মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগলিক বিস্তার

আনুমানিক ১৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে স্থানীয় আদিবাসী আমেরিকানদের উত্তর আমেরিকার ভূখন্ডে আগমনের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস শুরু হয়। সেখানে অনেক স্থানীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমেরিকায় গড়ে উঠেছিল যার অধিকাংশ ষোলশতকের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যায়। ১৪৯২ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে আমেরিকায় ইউরোপিয় ঔপনিবেশিক যুগের শুরু হয়। আমেরিকা মহাদেশের বেশীরভাগ উপনিবেশ ১৬০০ সালের পরে গড়ে উঠেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র উপনিবেশ যাদের উৎপত্তির বিস্তারিত বিবরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। [ক] ১৭৬০ সালে উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে ২.৫ মিলিয়ন জনসংখ্যা নিয়ে তেরটি বৃটিশ কলোনি স্থাপিত হয়েছিল। ফ্রান্স ইন্ডিয়ান যুদ্ধে জয়লাভের পর বৃটিশ সরকার উপনিবেশের উপর বেশ কিছু কর ধার্য় করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে প্রতিবাদ শুরু হয়। ১৭৭৩ সালে বোষ্টন টি পার্টির প্রতিবাদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই আন্দোলন দমনের জন্য বৃটিশ পার্লামেন্ট বিশেষ আইন পাশ করে। পরবর্তিতে ১৭৭৫ সালে এই আন্দোলন এক রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তার চেয়েও বেশী হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে থাকে। ১৯৪০ সালের আগে পর্য়ন্ত শান্তিকালিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তখনো কোন উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেনি।

১৭৭৬ সালে ফিলাডেলফিয়ায় দ্বিতীয় মাহাদেশীয় কংগ্রেস (Second Continental Congress) জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে উপনিবেশগুলোর স্বাধীনতা ঘোষনা করে তাদেরকে একত্রে “যুক্তরাষ্ট্র” হিসাবে ঘোষনা করে। বিপ্লবী যুদ্ধে তারা জয়লাভ করে। ১৭৮৩ সালে একটি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রগুলোর সীমানা নির্ধারণ করা হয়। কনফেডারেশনের শাসনপন্থা প্রণয়ন করা হয়।[২] সেই সাথে কেন্দ্রে প্রশাসনিক ক্ষমতা ও কর গ্রহনের সক্ষম নয় এমন একটি সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন সরকার গঠন করা হয়। ১৭৮৯ সালে একটি কনভেনশনের মাধ্যমে নতুন শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়। ১৭৯১ সালে তাতে ‘নাগরিক অধিকার’ সংযোজন করা হয়। একই সাথে জর্জ ওয়াশিংটনকে প্রেসিডেন্ট এবং জর্জ হ্যামিলটনকে তার প্রধান পরামর্শদাতা নির্বাচিত করে কেন্দ্রে একটি শক্তিশালী সরকার গঠন করা হয়। ১৮০৩ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে লুজিয়ানা টেরিটরি ক্রয় করার পর যুক্তরাষ্ট্রের আকার দ্বিগুন বৃদ্ধি পায়।

ভাগ্য প্রকাশের (manifest destiny) ধারনায় অনুপ্রাণিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরো পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের তার ভূখন্ড বিস্তৃত করতে থাকে। ১৭৯০ সালে সুবিশাল ভৌগলিক এলাকার জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৪ মিলিয়ন। দাস মালিক ও ইয়োমান কৃষকদের জন্য পশ্চিমের শস্তা জমি দেশটির পশ্চিমমূখি সম্প্রসারনের মূল চালিকা শক্তি ছিল। বিতর্কিত দাসপ্রথার ব্যাপক বিস্তার ক্রমবর্ধমান অষোন্তস জন্ম দিতে থাকে। এক পর্য়ায়ে রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক যুদ্ধ শুরু হয়। ১৮০৪ সালের মধ্যে মেসন -ডিক্সন লাইনের উত্তরে সমস্ত রাজ্যে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু দক্ষিনে কৃষিকাজে বিশেষ করে তুলা উৎপাদনের জন্য এই প্রথা তখনো চালু ছিল।

১৬৬০ সালে আব্রাহাম লিংকন দাসপ্রথার বিস্তাররোধ সমর্থিক একটি প্লাটফর্মে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দাসশ্রমের উপর নির্ভরশীল দক্ষিণের সাতটি রাষ্ট্র তখন বিদ্রোহ করে এবং কনফেডারেসির ভিত্তি প্রস্তুত করে। ১৮৬১ সালে একটি ফেডারেল দুর্গে আক্রমণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ১৮৬৫ সালে কনফেডারেটসের পরাজয়ের ফলে দাসপ্রথার অবসান ঘটে। যুদ্ধ পরবর্তি পুনর্গঠনের সময়, মুক্ত দাসদের আইনগত অধিকার এবং ভোটাধিকার প্রদান করা হয়েছিল। কেন্দ্রে একটি শক্তিশালী জাতীয় সরকার গঠন করা হল। সকল নাগরিকের ব্যাক্তি স্বাধীনতা রক্ষা করা এই সরকারের মূল দায়িত্ব হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা হল। তবে এর পরে ১৮৭৭ সালে সাদারা যখন দক্ষিণে তাদের ক্ষমতা ফিরে পেল, তখন আধাসামরিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে সাদাদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য জিম ক্রো আইন পাস করেছিল, সেইসাথে নতুন রাষ্ট্রীয় সংবিধানের মাধ্যমে বেশিরভাগ আফ্রিকান আমেরিকান এবং অনেক দরিদ্র শ্বেতাঙ্গদের ভোটাধিকারে বাধা প্রদান করা হল।

