচালক- প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)।
  • কমান্ডডেন্ট, ডিফেন্স ষ্টাফ এন্ড কমান্ড কলেজ, মিরপুর সেনানিবাস।
  • জিওসি, ময়মনসিংহ সেনানিবাস।

এএসএম নজরুল ইসলাম রবি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর (অব:) কর্মকর্তা (মেজর জেনারেল) এবং ডিজিএফআইর সাবেক মহাপরিচালক। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ২০১৮ সালে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে চান। এই আসন থেকে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলু[১][২]

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

এএসএম নজরুল ইসলাম রবির জন্ম ১৯৫০ সালে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের বেরুয়ান গ্রামে। তার পিতা সাহাদত আলী আটঘরিয়ার সড়াবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পাবনা জজকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। দাদা আয়েজ উদ্দিন মোল্লা চাঁদভা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।[১] সড়াবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর ১৯৬৬ সালে পাবনা আর এম একাডেমী থেকে এসএসসি পাশ করেন। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে ভর্তি হন। এরপর তিনি ঈশ্বরদী জিন্নাহ কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পাড়াশোনা করার সময় পিএ ম লং কোর্সের জেন্টেলম্যান ক্যাডেট হিসেবে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন।[১]

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন[সম্পাদনা]

মিলিটারি একাডেমীর ২ বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে কমিশন্ড লাভ করেন। দেশি –বিদেশী পেশাগত উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মিরপুর স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ও প্রথম শেণীতে মাস্টার্স ইন-ডিফেন্স স্টাডিজ (এমডিএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি অষ্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অধিনায়ক ছিলেন। রংপুর ও ঘাটাইল ইনফেন্ট্রি ব্রিগেড এ ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ময়মনসিংহ পদাতিক ডিভিশন এর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মিরপুর ডিফেন্স কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডিজিএফআই এর মহাপরিচালক ছিলেন।[১] নজরুল ইসলাম রবি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান সেনানিবাসে বাঙালি কর্মকর্তা হিসেবে বন্দি জীবনযাপন করেন এব অকথ্য নির্যাতন ভোগ করেন।[১]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৬৬ সালে তিনি পুর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগের একজন সক্রিয় কর্মি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নিবাচনে পাবনা-৪ ( ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) নির্বাচনী এলাকা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।[১][৩]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আশির দশকে নকশবন্দি মোজাদ্দেদীয়া তরিকার পীর টাঙ্গাইল প্যারাডাইসপাড়া দরবারের হজরত মাওলানা শাহ সুফি মকিম উদ্দিন আহমেদ নকশবন্দি মোজাদ্দেদী (রহ.)-এর হাতে বায়াত নেন এবং ১৯৯৪ সালে তিনি তরিকার খেলাফতও পান। নিজ বাসস্থান বেরুয়ানে মোজাদ্দেদীয় খানকা প্রতিষ্ঠা করেন। মেজর জেনারেল (অব:) এ,এস,এম, নজরুল ইসলাম রবি তার গ্রামে নিজস্ব জমিতে একটি এতিম খানা ও হাফেজিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। টাংগাইল, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলা নিয়ে মোজাদ্দেদীয়া মানব কল্যাণ সংস্থা নামক একটি সেবা মুলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। যার মাধ্যমে এতিম ও দুস্থ্যদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হয়। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্র বৃত্তিও প্রদান করা হয়ে থাকে।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "নৌকা পেতে ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজির গণসংযোগ"ntvbd। ৮ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৯ 
  2. "নৌকার মাঝি হতে চান মেজর নজরুল ইসলাম"দৈনিক ভোরের কাগজ। ৯ নভেম্বর ২০১৮। ৫ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৯ 
  3. রিপোর্টার, পাবনা থেকে স্টাফ। "দেশ ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে -ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক"DailyInqilabOnline (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৭-০৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর