ইরানে নারীর অধিকার আন্দোলন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তেহরানে (১৯২৩-১৯৩৩) নারী অধিকার সমিতি " জামিয়াত ই নেসভান ই বতন-কাহ" এর পরিচালনা পর্ষদ

ইরানি নারীর অধিকার আন্দোলন (ফার্সি : جنبش زنان ایران), নারীদের অধিকারের জন্য ইরানি নারীদের সামাজিক আন্দোলনের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনটি প্রথম ১৯১০ সালে ইরানের সাংবিধানিক বিপ্লবের পর আবির্ভূত হয়, যে বছর মহিলাদের দ্বারা প্রথম মহিলা জার্নাল প্রকাশিত হয়েছিল। আন্দোলনটি ১৯৩৩ অবধি স্থায়ী হয়েছিল, যেখানে রেজা শাহ পাহলভীর সরকার দ্বারা সর্বশেষ মহিলা সমিতি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। ইরানি বিপ্লবের (১৯৭৯) পরে এটি আবার তীব্রতর হয়।[১][২]

ইরানি নারী আন্দোলন ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে নারীদের ভোটাধিকার (১৯৬৩ সালে, মোহাম্মদ রেজা শাহের শ্বেত বিপ্লবের অংশ) এর মতো বিজয় অর্জন করে। তাদেরকে পাবলিক অফিসে অংশ নেওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং ১৯৭৫ সালে পারিবারিক সুরক্ষা আইন মহিলাদের জন্য নতুন অধিকার প্রদান করেছিল, যার মধ্যে ছিল বিবাহবিচ্ছেদ এবং হেফাজতের অধিকার ও বহুবিবাহ হ্রাস। ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে নারীর অধিকার সীমাবদ্ধ হয়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পরে, বেশ কয়েকটি আইন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেমন বাধ্যতামূলক পর্দা প্রবর্তন ও মহিলাদের পাবলিক ড্রেস কোড।[৩] ২০১৬ সালের নভেম্বরে ইরানের পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রায় ৬% নারী ছিলেন,[৪] যখন বিশ্বব্যাপী গড় প্রায় ২৩% ছিল। [৫]

ইরানে নারী অধিকার আন্দোলন সংস্কারকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, বিশেষ করে এক মিলিয়ন স্বাক্ষর অভিযানের মাধ্যমে মহিলাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য দূর করতে।[৬]

সাংবিধানিক বিপ্লবের পর[সম্পাদনা]

ইরানের সাংবিধানিক বিপ্লব ১৯০৫ সাল থেকে ১৯১১ সালের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। নারীর অধিকারের (অথবা অধিকারের অভাব) চেতনার প্রাথমিক অন্তস্তলের ফলে সমাজ ও পত্রিকা প্রতিষ্ঠা শুরু হয়। মহিলাদের নিম্ন মর্যাদা এবং তাদের অনেক সংগঠন ও সমাজের গোপন কার্যক্রম, বিষয়টির তথ্যের পরিমাণ কিছুটা সীমিত করেছে। সেই যুগে মহিলাদের লেখালেখি, প্রধানত সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলির মাধ্যমে আন্দোলনের তথ্য প্রদান হল অন্যতম মূল্যবান উৎস। এর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকীগুলি নিচে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।[৭]

উপরন্তু, ইরানি নারীরা অন্যত্র নারীর অবস্থা ও শিক্ষাগত সুযোগ সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং তাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল।[৮]

সমাজ ও সংগঠন[সম্পাদনা]

১৯০৬ সালে, পার্লামেন্ট তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেও, মহিলারা "সোসাইটি ফর উইমেনস ফ্রিডম" সহ বেশ কয়েকটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়, যেগুলি গোপনে মিলিত হতে থাকে যতক্ষণ না এই সংগঠনগুলি সরকারের দ্বারা আবিষ্কৃত হয় ও আক্রান্ত না হয়। জমিয়ত ই নেসভান ই বতন-কাহ (দেশপ্রেমিক মহিলা লীগ) প্রায় ১৯১৮ সালের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; এটি 'নোসভান ভাতানখাহ' প্রকাশিত করত।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sanasarian, Eliz (১৯৮২)। The Women's Rights Movements in Iran। Praeger। পৃষ্ঠা 124–129। আইএসবিএন 0-03-059632-7 
  2. Afary, Janet. The Iranian Constitutional Revolution, 1906 - 1911, Columbia University Press, 1996.
  3. "Iranian Women and the Civil Rights Movement in Iran: Feminism Interacted" (পিডিএফ)। Bridgewater State College। ২০১২-০৮-১০ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৪-২৯ 
  4. "Women in Parliaments: World Classification"Inter-Parliamentary Union। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১১-১৩ 
  5. "Women in Parliaments: World and Regional Averages"Inter-Parliamentary Union। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১১-১৩ 
  6. "Iran's Million Signatures Campaign: A Leading Voice for Democracy"। Democracy Digest। ২০১০-০৬-২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৪-৩০ 
  7. Sanasarian 32–37
  8. Ettehadieh, Mansoureh (২০০৪)। The Origins and Development of the Women's Movement in Iran, 1906-41 in Women in Iran from 1800 to the Islamic Republic By Lois Beck and Guity Nashat। University of Illinois Press। আইএসবিএন 978-0-252-07189-8