উদ্যোক্তা, শিল্পায়ন এবং লক্ষ লক্ষ অভিবাসী শ্রমিক এবং কৃষকের আগমনের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ শতকের শেষের দিকে বিশ্বের শীর্ষ শিল্প শক্তিতে পরিনত হয়। দেশজুড়ে একটি জাতীয় রেলপথ নেটওয়ার্ক নির্মিত হয় এবং বৃহৎ খনি এবং কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৯০ থেকে ১৯২০ এর দশক পর্যন্ত দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং পুরাতনধারার রাজনীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অসন্তোষ ও প্রগতিশীল আন্দোলন শুরু হয়। যার ফলে ফেডারেল আয়কর, সিনেটরদের সরাসরি নির্বাচন, মদ নিষিদ্ধকরণ এবং মহিলাদের ভোটাধিকার সহ বেশ কিছু সংস্কার করা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রথমদিকে নিরপেক্ষ থাকলেও, ১৯১৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং পরের বছর মিত্র বাহিনীর যুদ্ধে অর্থায়ন করে। ‘সমৃদ্ধ গর্জনশীল বিশ’ (Roaring Twenties) এর পর, ১৯২৯ সালের ওয়াল স্ট্রিট শেয়ার বাজারের ব্যাপক ধ্বস দশকব্যাপী বিশ্বব্যাপী মহামন্দার সূচনা করেছিল। প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট `নিউ ডিল' নামের একটি নতুন কর্মসূচি গ্রহন করেন। এই কর্মসূচির মধ্যে ছিল, বেকার ও কৃষকদের সহায়তা দান, সামাজিক নিরাপত্তা বা সোসাল সিকিউরিট এবং সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ। এই কর্মসূচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আধুনিক উদারবাদ (Modern liberalism) প্রতিষ্ঠা করেছিল। [৩] মার্কিন রণঘাঁটি পার্ল হারবার আক্রান্ত হবার পর ১৯৪১ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে অংশ নিয়ে মিত্র শক্তিকে অর্থ সহায়তা প্রদান করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ভূমিকা নাৎসী জার্মান ও ইটালির ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাস্ত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। যুদ্ধে মার্কিনদের অংশগ্রহন চূড়ান্ত রূপ পায় যখন তারা জাপান সাম্রাজ্যের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে তাদের নতুন আবিষ্কৃত ‘আনবিক বোমা’ নিক্ষেপ করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল হিসাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্ধী শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হল। স্নায়ু যুদ্ধের সময় এই দুই পরাশক্তি, অস্ত্র প্রতিযোগিতা, মাহাকাশ, প্রচার প্রচারণা এবং কমিউনিস্ট সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে স্থানীয় যু্দ্ধের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে পরস্পরের বিরুদ্ধে ঠান্ডা যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ১৯৬০ এর দশকে, প্রবল নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রভাবে, সামাজিক সংস্কারের আরেকটি দিক, আফ্রিকান আমেরিকান এবং অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার এবং চলাচলের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করেছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর শীতল যুদ্ধের অবসান হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে একমাত্র পরাশক্তি হিসাবে পরিগনিত হতে থাকে। শীতল যুদ্ধের অবসানের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি মূলতঃ মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব অক্ষুন্ন রাখার বিষয়টি অধিক প্রাধান্য পায়। বিশেষ করে ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক হামলা এবং ইসলামিক স্টেটের মোকাবেলাই তাদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক নীতিমালার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ২১ শতকের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মন্দার কবলে পরে। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ অতিমারীর কারনে এদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অনেক মন্থর হয়ে পরে।

প্রাগৈতিহাসিক যুগ[সম্পাদনা]

এই মানচিত্রটিতে বরফমুক্ত করিডোর এবং নির্দিষ্ট প্যালিওইনডিয়ান সাইটগুলির আনুমানিক অবস্থান দেখা যাচ্ছে (ক্লোভিস তত্ব অনুসারে)।

ঠিক কবে আমেরিকার আদিবাসীরা সেখান প্রথম বসতি স্থাপন করেছিল সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা শক্ত। প্রচলিত তত্ব অনুসারে আদি ইউরেশিয়ার বাসিন্দারা শীকারের উদ্দেশ্যে জন্তুর পালের পিছে পিছে আমেরিকা মহাদেশে এসে পৌছায়। সে সময় পৃথিবীতে বরফ যুগ চলতে থাকায় বেরিং প্রনালী সাইবেরিয়া এবং বর্তমান আলাস্কাকে সংযুক্ত করে রেখেছিল। যার ফলে মানুষ এশিয়া থেকে আমেরিকায় পায়ে হেঁটে চলে আসতে পেরেছিল, পরবর্তিতে তারা আরো দক্ষিনে চলে আসে। এই অভিবাসন ৩০,০০০ বছর থেকে ১০,০০০ বছর পূর্ব পর্য়ন্ত চলেছিল।[৪] বেরিং প্রণালীর স্থল সংযোগটি সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার পর এই অভিবাসন বন্ধ হযে যায়।[৫][পূর্ণ তথ্যসূত্র প্রয়োজন] নতুন অভিবাসীরা খুব দ্রুত ভিন্ন ভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে যায়।

প্রাক কলম্বিয়ান যুগে আমেরিকার সাংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং স্থাপনায় নিজস্ব ধরন পরিলক্ষিত হয়। ইউরোপিয় উপনিবেশকদের আগমনের পর সে সব প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে থাকে। প্রাক কলম্বিয়ান যুগ বলতে ১৪৯২ সালের ক্রিষ্টোফার কলোম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের পূর্বের যুগকে বুঝালেও প্রকৃতপক্ষে শব্দটি দ্বারা আমেরিকার আদিবাসী সংস্কৃতিকে বোঝানো হয়। যে সংস্কৃতি কলোম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের অনেক দশক পরও, ইউরোপিয়দের দ্বারা সম্পুর্ণরূপে দখল হবার আগ পর্য়ন্ত টিকে ছিল।

প্রাক কলম্বিয়ান যুগ[সম্পাদনা]

"A Clovis blade with medium to large lanceolate spear-knife points. Side is parallel to convex and exhibit careful pressure flaking along the blade edge. The broadest area is near the midsection or toward the base. The base is distinctly concave with a characteristic flute or channel flake removed from one or, more commonly, both surfaces of the blade. The lower edges of the blade and base is ground to dull edges for hafting. Clovis points also tend to be thicker than the typically thin later stage Folsom points. Length: 4–20 cm/1.5–8 in. Width: 2.5–5 cm/1–2
একটি প্রোজেক্টাইল ক্লোভিস পয়েন্ট।

১০,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে, আমেরিকার আদিবাসীরা সমগ্র উত্তর আমেরিকায় ছড়িয়ে পরেছিল। প্যালিও-ইন্ডিয়ান জনগোষ্ঠী বরফ যুগে মূলত, বিশালাকায় প্রাণী ম্যামথ শীকার করতো। কিন্তু যখন ম্যামথ বিলুপ্ত হতে শুরু করল, তখন মানুষ খাদ্য উৎস হিসেবে বাইসনকে বেছে নিল। সময়ের সাথে সাথে, বেরি এবং খাদ্য বীজ সংগ্রহ শিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে ওঠে। প্রায় ৮,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মধ্য মেক্সিকোতে প্যালিও-ইন্ডিয়ানরা আমেরিকার প্রথম কৃষি খামার তেরী করেছিল। সেখানে তারা ভুট্টা, মটরশুটি এবং স্কোয়াশ রোপণ শুরু করেছিল। অবশেষে, কৃষি সম্পর্কে তাদের এই জ্ঞান, উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, হোহোকাম নগরীর প্রাচীন সেচ ব্যবস্থার পর, অ্যারিজোনা এবং নিউ মেক্সিকো উপত্যকায় ভুট্টা চাষ শুরু হয়। [৬][৭]

আমেরিকার প্রচীন সংস্কৃতির মধ্যে অন্যতম হল ক্লোভিস সংস্কৃতি। প্রাথমিক ভাবে ছুঁচালো বল্লমের অগ্রভাগ থেকে এই সংস্কৃতিকে আবিষ্কার করা হয়। ৯,১০০ থেকে ৮,৮৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত, এই সংস্কৃতি উত্তর আমেরিকার বেশিরভাগ অঞ্চলে জনপ্রিয় ছিল এবং দক্ষিণ আমেরিকায়ও এর উপস্থিতি ছিল। ১৯৩২ সালে নিউ মক্সিকোর ক্লোভিস এলাকায় একটি প্রত্নতাত্মিক খননের ফলে এই সংস্কৃতির বেশ কিছু পুরাতাত্মিক নিদর্শন পাওয়া গিয়েছিল।

