বিষয়বস্তুতে চলুন

মাস্তুরে আফশার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মাস্তুরে আফশার
জামিয়াত-ই নেসভান-ই বতনখাহতে মাস্তুরে আফশার (বামদিক থেকে বসা, চতুর্থ ব্যক্তি)
জন্ম১৮৯৮
মৃত্যু১৯৫১
জাতীয়তাইরানি
পেশানারীবাদী এবং নারী অধিকার কর্মী
পরিচিতির কারণইরানের দেশপ্রেমিক মহিলা লীগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা

মাস্তুরে আফশার (ফার্সি: مستوره افشار, ১৮৯৮ - ১৯৫১) ছিলেন একজন ইরানি বুদ্ধিজীবী, নারীবাদী, এবং ইরানে নারীর অধিকার আন্দোলনের একজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব।[১] সমসাময়িক নারীবাদী মোহতারাম ইসকান্দারি এবং নূর-উল-হোদা মঙ্গেনেহের পাশাপাশি, ১৯২২ সালে, তেহরানে, তিনি মৌলবাদী ইরানের দেশপ্রেমিক মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি ১৯২৫ সালে সমিতির সভাপতি হন এবং ১৯৩২ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। [২]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

মাস্তুরে আফশার ১৮৯৮ সালে পশ্চিম আজারবাইজানের উর্মিয়াতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন বুদ্ধিজীবী ইরানি জাতীয়তাবাদী মাজদ আল সালতানেহ আফশারের মেয়ে। আফশার শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন রাশিয়াতে। তিনি ফার্সি, আজেরি, তুর্কি এবং ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন।[৩] তাঁর চার ভাইবোন ছিলেন; তাঁর বড় ভাই ছিলেন জালাল আফশার ওরামি, যাঁকে বলা হত ইরানি কীটতত্ত্বের জনক। তাঁর বোন তুরান আফশারও একজন কীটতত্ত্ববিদ ছিলেন। তাঁর অন্য দুই বোন আলকা এবং হাইদি মাস্তুরের মতই দেশপ্রেমিক মহিলা লীগের সদস্য হিসাবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।[৪]

ফারসি সাংবিধানিক বিপ্লবের পরে, একাধিক নারী অধিকার সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। আফশার, তাঁর সমসাময়িক সেদিক দৌলতাবাদী, মোহতারাম ইসকান্দারি এবং অন্যান্যদের সাথে, মেয়েদের বিদ্যালয় তৈরি এবং মহিলাদের রাজনৈতিক অধিকারের উন্নয়নের পক্ষে সওয়াল করেন। ১৯২২ সালে তিনি দেশপ্রেমিক মহিলা লীগ সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৫ সাল পর্যন্ত এর কর্ণধার ছিলেন মোহতারাম ইসকান্দারি। ইসকান্দারি ২৯ বছর বয়সে মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচারের জটিলতায় মারা যাওয়ার পরে মাস্তুরে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত এই সমিতির নেতৃত্বের দায়ভার গ্রহণ করেছিলেন।[৫] তিনি ইরানি প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে ১৯৩০ সালে দামেস্কে অনুষ্ঠিত মুসলিম মহিলাদের উপর প্রথম সম্মেলনে অংশ নেন, তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেদিক দৌলতাবাদী এবং তাবাতাই।[৬]

১৯৩২ সালে, সেই বছরেই ২৭শে নভেম্বর থেকে ২রা ডিসেম্বর পর্যন্ত তেহরানে দ্বিতীয় ইস্টার্ন নারী কংগ্রেস আয়োজন ও উদ্ঘাটন করার জন্য ইরান সরকার তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এই কংগ্রেসে অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, জাঞ্জিবারের মত দেশ থেকে শুরু করে ১৫ টি দেশের মহিলারা উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস একটি ২২-দফা প্রস্তাব পাস করা হয়ে ছিল যার বলে মহিলাদের ভোটাধিকার, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ, পারিবারিক আইনের সংস্কার এবং বহুবিবাহ এবং পতিতাবৃত্তির নিষেধাজ্ঞা প্রচার করা হয়েছিল। যাইহোক, কংগ্রেস শেষ হওয়ার পর, সরকার দেশপ্রেমিক মহিলা লীগ অধিগ্রহণ করে নেয় এবং এটি বন্ধ হয়ে যায়।[৫]

মাস্তুরে অবিবাহিত ছিলেন এবং ১৯৫১ সালে তেহরানে স্তন ক্যান্সার হয়ে মারা যান।[৭]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Nafisi, Azar (২০০৮)। Things I've Been Silent About (ইংরেজি ভাষায়)। Random House Publishing Group। পৃষ্ঠা 245। আইএসবিএন 978-1-58836-749-5। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০২০ 
  2. Women and the political process in twentieth-century Iran. Cambridge University Press, 1997, আইএসবিএন ০-৫২১-৫৯৫৭২-X, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৫৯৫৭২-৮
  3. Mottaghi, Somayyeh। "The Historical Relationship between Women's Education and Women's Activism in Iran." (পিডিএফ)Asian Women। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০২০ 
  4. "Mastura Afshar Orami, the first women's rights activist in Iran"Durna (Persian ভাষায়)। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২০ 
  5. Sedghi, Hamideh (২০০৭)। Women and Politics in Iran: Veiling, Unveiling, and Reveiling (ইংরেজি ভাষায়)। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 52, 82। আইএসবিএন 978-1-139-46372-0। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০২০ 
  6. "PRE-REVOLUTION WOMEN MILESTONES"fis-iran.org। Foundation for Iranian Studies। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০২০ 
  7. Maggs, Sam (২০১৮)। Girl Squads: 20 Female Friendships That Changed History (ইংরেজি ভাষায়)। Quirk Books। আইএসবিএন 978-1-68369-073-3। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০২০ 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]