মধ্যপ্রদেশ পুনর্গঠন আইন, ২০০০

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মধ্যপ্রদেশ পুনর্গঠন আইন, ২০০০
Emblem of India.svg
ভারতের সংসদ
প্রণয়নকারীভারতের সংসদ
অবস্থা: বলবৎ

মধ্যপ্রদেশ পুনর্গঠন আইন, ২০০০ হচ্ছে ভারতের সংসদে পাশকৃত এবং বর্তমানে বাস্তবায়িত একটি আইন। এই আইনের মাধ্যমে ছত্তিশগড়কে রাজ্যকে তৎকালীন মধ্যপ্রদেশ রাজ্যকে থেকে আলাদা করে একটি নতুন রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়।[১] নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য বিজেপি নেতা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকার আইনটি পাশ এবং বাস্তবায়িত করে।[২] ২০০০ সালের ২৫ আগস্টে আইনটি কার্যকর হয়।

পটভূমি[সম্পাদনা]

১৯২০ এর দশকে বর্তমান ছত্তিশগড়ে প্রথম পৃথক রাষ্ট্রের দাবি উত্থাপিত হয়েছিল। একই ধরণের দাবি নিয়মিত বিরতিতে চলছিল। যদিও কখনোই একটি সুসংহত আন্দোলনে পরিণত হয়নি। পরবর্তিতে বেশ কয়েকটি সর্বদলীয় প্ল্যাটফর্ম সাধারণত পিটিশন, জনসভা, আলোচনা সভা, সমাবেশ ও ধর্মঘটের মধ্যেই আন্দোলন সীমাবদ্ধ রেখেছিল।[৩] রায়পুর কংগ্রেস ইউনিট ১৯২৪ সালে পৃথক ছত্তিসগড়ের দাবি উত্থাপন করে এবং ত্রিপুরীতে কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনেও এটি নিয়ে আলোচনা হয়। ছত্তিশগড়ের জন্য আঞ্চলিক কংগ্রেস সংগঠন গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৫৪ সালে যখন রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠন করা হয় তখনও পৃথক ছত্তিসগড়ের দাবি উঠেছিল। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। ১৯৫৫ সালে তৎকালীন মধ্য ভারত রাজ্যের নাগপুর বিধানসভায় পৃথক রাজ্যের দাবি উত্থাপিত হয়েছিল।[৩]

পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকে নতুন রাজ্যের দাবিতে তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। ফলস্রুতিতে ছত্তিসগড় রাজ্য নির্মাণ মঞ্চ নামে রাজ্যব্যাপী রাজনৈতিক ফোরাম গঠন করা হয়। চান্দুলাল চদ্রকর এই ফোরামের নেতৃত্বে ছিলেন। ফোরামের ব্যানারে বেশ কয়েকটি সফল অঞ্চল-ধর্মঘট ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল যার সবকটিই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি সহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির দ্বারা সমর্থিত ছিল।[৩]

আইন পাশ[সম্পাদনা]

অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে নতুন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) সরকার ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার অনুমোদনের জন্য পুনর্নির্দিষ্ট পৃথক ছত্তিসগড় বিল প্রেরণ করে। মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় এটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হওয়ার পর বিলটি লোকসভায় উপস্থাপিত হয়। পৃথক ছত্তিসগড় রাজ্য গঠনের লক্ষে এই বিলটি লোকসভারাজ্যসভায় পাস হলে পৃথক ছত্তিশগড় রাজ্য গঠনের পথ সুগম হয়। ভারতের রাষ্ট্রপতি ২৫ আগস্ট ২০০০-এ মধ্য প্রদেশ পুনর্গঠন আইন ২০০০-এ তাঁর সম্মতি দেন।

ফলাফল[সম্পাদনা]

এই আইনের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার ২০০০ সালের ১ নভেম্বরে তৎকালীন মধ্যপ্রদেশ রাজ্যকে ছত্তিসগড়মধ্য প্রদেশে বিভক্ত করার মাধ্যমে নতুন ছত্তিসগড় রাজ্য গঠন করে।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.indiankanoon.org/doc/1407416/
  2. "Archived copy"। ৪ মে ২০০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৪-০৭-১৫ 
  3. "Prithak Chhattisgarh"। ৪ জুলাই ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০১১