ভাষাবিদ, নৃতত্ববিদ ও প্রত্নতাত্বিকদের মতে আমেরিকায় পরবর্তি অভিবাসন ঘটে ৮,০০০ খ্রীস্টপূর্বে। এদের মধ্যে অন্যতম ছিল না-দেনে ভাষাভাষি জনগোষ্ঠী, যারা ৫০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে আমেরিকার ভূখন্ডে প্রবেশ করেছিল।[৮] এই জনগোষ্ঠী উত্তর পশ্চিম আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল পর্য়ন্ত বাস করত। তারা বৃহদাকায় বাসস্থানে কয়েকটি পরিবার একত্রে বসবাস করত। তবে এসব বসবাসের স্থান তারা সব ঋতুতে ব্যবহার করত না। মূলত গ্রীষ্মে পশু শীকার ও মাছ ধরার ক্ষেত্রে এবং শীতকালে খাদ্য সংরক্ষণ করতে ব্যবহার করত।[৯] ওসারা নামের আরো একটি জনগোষ্ঠীর সন্ধান পাওয়া যায় যারা খ্রষ্টিপূর্ব ৫,৫০০ থেকে ৬০০ খ্রীষ্টাব্দ পর্য়ন্ত এই এলাকায় বসবাস করত।

স্তুপ এবং পোয়েবলো[সম্পাদনা]

ওয়েষ্ট ভার্জিনিয়ায় প্রাপ্ত এ্যাডেনা গোষ্ঠী কর্তৃক নির্মিত একটি স্তুপ।
মঙ্ক মাউন্ড, ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের আর একটি স্তুপ।

এ্যাডেনা সংস্কৃতি নামের একটি প্রাক কলম্বিয়ান সংস্কৃতির জনগন খ্রীষ্টপূর্ব ৬০০ সাল থেকে মাটির তৈরী বৃহদাকার স্তুপ নির্মান করত। এরাই আমেরিকার সবেচেয়ে প্রাচীন স্তুপ বা মাউন্ড নির্মানকারী জনগোষ্ঠী। ওয়াটসন ব্রেক এমনি একটি মাউন্ড কমপ্লেক্স যার বয়স ৩,৫০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ। Poverty Point নামের আরও একটি মৃৎনির্মিত কমপ্লেক্সের সন্ধান পাওয়া। এর আনুমানিক নির্মান সাল ১৭০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ।

হোপওয়েল নামের আর একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সাথে এ্যাডেনা গোষ্ঠীর জনগন মিশে এক হয়ে যায়। হোওয়েলরা অপেক্ষাকৃত অধিক ক্ষমতাবান ছিল এবং মহাদেশের বিশাল এলাকাজুড়ে ব্যবসায় বানিজ্য করত।

উত্তর -পশ্চিম এবং উত্তর -পূর্ব[সম্পাদনা]

প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর -পশ্চিমের আদিবাসীরা সম্ভবত সবচেয়ে ধনী আদিবাসী আমেরিকান ছিল। অনেকগুলি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যের জাতিস্বত্তা সেখানে গড়ে উঠেছে, কিন্তু তারা সবার মধ্যে কিছু বিশ্বাস ও এৗতিহ্যগত মিল ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ১,০০০ সালের আগে থেকেই এই অঞ্চলের স্থায়ী গ্রামগুলি গড়ে উঠতে শুরু করে। এসব সম্প্রদায় পটল্যাচের মতো বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান পালন করত। এই সমাবেশগুলি সাধারণত বিশেষ কোন উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হতো। যেমন, ‘টোটেম মেরু’ বা নতুন প্রধানকে বরণ করার উৎসব। ১৫ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইরোকুইসরা বর্তমান নিউইয়র্কে, ওয়ানিদা, মোহাওক, ওননডাগা, কায়ুগা এবং সেনেকা নিয়ে উপজাতীয় জাতির একটি কনফেডারেসি গঠন করেছিল। তারা এমন একটি শাসন ব্যবস্থা গ্রহন করেছিল যা ইউরোপের কঠিন রাজতন্ত্র থেকে অনেক আলাদা ছিল।[১০][১১][১২] ৫০ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিটি গোত্র থেকে একজন করে প্রতিনিধী থাকতো। ধারণা করা হয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গঠনের সময় আদিবাসীদের এই রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে স্মরণ রেখেছিলেন। ইরোকুইস ছিল শক্তিশালী, প্রতিবেশী অনেক উপজাতি এবং পরবর্তীকালে ইউরোপীয়দের সাথে তারা যুদ্ধ করছিল। তাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে ওসেজ, কাও, পোনকা এবং ওমাহা জনগোষ্ঠী সহ ছোট আরো অনেক উপজাতি আমেরিকার আরও পশ্চিমে চলে যেতে বাধ্যহয়।[১২][১৩]

স্থানীয় হাওয়াইয়ানরা[সম্পাদনা]

১ম থেকে ১০ম শতকের মধ্যে পলিনেশিয়ানরা হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে বসতি স্থাপন করতে শুরু করে। প্রায় ১২০০ খ্রিস্টাব্দে, তাহিতিয়ান অভিযাত্রীরা এই দ্বীপটি আবিষ্কারের পর এখানে বসতি স্থাপন করতে শুরু করেছিলেন। ৬০০ বছর পর সেখানে পরে ব্রিটিশদের আগমনের আগ পর্যন্ত দ্বীপটি বিশ্বের অন্যান্য অংশ থেকে একরকম বিচ্ছিন্ন ছিল। ব্রিটিশ অভিযাত্রী ক্যাপ্টেন জেমস কুকের অধীনে ইউরোপীয়রা ১৭৭৮ সালে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে এসেছিলেন। এবং যোগাযোগের পাঁচ বছরের মধ্যে, ইউরোপীয় সামরিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে হাইতের রাজা প্রথম কামাহেমাহা প্রথমবার দ্বীপগুলিকে একত্রিত করে হাওয়াই রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

ইউরোপীয় উপনিবেশ[সম্পাদনা]

প্রধান প্রধান ইউরোপীয় জাতিগুলো আমেরিকায় বসতি স্থাপনের বেশ কয়েকটি ব্যর্থ চেষ্টার পর ইংরেজরা ১৬০৭ সালে সেখানে বসতি স্থাপনে সক্ষম হয়। ইউরোপীয়রা আমেরিকাতে ঘোড়া, গবাদি পশু এবং হগ নিয়ে এসেছিল এবং পরিবর্তে ভুট্টা, টার্কি, টমেটো, আলু, তামাক, মটরশুটি এবং স্কোয়াশকে ইউরোপে নিয়ে গিয়েছিল। আমেরিকায় নতুন রোগের সংস্পর্শে আসার পর অনেক অভিযাত্রী এবং প্রাথমিক বসতি স্থাপনকারীরা মারা যান। গুটি বসন্ত ও হাম আদিবাসী জনগনের জন্য বেশী মারাত্মক ছিল। কারন রোগটি সম্পূর্ণ অপরিচত হওয়ায় তাদের শরীর রোগ প্রতিরোধ করার কোন সুযোগ পায়নি। ইতিহাসে এই ঘটনা ‘কলম্বিয়ান এক্সচেঞ্জ’ নামে পরিচিত। বড় আকারের ইউরোপীয় বসতি শুরু হওয়ার আগেই ব্যাপক মহামারীর শিকার হয়ে প্রচুর আদিবাসী আমেরিকান মারা গিয়েছিল। জনসংখ্যার একটি বড় অংশের আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের সমাজব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল।[১৪][১৫]

প্রথম বসতি[সম্পাদনা]

স্প্যানিশ যোগাযোগ[সম্পাদনা]

আমেরিকা আবিষ্কারের কথা জানিয়ে রাজা ফারনান্ডেজ ও রানী ইসাবেলাকে লেখা ক্রিস্টোফার কলম্বাসের চিঠি।

