রাঙ্গা সোহনী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাঙ্গা সোহনী
রাঙ্গা সোহনী.jpg
১৯৪৬ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে রাঙ্গা সোহনী
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামশ্রীরাঙ্গা যশুদেব রাঙ্গা সোহনী
জন্ম৫ মার্চ, ১৯১৮
নিম্বাহেরা, রাজস্থান, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১৯ মে, ১৯৯৩
থানা, মহারাষ্ট্র, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট, ডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৫)
২০ জুলাই ১৯৪৬ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৪ ডিসেম্বর ১৯৫১ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১০৯
রানের সংখ্যা ৮৯ ৪,০৩৭
ব্যাটিং গড় ১৬.৬০ ২৮.৭১
১০০/৫০ ০/০ ৮/২০
সর্বোচ্চ রান ২৯* ২১৮*
বল করেছে ৫৩২ ১৫,৬৩৪
উইকেট ২৩২
বোলিং গড় ১০১.০০ ৩২.৯৬
ইনিংসে ৫ উইকেট - ১১
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ১/১৬ ৭/২০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৬৯
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৯ জানুয়ারি ২০২০

শ্রীরাঙ্গা বাসুদেব সোহনী বা রাঙ্গা সোহনী (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; হিন্দি: रंगा सोहोनी; জন্ম: ৫ মার্চ, ১৯১৮ - মৃত্যু: ১৯ মে, ১৯৯৩) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজস্থানের নিম্বাহেরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫১ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদরা, হিন্দু, মহারাষ্ট্র ও মুম্বই দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট কিংবা অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছিলেন রাঙ্গা সোহনী

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩৫-৩৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত রাঙ্গা সোহনী’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। রঞ্জী ট্রফিতে স্বার্থক অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। প্রচণ্ড চাপের মধ্যে থেকেও বেশ সুন্দরভাবে ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতে পারতেন। এছাড়াও, দক্ষিণ এশিয়ার মাঠে অবিরাম বোলিং করতেন তিনি।[১]

তিন দশকব্যাপী সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১০৮টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে ৮ সেঞ্চুরি সহযোগে ২৮.১৭ গড়ে ৪,৩০৭ রান তুলেন। এছাড়াও, এগারোবার ইনিংসে পাঁচ-উইকেট ও খেলায় দুইবার দশ-উইকেট লাভসহ ৩২.৯৬ গড়ে ২৩২ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। রঞ্জী ট্রফিতে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ৪২ খেলায় ৩৪.৮৭ গড়ে ২,১৬২ রান ও ২৪.৪৯ গড়ে ১৩৯ উইকেট পেয়েছেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ বিশের বয়সের অধিকাংশ সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে নষ্ট হয় ও এ সময় খুব কমই ক্রিকেট খেলার আয়োজন করা হতো।[১]

রঞ্জী ট্রফিতে বোম্বে, মহারাষ্ট্র ও বরোদরার পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, প্রথম দুই দলের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন ও বরোদরার সদস্যরূপে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে চূড়ান্ত খেলায় পরাজিত দলের সদস্য ছিলেন। বোম্বে ও মহারাষ্ট্র দলের পক্ষে রঞ্জী ট্রফির এগারো খেলায় অধিনায়কত্ব করেন ও ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে বোম্ব দলকে শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম থেকে ১৯৪০-৪১ মৌসুম পর্যন্ত বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় দলে খেলেন ও এ বছরগুলোর দ্বিতীয়টিতে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, একটি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন রাঙ্গা সোহনী।

১৯৪০-৪১ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে তার সুখকর মুহূর্ত উদ্‌যাপন করেন। এ পর্যায়ে মহারাষ্ট্র দলকে শিরোপা করায়ত্ত্ব করতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় পশ্চিম ভারতের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ২১৮ রান তুলেন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে বিজয় হাজারের সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে ৩৪২ রান তুলে তৎকালীন যে-কোন উইকেটে নতুন ভারতীয় রেকর্ড গড়েন। চূড়ান্ত খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে মাদ্রাজের বিপক্ষে ১০৪ রান করেন। ঐ রঞ্জী ট্রফি মৌসুমে ৬৫৫ রান করে নতুন রেকর্ড গড়েন। পাঁচটি সেঞ্চুরি সহযোগে ১৩১.০০ গড়ে ৮০৮ রান তুলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন রাঙ্গা সোহনী। ২০ জুলাই, ১৯৪৬ তারিখে ম্যানচেস্টারে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৫১ তারিখে মুম্বইয়ে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

রাঙ্গা সোহনী ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ড ও ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। তন্মধ্যে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টে অংশ নিয়ে বোলিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত টেস্টে দত্তরাম হিন্দলকরের সাথে শেষ উইকেট জুটিতে ১৩ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে দলকে পরাজয়বরণ করা থেকে রক্ষা করেন।

নিজস্ব প্রথম টেস্টে দলকে ড্র রাখতে যথেষ্ট অবদান রেখেছিলেন। পরের খেলায় নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে অপরাজিত ২৯ রান করে ভারতীয় দলকে বড় ধরনের সংগ্রহে অবদান রাখেন। সর্বশেষ টেস্টে ১০ নম্বরে মাঠে নামেন ও ২৮ রান তুলেন।

১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিজ দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেললেও ব্যাট কিংবা বল হাতে তেমন সফলতা দেখাতে পারেননি। ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে খুব কমই ইংরেজ ও অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের উপর ছড়ি ঘোরাতে পেরেছিলেন। তবে, কার্যকরী নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঝে-মধ্যেই দলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

রাঙ্গা সোহনী দীর্ঘদেহী, উজ্জ্বল ত্বক ও সুন্দর চাহনীর অধিকারী ছিলেন ও তাকে অনেকাংশেই চিত্রতারকার ন্যায় দেখাতো।[১] এক পর্যায়ে ভি. শান্তরম তাকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।[২]

ইংল্যান্ডের পেশাদারী পর্যায়ের ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে লোয়ার হাউজ ক্লাবের পক্ষে খেলেন। স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারী ছিলেন ও মহারাষ্ট্র সরকারের অধীনে শ্রেণীধারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে কাজ করেন। ১৯ মে, ১৯৯৩ তারিখে ৭৫ বছর বয়সে মহারাষ্ট্রের থানা এলাকায় হৃদযন্ত্রের ক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়েরাঙ্গা সোহনী’র দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Mukherjee, Abhishek। "Ranga Sohoni: Maharashtra's champion all-rounder"Cricket country। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রু ২০১৭ 
  • ^ Mihir Bose, A History of Indian Cricket
  • ^ Richard Cashman, Patrons, Players and the Crowd

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]