প্রথম ইউরোপীয় হিসাবে স্প্যানিশ অভিযাত্রীরা বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌছাঁন। ক্রিস্টোফার কলম্বাসের অভিযানের পর (১৪৯২ থেকে শুরু করে) ক্যারিবিয়ানে আধুনিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুয়ের্তো রিকো অঞ্চল এবং (আংশিকভাবে) ইউএস ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। হুয়ান পন্স ডি লিওন ১৫১৩ সালে ফ্লোরিডায় অবতরণ করেন।[১৬] স্প্যানিশ অভিযানগুলি দ্রুত অ্যাপাল্যাচিয়ান পর্বত, মিসিসিপি নদীতে পৌঁছে।[১৭]

১৫৩৯ সালে হার্নাডো ডি সটো আমেরিকার পূর্ব দক্ষিন অঞ্চলে ব্যাপক অভিযান চালান, [১৮] এক বছর পর ফ্রানসিসকো কর্নাডো স্বর্ণের খনির খোঁজে আরিজোনা থেকে মধ্য কেনসাস পর্য়ন্ত ব্যাপক অনুসন্ধান চালান।[১৮] [৬] এসব এলাকায় ছোট ছোট স্প্যানিশ বসতি গড়ে উঠেছিল। ক্রমে এসকল বসতি গুরুত্বপূর্ণ শহরে পরিনত হয়েছিল। যেমন, সান মেরিনো, নিউ মেক্সিকো, টাকশন, লজ এন্জেলস্ এবং সান ফ্রানসিসকো।[১৯]

ডাচ মধ্য আটলান্টিক[সম্পাদনা]

১৭৫০ সালের ম্যাপে উত্তর আমেরিকার ভূমির উপর ইউরোপীয় বসতিস্থাপনকারীদের দাবি
  ফ্রান্স
  গ্রেট ব্রিটেন
  স্পেন

ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অভিযাত্রী হেনরি হাডসনকে ১৬০৯ সালে এশিয়া যাওয়ার উত্তর -পশ্চিম জলপথ আবিষ্কারের দায়িত্ব দেয়। কোম্পানিটি ১৬২১ সালে উত্তর আমেরিকার পশম বাণিজ্যকে পুঁজি করে নিউ নেদারল্যান্ড প্রতিষ্ঠা করে। ডাচ এবং আদিবাসী আমেরিকানদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের নিরোসনে অব্যবস্থাপনার কারণে প্রথম দিকে বসতি স্থাপনের গতি খুব মন্থর ছিল। ডাচরা আমেরিকান আমেরিকানদের কাছ থেকে ২৪ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ম্যানহাটান দ্বীপ কিনে নিয়ে তার নতুন নাম দেয় ক্রয় করার পর সেই ভূমির নামকরণ করে নিউ আমস্টারডাম। এই শহরকে নিউ নেদারল্যান্ডের রাজধানী হিসাবেও ঘোষনা করে। এই শহর খুব দ্রুত সম্প্রসারিত হয় এবং ১৬০০ সালের মাঝামাঝিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র এবং বন্দর হয়ে ওঠে। ডাচরা হবার পরও ক্যালভিনিস্ট (ব্যাপটিস্ট বা প্রটেস্ট্যান্ট মতবাদের বিশ্বাসী) হলেও, ওলন্দাজরা অন্যান্য ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি সহনশীল ছিল এবং উত্তরের ইরোকুইসদের সাথে তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রেখেছিল।[২০] উপনিবেশটি নিউ ইংল্যান্ড থেকে ব্রিটিশ সম্প্রসারণের অন্তরায় হিসেবে কাজ করেছিল এবং ফলস্বরূপ ডাচ ও ইংজেদের মধ্যে একের পর এক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৬৬৪ সালে ব্রিটেন উপনিবেশটি দখল করে নেয় এবং এর রাজধানীর নতুন নামকরণ করা হয় নিউ ইয়র্ক সিটি। নিউ নেদারল্যান্ড আমেরিকান সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবনে ধর্মীয় সহনশীলতা এবং শহুরে এলাকায় সংবেদনশীল বাণিজ্য এবং গ্রামাঞ্চলে গ্রামীণ ঐতিহ্যে (রিপ ভ্যান উইঙ্কলের গল্প দ্বারা বর্ণিত) একটি স্থায়ী ছাপ রেখে যেতে পেরেছিল। উল্লেখযোগ্য ডাচ আমেরিকানদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন, মার্টিন ভ্যান ব্যুরেন, থিওডোর রুজভেল্ট এবং ফেরিনগ্লোসেন পরিবার।[২০]

সুইডিশ বসতি[সম্পাদনা]

সুইডিশ সাম্রাজ্যের প্রথম বছরগুলিতে, সুইডিশ, ডাচ এবং জার্মান স্টকহোল্ডাররা উত্তর আমেরিকায় পশম এবং তামাক ব্যবসার জন্য নিউ সুইডেন কোম্পানি গঠন করে। কোম্পানির প্রথম অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পিটার মিনুইট, যিনি ১৬২৬ থেকে ১৬৩১ পর্যন্ত নিউ নেদারল্যান্ডের গভর্নর ছিলেন কিন্তু ডাচ সরকারের সাথে বিরোধের পর সেখান থেকে চলে যান। ১৬৩৮ সালের মার্চ মাসে ডেলাওয়্যার উপসাগরে অবতরণ করেন। বসতি স্থাপনকারীরা এখনকার ডেলাওয়্যারের উইলমিংটনে ‘ফোর্ট ক্রিস্টিনা’ নামকে একটি কেল্লা প্রতিষ্ঠা করেন। ডেলাওয়্যার নদীর উভয়পরে স্থানীয় আদিবাসীদের সাথে একটি চুক্তি করেন। পরবর্তী সতেরো বছরে, আরও ১২ টি অভিযান সুইডিশ সাম্রাজ্য থেকে (যার মধ্যে সমসাময়িক ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, এবং লাটভিয়া, নরওয়ে, রাশিয়া, পোল্যান্ড এবং জার্মানির অংশও ছিল) নতুন সুইডেনে এসেছিল। উপনিবেশটি বহু খামারের সাথে ১৯ টি স্থায়ী বসতি স্থাপন করে, যা আধুনিক মেরিল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া এবং নিউ জার্সিতে বিস্তৃত ছিল। ১৫৫৫ সালে প্রতিবেশী নিউ নেদারল্যান্ড উপনিবেশ কর্তৃক আক্রান্ত হবার পর ১৫৫৫ সালে এটি নিউ নেদারল্যান্ড এর অন্তর্ভুক্ত হয়।[২১][২২]

ফরাসি এবং স্প্যানিশ দ্বন্দ্ব[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ উপনিবেশ[সম্পাদনা]

১৬১৬ সালে প্রকাশিত ইংলিশ পরর্য়টক জন স্মিথ এর নিউ ইংল্যান্ডের বর্ণনা এর উদ্ধৃতি
মে ফ্লাওয়ার যাত্রীদের নিয়ে নতুন দুনিয়ার পলিমাউথের পিলগ্রিমসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। প্রথম শীতে জাহাজের অর্ধেক আরোহীর মৃত্যু হয়।[২৩]

ওয়াল্টার রালেইগ ১৫৮৫ সালে উত্তর আমেরিকার প্রথম ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তার এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। এর বিশ বছর পর উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার পরিবর্তি প্রচেষ্টা অবশ্য সফল হয়েছিল।[৬]

প্রথমদিকে ব্রিটিশ উপনিবেশগুলি বেসরকারী উদ্যোক্তারা শুধু মুনাফার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এসব উপনিবেশে অনাহার, রোগ এবং স্থানীয় আমেরিকানদের আক্রমণের শীকার হয়েছিল। অনেক অভিবাসী ধর্মীয় স্বাধীনতা পাবার জন্য বা রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাওয়া জন্য সেখানে এসেছিল। শিল্প বিপ্লবের কারণে বাস্তুচ্যুত কৃষক, অথবা শুধুমাত্র দুঃসাহসিক অভিযানের সুযোগ পাবার জন্য সেখানে গিয়েছিল।

কিছু এলাকায়, স্থানীয় আমেরিকানরা বসতিস্থাপনকারীদের শিখিয়েছিল কিভাবে দেশীয় ফসল রোপণ এবং ফসল কাটতে হয়। অনেক জায়গায় তারা স্থানীয়দের হিংস্র আক্রমনের শীকার হয়। অন্যদের মধ্যে, তারা বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণ করে। অব্যবহৃত বনাঞ্চল থেকে প্রচুর নির্মাণ সামগ্রী এবং জ্বালানি কাঠের পর্যাপ্ত সরবরাহ ছিল। মহাসাগরের প্রাকৃতিক প্রবেশদ্বার, বিশাল সমুদ্র উপকূল ইউরোপের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ রক্ষায় পোতাস্রয় নির্মানের জন্য আদর্শ ছিল। [৬]

জেমসটাউনে প্রথম বসতি[সম্পাদনা]

১৬০৭ সালে জেমস নদীর তীরে অবস্থিত জেমসটাউনে ভার্জিনিয়া কোম্পানি প্রথম সফল ইংরেজ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই বসতিস্থাপনকারীরা স্বর্ণের সন্ধানে ব্যস্ত ছিল এবং একটি নতুন এলাকায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনিয় প্রস্তুতি তাদের ছিল না। ক্যাপ্টেন জন স্মিথ প্রথম বছর এই উপনিবেশকে আপ্রাণ চেষ্টা করে টিকিয়ে রেখেছিলেন। পরে অরাজাগতা ও বিশৃঙ্খলার কারনে এই বসতী ব্যার্থ হলে দুই বছর পরে তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। জন রলফ ১৬১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে তামাক নিয়ে পরীক্ষামূলক ব্যবসা শুরু করেন। ১৬১৪ সালে সেখান থেকে তামাকের প্রথম চালান লন্ডনে আসে। পরবর্তী এক দশকের মধ্যে তামাক, ভার্জিনিয়ার প্রধান আয়ের উৎস হয়ে ওঠে।

১৬২৪ সালে, বছরের পর বছর ধরে রোগের পাদুর্ভাব, স্থানীয়দের আক্রমণ, ১৬২২ সালের পোহাটান আক্রমণর পর রাজা প্রথম জেমস ভার্জিনিয়া কোম্পানির সনদ প্রত্যাহার করে ভার্জিনিয়াকে রাজকীয় উপনিবেশে পরিণত করেন।

নিউ ইংল্যান্ড[সম্পাদনা]

মে ফ্লাওয়ারের পুরুষ যাত্রীরা ‘কম্প্যাক্ট’ স্বাক্ষর করছেন।

প্রাথমিকভাবে ধর্মীয় সংস্কারপন্থী পিউরিটানরা রাজা প্রথম জেমসের ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নিউ ইংল্যান্ডে বসতি স্থাপন করেছিল। এই পিউরিটানরা ১৬২০ সালে মে ফ্লাওয়ার নামের একটি জাহাজে করে ভার্জিনিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। জাগাজটি ঝড়ের কবলে পড়ে প্লাইমাউথে অবতরণ করে। যেখানে তারা ‘মেফ্লাওয়ার কম্প্যাক্টে’ নামে স্থানী জনগনের সাথে একটি সামাজিক চুক্তি করে। জেমসটাউনের মতো, প্লাইমাউথের এই উপনিবেশও রোগ ও অনাহার হানা দেয়। স্থানীয় ওয়্যাম্পানোগ ইন্ডিয়ানরা বসতিস্থপনকারীদের ভূট্টা চাষের কৌশল শিখিয়েছিল। পিউরিটানদের কলোনির মতো ১৬৩০ সালে ম্যাসাচুসেটস বে কলোনি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তারা ইংল্যান্ড থেকে পৃথক স্বশাসনের জন্য সনদের ভিত্তিতে এই কলোনি স্থাপন করেছিল। প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরের বেশিরভাগ সময় উইনথ্রপকে তারা গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত করে। রজার উইলিয়ামস উইনথ্রপের আদিবাসী আমেরিকানদের চিকিৎসা এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরোধিতা করেন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ভিত্তিতে প্রভিডেন্স প্ল্যান্টেশন, পরে রোড আইল্যান্ড নতুন উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যান্য উপনিবেশবাদীরা কানেকটিকাট নদী উপত্যকায় এবং বর্তমান নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং মেইনের উপকূলে বসতি স্থাপন করে। এসব এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্থানীয় আমেরিকানদের আক্রমণ অব্যাহত ছিল। এর মধ্যে ১৬৩৭ সালের পেকোট যুদ্ধ এবং ১৬৭৫ সারের রাজা ফিলিপের যুদ্ধ উল্লেখ্যযোগ্য।

অসমতল, কঠিন ও পাথুরে মাটির কারণে নিউ ইংল্যান্ডের জমি কৃষির জন্য উপযোগী ছিল না। তাই এখানে বাণিজ্য ও শিল্পের কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। নদীগুলির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে শস্য মাড়াইয়ের কল এবং করাত কল স্থাপন করা হয়েছিল। সেই সাথে অসংখ্য বন্দর বাণিজ্যকে সহজ করে তুলেছিল। এই শিল্প কেন্দ্রগুলির চারপাশে ঘনবসতি সম্পন্ন গ্রাম গড়ে ওঠে। এবং একমসয় বোস্টন আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসাবে পরিচতি পায়।

দক্ষিণের উপনিবেশ[সম্পাদনা]

দক্ষিণের গ্রামাঞ্চল অধ্যুসিত উপনিবেশগুলির চিত্র উত্তরের চাইতে বিপরীত ছিল। ভার্জিনিয়ার বাইরে, নিউ ইংল্যান্ডের দক্ষিণে প্রথম ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল মেরিল্যান্ড, যা ১৬৩২ সালে একটি ক্যাথলিকদের আবাস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। চাষিরা ভার্জিনিয়ার টাইডওয়াটার অঞ্চলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে, দাসশ্রম নিয়ে ব্যাপক আবাদ স্থাপন করে, যখন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃষকরা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হতে শুরু করে।

১৬৭০ সালে, ক্যারোলিনা প্রদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং চার্লসটন এই অঞ্চলের বিশাল বাণিজ্য বন্দর হয়ে ওঠে। যদিও ভার্জিনিয়ার অর্থনীতির ভিত্তি ছিল তামাক ক্যারোলিনা অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। সেখান থেকে চাল, নীল এবং কাঠও রপ্তানি করা হতো। ১৭১২ সালে উপনিবেশটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে উত্তর এবং দক্ষিণ ক্যারোলিনা প্রদেশ তৈরি করে।[২৪]

ধর্ম[সম্পাদনা]

প্রথম মহান জাগরণের পরে আমরি ধর্মীয়তা ব্যাপক প্রসার লাভ করে। জোনাথন এডওয়ার্ডস এবং জর্জ হোয়াইটফিল্ডের মত ধর্ম প্রচারকরা ১৭৪০ এর দশকে একটি ধর্মীয় পুনর্জাগরণের নেতৃত্বে ছিলেন।

সরকার[সম্পাদনা]

তেরোটি আমেরিকান উপনিবেশের প্রত্যেকটির সরকারী কাঠামো একটু ভিন্ন ছিল। লন্ডন থেকে নিযুক্ত একজন গভর্নর সাধারণত, একটি উপনিবেশ শাসন করত। গভর্ণর নির্বাহী প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং করের ওপর ভোট দিতে এবং আইন প্রণয়নের জন্য স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত আইনসভার উপর নির্ভর করতেন।

১৮ শতাব্দীর মধ্যে আমেরিকান উপনিবেশগুলিতে, জমি এবং খাদ্যের সরবরাহ বৃদ্ধির সাথে সাথে মৃত্যুর হার কমে আসছিল। ফলে এসব উপনেবিশের দ্রুত প্রবৃদ্ধি হতে থাকে। উপনিবেশগুলি ব্রিটেনের বেশিরভাগ অংশের চেয়ে ধনী ছিল এবং আরো অভিবাসী ইচ্ছুক জনগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করেছিল, বিশেষ করে কিশোর -কিশোরীরা যারা শিক্ষানবিশ চুক্তিভিত্তিক কাজের জন্য সেখানে এসেছিল। [২৫]

ক্রীতদাস ও চুক্তিভিত্তিক দাসত্ব[সম্পাদনা]

ইউরোপ থেকে আগত অভিবাসীদের অর্ধেকের বেশী ছিল চুক্তিভিত্তিক মেয়াদী দাস।[২৬] দূর দেশ আমেরিকা ভ্রমণের খরচ খুব কম মানুষই বহন করতে পারে। তাই এই ধরনের অবাধ শ্রম অভিবাসনের একটি সুযোগ হিসাবে কাজ করছিল। সাধারণত, অভিবাসন ইচ্ছুক মানুষ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য শ্রম দানে রাজী হয়ে চুক্তিবদ্ধ হতো। এই সময় সাধারণত চার থেকে সাত বছর হতো। বিনিময়ে আমেরিকায় যাবার পথ খরচ এবং তাদের মেয়াদ শেষে এক টুকরো জমি পেত। কিছু ক্ষেত্রে, জাহাজের ক্যাপ্টেনরা দরিদ্র অভিবাসীদের সরবরাহের জন্য পুরষ্কার পেত। তাই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং অপহরণের মতো ঘটনাও প্রায়ই ঘটত। ভার্জিনিয়া কোম্পানি এবং ম্যাসাচুসেটস বে কোম্পানি মেয়াদী দাসও ব্যবহার করত। [৬]

১৬১৯ সালে ভার্জিনিয়াতে জেমসটাউনের প্রতিষ্ঠার ঠিক বারো বছর পরে, মার্কিন ভূমিতে প্রথম আফ্রিকান কৃতদাস আনা হয়। [২৭][২৮] প্রথম দিকে এসব দাস তাদের নিজেদের স্বাধীনতা ক্রয় কিরে নিতে পারবে এমন একটি ধারণা থাকলেও ধীরে ধীরে দাসত্বের ধারণাটি কঠোর হতে শুরু করে এবং ১৬৬০ -এর দশকে তামাক ও ধানের আবাদে শ্রমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনিচ্ছাকৃত দাসত্ব আজীবন দাসত্বে পরিণত হয়।[২৮][তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ধীরে ধীরে দাসত্ব আর কালো শীরের রং সমার্থক হয়ে যায়। একজন দাস পিতা মাতর সন্তানরা জন্ম থেকেই দাসে পরিনত হয়।[২৮] ১৭৭০ সালের মধ্যে আমেরিকার এক-পঞ্চমাংশ জনসংখ্যা ছিল কৃষ্ণঙ্গ দাস।

যতদিন উপনিবেশগুলোকে ফরাসি এবং স্প্যানিশ শক্তির বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সামরিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল ব্রিটেন থেকে স্বাধীন হবার প্রশ্নটি ততদিন উত্থাপিত হয়নি। ১৭৬৫ সালের পর সামরিক হুমকি মুক্ত হয়ে আমেরিকায় ব্রিটিশ কলোনিগুলো স্বাধীনতার পথে পা বাড়ায়।[২৫]

স্বাধীনতার পথ[সম্পাদনা]

আমেরিকার ব্রিটিশ উপনিবেশের মানচিত্র। ফরাসি এবং ভারতীয় যুদ্ধের পূর্বে ১৭৫০ সালে উত্তর আমেরিকায় ব্রিটিশ এবং নতুন ফরাসি বসতির মানতচিত্র।

দক্ষিণ ক্যারোলিনা এবং ভার্জিনিয়ায় উচ্চ ধনী শ্রেণীর উত্থান ঘটে, যদের সম্পদের মূলে ছিল দাস শ্রমিক দ্বারা পরিচালিত বৃহৎ বাগানের আয়। নিউইয়র্কের উপকূলে একটি অনন্য শ্রেণীর উদ্ভব হয়, যেখানে ডাচ ভাড়াটে কৃষকরা ভ্যান রেনসেলিয়ার পরিবারের মতো খুব ধনী ডাচ মালিকদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে চাষাবাদ করতেন। পেনসিলভেনিয়ার মতো অন্যান্য উপনিবেশগুলি ছিল অনেক সমতাবাদী। আঠারো শতকের মাঝামাঝি পেনসিলভানিয়া মূলত একটি মধ্যবিত্ত উপনিবেশ ছিল যারা উচ্চ-শ্রেণীর প্রতি খুব একটা সমীহ প্রকাশ করত না। ১৯৫৬ সালে পেনসেলভেনিয়া জার্নালে একজন সাংবাদিক লিখেছিলেন,

এই প্রদেশের লোকেরা সাধারণত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর, এবং বর্তমানে তারা বেশ ভাল একটি স্তরে অবস্থান করে। তারা প্রধানত পরিশ্রমী কৃষক, শিল্পী বা ব্যবসায়ী পুরুষ; তারা স্বাধীনতার ভোগ করে, এবং তাদের মধ্যে মধ্যবিত্তরা মনে করে যে নাগরিকত্বে তার অধিকার আছে।[২৯]

রাজনৈতিক সংহতি এবং স্বায়ত্তশাসন[সম্পাদনা]

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের "যোগ দাও, অথবা মর" ধারণাটি নিয়ে ১৭৫৬ সালের একটি রাজনৈতিক কার্টুন

ফরাসি এবং ইন্ডিয়ান যুদ্ধ (১৭৫৪-১৭৬৩) ছিল সাত বছরব্যাপী যুদ্ধের একটি অংশ। উপনিবেশগুলির রাজনৈতিক উন্নয়নে জলবিভাজকের মতো ঘটনা ছিল। কানাডা এবং আমেরিকার কলোনিগুলোতে ব্রিটিশ রাজশক্তির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফরাসি এবং নেটিভ আমেরিকানদের প্রভাব, উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছিল এবং তেরোটি উপনিবেশের অঞ্চল কানাডা এবং লুইজিয়ানা উভয় এলাকা নিউ ফ্রান্স পর্য়ন্ত বিস্তার লাভ করেছিল। যুদ্ধের প্রচেষ্টার ফলে উপনিবেশগুলির মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক একীকরণ ঘটেছিল, উদহরণ হিসাবে। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের "যোগ দাও, অথবা মর" ধারণাটির বাস্তবায়ন দেখতে পাওয়া যায় আলবেনি কংগ্রেসে। ফ্রাঙ্কলিনের অনেক আবিষ্কারের মধ্যে একটি হল - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা। ধারনাটির জন্ম হয় ১৭৬৫ সালের পরে, এক দশক পরে উপলব্ধি করা যায়। [৩০]

প্রতিনিধিত্ববিহীন কর[সম্পাদনা]

উত্তর আমেরিকায় ব্রিটেন কর্তৃক ফরাসি ভূখণ্ড অধিগ্রহণের পর, ১৭৬৩ সালে রাজা তৃতীয় জর্জের জারিকৃত একটি রাজকীয় ঘোষণাপত্রের মূল লক্ষ্য ছিল নতুন উত্তর আমেরিকান সাম্রাজ্য সংগঠিত করা এবং অ্যাপাল্যাচিয়ান পর্বতমালার পশ্চিমাঞ্চলে উপনিবেশিক বিস্তার থেকে স্থানীয় আমেরিকানদের রক্ষা করা। পরবর্তী বছরগুলিতে, উপনিবেশবাদী এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সম্পর্কে টানাপোরেন শুরু হয়। ১৭৬৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট স্ট্যাম্প অ্যাক্ট পাস করে। এই নতুন আইন অনুসারে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট উপনিবেশিক আইনসভাকে পাশ কাটিয়ে উপনিবেশগুলিতে কর আরোপ করে। তখন বিতর্কের জন্ম হয়: যে পার্লামেন্টে ট্যাক্স দাতাদের কোন প্রতিনিধি নেই সেই পার্লামেন্টের কর আরোপ করার নৈতিক কোন অধিকার আছে কিনা। চারিদিকে আওয়াজ ওঠে, “প্রতিনিধিত্ব ছাড়া কোন কর নয়” উত্তেজনার পারদ বাড়তে থাকে, ১৭৭০ সালে তা চূড়ান্ত রূপ নেয়।[৩১]

১৭৭৩ সালে বস্টন টি পার্টি বোস্টন শহরে কর্মীরা চায়ের উপর নতুন করের বিরুদ্ধে সরাসরি ও দৃশ্যমান প্রতিবাদে নামে। পার্লামেন্ট দ্রুত এর জবাব দেয়। পরের বছর অসহনীয় আইন (Intolerable Acts) পাশ করে। এই আইন অনুসারে ম্যাসাচুসেটসকে তার স্ব-শাসনের ঐতিহাসিক অধিকার থেকে সরিয়ে সামরিক শাসনের অধীনে রাখা হয়। এরফলে বাকি তেরোটি উপনিবেশে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। প্রতিটি উপনিবেশের নেতারা অসহনীয় আইনের প্রতি তাদের প্রতিরোধ কর্মসূচীর সমন্বয় সাধনের জন্য প্রথম মহাদেশীয় কংগ্রেস আহ্বান করেন। কংগ্রেস ব্রিটিশ বাণিজ্য বর্জনের আহ্বান জানায়, জনগনের অধিকার ও অভিযোগের একটি তালিকা প্রকাশ করে এবং সেই অভিযোগগুলোর প্রতিকার চেয়ে ব্রিটিশ রাজার কাছে আবেদন করে।[৩২] এই আবদনে কোন কাজ না হওয়ায়, ১৭৭৫ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উপনিবেশগুলির প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য ১৭৭৫ সালে দ্বিতীয় মহাদেশীয় কংগ্রেস আহ্বান করা হয়। সাধারণ মানুষও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিচ্ছন্নবাদী হয়ে উঠেছিল। যদিও বিদ্রোহের আদর্শিক ব্যাপারগুলো সম্পর্কে পরিচিত ছিল না। তারা তাদের ব্যক্তিগদ "অধিকারের" বিষয়টিকে খুব দৃঢ়বাবে বিশ্বাস করত। সাধারন জনগন মনে করত, ব্রিটিশরা ইচ্ছাকৃতভাবে সেই অধিকার লঙ্ঘন করছে। তারা বোস্টনবাসীদের উপর নানা দমন পিড়নের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ হয়েছিল। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বোস্টনে আগমনে তা তাদের কাছে আরো প্রকট হয়। [৩৩] সাধারন মানুষের ধারনা ছিল ঈশ্বর তাদের সাথে আছেন।[৩৪]

বিপ্লব এবং স্বাধীনতা[সম্পাদনা]

১৭৭৫ সালের এপ্রিল মাসে ব্রিটিশরা গোলাবারুদ বাজেয়াপ্ত করে বিপ্লবী নেতাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে ম্যাসাচুসেটসের লেক্সিংটন এবং কনকর্ডে আমেরিকার বিপ্লবী যুদ্ধ শুরু হয়। রাজনৈতিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে, আমেরিকানরা মূলত রিপাবলিকানিজম নামক একটি ধারণার উপর একতাবদ্ধ হয়েছিল।। এই ধারনা আভিজাততন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করে নাগরিক কর্তব্য এবং দুর্নীতির ভয়কে প্রাধান্য দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠাতা পিতার জন্য, ঐতিহাসিকদের একটি দলের মতে, "জাতির প্রতিষ্ঠাতা পিতাদের জন্য, রিপাবলিকানিজম বিষয়টি শুধুই একটি সরকার ব্যবস্থা নয়, তার চেয়ে বেশীকিছু। এটি একটি জীবনধারা, একটি মূল মতাদর্শ, স্বাধীনতার প্রতি আপোষহীন প্রতিশ্রুতি এবং আভিজাততন্ত্রকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা।"[৩৫]

Reading of The Declaration of Independence originally written by Thomas Jefferson, presented on July 4, 1776.
Washington's surprise crossing of the Delaware River in December 1776 was a major comeback after the loss of New York City; his army defeated the British in two battles and recaptured New Jersey.

১৭৭৫ সালে তেরোটি উপনিবেশ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে এবং 1776 সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হিসাবে তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১৭৭৫ থেকে ১৭৮৩ সালের মধ্যে আমেরিকানরা সারাতোগার যুদ্ধে ব্রিটিশ হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে, উত্তর -পূর্বাঞ্চলকে সুরক্ষিত করে এবং ফরাসিদের যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক জোটবদ্ধ হতে উৎসাহিত করে । ফ্রান্স এই জোটে স্পেন এবং নেদারল্যান্ডস নিয়ে আসে। অন্যদিকে ব্রিটেনের কোন মিত্র না থাকায় উভয় পক্ষের সামরিক ও নৌবাহিনীতে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে।[৩৬]

জর্জ ওয়াশিংটন[সম্পাদনা]

জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটন একজন দক্ষ সংগঠক এবং প্রশাসক ছিলেন। তিনি কংগ্রেস এবং রাজ্য গভর্নরদের সাথে সফলভাবে কাজ করেছেন। তার অধীনের সৈন্যদের সমর্থন ও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এবং একটি আদর্শবাদী রিপাবলিকান সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। তার সবচেয়ে বড় কঠিন কাজটি ছিল রসদ সরবরাহ, কারণ কংগ্রেস বা রাজ্যগুলির কাছে তহবিল, অস্ত্রশস্ত্র, পোশাক, বেতন বা এমনকি সৈন্যদের খাদ্য সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল ছিল না। যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশলী বিবেচনায়, ওয়াশিংটন প্রায়ই তার ব্রিটিশ সমকক্ষদের দ্বারা কৌশলে পরাস্ত হতেন। তবে একজন দক্ষ কৌশলবিদ হিসেবে, তারা যুদ্ধে কী কৌশল অবলম্বন করতে পারেন সে সম্পর্কে তার একটি ভাল ধারণা ছিল। ব্রিটিশরা চারটি হানাদর সেনাবাহিনী পাঠায়। ওয়াশিংটনের কৌশল ১৭৭৬ সালে প্রথম সেনাবাহিনীকে বোস্টন ত্যাগে বাধ্য করে। সারাতোগা (১৭৭৭) এবং ইয়র্কটাউন (১৭৮১) সালে এ দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে। তিনি ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রিত নিউ ইয়র্ক সিটি এবং কয়েকটি স্থানে সীমাবদ্ধ রেখে প্যাট্রিয়টকে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন।”[৩৭]

অনুগত এবং ব্রিটেন[সম্পাদনা]

জন ট্রাম্বুলের স্বাধীনতার ঘোষণা (১৮১৯)

অনুগতরা, যাদের উপর ব্রিটিশরা ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছিল তারা জনসংখ্যার প্রায় ২০% ছিল। কিন্তু সাংগঠনিকভাবে তারা ছিল খুবই দুর্বল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার সাথে সাথে, ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ১৭৮৩ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্ক সিটি ত্যাগ করে। অনুগত গোষ্ঠীর নেতাদের তারা সাথে নিয়েছিল। ক্ষমতাগ্রহনের পরিবর্তে ওয়াশিংটন অপ্রত্যাশিতভাবে ভার্জিনিয়ায় তার খামারে অবসর গ্রহণ করেন।[৩৭]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Paul Johnson, পৃ. 32।
  2. Johnson, Paul, 1928- (১৯৯৯)। A history of the American people (1st HarperPerennial ed সংস্করণ)। New York, NY: HarperPerennial। আইএসবিএন 0-06-093034-9ওসিএলসি 40984521 
  3. Milkis
  4. "New Ideas About Human Migration From Asia To Americas"ScienceDaily। অক্টোবর ২৯, ২০০৭। ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ১২, ২০১১ 
  5. Kennedy, Cohen, and Bailey, পৃ. 6।
  6. Outline of American History
  7. Chenault
  8. Dumond, D. E. (১৯৬৯)। "Toward a Prehistory of the Na-Dene, with a General Comment on Population Movements among Nomadic Hunters"। American Anthropologist71 (5): 857–863। জেস্টোর 670070ডিওআই:10.1525/aa.1969.71.5.02a00050অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  9. Leer, Jeff; Hitch, Doug; Ritter, John (২০০১)। Interior Tlingit Noun Dictionary: The Dialects Spoken by Tlingit Elders of Carcross and Teslin, Yukon, and Atlin, British ColumbiaWhitehorse, Yukon Territory: Yukon Native Language Centre। আইএসবিএন 1-55242-227-5 
  10. Woods, Thomas E (২০০৭)। 33 questions about American history you're not supposed to ask। Crown Forum। পৃষ্ঠা 62। আইএসবিএন 978-0-307-34668-1। জানুয়ারি ১, ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ডিসেম্বর ৩১, ২০১৫ 
  11. Wright, R (২০০৫)। Stolen Continents: 500 Years of Conquest and Resistance in the Americas। Mariner Books। আইএসবিএন 978-0-618-49240-4 
  12. Tooker, পৃ. 107–128।
  13. Burns, LF। "Osage"। Oklahoma Encyclopedia of History and Culture। জানুয়ারি ২, ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ২৯, ২০১০ 
  14. Byrne, Joseph Patrick (২০০৮)। Encyclopedia of Pestilence, Pandemics, and Plagues। ABC-CLIO। পৃষ্ঠা 415–416। জানুয়ারি ১, ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৭, ২০১৫ 
  15. Eric Hinderaker; Rebecca Horn (২০১০)। "Territorial Crossings: Histories and Historiographies of the Early Americas"। The William and Mary Quarterly67 (3): 395। জেস্টোর 10.5309/willmaryquar.67.3.395ডিওআই:10.5309/willmaryquar.67.3.395 
  16. Greenberger, Robert (২০০৩)। Juan Ponce de León: the exploration of Florida and the search for the Fountain of Youth 
  17. Pyne, Stephen J. (১৯৯৮)। How the Canyon Became Grand। New York City: Penguin Books। পৃষ্ঠা 4–7আইএসবিএন 978-0-670-88110-9 
  18. Day
  19. Weber, David J. (১৯৭৯)। New Spain's Far Northern Frontier: Essays on Spain in the American West, 1540–1821 
  20. Jacobs
  21. "Brief History of New Sweden in America"colonialswedes.net 
  22. "The Finns in America. The First Settlers"www.genealogia.fi 
  23. Mintz, Steven। "Death in Early America"Digital History। ডিসেম্বর ৩০, ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১১ 
  24. Middleton and Lombard
  25. Savelle
  26. Barker, Deanna। "Indentured Servitude in Colonial America"। National Association for Interpretation, Cultural Interpretation and Living History Section। অক্টোবর ২২, ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  27. Editors, History.com। "First enslaved Africans arrive in Jamestown, setting the stage for slavery in North America"। A&E Television networks। 
  28. Corbett et al.
  29. Rossiter, Clinton (১৯৫৩)। Seedtime of the Republic: the origin of the American tradition of political liberty। পৃষ্ঠা 106। 
  30. Brands, H.W. (২০১০)। The First American: The Life and Times of Benjamin Franklin। Random House Digital, Inc.। পৃষ্ঠা 232–40, 510–512। আইএসবিএন 9780307754943। অক্টোবর ১৬, ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৭, ২০১৫ 
  31. Morgan, Edmund S. (২০১২)। The Birth of the Republic, 1763–89 (4th সংস্করণ)। U. of Chicago Press। পৃষ্ঠা 14–27। আইএসবিএন 9780226923420। অক্টোবর ১৬, ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৭, ২০১৫  অজানা প্যারামিটার |orig-date= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  32. Allison, Robert (২০০৭)। The Boston Tea Party। Applewood Books। পৃষ্ঠা 47–63। আইএসবিএন 9781933212111। অক্টোবর ১৬, ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৭, ২০১৫ 
  33. Lender, Mark Edward (২০১২)। "Review of "American Insurgents, American Patriots: The Revolution of the People" (2010) by T. H. Breen"। The Journal of Military History76 (1): 233–234। 
  34. Lender, Mark Edward (২০১২)। "Review of "American Insurgents, American Patriots: The Revolution of the People" (2010) by T. H. Breen"। The Journal of Military History76 (1): 233–234। 
  35. Divine, Robert A.; Breen, T. H.; ও অন্যান্য (২০০৭)। The American Story (3rd সংস্করণ)। পৃষ্ঠা 147। 
  36. Ferling, John E. (২০১১)। Independence: The Struggle to Set America Free 
  37. Lesson Plan on Washington


উদ্ধৃতি ত্রুটি: "lower-alpha" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি